চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। ১ ফাল্গুন ১৪২৪। ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৫-সূরা ফাতির

৫৫ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১১। এবং তাকে আমি বলেছিলাম, প্রশস্ত বর্ম তৈরি কর, কড়াসমূহ যথাযথভাবে সংযুক্ত কর এবং সৎকর্ম সম্পাদন কর। তোমরা যা কিছু কর, আমি তা দেখি।

১২। আর আমি সোলায়মানের অধীন করেছিলাম বায়ুকে, যা সকালে এক মাসের পথ এবং বিকালে এক মাসের পথ অতিক্রম করত। আমি তার জন্যে গলিত তামার এক ঝরণা প্রবাহিত করেছিলাম। কতক জি¦ন তার সামনে কাজ করত তার পালনকর্তার আদেশে। তাদের যে কেউ আমার আদেশ অমান্য করবে, আমি জ¦লন্ত অগ্নির শাস্তি আস্বাদন করাব।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


বাচুর না পানালে দুধ পেতে কোথায়?


-প্রবাদ।


যে সদর দরজা দিয়ে বেহেশতে যেতে চায়, সে তার পিতা-মাতাকে সন্তুষ্ট করুক।


ফটো গ্যালারি
জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৫ ক্রিকেট দলে সুযোগ পেলেন চাঁদপুরের তোফায়েল
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশ জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৫ ক্রিকেট দলে সুযোগ পেলেন চাঁদপুরের তোফায়েল আহমেদ। বাংলাদেশের এ দলটি আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতে খেলতে যাবে। বাংলাদেশ দলের ১৫ জনের তালিকায় সুযোগ পেয়েছেন উইকেটকিপার কাম ব্যাটস্ম্যান তোফায়েল। সোমবার থেকে তিনি জাতীয় দলের এ অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। ওইদিন থেকেই দলে সুযোগ পাওয়া ক্রিকেটারদের নিয়ে বিসিবির আয়োজনে জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৫ দিনব্যাপী এ অনুশীলন চলবে।



সারা বাংলাদেশ থেকে বাছাইকৃত অনূর্ধ্ব-১৫ বয়সী ক্রিকেটারদের নিয়ে গত ২৫ জানুয়ারি থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খুলনা স্টেডিয়ামে বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আয়োজনে বাছাই কার্যক্রম উপলক্ষে সারাদেশ থেকে বাছাইকৃত ক্রিকেটারদের নিয়ে ৩টি তিনদিনের ম্যাচ ও ২টি ওয়ানডে ম্যাচের আয়োজন করা হয়। ওই ম্যাচগুলোতে ২টি তিনদিনের ম্যাচ ও ১টি ওয়ানডেতে অংশ নিয়ে ১শ' ৪ রান করে । বাছাই কার্যক্রমে জাতীয় দল গঠনের লক্ষ্যে কোচের দায়িত্ব পালন করে দীপু রায় চৌধুরী। আর নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ব্যাটস্ম্যান হান্নান সরকার।



তোফায়েল বসবাস করেন চাঁদপুর শহরের বিষ্ণুদী এলাকায় হাজী বাড়িতে। তার বাবার নাম আবু জাফর হাজী (সৌদি আরব প্রবাসী)। তার মায়ের নাম ফাতেমা বেগম। ২ ভাই ও ১ বোনের মধ্যে সে মেঝো। বড়ভাই জাহিদুল ইসলাম পড়াশোনা করছেন ছারছীনা মাদ্রাসায়। তার ছোট বোন জান্নাতুল পড়াশোনা করছে ৩য় শ্রেণীতে। আর তোফায়েল পড়াশোনা করছেন গণি আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীতে।



তোফায়েল গত ৩ বছর ধরে চাঁদপুর ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমীতে অনুশীলন করে যাচ্ছেন। সে মূলত একজন উইকেটরক্ষক কাম ব্যাটসম্যান। অত্যন্ত মিষ্টভাষী এ ক্রিকেটার খুব অল্প সময়ে ক্রিকেটকে যেমন আপন করে নিয়েছেন তেমনি একাডেমীর হেডকোচসহ সকল খেলোয়াড়দের কাছে অনেক আপনজন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তোফায়েল ২০১৭ সালের আগস্টে সুযোগ পেয়েছিলেন অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্পে। প্রস্তুতি ক্যাম্প চলাকালীন জানিয়েছিলেন, আমি চাঁদপুর জেলা অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে ফেনী ও নোয়াখালীতে ২ বছর ক্রিকেট খেলায় অংশ নেই। সেখানে আমি ভালো করার কারণে চট্টগ্রাম বিভাগে খেলার সুযোগ পাই। আর এ ক্ষেত্রে আমার শ্রদ্ধেয় একজন অভিভাবক স্যার শামিম ফারুকীর অবদান ছিলো অনেক। তার কঠোরতা ও আন্তরিকতায় আজ আমি এই পর্যন্ত এসেছি। আমি চট্টগ্রাম বিভাগে খেলতে যাওয়ার পর নোভেল ও মমিন স্যার অনেক ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন। আমি চট্টগ্রাম বিভাগের হয়ে রাজশাহীতে খেলতে যাওয়ার পর সাবেক জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় হান্নান সরকার স্যার আমাকে চয়েস করার কারণে আমি এই সুযোগ পেয়েছি।



তোফায়েলের সাথে ক্রিকেট খেলার ব্যাপারে আলাপকালে জানান, ক্রিকেটে আসি এলাকার বড় ভাই ক্রিকেটার মোশারফ বাবুর হাত ধরে। আমি জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৫ দলের প্রস্তুতি ক্যাম্পে প্রথমবার ৪৫ জনের দলে সুযোগ পাই, খুলনায় আমাদের অনুশীলন চলে। তারপর ঢাকার বিকেএসপিতে ১৫ দিনের প্রশিক্ষণে সুযোগ পাই। আর ২৬ জনের দলে সুযোগ পেয়ে ঢাকায়ও অনুশীলনে অংশ নেই। ঢাকায় অংশ নিতে পেরে ওই সময় আমার কাছে খুব ভালো লেগেছিলো। আমি ওই সময়ে অনুশীলনের সুযোগ পেয়েই মনে মনে স্বপ্ন দেখি যে, আমি যেনো অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় দলের জার্সি নিয়ে মাঠে খেলতে পারি। আমার স্বপ্ন এখন অনূর্ধ্ব-১৫, ১৭ ও ১৯ জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলা শেষে যেনো আমি জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে খেলতে পারি। আমি যে এবার মূল একাদশে সুযোগ পেয়েছি, তাও আবার দলটি খেলতে যাচ্ছে দেশের বাইরে ভারতে। ওই দেশে আমাদের দল ভারতীয় জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৫ ক্রিকেট দলসহ বেশ ক'টি দলের সাথে খেলবে। আল্লাহ তা'য়ালার রহমতে যদি ম্যাচে খেলার সুযোগ পাই তাহলে যেনো নিজের সেরা খেলাটা উপহার দিতে পারি। এজন্যে আমি সকলের দোয়া চাই। আমি যেনো ভবিষ্যতে ক্রিকেটে চাঁদপুরের হয়ে ভালো কিছু করতে পারি।



চাঁদপুরে ক্রিকেটের কর্ণধার ও ক্রিকেট কোচ শামিম ফারুকীর সাথে তোফায়েলের ব্যাপারে আলাপকালে তিনি বলেন, গত ৫ বছর ধরে তোফায়েল আমাদের একাডেমীতে অনুশীলন করে আসছে। শান্ত স্বভাবের এ ছেলেটি খেলাপ্রিয় একজন ছেলে। আমি জেলা দলের হয়ে তাকে খেলতে নিয়ে গিয়ে দেখেছি, সে খেলার প্রতি অনেক আন্তরিক। ফেনীতে খেলতে গেলে তোফায়েল বিভাগীয় পর্যায়ে খেলার ডাক পেয়ে যায়। এরপর বিভাগীয় পর্যায় খেলতে গেলে কোচ স্বদেশ, জাতীয় ক্রিকেট কোচ ওয়াহিদুল গনি, নূরুল আবেদীন নোভেল তার খেলা দেখে অনেক সন্তুষ্ট হয়। আর রাজশাহীতে খেলতে গিয়ে তোফায়েল খুব ভালো করে। ওইখান থেকেই সে বয়সভিত্তিক দল অনূর্ধ্ব-১৫ দলে সুযোগ পায়। সে একজন ভালো উইকেট রক্ষকের পাশাপাশি একজন ভালো ব্যাটসম্যান। তোফায়েল যে এবার বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব জাতীয় ১৫ দলে সুযোগ পেয়েছে সে দলটি ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারতের দিলি্লতে খেলতে যাবে। ও বাংলাদেশ দলে সুযোগ পাওয়ায় আমি অনেক খুশি। ওকে নিয়ে আমি আরো অনেক বড় কিছু আশা করছি। সবসময় যদি তোফায়েল তার খেলাটা ধরে রাখতে পারে তাহলে ও একদিন জাতীয় পর্যায়ের একজন ভালো ক্রিকেটার হবে। তাকে আমি বলেছি যে, আস্তে আস্তে সকল বয়সভিত্তিক ক্রিকেট দলে খেলতে হলে ভালো পারফরমেন্স ধরে রাখতে হবে। আশা করি, সে এবার বাংলাদেশ দলকে ভালো কিছু উপহার দিতে পারবে।



চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বাবুর সাথে এ বিষয়ে আলাপকালে তিনি বলেন, ছেলেটি আসলে খুবই ভালো ক্রিকেট খেলে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে একজন ভালো খেলোয়াড় হতে হলে যেমন ভালো আচরণের অধিকারী হতে হয় তোফায়েলের মধ্যে সে চিত্রটি দেখা যায়। ও জেলা ক্রিকেট দলের হয়ে খেলতে গিয়েই বিভাগীয় ক্রিকেট কর্মকর্তাদের চোখে পড়ে যায়। তোফায়েল সম্প্রতি রাজশাহীতে খেলতে গেলে নির্বাচকদের চোখে পড়ে যায়। আশা করি, চাঁদপুরের এ ছেলেটি ভালো করবে। সে যেনো জাতীয় দলের হয়ে ভালো খেলা উপহার দিতে পারে সেজন্যে আমি চাঁদপুরবাসীর কাছে দোয়া কামনা করি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৪৭৩২৪
পুরোন সংখ্যা