চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৬ জুন ২০১৭। ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪। ১০ রমজান ১৪৩৮
kzai
muslim-boys

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪৬। মূসাকে যখন আমি আহ্বান করিয়াছিলাম তখন তুমি তূর পর্বতপার্শ্বে উপস্থিত ছিলে না। বস্তুত ইহা তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে দয়াস্বরূপ, যাহাতে তুমি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করিতে পার, যাহাদের নিকট তোমার পূর্বে কোন সতর্ককারী আসে নাই, যেন উহারা উপদেশ গ্রহণ করে;


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


যে স্বল্প পরিমাণে সুগন্ধ পায় সে সুগন্ধের মাধুর্য বুঝে।                      


-মিনেকো।

মৃত্যুই অনন্ত পদযাত্রার প্রারম্ভ।


ফটো গ্যালারি
ঢাকায় পাইওনিয়ার সুপার লীগে চাঁদপুর ফুটবল একাডেমী
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
০৬ জুন, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রথমবারের মতো রাজধানীতে (ঢাকায়) পাইওনিয়ার ফুটবল লীগে অংশ নিয়েই বাজিমাৎ করতে যাচ্ছে চাঁদপুর ফুটবল একাডেমী। দলটি চাঁদপুরে পরিচিতি নেয় চাঁদপুর কিশোর ফুটবল একাডেমী নামে। কিন্তু ঢাকায় ২১ সদস্যের দল নিয়ে অংশগ্রহণ করতে গেলে পাইওনিয়ার ফুটবল লীগের আয়োজকরা চাঁদপুরের দলটিকে চাঁদপুর ফুটবল একাডেমী নামে রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন। এখন থেকে এ দলটি চাঁদপুর ফুটবল একাডেমী নামেই দেশের যে কোনো স্থানে খেলতে পারবে। বিশেষ করে পাইওনিয়ার ফুটবল লীগের চ্যাম্পিয়ন কিংবা রানার্সআপসহ ৪টি দলের মধ্যে যদি দলটি অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় তাহলে আগামী বছর থেকে ঢাকার ৩য় বিভাগ ফুটবলে চাঁদপুর ফুটবল একাডেমীর খেলোয়াড়রা খেলতে পারবেন। বর্তমানে দলটিতে অধিকাংশ ফুটবলারই রয়েছেন বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া। এদের অধিকাংশের বয়সই কম। খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা রয়েছে শুধুমাত্র চাঁদপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দলের হয়ে মাঠে খেলার। এ দলটির অনেক খেলোয়াড়ই একমাত্র খেলার কারণে প্রথমবারের মতো নিজ জেলা ছেড়ে রাজধানীতে যান। এখন পাইওনিয়ার সুপার লীগে ওঠার পরই দলটির কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়দের স্বপ্ন সেমি-ফাইনালে যাওয়া এবং সেমি-ফাইনাল থেকেই নতুন লক্ষ্য থাকবে দলটিকে চ্যাম্পিয়ন করা। দলটির পৃষ্ঠপোষকতায় রয়েছেন পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, প্রধান কোচ ইউছুফ বকাউল, সহকারী কোচ টুটুল চক্রবর্তী, সভাপতি নুর হোসেন নুরু, সাধারণ সম্পাদক তাইজউদ্দিন বকাউল, সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন পাটওয়ারী, টিম ম্যানেজার মুজিবুর রহমান, ক্রীড়া সম্পাদক হানিফ বকাউল।



ঢাকায় পাইওনিয়ার ফুটবল লীগে অংশ নিয়ে অনেকটা দরিদ্রতার মধ্য দিয়েই দলটি খেলোয়াড়দের আন্তরিকতা ও কর্মকর্তাদের পরিশ্রমের ফসল হিসেবে ঢাকায় সুপারলীগে ওঠার যোগ্যতা অর্জন করেছে। আর ক্লাব কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়রা মূলত ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার ফুটবল উপ-কমিটির সভাপতি জাতীয় পুলিশ প্যারেডে নেতৃত্বদানকারী পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের অনুপ্রেরণায় এতোদূর এগিয়ে গেছেন। ক্লাবের কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়রা একবাক্যে তাদের মত প্রকাশ করেন যে, আজ ঢাকাসহ দেশের যে কোনো স্থানেই তাদের উদীয়মান ফুটবলাররা ভালো খেলা উপহার দিতে পারবেন। তারা নিয়মিত যখন ফুটবল অনুশীলন করেন তখন বিভিন্ন সময় তাদের প্রতিষ্ঠাতা পুলিশ সুপার তাদের খেলার খোঁজ খবরসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেন। দলটি ঢাকায় যেদিনই খেলতে যায় তখন প্রতিষ্ঠাতা শামসুন্নাহার তাদের খোঁজখবর নিতে থাকেন। খেলোয়াড়রা জানান, ঢাকায় খেলা চলাকালীন সময়েই আমাদের পুলিশ সুপার খেলার ব্যাপারে অনেক উৎসাহ দিয়ে গেছেন। আগামী দিনে দলের জন্য তাঁর কাছে আরো সহযোগিতা কামনা করি।



বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় সারা বাংলাদেশ থেকে পাইওনিয়ার ফুটবল লীগে ৭২ টি দল অংশ নেয়। এর মধ্যে ঢাকা লাগোয়া অনেক জেলার ক্লাবগুলো দু'মাস আগে থেকেই ঢাকায় গিয়ে অনুশীলন শুরু করে। অংশ নেয়া ৭২টি দলকে ৯টি ভাগে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। চাঁদপুরের দলটি পড়েছিলো 'ক গ্রুপে'। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর সাথে লড়াই করে চাঁদপুর ফুটবল একাডেমী গ্রুপ পর্যায়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে । চাঁদপুর ৭ ম্যাচে অংশ নিয়ে প্রতিপক্ষের জালে ২৬টি গোল দিয়েছে, আর ৭টি দলের খেলোয়াড়রা মাত্র ১টি গোল দিয়েছে চাঁদপুরকে। ৭ খেলায়ই চাঁদপুরের খেলোয়াড়গণ ম্যান অব দ্যা ম্যাচ অর্জন করেছেন। ঢাকার অনেক নামী-দামী ক্লাবসহ অংশ নেয়া অনেক ক্লাব ও একাডেমি চাঁদপুরের দলটিকে পাত্তাই দেয়নি। দলগুলোর কর্মকর্তাদের ধারণা ছিলো যে, মফস্বল থেকে যাওয়া ক্লাবটি দুপুরে খেলা হলে সকালে লঞ্চে আসে, আবার খেলা শেষ হলে তারা লঞ্চ ধরে চলে যায়। তারা ঢাকার মাঠে কোনো দলের সাথেই জয়লাভ করতে পারবে না। ঢাকার নামী ক্লাব আরামবাগ ক্লাবের জুনিয়রদের খেলার আগে আরামবাগের কর্মকর্তারা চাঁদপুরকে বলতে থাকেন, কয়েক ডজন গোল খেয়ে নদী পথে চলে যেতে হবে। অবশ্য চাঁদপুরের উদীয়মান ফুটবলারা সেই আরামবাগ জুনিয়রকে খেলা শুরুর ৫ মিনিেিটর মধ্যে ২টি গোল দেয়ার পর তারা শারীরিকভাবে চাঁদপুরের খেলোয়াড়দের আক্রমণ করতে থাকে। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ওই ম্যাচে আরামবাগের সাথে ২-১ গোলে জয়লাভ করে।



চাঁদপুরের এ দলটির কর্মকতা ও খেলোয়াড়দের আন্তরিকতার কারণেই তারা সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি চাঁদপুরে যখন ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত চলে তখন একাডেমীর খেলোয়াড়রা রাতের খাবার খেয়ে সদরঘাটে চাঁদপুরগামী লঞ্চে ঘুমিয়ে থাকে। আবার সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে মাঠে গিয়ে তাদের খেলতে নামতে হয়েছে। রাতের বেলা লঞ্চে গিয়ে সকাল বেলা কিছুটা রেস্ট করে দেশের বিভিন্ন নামী-দামী ক্লাবের সাথে তারা খেলেছেন। অনেক কষ্ট করে খেলার পরও দলটি সুপার লীগে খেলার সুযোগ পাওয়ায় সকলেরই মাঝে কিছুটা আনন্দ লাগছে। নিজেদের পরিশ্রম ও গুটি কয়েকজনের সহযোগিতা নিয়ে একাডেমীর কর্মকর্তারা বেশ কয়েকটি ম্যাচ খেলেছেন। এখন যদি ক্রীড়ামোদী কিছু পৃষ্ঠপোষক পায় তাহলে ক্লাব কর্মকর্তা ও খেলোয়াড়রা ঢাকার মাঠে চাঁদপুুুরের দলটিকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে, এ জন্য আর্থিক ভাবে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।



চাঁদপুর থেকে ক্রিকেটের পর এই প্রথমবারই উঠতি বয়সী কিশোর ফুটবলারদের নিয়ে ঢাকায় যাত্রা শুরু করলো ক্লাবটি। এ ক্লাবটি জেলার ফুটবল ইতিহাসে অনেকটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দল কিংবা ঢাকার নামী-দামী ক্লাবের যে সমস্ত ফুটবলার সৃষ্টি হয়েছে এদের অধিকাংশ ফুটবলারই পাইওনিয়ার ফুটবল লীগ থেকে তাদের যাত্রা শুরু করেছে। যারা ঢাকার মাঠে পাইওনিয়ার ফুটবল লীগে অংশ নিয়েছেন তাদের মধ্যেই অনেক ফুটবলারকে দেখা গেছে ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে খেলাসহ জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দিতে। ইতিমধ্যে চাঁদপুর দলের হয়ে খেলা কয়েকজন খেলোয়াড়কে ঢাকার কয়েকটি ক্লাবে খেলার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছে। উদীয়মান কয়েকজন ফুটবলারদের বাড়ির ঠিকানা ও তাদের মোবাইল নম্বর রেখে দিয়েছেন ঢাকায় বিভিন্ন ক্লাবের কোচ ও কর্মকর্তারা। চাঁদপুরের দলটি যে গ্রুপে খেলায় অংশ নিয়েছিলো সেই দলগুলো ছিলো মাদারবাড়ী শোভানীয় ক্লাব চট্টগ্রাম, নাসরিন স্পোর্টস্ একাডেমী, বিক্রমপুর একাদশ, মাসদাইর যুব সংসদ, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ (জুনিয়র), গোদনাইল ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ঝিলমিল ফুটবল একাডেমী।



চাঁদপুরের দলটি প্রথম খেলায় বিক্রমপুর একাদশের সাথে গোল শূন্য দিয়ে শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত খেলাটি ৬ গোলের মধ্য দিয়ে শেষ করে। চাঁদপুর ২য় খেলায় নাসরিন স্পোর্টস্ একাডেমীর সাথে ১-০ গোলে জয়লাভ করে এবং ৩য় খেলায় শক্তিশালী চট্টগ্রামের মাদারবাড়ী শোভানীয় ক্লাবের সাথে গোলশূন্য ড্র করে। চাঁদপুর চতুর্থ খেলায় ঝিলমিল ক্লাবের সাথে ৪ গোলে, গোদনাইল ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে ১৩ গোলে, আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ (জুনিয়র)-এর সাথে ২-১ গোলে এবং সর্বশেষ মাসদাইর যুব সংসদের সাথে ৬-০ গোলে জয়লাভ করে গ্রুপ পর্যায়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। চাঁদপুরের ম্যান অব দ্যা ম্যাচ পাওয়া ফুটবলারদের মধ্যে গোলকিপার সজীব ৩টি, মিডফিল্ডার সায়েম, স্টপার আরিফ, সাকিব ও স্ট্রাইকার ছাবি্বর ১টি করে ম্যান অব দ্যা ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এর মধ্যে গোদনাইলের সাথে আরিফ ও মাসদাইর যুব সংসদের সাথে সাবি্বর হ্যাটট্রিক করেন।



সুপারলীগে ওঠা চাঁদপুর ফুটবল একাডেমীর প্রধান কোচ সাবেক ফুটবলার ইউছুফ বকাউলের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, দলটির খেলোয়াড়দেরকে নিয়মিত মাঠে অনুশীলনে রেখেছি। নিজের সন্তানদের মতো তাদেরকে খেলার মাঠে ধরে রেখেছি। খেলার কারণে তারা যেনো খারাপ পথে না বাড়ায় সেদিকে খেয়াল রেখেছি। আমি এক সময় মাঠের খেলোয়াড় ছিলাম। মাঠ ছেড়ে আমার অন্য কোথাও মন বসে না। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে এই দলটিকে এতদূর এগিয়ে আনতে অনেক হিমশিম খেতে হচ্ছে। যে সমস্ত ফুটবলার দলটিতে খেলাধুলা করছেন তাদেরকে যদি কোনো ভালো ক্রীড়া সংগঠক একটু পৃষ্ঠপোষকতা করেন তাহলে তাদেরকে (ফুটবলারদের)কে নিয়ে আমি অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবো। আমাদের চাঁদপুরের বিভাগীয় কমিশনার ফুটবল কিংবা জেলা প্রশাসক ও জেলা লীগে বিভিন্ন জায়গার থেকে ফুটবলার আনতে হয় দলগুলোতে খেলানোর জন্যে। কিন্তু এই টাকা খরচ না করে যদি তারা একাডেমীর খেলোয়াড়দেরকে পৃষ্ঠপোষকতা করেন তাহলে এই খেলোয়াড়রাই বিভিন্ন দলের হয়ে মাঠে তাদের নৈপুণ্য প্রদর্শন করতে পারবেন। আমি একাডেমির ও ফুটবলারদের জন্য সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করি। বর্তমানে ক্লাবের সাথে যারা জড়িত আছেন, সেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যরা দলের জন্য এবং খেলোয়াড়দের জন্য অনেক পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।



চাঁদপুর কিশোর ফুটবল একাডেমীর সভাপতি ও ক্রীড়া সংগঠক নূর হোসেন নূরু জানান, প্রায় ৪ বছর আগে থেকে আমাদের একাডেমির কার্যক্রম শুরু করি। কিন্তু চাঁদপুরের বর্তমান পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার আসার এর এ ক্লাবটির প্রতিষ্ঠা পরিপূর্ণতা লাভ করে। চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমরা বর্তমানে একাডেমির বিভিন্ন কার্যক্রম করে যাচ্ছি। আমাদের একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে রয়েছেন জাতীয় পুলিশ প্যারেডে অংশ



 



নেয়া প্রথম নারী পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। স্যার আমাদেরকে খেলার ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছেন। খেলোয়াড়রা স্যারের উৎসাহের কারণে খারাপ পথে না গিয়ে দলবদ্ধ হয়ে মাঠে খেলাধুলা করছেন। দলে যে সমস্ত খেলোয়াড় রয়েছেন এদের মধ্যে সবাই প্রথম বারের মতো ঢাকায় গিয়ে ফুটবল খেলেছেন। এই দলের কয়েকজন খেলোয়াড় এর আগে ক্লাব কাপে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি ক্লাবে খেলেছেন। এটাই তাদের কিছুটা অভিজ্ঞতা। বর্তমানে ঢাকায় পাইওনিয়ার ফুটবল লীগে খেলোয়াড়রা যেভাবে খেলছেন, এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে আমরা চ্যাম্পিয়ন হবো। আমাদের দলে যে প্রধান কোচ রয়েছেন সেই ইউছুফ ভাই ঢাকায় একটানা পাঁচ বছর ওয়ান্ডারার্স এবং বিষ্নুদী ক্লাবে খেলেছেন। তার নেতৃত্বে চাঁদপুর জেলা ফুটবল দল, বিষ্ণুদী এবং ঢাকা ওয়ান্ডারার্স চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তার এবং সহকারী কোচসহ সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা খেলাগুলো চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের খেলার শুরুতে চাঁদপুর জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনে সভাপতি রোটারিয়ান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ২৫ হাজার টাকা দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। এছাড়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও বাবু ভাই এবং শাহির ভাই কিছুটা সহযোগিতা করেছেন। ঢাকার মাঠে গিয়ে খেলতে অনেক কষ্ট হয়,্ এ ক্ষেত্রে যদি কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে আমরা অনেক উপকৃত হবো।



একাডেমির সহকারী কোচ ও সাবেক ফুটবলার টুটুল চক্রবর্তীর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আমাদের টিমে যে স্পিরিট রয়েছে এর ধারাবাকিতা ধরে রাখতে হবে খেলোয়াড়দের। এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে আমরা যে কোনো দলের সাথেই জয়লাভ করতে পারবো। দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক খেলোয়াড়দেরকে আন্তরিকতার সাথে মাঠে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। আমার খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করে বর্তমানে কোচিংয়ে রয়েছি, অনেক ঘটনা দেখেছি, কিন্তু দলের প্রতি, খেলোয়াড়দের প্রতি কর্মকর্তাদের যে আন্তরিকতা তা সত্যিই প্রশংসনীয়। খেলোয়াড়দেরকে নিয়ে কর্মকর্তাদের লঞ্চে রাত কাটানো। সারা বাংলাদেশ ঝড়ে আতঙ্কে, কিন্তু খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য রাত জেগে তাদেরকে সহযোগিতা করে গেছেন। আমরা ঢাকায় অংশ নেয়ার আগে বেশ কিছুদিন বালুর মাঠে খেলোয়াড়দেরকে অনুশীলন করিয়েছি। এই খেলোয়াড়দেরকে যদি আরো ১টি মাস বালুর মধ্যে অনুশীলন করাতে পারতাম তাহলের ঢাকার মাঠে আরো ভালো খেলতো। তারপরও আমাদের লক্ষ্য সেমি-ফাইনাল পর্যন্ত দলটিকে নিয়ে যাওয়া। এজন্যে সকলের আর্থিক সহযোগিতা সহ দোয়া কামনা করি।



একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ও ক্রীড়া সংগঠক তাইজদ্দিন (তাজু) বকাউলের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, অনেক পরিশ্রমের বিনিময়ে দলটি আজ ঢাকায় খেলায় অংশ নিয়েছে। আমার ইচ্ছা আমাদের দলটি সেমি-ফাইনালে যেনো খেলে। টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে ৭২টি দল নিয়ে, সুপার লীগ পর্যন্ত উঠেছে ২০টি দল। আমাদের দল কোয়ালিফাই ম্যাচ খেলে যেনো ঢাকায় ৩য় বিভাগ ফুটবল লীগ খেলতে পারে এখন সেটাই প্রত্যাশা করছি। দলের খেলা দেখে ঢাকার নামী-দামী ক্লাব কর্মকর্তা ও কোচরা এখন চাঁদপুর ফুটবল একাডেমীর খেলোয়াড়দের খোঁজখবর নিচ্ছেন। দলের খেলোয়াড়দের উন্নয়নের সাথে যদি জেলার বিত্তবানরা আমাদের একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে আমরা আরো এগিয়ে যাবো, ইনশাআল্লাহ। আমাদের সাথে যে সমস্ত দল অংশ নিয়েছে তারা অনেকটা গাড়ি-ঘোড়া নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন। আর আমরা খেলার দিন খেলোয়াড়দের নিয়ে অনেক কষ্ট করে মাঠে খেলতে যাচ্ছি এবং খেলা শেষে চাঁদপুর চলে আসতে হয়। একমাত্র ঢাকায় ফুটবলে অংশ নেয়া দল আমরা। আমরা যেনো ফাইনালে যাওয়ার জন্য সকলের সহযোগিতা পাই সেটাই কামনা করছি।



একাডেমীর ঊর্ধ্বতন কর্মকতা ও টিম ম্যানেজার মুজিবুর রহমান মুজিব বলেন, আমাদের দল যে সুপার লীগে উঠেছে, এটা অনেক আনন্দের। আমাদের দল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটির পৃষ্ঠপোষকতায় চলমান টুর্নামেন্টে সুপার লীগে উঠেছে, এটা অনেক আনন্দের, যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। চাঁদপুরের ফুটবল ইতিহাসে ঢাকায় ৭টি ম্যাচে অংশ নিয়ে ৭টি ম্যাচে আমরা ম্যান অব দ্যা ম্যাচ পেয়েছি একমাত্র খেলোয়াড়দের মনোবলের কারণে। ৭টি খেলায় আমরা প্রতিপক্ষকে ২৬টি গোল দিয়ে মাত্র ১টি গোল হজম করেছি। দলের মধ্যে স্পিরিট রয়েছে। আমরা চাই প্রথমবারেই অংশ নিলাম এবং যাতে শিরোপা অর্জন করতে পারি। আমরা জেলাবাসী সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করি ।



একাডেমীর ক্রীড়া সম্পাদক ও সাবেক ফুটবলার, চাঁদপুর সোনালী অতীত ক্লাবের সদস্য মোঃ হানিফ বকাউলের সাথে আলাপকালে তিনি জানান, আমিই প্রথম উদ্যোক্তা, দলটি যেনো ঢাকায় খেলতে পারে সেই ব্যবস্থা করেছি। আমি ঢাকায় অংশগ্রহণ করার পরই বলছি যে, আমাদের দল সুপার লীগে খেলবে। আর এখন বলতে চাই যে, ১ হতে ৩ নভেম্বরের মধ্যে চাঁদপুর ফুটবল একাডেমী দলটি উত্তীর্ণ হয়ে সরাসরি ঢাকায় ৩য় বিভাগ ফুটবল লীগে খেলবে । প্রথম দিন খেলা শেষে খেলোয়াড়দের আরো বলেছি যে, তারা যদি মনোযোগ দিয়ে খেলে তাহলে আমরা গ্রুপ পর্যায়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হবো। আল্লাহতায়ালা আমাদের সেই আশা পূরণ করছে। টিম মাঠে ভালো করতে হলে অনুশীলন করতে হয়। আমরা আজ অনেক দিন ধরেই এ খেলোয়াড়দেরকে নিয়ে মাঠে অনুশীলন করে যাচ্ছি। তবে খেলাধুলার ক্ষেত্রে অনেক অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। এজন্যে আমরা সকলের কাছে সহযোগিতা কামনা করি। একাডেমীর সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন পাটওয়ারী জানান, আমি একাডেমীর প্রতিষ্ঠা থেকে নিরলসভাবে খেলোয়াড়দের জন্যে কাজ করে যাচ্ছি। দলের এবং জেলাবাসীর ভালো খবর হলে মনে অনেক আনন্দ থাকে। ব্যবসার ফাঁকে যখনই সময় পাই খেলোয়াড়দের উৎসাহ দিতে মাঠে ছুটে আসি। দলের সকল খেলোয়াড়ই উঠতি বয়সী । এরা কোচদের তত্ত্বাবধানে যেভাবে অনুশীলন করছে, তারা যদি সেই ধারাাহিকতা ধরে রাখে ভবিষ্যতে এই খেলোয়াড়রা অনেক ভালো খেলোয়াড় হবে। আমি খেলোয়াড়দের এবং দলের জন্য সকলের দোয়া সবসময়ই কামনা করি।



চাঁদপুর ফুটবল একাডেমির হয়ে অংশ নেয়া খেলোয়াড়গণ হলেন : মোঃ শামীম হোসেন, নাবিল হোসেন সাইম, মোঃ ছাবি্বর গাজী, ইমাম হোসেন রিয়াদ, আমির হামজা, আল নাফি সিয়াম, আরিফ মোল্লা, সিয়াম বকাউল, আব্দুল্লাহ আল হিসাম, সজিব, সাকিব হোসেন, সুব্রত দাস, ইমাম গাজী রিংকু, ইমরান, আসিফ ভুইয়া, রাজন চৌধুরী, সাকিব কাজী, রাহুল গাজী, ইমাম গাজী, শাহাদাত হোসেন সাগর ও মাইনুল হাসান জোবায়ের।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৪৪৩১৭
পুরোন সংখ্যা