চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৪ মার্চ ২০১৭। ৩০ ফাল্গুন ১৪২৩। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪৭। উহারা বলিল, ‘তোমাকে ও তোমার সঙ্গে যাহারা আছে তাহাদিগকে আমরা অমংগলের কারণ মনে করি।’ সালিহ বলিল, ‘তোমাদের শুভাশুভ আল্লাহর ইখতিয়ারে, বস্তুত তোমরা এমন এক সম্প্রদায় যাহাদিগকে পরীক্ষা করা হইতেছে।’।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


প্রীতি দিয়ে পাওয়া যায় আপন লোককে, পরকে পাওয়া যায় ভয় জাগিয়ে রেখে।  


                     -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর/মুক্তধারা।

যাহারা গচ্চিত ধন রক্ষা করে, কথামতো কার্য করে এবং প্রতিশ্রুতি পালন করে, তারাই মুসলমান। 


ক্রীড়া ও দেশপ্রেম
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

নাগরিক মাত্রেই তার দেশপ্রেম থাকা অত্যাবশ্যক। দেশপ্রেমবিহীন নাগরিক দেশের শত্রুর নামান্তর। ক্রীড়া ব্যক্তির মনে দেশপ্রেম জাগ্রত করার উৎকৃষ্ট উপায়। ক্রীড়া কেবল বিনোদনই নয়, ব্যায়ামও বটে। ক্রীড়া ব্যক্তির মনে জাগরণ সংগঠনে অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আগেরকার দিনে রাজারা দেশপ্রেম অটুট রাখতে তরুণদের মধ্যে প্রভূত ক্রীড়ার প্রচলন বলবৎ রেখেছিলেন। বৃটিশ আমলে এদেশে বৃটিশদের বিরুদ্ধে তরুণদের সংগঠিত করতে লাঠিখেলা ও মল্ল ক্রীড়ার প্রচলন ছিলো। এইসব খেলায় পেশী শক্তি প্রদর্শনটা মূল বিষয় ছিলো না। মূল বিষয় ছিলো যুবকদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত রাখা ও বৃটিশদের বিরুদ্ধে যুবকদের শাণিয়ে রাখা।

লগন একটি জনপ্রিয় হিন্দি ছবি। এতেও আমরা কর মওকুফের জন্য বৃটিশদের বিরুদ্ধে নেটিভদের ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রত্যক্ষ করি। তেমনি দেশি খেলা হা-ডু-ডু কিংবা সাঁতার এসব দেশপ্রেম জাগ্রত করার জন্যই প্রচলিত ছিলো। বর্শা নিক্ষেপ খেলাটি বিনোদনে বিনোদন আর অন্যদিকে শত্রুর মোকাবেলায় নিজেকে তৈরি রাখার তাগিদ। তেভাগা আন্দোলনে কৃষকদের ন্যায্য দাবি আদায়ে জমিদারদের বিরুদ্ধে আমরা লাঠিখেলার কৌশল প্রত্যক্ষ করি। ক্রীড়ায় দলীয় শৃঙ্খলা ও স্বাজাত্যবোধ তৈরি হয়। এই কারণে দেশপ্রেম নির্মাণে ক্রীড়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য।

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল যখন আমাদের স্বাধীনতার সমর্থনে ফুটবল নৈপুণ্য প্রদর্শন করে চলেছে তখন মনে হতো এক একজন খেলোয়াড় যেনো এক একজন অস্ত্রধারী মুক্তিযোদ্ধা। প্রতিটি খেলোয়াড়ই যেন যুদ্ধের ময়দানে একজন বীর উত্তম যোদ্ধা। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল মহান স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হয়ে আমাদের মনে দেশপ্রেমের সেই বোধকে জাগ্রত করে ।

প্রতিটি ক্রীড়াবিদ এক একজন দেশের রাষ্ট্রদূত। তার অনবদ্য পারফরমেন্সে বিদেশের মাটিতে দেশকে তুলে ধরে । ক্রীড়াবিদ যদি তার মনে দেশপ্রেম লালন করে তবে দেশের বিজয় সুনিশ্চিত। দেশপ্রেমহীনতার কারণে বিখ্যাত ক্রিকেটার হ্যান্সি ক্রনিয়ে, সেলিম মালিক, আজহারউদ্দিন এবং আশরাফুলেরা দেশকে লজ্জিত করেছে। দেশের গৌরবকে ধুলায় মিশিয়ে দিয়েছে।

বিশ্বকাপ ফুটবল এবং ইদানীংকালে বিশ্বকাপ ক্রিকেটের খেলার শুরুতে জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। এতে খেলোয়াড়দের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত হয়। বিদেশ বিভুঁইয়ে গেলেও তারা মনের মধ্যে বহন করে পুরো দেশটাকে। কেবলমাত্র নিরেট দেশপ্রেমের কারণেই ভারতের মতো বড় একটি দেশের চাপ নিয়েছেন শচীন টেন্ডুলকার।

অলিম্পিক বা অ্যাথলেটিঙ্ চ্যাম্পিয়নশীপে বিজয় স্তম্ভে দাঁড়ানোর পর প্রথম হওয়া প্রতিযোগির জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। এটা কেবল সম্মানের জন্যই নয়। এটা হলো ক্রীড়া শিল্পীর মনের মধ্যে জাতীয়তাবোধ তৈরি করা, দেশপ্রেম সৃষ্টি করা । মহান দার্শনিক স্বামী স্বরূপানন্দ যুবকদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করার জন্য ক্রীড়া চর্চা ও চরিত্র গঠনের কথা ব্যক্ত করেছেন। বাস্তবিক, চরিত্র গঠন ও দেশপ্রেম নির্মাণের জন্য ক্রীড়ার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা মেসির প্রতি অভিযোগ, মেসি নাকি যতটা তার ক্লাবের জন্যে খেলে ততটা তার দেশের জন্য খেলে না। অথচ মেসির মধ্যে দেশপ্রেমের ঘাটতি আছে। পক্ষান্তরে ফুটবলের সর্বকালের সেরা কালোমানিক পেলের খেলায় কেউ দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেনি। কাজেই প্রতিটি সার্থক ক্রীড়াবিদের মনে দেশপ্রেমের কর্ষণ অতি জরুরি এবং অপরিহার্য।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৯০১২৯
পুরোন সংখ্যা