চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১১ জুলাই ২০১৭। ২৭ আষাঢ় ১৪২৪। ১৬ শাওয়াল ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • শুক্রবার সকালে হাজীগঞ্জের সৈয়দপুর সর্দার বাড়ির পুকুর থেকে শাহিদা আক্তার মুক্তা নামের এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ॥ স্বামী হাছান সর্দার পলাতক || হাজীগঞ্জের সৈয়দপুর সর্দার বাড়ির পুকুর থেকে শাহিদা আক্তার মুক্তা নামের এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ॥ স্বামী হাছান সর্দার পলাতক
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৮০। এবং যাহাদিগকে জ্ঞান দেওয়া হইয়াছিল তাহারা বলিল, ‘ধিক তোমাদিগকে! যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাহাদের জন্য আল্লাহর পুরস্কারই শ্রেষ্ঠ এবং ধৈর্যশীল ব্যতীত ইহা কেহ পাইবে না।  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


ঘৃণার আয়ু লম্বা আর বিষাক্ত                                          


                                  -কৃষণ চন্দর।


 


যারা পয়গম্বরদের (নবীদের) কবর পূজা করে, তারা অভিশপ্ত হউক। 


 

ফটো গ্যালারি
সকলকেই চেষ্টা করতে হবে চাঁদপুরের বাস্কেটবলের স্মৃতি ধরে রাখতে
সঞ্জয় সাহা
১১ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

আন্তর্জাতিকভাবে বাস্কেটবল সুপরিচিত ও জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশে বাস্কেটবলের জনপ্রিয়তা কম নয়। আর চাঁদপুরে বাস্কেটবলের পরিস্থিতি এবং জনপ্রিয়তা সম্পর্কে উপস্থিত আমরা সবাই জানি। চাঁদপুরে বাস্কেটবলের রয়েছে গৌরব উজ্জ্বল অতীত যার সূত্র ধরেই আজও আমরা চাঁদপুরে বাস্কেটবল খেলি এবং একে ভালোবাসি। কিন্তু দুঃখের বিষয় পুরোনো বাস্কেটবল খেলার ঐতিহ্য এখন প্রায় বিলীনের পথে। আমরা যারা বাস্কেটবল খেলি তারা আজও এই খেলাটিকে মনে প্রাণে ভালোবাসি এবং খেলি। কিন্তু বর্তমানে চাঁদপুরে বাস্কেটবল খেলা তথা বাস্কেটবল মাঠও প্রায় ধ্বংস হয়ে বিলীন হওয়ার পথে। যার বেহাল দশা দেখে আমরা যারা আজও বাস্কেটবলকে ভালোবাসি এবং হৃদয়ে ধারন করি এবং যে যেখানেই থাকি না কেন, চাঁদপুরে আসলে অন্তত একবার মাঠে আসি এবং এর খোঁজ খবর নেই তাদের কাছে খুব কষ্ট লাগবে। চাঁদপুরে বাস্কেটবল খেলা কয়েক প্রজন্ম ধরে চলে আসছে এবং আমিও সেই প্রজন্মের একটি অংশ। আর সেই থেকে আজ অবদি চাঁদপুরে বাস্কেটবল খেলা একটি শুধু খেলা নয়, এটি হল প্রজন্মের সাথে প্রজন্মের আর মনের সাথে মনের সেতু বন্ধন। চাঁদপুরে বাস্কেটবল মাঠটি শুধু একটি খেলার মাঠ নয় এটি হচ্ছে প্রজন্মের পর প্রজন্মের অনেক মানুষের মিলনস্থল। যেখানে রয়েছে বন্ধুত্বের স্মৃতি, রয়েছে ভালোবাসার বাতাস, রয়েছে বড়দের সাথে ছোটদের একসাথে সভা করার, একসাথে খেলার আর একে অন্যকে শ্রদ্ধার অনুশাসন আর সবচেয়ে বড় কথা অন্য রকম এক মানসিক এবং শারীরিক শান্তির জায়গা আমাদের এই চাঁদপুর বাস্কেটবল মাঠটি। কিন্তু খুবই হৃদয় বিদারক যে, আমাদের এতো বছরের এত মানুষের স্মৃতি বিজড়িত মাঠটি, অতীতে যে স্থানটি সবাই এক নামে চিনত, যে খেলাটি সবাই জানতো আজ তা ধ্বংস প্রায়। আমিও আপনাদের মতো একজন যে এই খেলাটিকে মনে প্রাণে ভালোবাসি এবং চাই পরবর্তী প্রজন্ম যেন এই খেলাটিকে ভালোবাসে এবং খেলে এবং আমাদের সবার স্মৃতি বিজড়িত ও ভালোবাসার এই খেলাটিকে ও বাস্কেটবল মাঠটি যেন কালের আবর্তনে বয়ে চলে আমাদের হাত ধরেই। তাই আমার এই কথাগুলো বলা। আমি শুধু একা নয়, আমার সাথে এখন আরো অনেকে আছে যারা আজও আমার মতো চায় যে বাস্কেটবল খেলা আর বাস্কেটবল মাঠটি টিকে থাকুক চাঁদপুরে মাটিতে আমাদের সবার স্মৃতি স্তম্ভ হয়ে। খুব কষ্ট লাগছে বলতে যে বিগত অনেকগুলো বছরের অবহেলায় আজ চাঁদপুরে বাস্কেটবল খেলা একেবারেই কোনঠাসা হয়ে পড়েছে আর বাস্কেটবল মাঠটির প্রতি এতই অবহেলা করা হয়েছে আমাদের চাঁদপুরের বাস্কেটবলের পুরনো ঐতিহ্য আর স্মৃতির স্তম্ভ মাঠটি বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। আজ আমরা যারা মাঠে যাই এবং দেখি তা আমাদের কষ্ট দেয় আর ভাবি আমরা কি এভাবে দেখে দেখে চোখের সামনে মাঠটাকে ধ্বংস হতে দিবো আর দেখবো নিজেদের স্মৃতি বিজড়িত স্থানটি বিলীন হতে, নাকি কিছু করবো এই খেলাটিকে ....মাঠটিকে বাঁচিয়ে রাখতে আর আগের গৌরব ফিরিয়ে আনতে। তাই অনেকের পক্ষ হতে আমি এই কথাগুলো বললাম। জানিনা আপনারা সবাই কি ভাবনে। তবে আমি শুধু এতটুকু জানাতে চাই, সত্যি কি আমরা পারি না কোন বাহ্যিক পৃষ্ঠপোষকতা দ্বারা, কোন বাহ্যিক অর্থসংস্থান দ্বারা আমরা যারা এই বাস্কেটবল মাঠের সদস্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছি তারা একত্রিত হয়ে ভালোবাসা আর সকল প্রকার সহযোগিতা দ্বারা চাঁদপুরে বাস্কেটবল খেলাটিকে এবং মাঠটিকে বাঁচিয়ে রাখি।

আমি অনেকের সাথে কথা বলেছি এবং অনেককে কথা বলতে দেখেছি যে বাংলাদেশে ক্রিকেট আর ফুটবল ছাড়া অন্য কোন খেলার উন্নতি যা চিন্তা ভাবনা করা অযৌক্তিক। আমি শুধু বলতে চাই এর প্রেক্ষিতে যে আরো কোন সাহায্য ছাড়াই আমরা যারা বাস্কেটবল খেলাটাকে ভালোবাসি তারা কি জাতীয় পর্যায়ে না হোক শুধু চাঁদপুর জেলাতে বাস্কেটবল খেলাটিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারি না! আমরা সকলেই চেষ্টা করবো চাঁদপুরের বাস্কেটবলের স্মৃতি ধরে রাখতে।

আমরা যারা বাস্কেটবল খেলি এবং একে ভালোবাসি তারা শুধু জানি এ খেলা আর এই মাঠ আমাদের কতোটা প্রিয়, কত ভালোবাসার, আর কতটা স্মৃতিময় মধুর। যা অন্য কেউ বুঝবে না বা জানবে না। তাই আমার কথাগুলো আপনাদেরকে বলা যারা বাস্কেটবল খেলেন বা খেলেছেন কিন্তু সবাই এটাকে ভালোবাসি এবং এর উন্নতির আশা করেন।

পরিশেষে বলতে চাই, আমরা সবাই যদি একসাথে এবং একান্ত ভাবে চেষ্টা করি তবে জেলা পর্যায়ে আমাদের মাঠ ও আমাদের খেলাটি বাঁচিয়ে রাখতে ও জনপ্রিয় করে তুলতে পারবো। সাথে সাথে জাতীয় পর্যায়ে ক্রিকেট বা ফুটবল এমনকি অন্যান্য খেলার তুলনায় বাস্কেটবল এর মাধ্যমে চাঁদপুরকে এবং চাঁদপুর বাস্কেটবল দলকে পরিচিত করে তুলতে পারবো।

আমাদের করণীয় :

১। বাস্কেটবল খেলা সম্পর্কে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা। এই ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে এই খেলার জনপ্রিয়তা এবং শারীরিক ও মানসিক পর্যায়ে অন্যান্য খেলার তুলনায় বাস্কেটবল খেলার গুরুত্ব উপস্থাপন করা।

২। চাঁদপুরে বাস্কেটবল খেলার প্রচলন ও হারানো ঐতিহ্য নতুনভাবে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে উপস্থাপন ও সংরক্ষন করা এবং চাঁদপুরে বাস্কেটবল খেলার প্রচলন এবং জেলা পর্যায়ে ছাড়িয়ে জাতীয় বিভাগীয় পর্যায়ে চাঁদপুর জেলার বাস্কেটবল খেরার ঐতিহ্য সৃষ্টি করা এবং বাস্কেটবল খেলার মাধ্যমে চাঁদপুরকে পরিচিত করে তোলা তথা চাঁদপুরে বাস্কেটবল খেরার সাথে জড়িত কোচ, খেলোয়াড়বৃন্দ, শুভাকাঙ্ক্ষীদের সম্মান জানানো ও পরিচিত করা এবং পুনরায় চাঁদপুরে বাস্কেটবল খেলার উন্নয়ন উক্ত ব্যাক্তিদেরকে একত্রিত করা।

৩। বর্তমানে বাস্কেটবল মাঠ সংস্কার, সাথে চাঁদপুর বাস্কেটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা এবং একাডেমির জন্যে একটি অফিস তৈরি করার সাথে প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের পথ সুগম করা বা অর্থসংস্থান এর উৎস বা মাধ্যম এর কৌশল নির্দিষ্ট করা।

৪। চাঁদপুরে বাস্কেটবল একাডেমি তৈরি করার প্রয়াস এবং বাস্কেটবল খেলার উন্নয়নের সাথে দিক নির্দেশনা প্রদানের প্রয়োজনে এবং চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং জাতীয় পর্যায়ে সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, অর্থসংস্থান সুনিশ্চিত করণে চাঁদপুর বাস্কেটবল একাডেমির একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর বাস্কেটবল কমিটি, বাস্কেটবল খেলোয়াড় ও বাস্কেটবল খেলায় শুভাকাঙ্ক্ষিদের সমন্বয় গঠন করা।

৫। বাস্কেটবল খেলার প্রয়োজনীয় উপকরণ, বল, বাস্কেট রিং-এর নেট প্রাথমিক চিকিৎসার উপকরন, তথা বাস্কেটবল খেলায় আনুষাঙ্গিক উপকরণ সমূহের যোগান ও সরবারহ নিশ্চিত করা।

৬। চাঁদপুর বাস্কেটবল মাঠের প্রাণ এবং বাস্কেটবল খেলোয়াড়দের আগ্রহ ও উৎসাহ ফিরিয়ে আনতে বছরে তিনমাস অন্তর বাস্কেটবল টুর্নামেন্ট বা ম্যাচের আয়োজন নিশ্চিত করা।

৭। জাতীয় পর্যায়ে বাস্কেটবল প্রতিযোগিতায় চাঁদপুর বাস্কেটবল দল এর অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করা।

৮। বাস্কেটবল খেলোয়াড়দেরকে খেলোয়াড় হিসেবে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা সম্পর্কে সচেতন করা এবং উক্ত সুবিধা সুনিশ্চিত করা।

৯। চাঁদপুরের ছেলেদের বাস্কেটবল খেলার ঐতিহ্যের পাশাপাশি মেয়েদের বাস্কেটবল খেলার ঐতিহ্য সৃষ্টি করা এবং মেয়েদের বাস্কেটবল খেলার প্রচলন করা এবং মেয়েদের বাস্কেটবল দল গঠন করা ও মেয়ে সদস্য সংগ্রহ এবং ছেলেদের ন্যায় মেয়েদের সুযোগ-সুবিধা, পৃষ্ঠপোষকতা ও অনুশীলন নিশ্চিত করা।

আজকের পাঠকসংখ্যা
১১১৫৩১
পুরোন সংখ্যা