চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১১ এপ্রিল ২০১৭। ২৮ চৈত্র ১৪২৩। ১৩ রজব ১৪৩৮
kzai
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • গলায় সুপারি আটকে ফরিদগঞ্জে এক শিশুর করুণ মৃত্যু || গলায় সুপারি আটকে ফরিদগঞ্জে এক শিশুর করণ মৃত্যু || হাইমচরে অটোবাইক মোটরের সাথে চাদর প্যাচিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু -- ফরিদগঞ্জে কার্ভাড ভ্যানের ধাক্কায় অটোবাইক চালক আহত || হাইমচরে অটোবাইক মোটরের সাথে চাদর পেছিয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু। ফরিদগঞ্জে কার্ভাড ভ্যানের ধাক্কায় অটোবাইক চালক আহত।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৪-সূরা সাবা

৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মাক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১৮। তাদের এবং যেসব জনপদের লোকদের প্রতি আমি অনুগ্রহ করেছিলাম সেগুলোর মধ্যবর্তী স্থানে অনেক দৃশ্যমান জনপদ স্থাপন করেছিলাম এবং সেগুলোতে ভ্রমণ নির্ধারিত করেছিলাম। তোমরা এসব জনপদে রাত্রে ও দিনে নিরাপদে ভ্রমণ কর।

১৯। অতঃপর তারা বলল, হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের ভ্রমণের পরিসর বাড়িয়ে দাও। তারা নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল। ফলে আমি তাদেরকে উপাখ্যানে পরিণত করলাম এবং সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিলাম। নিশ্চয় এতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল কৃতজ্ঞের জন্যে নিদর্শনাবলি রয়েছে।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


একজন বিজ্ঞ বন্ধুই হল জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ।                      -ইউরিপাইডস।



২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৮৩। স্মরণ কর সেই দিনের কথা, যেই দিন আমি সমবেত করিব প্রত্যেক সম্প্রদায় হইতে এক-একটি দলকে, যাহারা আমার নিদর্শনাবলী প্রত্যাখ্যান করিত আর উহাদিগকে সারিবদ্ধ করা হইবে।। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

একটি বিজয়ের ফলশ্রুতি
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
১১ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


নেপোলিয়ান বোনাপার্টের উক্তিটি মাথায় ঘুরছে বেশ ক'দিন ধরেই। কেন ঘুরছে তা প্রথম দিকে টের না পেলেও পরে বুঝেছি মস্তিষ্ক তার আগাম ধারণায় বিষয়টি রপ্ত করতে পেরেছে। যে কথা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে তা আসলে বাংলাদেশের বিশেষ এক অর্জনকে কেন্দ্র করে। তার আগে সেই গল্পটা আবার বলার চেষ্টা করি। ছোট এক শিশু ছবি অাঁকছে আপন মনে। তার এই ছবি অাঁকা দূর হতে দেখছে তার পালিত বিড়াল। শিশুটি পেন্সিলের এক দাগ দেয় আর উৎসুক বিড়ালের প্রশ্ন-এটা কী অাঁকছো? শিশুটি বিড়ালের প্রশ্নের জবাব দেয় আর অাঁকে। বিড়ালের প্রশ্ন, এটা কী? শিশুটি বলে-আমি একটি ঘর অাঁকছি। বিড়াল-ওমা! এটা কি ঘর নাকি? ঘরের কি দেয়াল নেই? শিশু ঘরের মেঝে অাঁকে এবং তারপর অাঁকে দেয়াল। বিড়াল বলে-ঘরের কি ছাদ নেই? শিশু বলে আছে, আছেইতো। এই বলে সে ছাদ এঁকে দিলো। বিড়াল বলে, ওমা! ঘরের দরজা-জানালা নাই নাকি? দেখো বাপু, আমি এ ঘরে থাকবো না। শিশু হেসে তার অাঁকা ঘরে দরজা দেয়, জানালা দেয়। ঘরখানা এবার দেখতে বেশ হলো। বিড়াল ম্যাও করে আওয়াজ দিয়ে জানান দিলো-এটা তার ঘর। এই ঘর কাউকে সে দিবে না। শিশু মুচকি হাসলো। এ হাসি বিজয়ীর হাসি। বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বাপি্নক সাবের হোসেন চৌধুরীই যেন সেই ছবি অাঁকা শিশু আর বিড়ালটি যেন সকল সমালোচকের প্রতীক এখানে। বিশেষত : অস্থির এবং অন্যকে বা অন্যের ভালোকে সহ্য না করতে পারার ক্ষমতাহীন ব্যক্তির নান্দনিক প্রতীক।



কথা হচ্ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে। সম্প্রতি বাংলাদেশ তার অভিষেক লগ্ন হতে এ অব্দি শততম টেস্টটি খেলে ফেলেছে। শততম টেস্টটি তারা খেলেছে শক্তিশালী লঙ্কান সিংহ শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। শততম টেস্টের আগ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট ড্র রাখার সৌভাগ্য হয় নি। এমনকি নিরানব্বইতম টেস্টে শ্রীলঙ্কার হাতে ২৫৯ রানে কুপোকাৎ হয়ে শততম টেস্ট জিতে আসা বাংলাদেশ সত্যিকার অর্থেই এক অসাধ্য সাধন করেছে। প্রথম টেস্ট যখন বাংলাদেশ খেলে তখন ছিল ২০০০ সন, ১০ নভেম্বর। প্রথম টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর তখনকার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তার অনুভূতি ব্যস্ত করতে গিয়ে বলেছিলেন-এ অর্জন বাংলাদেশের জন্যে ভাষা আন্দোলন কিংবা স্বাধীনতা অর্জনের মতোই গুরুত্ববহ। বিরোধীরা তখন সে কী নাক কুঞ্চন! এমনকি বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেট বোদ্ধা এবং খেলোয়াড় এখনও মনে করেন-বাংলাদেশ তখন টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার যোগ্য ছিলো না। এ কেবল জগমোহন ডালমিয়া আর সাবের হোসেন চৌধুরীর টেবিল-কারসাজি। আজ শততম টেস্ট জয়ের পর সেই সব মুখগুলো কী করছে তা দেখার বিষয়। কেননা, আজ বিশ্ব ক্রিকেটে বড় বড় দলগুলো বাংলাদেশকে নিয়ে চিন্তিত থাকে। যত সহজে আগে তারা গেম প্ল্যান করতে পারতো তত সহজে আজ তারা আর তা করতে পারে না। বাংলাদেশকে সমীহ করতে করতে মহেন্দ্র সিং ধোনীর মতো মেধাবী ক্যাপ্টেনও ধরা খেয়ে যায়। মাথার মেজাজ হারিয়ে ফেলে। বিশ্ব ক্রিকেটে আজ বাসিত আলীর মতো লোকদের খুঁজে পাওয়া যায় না কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ঠিকই বীর দর্পে দেখা যায় মাঠে ময়দানে।



সে দিনের সেই সাবের হোসেন চৌধুরী যদি না থাকতো তবে বাংলাদেশ আজও টেস্ট স্ট্যাটাস পেতো কিনা তা সন্দেহ ছিলো। এ কথা পুরো বিশ্ব ক্রিকেটের এক বড় কর্তা সৈয়দ আশরাফুল হকের উক্তি। শততম টেস্টে বিজয়ের পর প্রথম টেস্টকে পিছে ফিরে তাকালে আমরা খুব সুখের কিছু ছবি দেখতে পাই। প্রথম টেস্টের বড় প্রাপ্তি আমিনুল ইসলামের সেঞ্চুরি। বিশ্ব ক্রিকেটে আমিনুল ইসলাম বুলবুল তৃতীয় ব্যক্তি যিনি অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি করেন। ১৪৫ রানের ঝকঝকে ইনিংসটিই তাকে অনেকদিন মনে করিয়ে দিবে। দুই ইনিংস মিলিয়ে অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের ৬টি উইকেট সে ও কম কথা নয়। তারপর কতো জল গড়িয়ে গেছে ক্রিকেটের নদী বয়ে। ২০০১ সালে সবচেয়ে কম বয়সে সেঞ্চুরি রেকর্ড গড়ে আশরাফুল। এরপর একে একে অনেক নায়কের আগমন ঘটে খেলার মাঠে। অভিষেকের একই টেস্টে হ্যাট্রিক সহ সেঞ্চুরি করে সোহাগ গাজী। অভিষেক টেস্টে ১০ নম্বরে ব্যাটিং করে সেঞ্চুরি করে আবুল হাসান। এক ম্যাচে দুই ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়ে আলোচনায় আসে এনামুল হক জুনিয়র। দলীয় সর্বোচ্চ রান হয় শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আশরাফুল এবং মুশফিকের কল্যাণে। ৬০৮ রানের পাহাড়ের বোঝা চাপানো হয় শ্রীলঙ্কার পিঠে। শততম টেস্ট অব্দি বাংলাদেশ জিতেছে ৯টি টেস্ট। প্রথম টেস্ট জিতে ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ২২৬ রানের ব্যবধানে। সর্বশেষ টেস্ট জিতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে। এরমধ্যে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ বিজয় হলো সাম্প্রতিককালে ইংল্যান্ডের সাথে টেস্ট জয়। এটি সত্যিকার অর্থেই একটি লড়াকু বিজয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি সাকিব আল হাসানের বিশ্বজয়। টেস্ট ক্রিকেটে বিশ্বের ১ নম্বর অলরাউন্ডার হয়ে সাকিব প্রমাণ করেছেন-বাঙালি বীরের জাতি। বাঙালি লড়াকু জাতি। এর পরেই তো এসে গেলো ফিজ আর মিরাজ। ফিজের ভয়ে আজও আমরা গুটিয়ে যেতে দেখি বিরাট কোহলিকে।



একে একে সবার বিরুদ্ধে টেস্ট জয় ধরা দিলেও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জয় থেকে যাচ্ছিল অধরা। কিন্তু গত ১৯ মার্চ ২০১৭ তারিখে স্যার ডন ব্র্যাডমানের স্মৃতিধন্য কলম্বোর পি সারা ওভাল মাঠে কাঙ্ক্ষিত জয় ধরা দিলো বাংলাদেশের হাতে। স্মরণীয় হয়ে থাকলো বাংলাদেশের শততম টেস্ট। এই টেস্ট অনেকটা আর্নেস্ট হেমিংওয়ের দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্যা সী এর মতো। ধীরে ধীরে লঙ্কান সিংহকে কুপোকাত করে বাংলাদেশ চার উইকেট বিজয় অর্জন করে। এ বিজয় দলগত বিজয়। সাকিবের সেঞ্চুরির পাশাপাশি মুশফিকের যথার্থ সাহচর্য চারশ' এর উপরে নিয়ে যায় বাংলাদেশের সংগ্রহকে। তার সাথে দ্বিতীয় ইনিংসে তামিমের অনবদ্য ৮২ রানের অমূল্য অবদান আর সাকিব আর মুস্তাফিজের তিনটি করে উইকেট ছিনিয়ে আনার ফলে বাংলাদেশের জয় চলে আসে হাতের মুঠোয়।



শততম টেস্ট বিজয়ের পর আজ সাবের হোসেন চৌধুরীর বিরোধিতাকারীরা উল্লাসে ফেটে পড়ছে। মনে হচ্ছে এ বিজয়ের পিছনে সমস্ত অবদান যেন তাদের। যারা মনে করতো বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস সাবের হোসেন চৌধুরী আর প্রয়াত জগমোহন ডালমিয়ার রাজনীতির ফসল তারা আজ নিজের ছিটানো থুতু গিলছে নিজেরাই। এই কারণেই বিশ্বজয়ী বীর নেপোলিয়ান বোনাপার্টের উক্তিটি মাথায় ঘুরছে ক'দিন হতেই। তিনিই তো বলেছেন-



Victory has many fathers, defeat none.



আজ তাই প্রাণের গহন হতে বলতে ইচ্ছে হয়-শততম টেস্ট বিজয় নিছক বিজয় নয়, এ হলো নিন্দুকের মুখে নিম পাতা বেটে মুখ শুদ্ধির সূচনা মাত্র। জয়তু বাংলাদেশ, জয়তু বাংলাদেশ ক্রিকেট।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৮১২৮৭
পুরোন সংখ্যা