ঢাকা। সোমবার ২১ জানুয়ারি ২০১৯। ৮ মাঘ ১৪২৫। ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬৬। উভয় উদ্যানে আছে উচ্ছলিত দুই প্রস্রবণ।


৬৭। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে?


৬৮। সেথায় রহিয়াছে ফলমূল -খর্জুর ও আনার।


 


 


 


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যখন কোনো দলের ইমামতি কর, তখন তাদের নামাজকে সহজ কর।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে করিম পাটওয়ারী
মরহুম কামরুজ্জামান চৌধুরী
২১ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আবদুল করিম পাটওয়ারী করিম পাটওয়ারী নামেই সুপরিচিত ছিলেন। করিম ভাইকে আমি আমার শৈশব থেকেই চিনি। তিনি আমাদের আত্মীয়ও বটে। মরহুমা বড় বোন প্রাইমারি বিদ্যালয়ে তার সহপাঠিনী ছিলেন। কিন্তু করিম ভাই বিদ্যালয়ে বেশি শিক্ষা লাভ করতে পারেননি। তবে পুঁথিগত বিদ্যা ছাড়া তিনি নৈতিক শিক্ষায় অনেক বেশি বলীয়ান ও শিক্ষিত ছিলেন। করিম পাটওয়ারীর সামাজিক জীবন শুরু হয় দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়। এ সময় তিনি এ আর পি-এর একজন কর্মী ছিলেন। যুদ্ধে বেসামরিক লোকজনকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করার জন্যেই এআরপি গঠিত হয়। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময় দুর্ভিক্ষে অনেক লোক মারা যায়। রাস্তাঘাটে অনাহারী মানুষ মরে পড়ে থাকতো। এ সময় হরিবোলা সমিতির মাধ্যমে হিন্দু মৃত মানুষের সৎকার করা হতো। মুসলিম বেওয়ারিশ মানুষের দাফনের জন্যে তখন আঞ্জুমান খাদেমুল ইনসান নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। তৎকালীন এসডিও-এর সভাপতি হন। আমার মরহুম পিতা এর সম্পাদক ও মরহুম করিম পাটওয়ারী এর সহকারী সম্পাদক হন। এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করিম পাটওয়ারী আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেন। আমার পিতার মৃত্যুর পর থেকে তিনি আঞ্জুমানের সম্পাদক হন এবং আমৃত্যু সে পদে বহাল ছিলেন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর উপমহাদেশে স্বাধীনতা আন্দোলন জোরদার হয়। এ সময় করিম পাটওয়ারী তৎকালীন মুসলিম লীগের একজন নিবেদিতকর্মী হিসেবে পাকিস্তান আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের পর মুসলিম লীগ সরকারের বাঙালি দমনের কারণে বাঙালিদের সংগঠন আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠিত হয়। মরহুম করিম পাটওয়ারী চাঁদপুরে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনে একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। আওয়ামী মুসলিম লীগ আওয়ামী লীগে রূপান্তরিত হয়। করিম পাটওয়ারী এ দল সংগঠনে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে চাঁদপুর থেকে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হন। এর পরের ইতিহাস বাংলাদেশের জন্যে এক করুণ ইতিহাস। পাকিস্তানী সামরিক শাসকচক্র ১৯৭০ সালের গণরায়কে অগ্রাহ্য করে বাঙালিদের ওপর ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঝাঁপিয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে তখন শুরু হয় স্বাধীনতা যুদ্ধ। নয় মাসের যুদ্ধকালীন সময়ে করিম পাটওয়ারী দেশ ত্যাগ না করে দেশের ভেতর থেকেই স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন সংগঠক হিসেবে কাজ করতে থাকেন। পাকিস্তানী সামরিক জান্তা এ সময় তার সমর্থন লােেভর জন্যে দূত মারফত অনেক প্রলোভন দেন। কিন্তু নির্ভীক ও নির্মোহ করিম পাটওয়ারী ঘৃণাভরে সকল প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বভাবতই কিছু বিশৃঙ্খলতা দেখা দেয়। করিম পাটওয়ারী অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এসব বিশৃঙ্খলা মোকাবেলা করেন। ফলে অনেক নিরীহ মানুষ প্রাণে বেঁচে যান। এরপর করিম পাটওয়ারী বাংলাদেশের প্রথম গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং বাংলাদেশের শাসনতন্ত্র প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন।



তিনি এরপর পর পর দু'বার চাঁদপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং জনগণের খেদমতে নিজকে নিয়োজিত রাখেন। তিনি অসংখ্য সামাজিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলেন। ১৯৭৫ সালের সামরিক শাসন জারির পর তাঁকে দলে ভিড়ানোর জন্যে অনেক প্রলোভন দেয়া হয়। যা গ্রহণ না করা অনেকের পক্ষেই অসম্ভব ছিলো। কিন্তু করিম পাটওয়ারী ঘৃণাভরে এসব প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করেন এবং নিজ দলের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেন। আব্দুল করিম পাটওয়ারী আমৃত্যু দারিদ্রের সাথে সংগ্রাম করে গেছেন। তিনি ইচ্ছে করলে অর্থ-বিত্তে বলীয়ান হতে পারতেন। কিন্তু তিনি অবৈধভাবে ধনী হতে চাননি। তাই দারিদ্র তাঁর আমৃত্যু সঙ্গী ছিলো। তিনি এর জন্যে কোনো দুঃখ করতেন না বরং দারিদ্রকে তার অহঙ্কার মনে করতেন।



আমাদের চারদিকে যখন মূল্যবোধের চরম সঙ্কট, তখন করিম পাটওয়ারী আমাদের মাঝ থেকে চলে যাওয়াটা সুস্থ রাজনীতির জন্যে অপূরণীয় ক্ষতি। চাঁদপুরে তিনি 'বিশ্ব শান্তি' হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মতো নির্ভীক ও নির্মোহ রাজনীতিবিদের এখন খুব বেশি প্রয়োজন। মাত্র নয় বছরেই আমরা করিম পাটওয়ারীকে প্রায় ভুলতে বসেছি। আমাদের সমাজে সর্বক্ষেত্রে শুভবুদ্ধির উদয় হোক, করিম পাটওয়ারীর নবম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাই কামনা করছি।



লেখক পরিচিতি : মরহুম কামরুজ্জামান চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, চাঁদপুর প্রেসক্লাব।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৯১১৫৬
পুরোন সংখ্যা