চাঁদপুর। বৃহস্পতিবার ৪ জানুয়ারি ২০১৮। ২১ পৌষ ১৪২৪। ১৬ রবিউস সানি ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৩-সূরা আহ্যাব


৭৩ আয়াত, ৯ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৫৬। আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন। হে মুমনিগণ! তোমরা নবীর জন্যে রহমতের তরে দোয়া কর এবং তাঁর প্রতি সালাম প্রেরণ কর।


৫৭। যারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তাদের প্রতি ইহকালে ও পরকালে অভিসম্পাত করেন এবং তাদের জন্যে প্রস্তুত রেখেছেন অবমাননাকর শাস্তি।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


সব কিছুরই বৃদ্ধি পাওয়ার একটা সময় আছে।


-বায়রন।


 


 


 


 


নিরপেক্ষ লোকের দোয়া সহজে কবুল হয়।


 


ফটো গ্যালারি
ক্রীড়াকণ্ঠের সাথে সাক্ষাৎকারে সাবেক ফুটবলার কাজী মাইনুল হক জীবন
ফুটবলার সৃষ্টি করতে হলে নিয়মিত ক্যাম্পের ব্যবস্থা করতে হবে
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
০৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাসার পাশেই খেলাধুলা করার জন্যে ছিলো ভালো একটি মাঠ। আশির দশকের অনেক ফুটবলার এই মাঠ থেকেই সৃষ্টি হয়েছেন। এক সময় চাঁদপুর শহরে এই মাঠটিতেই এ জেলা শহরের ফুটবলাররা নিয়মিত অনুশীলন করতেন। এই মাঠটি হচ্ছে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠ। এই মাঠের পাশেই বাড়ি হওয়াতে ছোটকাল থেকেই বড়দের খেলা দেখতে দেখতে নিজেও ফুটবল দলের একজন মধ্যভাগের খেলোয়াড় হলেন। শৈশবে পাড়ার অন্যান্য ফুটবলারের সাথে স্কুল ছুটি হলেই চলে যেতেন কলেজ মাঠে। খেলতেন নিজের সমবয়সী ফুটবলারদের সাথে। আর সহযোগিতা নিতেন বড়দের (ফুটবলারদের)। প্রাইমারী জীবন থেকেই ৪ ফুট ৮ ইঞ্চি দিয়ে নিজ এলাকাসহ জেলা শহরের বিভিন্ন মাঠে খেলেছেন। জেলা শহরের কয়েকটি ফুটবল ক্লাবের হয়ে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে খেলেন। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে আসার পরই শুরু হয় বড়দের সাথে খেলা। আর বড়দের খেলা দেখে এবং নিজের চেষ্টায় ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে বেশ কয়েক বছর ঢাকার মাটিতে খেলেছেন। এখন খেলাধুলা ছেড়ে দিলেও ব্যবসার পাশাপাশি যখনই সুযোগ পান তখনই ছুটে আসেন খেলার মাঠে। মাঠে এসে উদীয়মান ফুটবলারদের খেলার ব্যাপারসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।



তিনি হচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদ চাঁদপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক, চাঁদপুর সোনালী অতীত ক্লাবের কার্যকরী কমিটির সদস্য কাজী মাইনুল হক জীবন। বাবা মরহুম কাজী এএফ নুরুন্নবী। তিনি ছিলেন চাঁদপুর পৌরসভার লাইসেন্স পরিদর্শক। মাতা কাজী আজিজুন নাহার। ৪ ভাই ও ৪ বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। খেলোয়াড়ী জীবনেই তিনি মমিনপুর পাটওয়ারী বাড়ির মরহুম সিরাজুল ইসলামের মেয়ে মাকসুদা আক্তারের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তার বড় ছেলে কাজী এহতেশামুল হক আপন পড়াশোনা করছেন হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীতে এবং ২য় ছেলে কাজী ইনজামামুল হক পড়াশোনা করছেন হাসান আলী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণীতে। বসবাস করছেন নাজিরপাড়াতেই। আর ঢাকাতে গার্মেন্টস্ ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছেন। ফুটবলের শুরুতেই খেলা শুরু করেন মধ্যমাঠের একজন স্ট্রাইকার হিসেবে। তার পড়ালেখা শুরু হয় হাসান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করেন গভর্নমেন্ট টেকনিক্যাল হাইস্কুলে। এরপর এইচএসসি এবং ডিগ্রি পাস করেন চাঁদপুর সরকারি কলেজ থেকে। সাবেক এই ফুটবলারের সাথে ক্রীড়া কণ্ঠের আলাপকালে তিনি তুলে ধরেন তার খেলোয়াড়ী জীবনসহ বর্তমান সময়ের খেলাধুলার বিভিন্ন বিষয়। ক্রীড়া কণ্ঠের পাঠকদের জন্য তার বক্তব্য নিচে উপস্থাপন করা হলো-



ক্রীড়া কণ্ঠ : আস্সালামুআলাইকুম, কেমন আছেন?



কাজী মাইনুল হক জীবন : জ্বি ওয়ালাইকুম আস্সালাম। জ্বি আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি।



ক্রীড়া কণ্ঠ : আপনি তো একজন সাবেক ফুটবলার, ফুটবলে আপনার খেলোয়াড়ী জীবন শুরু হয় কখন থেকে ?



কাজী মাইনুল হক জীবন : আমি হাসান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায়ই ফুটবল খেলার সাথে জড়িয়ে পড়ি। ওই সময়ে আমরা খালি পায়ে ফুটবল খেলা শুরু করি। আমাদের পাড়ার শাহজালাল, মোফাজ্জল, জাহাঙ্গীর গাজী, শাহজাহান, সৌদি প্রবাসী মমিন, মাহবুব, হাসান ইমাম বাদশাসহ আমরা অনেক বন্ধুই ফুটবলের সাথে জড়িয়ে পড়ি। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন এ দেশে ফুটবল খেলার অনেক জনপ্রিয়তা ছিলো। আমাদের সময়ে ৪ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং ৫ ফুট ৫ ইঞ্চির খেলা হতো। আমরা নাজিরপাড়া থেকে বিভিন্ন স্থানে ফুটবলের খেপ খেলতে যেতাম। আর তখন থেকেই আমার ফুটবল জীবন শুরু হয়।



ক্রীড়া কণ্ঠ : আপনি যখন খেলা শুরু করেন তখন সিনিয়রদের মধ্যে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে কারা নিয়মিত মাঠে অনুশীলন করতেন?



কাজী মাইনুল হক জীবন : বাসার পাশেই মাঠ থাকার কারণে সবসময়ই মাঠে চলে আসতাম। ওই সময়ে আমরা যখন মাঠে খেলতে আসতাম তখন দেখতাম সাবেক ফুটবলার আবুল, মুকুল, অমল দত্ত, অমিয় রায় চৌধুরী, ইকরাম, দেবেন্দ্র সাহা দেবু, মনোয়ার চৌধুরী, মফিজ চৌধুরী, জাহিদ চৌধুরী, মহসিন, অংকুর, শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক, দেওয়ান আরশাদ আলী, মুকসুদুর রহমান, গোলাম মোস্তফা বাবু, আনোয়ার হোসেন মানিক ভাইদের অনুশীলন। আশির দশকে ওই সমস্ত সিনিয়র ফুটবলারের অনুশীলন দেখতে প্রতিদিনই কলেজ মাঠে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় হতো। আর সিনিয়রদের সাথে যখনই সুযোগ পেতাম তখনই তাদের সাথে খেলার জন্যে মাঠে নেমে পড়তাম। ওই সময়ে চাঁদপুরে ফুটবলের অনেক জনপ্রিয়তা ছিলো। আমিসহ আমার পাড়ার অন্যান্য বন্ধু নিয়মিত কলেজ মাঠে এসে অনুশীলন করতাম।



ক্রীড়া কণ্ঠ : আন্তঃস্কুলের পক্ষে কি অংশ নিয়েছিলেন?



কাজী মাইনুল হক জীবন : আমি যখন টেকনিক্যাল হাই স্কুলে পড়ি, তখন আমি স্কুলের পক্ষ হয়ে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের খেলাগুলোতে অংশ নিয়েছিলাম। আমি ও আমার ভাই পরানসহ স্কুলের হয়ে এক সাথে খেলায় অংশগ্রহণ করেছি। এছাড়া আন্তঃস্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন স্কুলের হয়ে খেলায় অংশ নেই।



ক্রীড়া কণ্ঠ : ক্লাব পর্যায়ে খেলা শুরু করেন কবে থেকে?



কাজী মাইনুল হক জীবন : আমি দশম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বিষ্ণুদী ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলায় অংশ নেই। এছাড়া আমি কোড়ালিয়ার কিংসার্চ, বিষ্ণুদী বয়েজ ক্লাবসহ স্থানীয় কয়েটি ক্লাবের হয়ে খেলেছি।



ক্রীড়া কণ্ঠ : ঢাকাতে কখন খেলা শুরু হয় আপনার?



কাজী মাইনুল হক জীবন : আমি চাঁদপুর সরকারি কলেজে পড়া অবস্থায় ১৯৮৫ সালে ৩য় বিভাগ পাইওনিয়ার ফুটবল লীগে সেগুনবাগিচার দীপালি যুব সংঘের হয়ে ম্যাচে অংশ নেই। আমি চাঁদপুরে বিভিন্ন স্থানে ফুটবল খেলার সময় মাসুদ ভূঁইয়ার ভাই শোয়েব আহমেদের কাছে আমার খেলা ভালো লাগে। আর তারই সহযোগিতায় আমি পাইওনিয়ার ফুটবল লীগে খেলি। তখন আমার সাথে জাহাঙ্গীর গাজী, মোফাজ্জল, আমিন, হাকিম গাজীসহ খেলতাম। এরপর ২য় বিভাগ ফুটবলে ফায়ার সার্ভিস, শান্তিনগর ও মিরপুর চলন্তিকায় খেলি।



ক্রীড়া কণ্ঠ : ফুটবলের শুরু থেকে খেলার ব্যাপারে উৎসাহ পেতেন কাদের কাছ থেকে?



কাজী মাইনুল হক জীবন : আমার মা আমাকে খেলার ব্যাপারে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন। আরো উৎসাহ দিয়েছেন আমার বাবা, বোনের জামাতা আনোয়ার হোসেন মানিক, চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সেক্রেটারী মুক্তিযোদ্ধা মুনির আহমেদ। মুনির আহমেদ ভাই খেলাধুলার জন্য ছিলেন একজন ভালো সংগঠক। তার আমলে এ জেলায় অনেক খেলাধুলা হয়েছে। একজন সংগঠক হিসেবে তিনি ছিলেন অনেকের চেয়ে ব্যতিক্রম। খেলোয়াড়দের খেলাধুলার ব্যাপারে তিনি অনেক সহযোগিতা করতেন।



ক্রীড়া কণ্ঠ : আন্তঃকলেজ ফুটবলে খেলেছিলেন ?



কাজী মাইনুল হক জীবন : চাঁদপুর সরকারি কলেজের হয়ে বিভিন্ন কলেজের সাথে খেলায় অংশ নেই। আমি কুমিল্লা বোর্ডে ফুটবলে অনেক কলেজের হয়ে খেলার সুযোগ পেয়েছি। আমরা যারা এক সাথে আন্তঃকলেজে খেলেছি তারা আবার অনেকেই ঢাকার মাঠে বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলেছি।



ক্রীড়া কণ্ঠ : আপনি কোন্ কোন্ সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন ?



কাজী মাইনুল হক জীবন : চাঁদপুরের সাবেক ফুটবলারদের নিয়ে গড়ে ওঠা সোনালী অতীত ক্লাবের কার্যকরী কমিটির সদস্য। এছাড়া চাঁদপুর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কার্যকরী কমিটির সদস্য, ফুটবলের টিম ম্যানেজার ও বাংলাদেশ ক্রীড়া উন্নয়ন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমাদের এ ক্রীড়া পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন ক্রীড়া সংগঠক মজিব খন্দকার ও দেওয়ান আরশাদ আলী।



ক্রীড়া কণ্ঠ : ভবিষ্যতে কোচ কিংবা ভালো মানের ক্রীড়া সংগঠক হওয়ার ইচ্ছা আছে কি?



কাজী মাইনুল হক জীবন : আমি আমার খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই সংগঠক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। আমি খেলাধুলাকে খুব ভালোবাসি। কাজের ফাঁকে অবসর সময়ে ছুটে যাই ক্লাবে ও খেলার মাঠে। খেলোয়াড়দের খেলোয়াড়ি পেশার স্বার্থে ভালো সংগঠক হতে চাই।



ক্রীড়া কণ্ঠ : আপনাদের সময়ের ফুটবল আর এখন?



কাজী মাইনুল হক জীবন : আমাদের সময়ে ফুটবল ছিলো জনপ্রিয়তার শীর্ষে। আর এখন তো ফুটবল ও ফুটবলারদের হাহাকার। আর এর মূল কারণ হচ্ছে ঠিকমতো টুর্নামেন্টের খেলা, লীগ ও ক্যাম্পের ব্যবস্থা না থাকা। দীর্ঘ মেয়াদী ফুটবল ক্যাম্পের ব্যবস্থা না হলে নতুন নতুন খেলোয়াড় সৃষ্টি হবে না। ক্যাম্পের ব্যবস্থা হলে ওই ক্যাম্পের ফুটবলারদের নিয়ে ভালোমানের দল গঠন করা যাবে। বর্তমান সময়ে যদি এ বছর ফুটবল লীগের আয়োজন করা হয়, তাহলে পরবর্তীটা শুরু হতে সময় লাগে ৩ বছরের মতো। জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে ফুটবলারদের জন্যে নেই কোনো ক্যাম্পের ব্যবস্থা। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সেক্রেটারী মুনির আহমেদের সময়ে তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ফুটবল লীগের পাশাপাশি নিয়মিত ফুটবল ক্যাম্পের ব্যবস্থা হতো। এখন মাঝে মধ্যে ফুটবল টুর্নামেন্ট কিংবা লীগের ব্যবস্থা করা হলেও দায়সারাভাবে শুরু হয় এবং সেটা দায়সারাভাবেই শেষ হয়।



ক্রীড়া কণ্ঠ : এখনকার ফুটবল বাঁচিয়ে রাখতে হলে কী করতে হবে?



কাজী মাইনুল হক জীবন : ফুটবল বাঁচিয়ে রাখতে হলে জেলা ক্রীড়া সংস্থার ব্যবস্থাপনায় কিংবা ক্লাবগুলোর মাধ্যমে উঠতি বয়সী ফুটবলারদের জন্য দীর্ঘ মেয়াদী ফুটবল ক্যাম্পের ব্যবস্থা করতে হবে। সারা বছরই ক্রিকেটের মতো ফুটবলের জন্যে খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে। ফুটবলারদের মানোন্নয়নের জন্য সাবেক ফুটবলারদের যথাযথ স্থানে রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে দলীয় সকল কিছু ঊধর্ে্ব রাখতে হবে। খেলার আয়োজক ও দায়িত্বপ্রাপ্তদেরকে এবং সাবেক খেলোয়াড়দের যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।



ক্রীড়া কণ্ঠ : বর্তমান সময়ের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন?



কাজী মাইনুল হক জীবন : একজন ভালো মানের ফুটবলার হতে হলে কঠোর অনুশলীনের বিকল্প নেই। খেলোয়াড়দের প্রথমে সিনিয়রদের প্রতি সম্মান ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। ভালো খেলোয়াড় হতে হলে কঠিন অধ্যবসায় ও নিজের চেষ্টা থাকতে হবে। উঠতি বয়সী খেলোয়াড়দের মনে রাখতে হবে, খেলাধুলা করতে হলে এবং নিজেকে গড়ে তুলতে হলে খেলাধুলার সাথে সাথে শিক্ষার সকল কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকতে হবে। নিজের খেলাটা ম্যাচে ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে হলে নিয়মিত অনুশীন চালিয়ে যেতে হবে। তারা যদি টুর্নামেন্ট কিংবা লীগ শুরু হবে এ কথা শুনে অনুশীলন করে তাহলে তারা নিয়মিত খেলার জন্য ফিটনেস ধরে রাখতে পারবে না। আমার তাদের প্রতি অনুরোধ, তারা অবসর সময়ে টিভিতে ফুটবল খেলা দেখতে হবে। টিভিতে ওই সমস্ত বড় বড় খেলা দেখলে তারা খেলার বিভিন্ন কৌশল শিখতে পারবে।



ক্রীড়া কণ্ঠ : খেলাধুলা প্রসঙ্গে জেলা ক্রীড়া সংস্থা?



কাজী মাইনুল হক জীবন : খেলাধুলা পরিচালনার ক্ষেত্রে যার জায়গা যেখানে তাকে সেখানেই দায়িত্ব দেয়া উচিত। বর্তমানে জেলা ক্রীড়া সংস্থা চেষ্টা করছে মাঠে নিয়মিত খেলা চালিয়ে যেতে। খেলোয়াড় সৃষ্টি করতে মাঠে আরো বেশি করে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের আয়োজন করতে হবে। আমি জেলা ক্রীড়া সংস্থার কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাই, তারা যেনো উদীয়মান ফুটবলার সৃষ্টি করতে নিয়মিত ক্যাম্পের ব্যবস্থা করে। আমাদের সময়ে ফুটবল টুর্নামেন্ট কিংবা লীগের ব্যবস্থা করা হলে খেলোয়াড়দেরকে কোনো ক্লাবে খেলতে হবে এর জন্য প্রতিযোগিতায় পড়তে হতো। তখন নিয়মিত ফুটবল ক্যাম্প ও টুর্নামেন্ট হওয়ার কারণে খেলোয়াড়দের সংখ্যা ছিলো অনেক বেশি। মাঠে দেখা যেতো গ্রুপ পর্যায়ে দল গঠন করে ফুটবলরারা অনুশীলন করে যাচ্ছে। আর এখন ফুটবলের খেলা শুরু হলে স্থানীয় ফুটবলার খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে যায়। জেলা ক্রীড়া সংস্থা যদি দীর্ঘ মেয়াদী ফুটবল ক্যাম্পের ব্যবস্থা করে তাহলে এখন থেকে বড় ধরনের ফুটবল টুর্নামেন্ট কিংবা লীগের ব্যবস্থা করলেও আর দলগুলোর জন্য বহিরাগত খেলোয়াড়দের কোটা রাখতে হবে না। নিজেদের প্রশিক্ষণ দেয়া খেলোয়াড়রাই বিভিন্ন ক্লাবে খেলার সুযোগ পাবে।



ক্রীড়া কণ্ঠ : সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ?



কাজী মাইনুল হক জীবন : জ্বি ভাইয়া আপনাকেও ধন্যবাদ জানাই। আমার খেলাধুলার ব্যাপারে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে যদি কারো মনে কষ্ট হয় তাহলে সেটা খেলোয়াড়ী মনোভাবে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবে বলে আশা করছি। জেলা ক্রীড়া সংস্থা, চাঁদপুর সোনালী অতীত ক্লাবের সকল কর্মকর্তা, ক্রিকেটার, ফুটবলার, সাঁতারু, বাস্কেটবল খেলোয়াড়সহ সকল ক্রীড়া সংগঠক, ক্লাবগুলোর কর্মকর্তা, শুভাকাঙ্ক্ষীসহ ক্রীড়ামোদী সকলে পুরানো সব কিছু ভুলে গিয়ে নতুন নতুন স্বপ্ন ও সেবার মনোভাব নিয়ে নতুন বছরে আরো ভালো মানের কাজে এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা করছি। সকলের প্রতি রইলো ইংরেজি নববর্ষ ২০১৮-এর শুভেচ্ছা। শুভ নবর্বষ।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭৮৪২২
পুরোন সংখ্যা