চাঁদপুর। বুধবার ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮। ১২ পৌষ ১৪২৫। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দীপু মনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন || চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য দীপু মনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন || *
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৫-সূরা জাছিয়া :

৩৭ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী

১০। উহাদের পশ্চাতে রহিয়াছে জাহান্নাম; উহাদের কৃতকর্ম উহাদের কোন কাজে আসিবে না, উহারা আল্লাহর পরিবর্তে যাহাদিগকে অভিভাবক স্থির করিয়াছে উহারাও নহে। উহাদের জন্য রহিয়াছে মহাশাস্তি।


assets/data_files/web

অসৎ আনন্দের চেয়ে পবিত্র বেদনা মহৎ।

-হোমার


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান চর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।

 


ফটো গ্যালারি
সাহিত্য আসরের কথামালা
মুহাম্মদ ফরিদ হাসান
২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সম্ভবত সময়টা ২০১৩ সালের মাঝামাঝি। টিপটিপ বৃষ্টি হচ্ছিল। আমরা প্রথমে শিল্পকলা একাডেমি, পরে বিআইডবিস্নউটিসির রেস্ট হাউজের পথে। সাথে প্রবীণ লেখক তছলিম হোসেন হাওলাদার ও গল্পকার রফিকুজ্জামান রণি। কুমিল্লা থেকে চাকুরির সুবাদে একজন কবি চাঁদপুরের এসেছেন। তিনি আছেন ওই রেস্ট হাউজে। কবির নাম সৌম্য সালেক। তার সাথে আমার পরিচয় ২০১১ কি ২০১২ সালে। তার সাথে দেখা করার জন্যেই হালকা বৃষ্টির পরশ নিয়ে ওখানে যাচ্ছি। কবির সাথে দেখা হলো সন্ধ্যার দিকে। গল্প-কবিতা, ছোটকাগজের কথা হলো অনেক। চলে এলাম। সৌম্য সালেক কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির মধ্যে বেড়ে উঠেছিলেন। চাঁদপুরে এসে তিনি সাহিত্য একাডেমী আছে দেখে খুব খুশি হলেন। জানতে চাইলেন, এখানে আসর হয় কি না। জানালাম, এখানে সাহিত্য আসর আগে হতো, এখন হয় না। তিনি বললেন, সাহিত্য আসর যাতে করা হয় সেজন্যে তিনি একাডেমীর মহাপরিচালক জনাব কাজী শাহাদাতকে অনুরোধ করবেন। আমরাও সানন্দে রাজি হলাম। পরে মহাপরিচালক মহোদয়ের কাছে গিয়ে দেখি, তিনি সাহিত্য আসর করা নিয়ে আগে থেকেই প্রবল আগ্রহী। কিন্তু আসর পরিচালনার জন্যে যোগ্য লোক খুঁজে পাচ্ছিলেন না। সৌম্য সালেক হলেন সেই যোগ্য লোকটি, যাকে পেয়ে জনাব কাজী শাহাদাত আর দেরি করেননি। সিদ্ধান্ত হলো ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে নবপর্যায়ের সাহিত্য আসর শুরু হবে। শুরু করাও হলো। সেই থেকে এখন পর্যন্ত সাহিত্য আসর চলছে অবিরাম, একই উৎসাহ ও গতি নিয়ে। কোনো ছেদ নেই, বিরাম নেই, ভাটা নেই। ঝর্ণার মতো উচ্ছ্বাসভরা গতি যেন।



সৌম্য সালেক আমার বন্ধু। বন্ধু হিসেবে শুধু আমি নই, চাঁদপুরের সাহিত্যকর্মীদের সৌভাগ্য যে, তারা প্রাণচঞ্চল আধুনিক চিন্তামনস্ক সৌম্য সালেককে পেয়েছেন। একাডেমীর মহাপরিচালক কাজী শাহাদাতের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, পৃষ্ঠপোষকতা ও অভিভাবকের ভূমিকায় সাহিত্য আসরে গতি সঞ্চার করেছিলেন সঞ্চালক সৌম্য সালেক। জেলা শিল্পকলা একাডেমি থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বদলির পূর্ব পর্যন্ত তিনি টানা ৫০টি আসর পরিচালনা করে গিয়েছেন। আজ সেই সাহিত্য আসরের ৫ বছর পূর্তি। ৫ বছরের সীমানা-তিলক স্পর্শ করতে পেরে কী যে ভালো লাগছে সেটি লিখে বোঝানো সম্ভব নয়। বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি জনাব কাজী শাহাদাত ও সৌম্য সালেকের প্রতি। আপনারা চাঁদপুরের সাহিত্যকর্মীদের জন্যে সোনালি সময় টেনে আনতে স্মরণীয় সহযোগিতা করেছেন।



৫ বছরের পরিসংখ্যানে সাহিত্য আসরের অর্জন অনেক। সাহিত্য আসরে স্বরচিত লেখা পাঠ করেন কবি-লেখকরা। পঠিত লেখার ওপর আলোচনা সমালোচনা করেন উপস্থিত লেখকবৃন্দ। এতে করে কোনো রচনার ভালো দিক যেমন উদ্ভাসিত হয়, তেমনি রচনার দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত হয়েও লেখক সংশোধনের সুযোগ পান। সাহিত্য আসরে যে-ই এসেছে সে-ই উপকৃত হয়েছে, তারই সাহিত্য চর্চায় নতুন গতি এসেছে। সাহিত্য আসরের অন্যতম সাফল্য এটি ৫ বছরই ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি মাসের জন্যেও এ আসর ছেদ পড়েনি। সাহিত্য একাডেমীর মুখপত্র হিসেবে ছোটকাগজ 'উছল'-এর দুটি ঢাউস সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে, এটিও উল্লেখযোগ্য প্রাপ্তি। সাহিত্য একাডেমীর সবচেয়ে বড় অর্জন ২০১৭ সালে শিল্পকলা একাডেমির সাথে যৌথভাবে চাঁদপুরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাহিত্য সম্মেলনের আয়োজন করা। চাঁদপুর সাহিত্য সম্মেলনে দেশবরেণ্য লেখক-সাহিত্যিকদের আগমন এবং দিনব্যাপী অনুষ্ঠান হৃদয়ে এখনো অমলিন হয়ে আছে। চাঁদপুরের সাহিত্য চর্চা যদি বেগবান না থাকতো তাহলে এমন জাতীয় মানের একটি সাহিত্য সম্মেলন করা সম্ভব হতো না। মনে আছে সম্মেলনে এসে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান বলেছিলেন, এখন সাহিত্যের রাজধানী হচ্ছে চাঁদপুর!



সাহিত্য আসরে এসে সাহিত্যিকদের চর্চায় সমবেত হয়েছেন চাঁদপুরের সংস্কৃতি, রাজনীতি, প্রশাসনের আলোকিত মানুষগুলো। স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে চিকিৎসক, সাংবাদিক, শিক্ষক কে আসেননি এই আসরে? যারা এসেছে তারা ঋদ্ধ হয়েছেন এবং অন্যকে ঋদ্ধ করেছেনও।



সাহিত্য আসরের প্রাণ চাঁদপুরের সাহিত্যকর্মীরা। তারা নিয়মিত আসরে না এলে সাহিত্য আসর তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারতো না। এ পর্যন্ত সাহিত্য আসরে কাছে বা দূরের স্থান থেকে যারা কষ্ট করে এসেছেন, সময় দিয়েছেন, তাদের সবাইকে অশেষ ধন্যবাদ জানাই। চাঁদপুরের কৃতীজন মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন, চিত্রনিভা চৌধুরী, শান্তিময় ঘোষদের উত্তরসূরি হিসেবে আমরা চাঁদপুরের সাহিত্য চর্চার ঐতিহ্যকে অব্যাহত রাখবো_এই দৃঢ় প্রত্যাশা রেখে সাহিত্য আসরের সফলতা কামনা করে শেষ করছি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৯৬২১১
পুরোন সংখ্যা