চাঁদপুর। বুধবার ২৬ ডিসেম্বর ২০১৮। ১২ পৌষ ১৪২৫। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৫-সূরা জাছিয়া :

৩৭ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী

১০। উহাদের পশ্চাতে রহিয়াছে জাহান্নাম; উহাদের কৃতকর্ম উহাদের কোন কাজে আসিবে না, উহারা আল্লাহর পরিবর্তে যাহাদিগকে অভিভাবক স্থির করিয়াছে উহারাও নহে। উহাদের জন্য রহিয়াছে মহাশাস্তি।


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যখন কোনো দলের ইমামতি কর, তখন তাদের নামাজকে সহজ কর।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ভালোবাসার সাহিত্য আসর
জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


দূর প্রবাসে বসে হাজার কাজের মাঝেও মনে পড়ে ভালোবাসার সাহিত্য একাডেমীর মাসিক আসর ও সাহিত্য প্রেমীদের। পারিবারিক জীবনের সচ্ছলতা আনার জন্যই ২০০৮ সালে প্রবাসে আসি। তার পূর্বেই চাঁদপুর জেলা সাহিত্য একাডেমীতে যাওয়া হতো। সেদিন যে মানুষদের কাছে পেয়েছি তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সাহিত্য একাডেমীর বর্তমান মহাপরিচালক প্রিয় কাজী শাহাদাত ভাই। ১৯৯৬ সালে সাংস্কৃতিক বিকাশের লক্ষ্যে শাহরাস্তি অপরূপা নাট্যগোষ্ঠী নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করি। নিজ উপজেলায় নাটক ও সাহিত্য চর্চা শুরু করি।



আমার মনে আছে, আমি যখন প্রথম শাহরাস্তি থেকে চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমীতে আসি সেদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিল। বসার জায়গা পাইনি। সে অনেক কথা। তবে আজকের সাহিত্য একাডেমীর যে পরিপাটি পরিবেশ আছে তা সেদিন ছিল না। ছিল ভিন্ন পরিবেশ। ওই সময়ের আড্ডারুরা জানেন, চাঁদপুর সদরের বাইরে থেকে কেবল শাহরাস্তি উপজেলা থেকে একজন খুদে সাহিত্যপ্রেমী হিসেবে আমিই অংশ নিতাম। চাঁদপুর সদরে থাকতেন আমার আরেক প্রিয় পীযূষ কান্তি রায় চৌধুরী দাদা। তিনি বলতেন, হৃদয় তুমি এতো দূর থেকে আসো, বেশি রাত হলে যাবে কী করে? বলতাম, কুমিল্লামুখি লোকাল শেষ বাসটি ৭টার দিকে ছেড়ে যাবে। সেই বাস ধরেই যাবো। ইঞ্জিঃ দেলোয়ার ভাই, কবি এস এম জয়নাল ভাইসহ অনেকের সাথেই দেখা হতো আসরে। কালীবাড়ি দিয়ে সাহিত্য একাডেমীতে যাওয়ার পথে কবি জসিম মেহেদী বলতেন, হৃদয় ভাই এতো দূর থেকে চলে এসেছেন! বলতাম, না এসে যে পারি না, মন মানে না। আমার পরিবার ও সাথের অনেক বন্ধু আমার এই সাহিত্য আসরে অংশ নেয়াটা ভালো চোখে দেখতেন না। বলতেন, এসব দিয়ে কী হবে, কই তোর মত সবাই যায় না। এসব বাদ দাও, মন দিয়ে লেখাপড়া কর। আমি বলতাম, সাহিত্য একাডেমীতে অনেক জ্ঞানী মানুষ আসে। আড্ডায় অংশ নেয়, সেখানে খারাপ কিছুই শেখায় না।



অপরদিকে প্রিয় কাজী শাহাদাত ভাই প্রায় বলতেন, কিরে হৃদয় তুই এতো দূর থেকে আসছ, কষ্ট হয় না? আমি বলতাম, ভাই এই সাহিত্য একাডেমীতে না এলে আপনাদের মত মানুষদের সাথে আমার দেখা হতো কী করে? ভাই হাসি দিয়ে বলতেন, তা ঠিক। সেই আমি যদি সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার সাথে না জড়াতাম তাহলে জীবনের মানে হয়তো আজও খুঁজে পেতাম না। এটি যে সুন্দর একটি জগৎ তা দূরপ্রবাসে বসেও বুঝতে পেতাম না। সাহিত্য চর্চার মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করা যায়, সুন্দর একটি মনের অধিকারী হওয়া যায়, খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখা যায়। এটি আমি আমার জীবনের বেলায় শিখেছি।



আজ নিজেই আগ্রহী হয়ে সাহিত্য একাডেমীর আজীবন সদস্য হয়েছি। এটি সম্ভব হয়েছে প্রিয় কাজী শাহাদাত ভাইয়ের কারণে। আর এই সাহিত্য একাডেমীতে এসে আমি আরেকজন প্রিয় মানুষকে পেয়েছি, তিনি হলেন মুহাম্মদ ফরিদ হাসান। তার কথা না বললেই নয়। কারণ তিনি আমাকে লেখালেখির জন্য উৎসাহ দিয়ে আসছেন। তার আন্তরিকতার কারণেই ২০১৮ সালের অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় আমার লেখা 'তোমার উত্তাপে হৃদয় কাঁপে' কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। দেশে থেকে ফরিদ হাসান সহযোগিতা না করলে প্রবাসে থেকে হয়তো বই প্রকাশ করতে ভোগান্তি পোহাতে হতো। শুধু তাই নয়, আজ প্রিয় সাহিত্য একাডেমীর নবপর্যায়ের মাসিক আসরের ৫ বছর পূর্তি নিয়ে লিখেছি, তা ফরিদ আমাকে মনে না করিয়ে দিলে হয়তো লেখা হতো না। ধন্যবাদ প্রিয় ফরিদ হাসান। অনেক ধন্যবাদ লেখক ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া, কাফী ভাই, কবি ইকবাল ভাই, সালাউদ্দিন ভাই, ম. নূরে আলম পাটওয়ারী, আশিক বিন রহিম, রফিকুজ্জামান রণি, কবির হোসেন মিজিসহ সকল সাহিত্যপ্রেমীকে। যাদের পদচারণায় মুখরিত সাহিত্য একাডেমী, আমি সে-সকল কবি, লেখক, পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষীসহ সবাইকে প্রবাস থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমী সারা দেশের সাহিত্যপ্রেমীদের নিয়ে একটি সাহিত্য মেলার আয়োজন করবে, ৫ বছরের পূর্তিতে সেই প্রত্যাশা করছি কর্তৃপক্ষের কাছে। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আমার লেখায় কোনো ভুল হলে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ হাফেজ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪২৪৩৫৬
পুরোন সংখ্যা