চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১০ জানুয়ারি ২০১৭। ২৭ পৌষ ১৪২৩। ১১ রবিউস সানি ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৮০। ‘আমি তোমাদের নিকট ইহার জন্যে কোনো প্রতিদান চাহি না। আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে’।     


১৮১। ‘মাপে পূর্ণ মাত্রায় দিবে; যাহারা মাপে ঘাটতি করে তোমরা তাহাদের অন্তর্ভূক্ত হইওনা’।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


অসৎ আনন্দের চেয়ে পবিত্র বেদনা মহৎ।


                                 -হোমার। 

নামাজ বেহেশতের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।             


ফটো গ্যালারি
ফরিদগঞ্জ ক্রীড়াঙ্গনে শত যুবকের অনুপ্রেরক জিয়াউর রহমান জিয়া
রাসেল হাসান
১০ জানুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


গত প্রায় কয়েক বছর ধরে যখন ঝিমিয়ে চলছিলো ফরিদগঞ্জ ক্রীড়াঙ্গন, খেলাধুলার অভাবে যখন একদল তরুণ মাদকমুখি হচ্ছিলো তখনই বিপথগামী তরুণদের নিয়ে ঋতুভিত্তিক খেলাধুলা শুরু করে ফরিদগঞ্জের জিয়াউর রহমান জিয়া। ফরিদগঞ্জ পৌরসভার কিশোর-তরুণদের কাছে তিনি 'জিয়া ভাই' নামেই পরিচিত। ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র ও বর্তমান ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ জাকির হোসেন গাজীর ছোট ভাই জিয়াউর রহমান জিয়া।



১৯৮২ সালের ২৬ ডিসেম্বর ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের গাজী বাড়িতে জন্মগ্রহণ করে সে। তার বাবা মৃত নজিবুল হক গাজীও ছিলেন একজন ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ। নিজে খেলাধুলায় তেমন পারদর্শী না হলেও নিজের সন্তানদের সবসময়ই উৎসাহ দিতেন পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা করার জন্য। আর বাবা ও বড় ভাইদের উৎসাহেই এতদূর আসতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান। ছোটবেলা থেকেই নিজেকে বিভিন্ন খেলাধুলার মধ্যে যুক্ত রাখতেন তিনি। কিশোর বয়স থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন উপজেলা ভিত্তিক বহু দলের। ক্রিকেট, ফুটবলে জেলার বাইরে একাধিক জেলায় গিয়েছেন স্পেশাল খেলোয়াড় হিসেবেও। এক সময় যে মানুষটি ক্রিকেটের চার-ছক্কায় কিংবা ফুটবলের পায়ের যাদুতে আকৃষ্ট করতেন দর্শকদের আজকে সেই মানুষটিই নেতৃত্ব দিচ্ছেন এ উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনের শতাধিক কিশোর তরুণদের। ক্রিকেট কিংবা ফুটবলে যে কোন খেলায়ই তরুণরা ছুটে আসে তাদের প্রিয় জিয়া ভাইয়ের কাছে। অনেকটা প্রচারবিমুখ এই মানুষটি নিজের স্ব-উদ্যোগেই আয়োজন করেছেন ফরিদগঞ্জ উপজেলায় এফপিএল নামক ফুটবল টুর্নামেন্টের। যে টুর্নামেন্টের মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে এ উপজেলার একঝাঁক উদীয়মান ফুটবলার। শত বাধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে তিনি এমন একটি টুর্নামেন্টের সফল সমাপ্তিও টানতে পেরেছিলেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়া এ টুর্নামেন্টটি ছিল ফরিদগঞ্জ পৌরসভার সকল শ্রেণির খেলোয়াড়দের কাছে ক্রীড়া বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র।



কিশোররা যেন খেলাধুলার অভাবে বিপথগামী না হয় যার কারণে গত ২০০২ সালে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন ইত্যাদি স্পোর্টস নামক একটি ক্রীড়া সংগঠনের। এই সংগঠনটির হাত ধরেই সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন খেলোয়াড়। সাম্প্রতি ফুটবলে জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৪ খেলোয়াড় বাছাইয়ে এ উপজেলা থেকে যতজন টিকেছে তারা প্রত্যেকেই ইত্যাদি স্পোর্টস ক্লাবের সদস্য। ফরিদগঞ্জ এআর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন তার সংগঠনটির একটি অস্থায়ী কার্যালয়ও রয়েছে। ফুটবলে এ অঞ্চলের তরুণরা অনেকটা এগিয়ে থাকলেও বুট জুতা পরে খেলতে না পারার কারণে জেলা পর্যায়ে এসে ভালো করতে পারতো না তারা। তাই এ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাসেল আহাম্মেদকে সাথে নিয়ে ফরিদগঞ্জ এ. আর. পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চালু করেছেন মাসব্যাপী ফুটবল কোর্স। এ কোর্সের মাধ্যমে বুট পরে খেলতে পারে এমন ৩০জন খেলোয়াড় সৃষ্টি হয়েছে। বেরিয়ে এসেছে ৩জন উদীয়মান গোলকিপার। যারা প্রতেকেই আগামীতে এ উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনকে বেগবান করতে ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশাবাদী তিনি।



জিয়াউর রহমান তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে একজন দক্ষ ফুটবলার ছিলেন। ফুটবল ক্রিকেট মিলিয়ে এ পর্যন্ত শতাধিক ম্যাচের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। জয় এসেছে অধিকাংশ ম্যাচেই। ফরিদগঞ্জ বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়া জমজমাট ফুটবল আসরে ফরিদগঞ্জ উপজেলা ফুটবল একাদশের দলপ্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। এ টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তার দল। অতিথি ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে তিনি জামালপুরের ইসলামপুর, লক্ষ্মীপুর, রায়পুর, হাইমচর, হাজীগঞ্জ ও রামগঞ্জে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলতে গিয়েছিলেন। সকল টুর্নামেন্ট মিলিয়ে তার ব্যক্তিগত গোল সংখ্যা অর্ধশতাধিক। তিনি একজন সংগঠকও। ২০১২-'১৩ অর্থ বছরে ফরিদগঞ্জ লেখক ফোরাম ক্রীড়াঙ্গনের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তৎকালীন সময়ে তার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়েছিল বেশ কিছু ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। প্রতিটি টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে তার ছিল অনবদ্য পারফরমেন্স।



ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখতেন একদিন তিনি দেশের একজন ভালো ফুটবলার হবেন। সেই লালিত স্বপ্নে বহু মাঠে রেখেছেন তার প্রতিভার স্বাক্ষর। দেশ ও দেশের মানুষের কাছে জাতীয় মানের একজন খেলোয়াড় হতে না পারলেও এ উপজেলার ক্ষুদ্র গন্ডিতে তিনি আপামর মানুষদের সাথে যেভাবে মিশেছেন তাতে, দিনের পর দিন যেভাবে ক্রীড়াঙ্গনে শ্রম দিয়ে গেছেন তা মানুষের মনে দাগ কেটেছে বহু আগেই। ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেটেও ছিল তার অক্লান্ত শ্রম। নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার জেলার বাইরে সকলের মাঝে তুলে ধরতে না পারলেও তার অনুসারী যারা আছে তাদের মধ্যে যে কেউ জেলার গন্ডি পেরিয়ে নিজেদের সেরাটা যেন তুলে ধরতে পারে তাই কাজ করে যাচ্ছেন তাদেরকে নিয়ে। পৌরসভাড় সদরস্থ যে সকল কিশোর খেলোয়াড় ক্রীড়া উপকরণের অভাবে মাঠে অনুশীলন করতে পারেন না তাদের জন্য জিয়াউর রহমানই একমাত্র আশার আলো। নিজের প্রতিষ্ঠিত ইত্যাদি স্পোর্টস ক্লাবের ক্রীড়া সরঞ্জামাদি দিয়েই চলে ছোটদের ক্রীড়া অনুশীলন। ফুটবল-ক্রিকেটসহ যে কোন খেলার নিয়ম শৃঙ্খলা তার কাছ থেকেই শিখে থাকে এ অঞ্চলের ক্রিকেট পাগল কিশোর তরুণরা। আর ছোটরা নিজেরা কোন খেলার আয়োজন করলে তাতে যে অবধারিতভাবে জিয়াউর রহমানই হবেন ম্যাচ পরিচালক তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। মাঠে রৌদ বৃষ্টি যাই থাকুক না কেন, উৎসাহ দেয়ার জন্য ছোটদের পাশে জিয়াউর রহমান থাকবেনই। তাইতো তাদের কাছে 'জিয়াউর রহমান' নামটি এতটা জনপ্রিয়।



বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোনো খেলা হলে তরুণরা ভিড় জমায় তাদের জিয়া ভাইয়ের কাছে। কারণ তারা জানে বাংলাদেশের কোন বিস্ময়কর জয়ে যদি বাঁধ ভাঙা উল্লাস হয় তবে তা জিয়া ভাইয়ের নেতৃত্বেই হবে। মাশরাফিদের যে কোন রেকর্ডে সবার আগে তাদের জিয়া ভাই-ই আনন্দ মিছিল বের করবে। তাই বিশ্বের সকল পরাশক্তিশালী দেশগুলোর বিপক্ষে বাংলাদেশ যখন মাঠে নামে আর খেলার সমীকরণ যখন বাংলাদেশের দিকেই হেলে থাকে তখনই সবাই জড়ো হতে থাকে জিয়াউর রহমানের কাছে। সাম্প্রতি ফুটলবল বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের ব্রাজিল-আর্জেটিনার হাই ভোল্টেজ ম্যাচে এ উপজেলায় যতটুকু উন্মাদনা ছিলো তার জন্যই। খেলাগুলো কখন হবে, কোন দলে কে খেলবে কিংবা খেলায় বিশেষ কোন চমক আছে কিনা তা জিয়াউর রহমানের ফেসবুক প্রোফাইলের মাধ্যমে জেনে যেত তরুণরা। বড় পর্দায় খেলা দেখা হবে কি হবে না তা তিনিই নির্ধারণ করে দেন। তাই বছরের পর বছর এমন প্রণোদনামূলক কর্মকা-ের কারণে 'জিয়া' ভাই নামটি এখন এ উপজেলার সকলের মুখেমুখে।



ঈদ, পূজা কিংবা যে কোন জাতীয় উৎসবে তার নেতৃত্বে আয়োজিত হয় প্রীতি ফুটবল কিংবা ক্রিকেট ম্যাচের। যা এ অঞ্চলের মানুষদের জন্য একটি অন্যতম আকর্ষণ। প্রতি বছর ঈদুল ফিতর বা আযহায় যে প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয় তাতে যোগ দেন জাতীয় দলের ফটবলার রেজাউল। সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ সে ম্যাচটি দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে দর্শকরা ছুটে আসে।



সিনিয়র খেলোয়াড়দের নিয়ে বার্ষিক টেস্ট ক্রিকেট এ উপজেলার আরেকটি আকর্ষণীয় ম্যাচ। জিয়াউর রহমান বছরে দু'টি টেস্ট ম্যাচের আয়োজন করে থাকেন। দিনব্যাপী সে ম্যাচে খেলায়াড়দের জন্য থাকে দুপুরে খাবারের আয়োজনও। টেস্ট ম্যাচটি উপজেলার নবীন-প্রবীণ খেলোয়াড়দের জন্য একটি অঘোষিত বনোভোজনের মতই। জিয়াউর রহমান ফরিদগঞ্জ পৌরসভার স্কুল পড়ুয়া কিশোরদের নিয়ে প্রতিবছর আলাদা টুর্নামেন্টের আয়োজন করে থাকেন। গত দু'বছর ধরে স্থানীয় তরুণদের নিয়ে আয়োজন করে চলছেন বছরে দু'টি করে টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচের। নিজস্ব অর্থায়নে বর্ষায় আয়োজন করেন কিশোর ও যুবকদের পৃথক পৃথক মিনি টুর্নামেন্টেরও। ছোটদের নিয়ে আয়োজন করা এই বার্ষিক ক্রিকেট টুর্নামেন্টটি তাদের জন্য একটি উৎসাহের কেন্দ্রবিন্দুও। গত বছর এই টুর্নামেন্টটির থেকে বেরিয়ে এসেছে রাকিবুল ইসলামের মত উদীয়মান খেলোয়াড়রা। টুর্নামেন্টে আয়োজনের চাইতেও সবচেয়ে বড় বিষয় স্থানীয় কোন ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গ কিংবা নিজের ব্যক্তি উদ্যোগে তিনি টুর্নামেন্টের প্রতি ম্যাচের শ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়দের জন্য পুরস্কারেরও ব্যবস্থা করে থাকেন। টুর্নামেন্ট শেষে চ্যাম্পিয়ন, রানার্স-আপ ও ম্যান-অব-দ্যা সিরিজের জন্যও থাকে বিভিন্ন ক্রীড়া সামগ্রী উপহার।



গত বছর তার উদ্যোগে আয়োজিত ফরিদগঞ্জ ফুটবল প্রিমিয়ারলীগ (এফপিএল) ছিল ফটবল প্রিয় মানুষদের জন্য বছরের সেরা চমক। একদল তরুণের সাথে নিয়ে ফরিদগঞ্জ এ. আর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সে টুর্নামেন্টে একজন মাঠ কর্মীর মতই শ্রম দিয়ে গেছেন তিনি। উদ্বোধনী দিন থেকে শুরু করে ফাইনাল পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচে অক্লান্ত শ্রম দিয়ে করতে পেরেছিলেন টুর্নামেন্টের একটি সফল সমাপ্তি। টুর্নামেন্টটি এতটাই জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে, ফরিদগঞ্জ উপজেলায় একমাত্র এই খেলাটিই কেবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সম্প্রচার করা হয়েছিলো। টুর্নামেন্টের ফাইনাল আসরকে কেন্দ্র করে সদরস্থ এ আর হাই স্কুল মাঠটি ছিল বর্ণিল সাজে সজ্জিত। ফাইনালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম রোমান। উত্তেজনাপূর্ণ সে টুর্নামেন্টে কলাবাগান গ্ল্যাডিয়েটরসকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো এইচসিএন ফুটবল একাদশ। ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে পুরো মাঠে ছিল দর্শকদের রেকর্ড সংখ্যক উপস্থিতি।



জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বেই গত বছর ফরিদগঞ্জ ওয়াপদা মাঠে চালু হয়েছিলো ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট। মাসব্যাপী আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে শুধু এ উপজেলার খেলোয়াড়রাই অংশ নেয়নি, অংশ নিয়েছিলো উপজেলার বাইরে থেকে আসা একাধিক ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়। এ টুর্নামেন্টের তিনি শুধু একজন সফল উদ্যোক্তাই ছিলেন না, টুর্নামেন্টটি সফল করতে কাজ করেছেন একজন কর্মীর মতই। কোন প্রকার বিতর্ক ছাড়াই এ টুর্নামেন্টের সফল সমাপ্তি করতে পেরেছিলেন তিনি। গত বছরের ন্যায় এ বছরও ফরিদগঞ্জ ওয়াপদা মাঠে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়।



জিয়াউর রহমানের সাথেই এক সময় মাঠ চষে বেড়াত বর্তমান জাতীয় দলের ফুটবলার রেজাউল। ব্যক্তিগত ভাবে রেজাউল 'জিয়া ভাই' বলে সম্বোধন করেন তাকে। রেজাউল ৩ বছরের ছোট হলেও তাকে বন্ধুসুলভ ভবেই সমীহ করতেন জিয়া। ভালো খেলার জন্য নানাভাবে উৎসাহ যুগিয়েছেন রেজাউলকে। ক্রিকেটাঙ্গনে জিয়াউর রহমানের হাত ধরেই উঠে এসেছে ফরিদগঞ্জের সাদ্দাম। বর্তমানে সে ঢাকার বিভিন্ন লীগে খেলছে। আগামীতে জাতীয় দলের হয়ে খেলার সম্ভাবনা রয়েছে তার। বর্তমানে সে যেভাবে কিশোর-তরুণদের নিয়ে কাজ করে চলছে তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আরও কিছু রেজাউল, সাদ্দাম বেরিয়ে আসবে বলে তিনি মনে করেন। ফরিদগঞ্জ উপজেলার বড় বড় টুর্নামেন্টগুলোতে ফুটবলে রেফারি ও ক্রিকেটে আম্পায়ারের দ্বায়িত্ব পালন করেন তিনি। গত বছর তার নেতৃত্বে শুরু হওয়া ফরিদগঞ্জ ফুটবল প্রিমিয়ার লীগ প্রতিবছর আয়োজন করার ইচ্ছা রয়েছে তার।



এ উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনকে উন্নত করতে ও উদীয়মান খেলোয়াড় সৃষ্টিতে তার বেশ কিছু উদ্যোগ থাকলেও অনেক সময় তা অর্থাভাবে মুখ থুবড়ে পড়ে। ২০০২ থেকে তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ইত্যাদি স্পোর্টস ক্লাবটি এ উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনকে সমৃদ্ধ করতে কাজ করে গেলেও প্রশাসন বা কোন বিত্তবানদের সহযোগিতা পায়নি সংগঠনটি। তবুও সংগঠনের সদস্যদের নির্ধারিত সামান্য অনুদানের উপর ভিত্তি করেই এগিয়ে চলছে সংগঠনটি। হাসি মুখেই কাজ করে যাচ্ছে কিশোর-তরুণদের নিয়ে। সাবেক ফুটবলার ও প্যানেল মেয়র বড় ভাই জাকির হোসেন গাজী ও সেলিম হোসেন গাজীর উৎসাহে শত বাধা বিপত্তির মধ্যেও এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্যতম কর্মকর্তা ও ফরিদগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নূরুন্নবী নোমান বিভিন্ন আয়োজনে নানাভাবে উৎসাহ দেন বলে জানান তিনি।



জিয়াউর রহমানের ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী ও এক সন্তান রয়েছে। খেলাধুলার জন্য নানা সময় পরিবারের সদস্যদের অনেকের কাছেই অনেক কথা শুনতে হয়েছে। সবসময়ই পরিবারে চাইতে খেলাধুলাকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছিলেন তিনি। খেলার জগতটাই তার কাছে একটি পরিবার। বারে বারে যে পরিবারের টানে ছুটে আসেন ক্রীড়াঙ্গনে। কিছু নিন্দুক আর সুবিধাভোগী সমালোচকদের তিক্ত সমালোচনাও ছিলো এগিয়ে যাওয়ার পথে বড় একটি বাধা। তবুও বড় ভাইদের অনুপ্রেরণায় দমিয়ে যাননি তিনি। ক্রীড়াঙ্গন থেকে পাওয়া শত কষ্ট, তিতিক্ষা নিজের মধ্যে লুকিয়ে রেখে সদা হাসি মুখেই ছোটদের দক্ষ খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাণ পণে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। খেলাধুলা ছাড়াও যে কোন সামাজিক সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সরব অংশগ্রহণ রয়েছে তার। একটু উৎসাহ আর উদ্দীপনা পেলেই যে মানুষটি এ উপজেলায় গড়ে তুলতে পারে খেলাধুলার একটি উর্বর পরিবেশ, যার প্রতিষ্ঠিত ক্রীড়া সংগঠনটি হয়ে উঠতে পারে ছোটদের জন্য একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সেই মানুষটির পাশে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বিত্তবানরাও এগিয়ে আসা উচিত। আশা করা যায় উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাসহ বিভিন্ন ক্রীড়াপ্রেমী বিত্তবান ব্যক্তিরা জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত ইত্যাদি স্পোর্টস ক্লাবের পাশে এসে দাঁড়ালে ক্লাবটি আগামীতে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে এবং সেই সাথে সৃষ্টি হবে আরও কিছু নতুন উদীয়মান খেলোয়াড়ের।


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪২৭০২
পুরোন সংখ্যা