চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৪ নভেম্বর ২০১৭। ৩০ কার্তিক ১৪২৪। ২৪ সফর ১৪৩৯
kzai
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • ফরিদগঞ্জের রুপসা বাজার ব্যবসায়ী কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হাঙ্গামা, ভোট গণনা স্থগিত || মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল এলাকায় সড়কের পাশ থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার।। ২০১৯ সালে দেশে লোডশেডিং থাকবে না--মেজর অব: রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম এমপি।  || মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল এলাকার সড়কের পাশ থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার || মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল এলাকার রাস্তার পাশ থেকে হিন্দু মহিলার লাশ উদ্ধার
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩১-সূরা লোকমান


৩৪ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৩৪। কিয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকট রহিয়াছে, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনি জানেন যাহা গর্ভাশয়ে আছে। কেহ জানে না আগামীকাল সে কি অর্জন করিবে এবং কেহ জানে না কোন স্থানে তাহার মৃত্যু ঘটিবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবহিত।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 

অতিরিক্ত ঔষধ রোগ বৃদ্ধি করে।  -ভার্জিল।


মায়ের পদতলে সন্তানদের বেহেশত।


ফটো গ্যালারি
ভাষাবীর এমএ ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ক্লাব কাপ ফুটবলে শুধু খেলবে স্থানীয় ফুটবলাররা
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আর মাত্র কয়েকদিন পরই শুরু হচ্ছে ৩য় বারের মতো ক্রীড়া মাস। আর এ ক্রীড়া মাসের যে ক'টি ইভেন্ট রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ইভেন্ট হচ্ছে ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট। গতবছর অথ্যা ২য় বার ক্রীড়া মাসের উদ্বোধন করা হয়েছিলো ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের মধ্য দিয়ে। এই বছর আয়োজকরা ১৭ নভেম্বর ক্রীড়া মাসের শুভ সূচনা করার সিদ্বান্ত নিয়েছেন।



ক্রীড়া মাসের ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়ে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত দু'সপ্তাহ আগে এবং চলতি সপ্তাহে জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার ফুটবল উপকমিটির সভাপতি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ফুটবল উপকমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার ফুটবল উপকমিটির সম্পাদক শাহীর হোসেন পাটওয়ারী, নতুনবাজার ক্রীড়া চক্রের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী, বিষ্ণুদী ক্লাবের সভাপতি অ্যাডঃ সেলিম আকবর, কর্মকর্তা মোঃ জগলু, মোহামেডান ক্লাবের কর্মকর্তা কাজী মাইনুল হক জীবন, ব্রাদার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন শান্ত, কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন পাটওয়ারী, চাঁদপুর ক্রিকেট একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা শামিম ফারুকী, ভাই ভাই স্পোটিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান খান বাদলসহ বিভিন্ন ক্লাবের কর্মকর্তাগণ।



পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সভার শুরুতেই তিনি উপস্থিত জেলা ক্রীড়া সংস্থার বিভিন্ন ক্লাব কর্মকর্তাকে বলেন, এ বছর ক্রীড়া মাসের ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া ক্লাবগুলোকে স্থানীয় ফুটবলার নিয়ে খেলতে হবে। আমরা স্থানীয় খেলোয়াড় নিয়ে যত বেশি ফুটবলের আয়োজন করতে পারবো তত বেশি খেলোয়াড় আমাদের মাঝে সৃষ্টি হবে। জেলার বাইরের কিংবা বিদেশী খেলোয়াড়দের দিয়ে ম্যাচ খেলানো হলে স্থানীয় খেলোয়াড়রা এতে খেলার সুযোগ পাবে না। আমাদের জেলা শহরে স্থানীয় অনেক ফুটবলার রয়েছে এদেরকে যদি ঠিকমতো খেলার ম্যাচগুলোতে সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে এরা অনেক ভালো করবে। আমার জানা মতে অন্যান্য বছরগুলোতেও স্থানীয় ফুটবলাররা বিভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন এবং তাদের খেলা দর্শকরা ভালোভাবে উপভোগ করেছেন। আমি সকল ক্লাব কর্মকর্তাদের অনুরোধ করি স্থানীয় ফুটবলার দিয়ে আপনার খেলার আয়োজন করেন এতে স্থানীয় ফুটবলারা অনেক উৎসাহ পাবেন। পুলিশ সুপারের কাছে অংশ নেয়া ক্লাবগুলো ম্যাচ প্রতি সম্মানি ৫০ হাজার টাকা করে অনুরোধ জানালে তিনি তাদের এ সম্মতিতে একমত প্রকাশ করেন। এছাড়া এ ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেয়া দলগুলোর মধ্যে যারা চ্যাম্পিয়ন হবে তারা পুরস্কারসহ প্রাইজমানি পাবেন ১ লাখ টাকা এবং রানার্স আপ দল পাবেন পুরস্কার সহ ৭৫ হাজার টাকা।



চাঁদপুর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ক্রীড়া সংগঠক রোটারিয়ান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে আমাদের পুলিশ সুপার মহোদয় যে উদ্যোগ নিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আশা করি যার নামে এ টুর্নামেন্টটি শুরু করা হবে আমাদের শ্রদ্ধেয় এ নেতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে স্থানীয় ফুটবলারার তাদের ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করবে। চাঁদপুর জেলা ও উপজেলাগুলোয় অনেক উদীয়মান ফুটবলার রয়েছে। এই সমস্ত ফুটবলাররা যদি তারা নিয়মিত মাঠে এসে অনুশীলন করে তাহলে তারা ঢাকার অনেক নামী দামী ক্লাবের খেলোয়াড়দের চেয়ে ভালো খেলবে। আমি ব্যাক্তিগতভাবেও চাই এখন থেকে ফুটবল টুর্নামেন্ট কিংবা ফুটবল লীগে যেনো স্থানীয় ফুটবলারদের প্রাধান্য দেয়া হয় বেশি করে। স্থানীয় ফুটবলার নিজ জেলার মাঠে ভালো খেলা উপহার দিবে দর্শকদের।



জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাবুর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, এবারের টুর্নামেন্টটি হবে আমাদের সকলের শ্রদ্ধেয় ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট হবে। এবার জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে স্থানীয় ফুটবলার বাছাই করে তাদেরকে বিভিন্ন দলের খেলার সুযোগ করে দেয়া হবে। জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে যে সমস্ত ফুটবলার বাছাই করে দেয়া হবে তারাই শুধু এ টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পাবে। আমরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে খেলোয়াড়রা যে যে দলে খেলবে তাদেরকে পরিচয়পত্র আমরা দিয়ে দিবো। আশা করি এ টুর্নামেন্টে স্থানীয় ফুটবলারা অংশ নিয়ে তাদের ক্রীড়া নৈপূণ্য প্রদর্শন করবে। আর এতে করে স্থানীয় খেলোয়াড়রা ফুটবলের প্রতি আরো বেশি আগ্রহ হবে। এবারের খেলাটি আসলে অনেক জাঁকজমকপূর্ণভাবে হবে। আমাদের এবারের খেলাটি শ্রদ্ধেয় এমপি ডাঃ দীপু মনি আপার বাবার নামে খেলার আয়োজন করা হচ্ছে। অবশ্যই টুর্নামেন্টটি ভালো হবে। আমরা খেলাটি সুন্দরভাবে পরিচালানার জন্য ফুটবল উপকমিটির সভাপতি পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছি। চলতি সপ্তাহে ফুটবল টুর্নামেন্টের ব্যাপারে সভায় আরো বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। স্থানীয় খেলোয়াড়দের ব্যাপারে আমরা যে সিদ্বান্ত নিয়েছি আমরা এখনো সেই ব্যাপারে অটল আছি। তবে সব কিছু নির্ভর করছে অংশ নেয়া ক্লাবগুলোর উপর। জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত অনেক ক্লাবই আছে তবে কোন ক্লাব খেলবে আর কোন ক্লাব ফুটবলে অংশ নেবে এটা তাদের ব্যাপার। আমরা চাই সকল ক্লাব মিলেই এ টুর্নামেন্টটিতে অংশ গ্রহণ করুক। গত বছর টুর্নামেন্টে ১০টি দল অংশ নিয়েছিলো, তখন নক আউট পদ্ধতিতে খেলাগুলো হয়েছে। এবার যদি অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা কম হয় তাহলে লীগ পদ্ধতিতে খেলাগুলো আয়োজন করা হবে। গতবারের অংশ নেয়া দলগুলো ছিলো মোহামেডান স্পোটিং ক্লাব, ভাই ভাই স্পোটিং ক্লাব, নাজিরপাড়া ক্রীড়া চক্র, আবাহনী ক্রীড়া চক্র, বিষ্ণুদী ক্লাব, চাঁদপুর ক্রিকেট একাডেমী, গুয়াখোলা ক্রীড়াচক্র, নতুনবাজার ক্রীড়াচক্র, পূর্ব শ্রীরামদী ক্লাব ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন। এ বছর টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার জন্য চাঁদপুর ইয়ুথ ক্লাব, চাঁদপুর ক্রিকেট একাডেমী, চাঁদপুর ক্রিকেট কোচিং সেন্টার ও পূর্ব শ্রীরামদী ক্লাবের কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন যে তারা এবার টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন।



ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ক্লাব কাপ সম্পর্কে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ফুটবল উপকমিটির সম্পাদক ও ক্রীড়া সংগঠক শাহীর হোসেন পাটওয়ারীর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টর জন্য আগামী ১৬ নভেম্বর স্থানীয় খেলোয়াড় বাছাইয়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ফুটবলারদের নিয়েই স্থানীয় খেলোয়াড় বাছাই ও তাদের কোটা নির্ধারণ করা হবে। আশা করি স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়েই আমরা এ টুর্নামেন্টটি শেষ করতে পারবো। কারন শ্রদ্ধেয় এম এ ওয়াদুদ সাহেবের নামে এ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে, আমাদের চেষ্টা থাকবে খেলা সুন্দরভাবে শেষ করার জন্য। আমাদের সাথে ইতোমধ্যে স্থানীয় অনেক ফুটবলার খেলার ব্যাপারে কথা বলেছেন। আমরা সবাইকে ফুটবল উপকমিটির বাছাইর দিন মাঠে থাকার জন্য বলে দিয়েছি। জেলা ও উপজেলাগুলোতে উদীয়মান অনেক ফুটবলার রয়েছে তাদেরকে দিয়ে যদি আমরা ঠিকমতো নার্সিং করে মাঠে নামাতে পারি, আশাকরি তারা ঢাকার অনেক ফুটবলারদের চেয়ে ভালো খেলবে। আমরা চাই চাঁদপুরের টুর্নামেন্টগুলোতে স্থানীয় খেলোয়াড়রা যেনো সবসময়ই সুযোগ পায়। ইতোমধ্যে ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে স্থানীয় ফুটবলাররা খেলার সুযোগ পাচ্ছেন বলে তারা এখন নিয়মিত অনুশীলন করে যাচ্ছেন। চাঁদপুর স্টেডিয়াম এবং আউটার স্টেডিয়াামসহ অনেক মাঠেই নিয়মিত অনুশীলনে ব্যস্ত এখন স্থানীয় ফুটবলারগণ।



স্থানীয় ফুটবলারদের খেলার ব্যাপারে বিষ্ণুদী ক্লাবের সভাপতি ও চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডঃ সেলিম আকবর বলেন, টুর্নামেন্টগুলোতে যদি স্থানীয় খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ দেয়া হয় তাহলে অনেক উদীয়মান খেলোয়াড় সৃষ্টি হবে। অনেকগুলো লীগে কিংবা টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়ে দেখা যায় আমরা অনেক স্থানীয় খেলোয়াড়দেরকে দলে আনি। কিন্তু জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে কোটা নিয়ম করে দেয়ায় তাদের খেলার সুযোগ হচ্ছে না। খেলাগুলোতে আগামী থেকে বহিরাগত খেলোয়াড়দের কোটা কমিয়ে আনতে হবে। তাহলেরই স্থানীয় খেলোয়াড়রা খেলতে পারবে এবং তাদের খেলার প্রতি উৎসাহ বাড়বে।



চাঁদপুর নতুনবাজার ক্রীড়া চক্রের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী বলেন, স্থানীয় ফুটবলারদের দিয়ে যদি অংশ নেয়া দলগুলো মাঠে নামে তারা সবদিক দিয়ে লাভবান হবে। ঢাকার ফুটবলারদের যদি চাঁদপুরে কোন ক্লাবে খেলতে আনা হয় তাহলে তারা টাকা ছাড়া মাঠে নামে না। তারা যখন খেলতে আসে তখন তারা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে খেলে। তাদের কাছে এলাকার সকল ক্লাবগুলোকে একই মনে হয়। তারা তাদের শরীরের পুরো ভাগ বাঁচিয়ে কোন রকম খেলে চলে যায়। আর তাদেরকে মোটামুটি অনেক টাকা দিতে হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যদি স্থানীয় ফুটবলাররা খেলতে সুযোগ পায় তাহলে তারা দলে অবস্থান ধরে রাখার জন্য নিজেদের সেরা খেলাটা দেয়ার চেষ্টা করবে।



ব্রাদার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন শান্ত বলেন, এবারের টুর্নামেন্টে আমাদের দল অংশ গ্রহণ নাও করতে পারে। আমাদের ক্লাবের সভাপতি এখন অসুস্থ। আমাদের সভাপতি চিকিৎস্যার জন্য বিদেশ যাবেন। আমাদের সভাপতি না থাকার কারনে এবার আমাদের দল অংশগ্রহণ করবে না মনে হয়। তবে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার স্থানীয় ফুটবলারদেরকে টুর্নামেন্ট খেলতে পারবে যে সিদ্বান্ত নিয়েছে আমি এর প্রতি সমর্থন জানাই।



মোহামেডান ক্লাবের কর্মকতা ও সাবেক ফুটবলার কাজী মাইনুল হক জীবন বলেন, আমরা এবার আর্থিক সমস্যার কারণে এবারের ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছিনা। তবে ফুটবল উপকমিটির সভাপতি ও পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে যে খেলার সিদ্বান্ত নিয়েছে সেটা আমি একটি ভালো লক্ষ্য দেখছি। স্থানীয় ফুটবলরারা যতো বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে ততো বেশি তাদের খেলার অভিজ্ঞতা বাড়বে। আমি একজন খেলোয়াড় হিসেবে আশা করি এবার যদি স্থানীয় ফুটবলারা অংশ নেয়া দলগুলোতে সুযোগ পায় তারা তাদের খেলার ভালো নৈপুণ্য প্রদর্শন করতে পারবে।



চাঁদপুর ক্রিকেট একাডেমীর কর্মকতা শামিম আক্তার ফারুকী বলেন, স্থানীয় ফুটবলারকে যদি লটারীর মাধ্যমে ভাগ করে দেয়া হয়, তাহলে অনেক ভালো হবে। জেলার বাইরের অনেক খেলোয়াড় আনতে হলে তাদেরকে বেশি টাকা দিতে হয়। আর আগে নিয়ম ছিলো বাইরের ৬ জন স্থানীয় ৫ জন। কিন্তু এবার সব লোকাল দেয়াতে ভালো হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কোন খেলোয়াড় কত টাকায় খেলতে পারবে তা যদি নির্দিষ্ট করে দেয়া তাহলে অংশ নেয়া দলগুলোর জন্য খেলা চালাতে ভালো হবে। লোকাল খেলোয়াড়রা অনেক সময় ম্যাচ প্রতি অনেক টাকা দাবি করে। ওই সময় অংশ নেয়া দলগুলো অনেকটা বিপাকে পড়ে যায়।



সাবেক ফুটবলার জাহাঙ্গীর পাটওয়ারী বলেন, আমি একজন সাবেক ফুটবলার হিসেবে এসপি স্যারের এ উদ্যোগের সাথে একমত পোষণ করছি। স্থানীয়রা খেলার সুযোগ পেলে তারা তাদের খেলার নৈপুন্য দেখাতে পারবে। লোকাল খেলোয়াড়রা যেনো ভালো মতো দলগুলোতে খেলার সুযোগ পায় আমি কর্মকর্তাদের সেই অনুরোধ করবো। ইতোমধ্যে স্থানীয় ফুটবলার এবারের টুর্নামেন্টে খেলতে পারবে শুনে তারা এখন নিয়মিত অনুশীলন করছেন।



বিষ্ণুদী ক্লাবের কর্মকর্তা জগলু বলেন, আমরা অনেক সময় টুর্নামেন্টের কর্মকর্তাদের নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় ফুটবলারদের খেলার সুযোগ ঠিকমতো দিতে পারছিনা। এতে করে স্থানীয় ফুটবলারদের খেলার মান নির্ণয় করা যায়না। আর স্থানীয় ফুটবলারাও জেলার খেলার ব্যাপারে অনেক অনীহা প্রকাশ করছেন। আর এর কারন হলো যে সম্পতি বিভাগীয় কমিশনার কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট হয়েছে সেখানে স্থানীয় ফুটবলাররা খেলার সুযোগ পেলেও যাদের খেলা ছেড়ে দেয়ার সময় হয়েছে তাদেরকে দিয়ে খেলানো হয়েছে। কিন্তু তাদের চেয়েও অনেক উদীয়মান ফুটবলার রয়েছে তাদেরকে খেলার ব্যাপারে সুযোগ দেয়ার দরকার ছিলো। আমি সবসময়ই চেষ্টা করি স্থানীয় খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গঠন করার জন্য। জেলা ক্রীড়া সংস্থার ফুটবল উপকমিটির সভাপতি যে সিদ্বান্ত নিয়েছেন এতে আমি একমত পোষণ করছি।



ভাই ভাই স্পোটিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা মিজানুর রহমান খান বাদল বলেন, আমাদের আর্থিক সঙ্কটের কারণে এবার টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারছিনা। আর ক্লাবের সভাপতি অধিকাংশ সময়ই ঢাকায় থাকাতে আমরা অংশগ্রহণের ব্যাপারে এখনো কোন সিদ্বান্ত নেইনি। এছাড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার যারা ফুটবল উপকমিটির সাথে জড়িত কিংবা ফুটবলার বাছাই করে তারা অনেক সময় কারসাজি করে। তারা তাদের পছন্দের ক্লাবগুলোতে ভালো খেলোয়াড় দিয়ে দেয়। এছাড়া কোটার ক্ষেত্রেও বাছাইকৃত কর্মকতারা স্বেচ্ছাচারিতা করে অনেক বেশি। নিজেদের পছন্দের অনুযায়ী সব কিছু করে তারা। তারপরও দেখি টুর্নামেন্টে দল রাখা যায় কিনা।



সাবেক ফুটবলার অমিয় রায় ঝন্টু বলেন, চাঁদপুরে তো এখন নিয়মিত ফুটবল লীগ হয়না। তাই স্থানীয় ফুটবলাররা খেলার সুযোগ পাচ্ছে না। এতে করে নতুন নতুন খেলোয়াড়ও সৃষ্টি হচ্ছে না। এবার টুর্নামেন্টে স্থানীয়ভাবে লোকাল খেলোয়াড় দিয়ে যে সিদ্বান্ত নিয়েছে এটা একাটা ভাালো লক্ষণ। যদি স্থানীয় ফুটবলাররা খেলার সুযোগ পায় অবশ্যই তারা তাদের ভালো মানের খেলা উপহার দিবে। আমি ফুটবল কমিটির সকল কর্মকতাকে এ সিদ্বান্ত নেয়ায় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৫৬২৩২
পুরোন সংখ্যা