চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৭ আগস্ট ২০১৮। ২৩ শ্রাবণ ১৪২৫। ২৪ জিলকদ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু’মিন

৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৮। ফেরাউন গোত্রের এক মুমিন ব্যক্তি, যে তার ঈমান গোপন রাখত, সে বলল, তোমরা কি একজনকে এজন্যে হত্যা করবে যে, সে বলে, আমার পালনকর্তা আল্লাহ্, অথচ সে তোমাদের পালনকর্তার নিকট থেকে স্পষ্ট প্রমাণসহ তোমাদের নিকট আগমন করেছে? যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার মিথ্যাবাদিতা তার উপরই চাপবে, আর যদি সে সত্যবাদী হয়, তবে সে যে শাস্তির কথা বলছে, তার কিছু না কিছু তোমাদের উপর পড়বেই। নিশ্চয় আল্লাহ সীমালংঘনকারী, মিথ্যাবাদীকে পথ প্রদর্শন করেন না।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন        


মূর্খতা এমন এক পাপ, সারা জীবনে যার প্রায়শ্চিত্ত হয় না।            


-আলি-ফখরি।                 


যে শিক্ষা গ্রহণ করে তার মৃত্যু নেই।



 


আনন্দ-বেদনার ক্রিকেট
পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
০৭ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


রঙ্গপ্রিয়তায় ক্রীড়ার চেয়ে কালের শ্রেয়তা স্বয়ং সময় দ্বারা প্রমাণিত। বর্ষায় বসে বসন্তের কবিতায় যেমন মগ্ন হয়ে ছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ তেমনি ঘোরতর ফুটবল বিশ্বকাপের উতাল-পাথাল জ্বরে আক্রান্ত সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট বেড়াতে গেছে দ্বীপ রাষ্ট্রপু্ঞ্জ ওয়েস্ট ইন্ডিজে। সমুদ্র পাড়ের অঙ্েিজন ঘন হাওয়ায় বাংলাদেশী ক্রিকেটাররা মানিয়ে নিতে সময় নিয়েছেন বেশ। তাদের সেই অস্বস্তি আমরা অনূদিত হতে দেখি তাদের মূল কাজে, তথা মাঠের খেলোয়াড়ি দক্ষতায়। ধারাবাহিকতার ঠিকানা অজানা খেলোয়াড়দের কাছে খেলার মাঠে আদৌ দেশপ্রেম জেগে থাকে কি না তা সর্বাগ্রে বিবেচ্য। নচেৎ এতো অর্থ ব্যয়ে এতো দূরদেশে গিয়ে টেস্ট ম্যাচ দুটোতে চিৎপটাং হওয়া আমাদের খেলোয়াড়দের খেলোয়াড়ি মানসিকতার জীর্ণতাকে প্রকাশ করে।



সারাদেশে তখন ঘরে ঘরে মেসির জ্বর আর নেইমারের কান্নার আলোড়ন। লুকা মদ্রিচ আর হ্যারিকেইন ঢুকে পড়েছে অন্দর মহলে। হ্যাজার্ড আর লুকাকু তীব্রভাবে হামলে পড়েছে রাতের ঘুমে। এমন সময়ে ভোর রাতের ঘুম পরের দিনের কাজের কাছে বন্ধক রেখে ক্যারাবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের বেলাভূমিতে যাযাবর হয়ে তথ্য-প্রযুক্তির জালে আটকে ঘুরে বেড়ানো নিখাদ ক্রিকেট প্রেম ও দেশপ্রেম না থাকলে সম্ভব নয়। এই অমূল্য সময়েই বাংলাদেশের ক্রিকেট হেনস্তা হয়েছে টেস্টে কম রানের ইনিংস গড়ে। ক্যারিবিয়ানদের দেশে তাদেরই মাটিতে দুই টেস্টে তুমুল ধোলাই খেয়ে সাকিবের টেস্ট দল পার পেয়ে গেছে কেবল ফুটবল বিশ্বকাপের জ্বরে আক্রান্ত দেশ অজ্ঞান ছিলো বলে। এমনিতেই সাকিব ভালো পারফর্মার হলেও দলনায়ক হিসেবে তার ঘাটতি লক্ষ্যণীয়। নিজে এক ইনিংসে অর্ধ সেঞ্চুরি করলেও বনেদীয়ানা হারানো ক্ষয়িষ্ণু ক্যালিপসোর কাছে দুই টেস্ট ম্যাচে গো-হারা হেরে প্রমাণ করলো, বাংলাদেশের টেস্ট এখনও ফকিরি হালতে আছে।



একটি দলকে উজ্জীবিত করতে পারে একজন প্রাণবন্ত ক্যাপ্টেন। সেই ক্যাপ্টেনের মনে যদি দেশ থাকে স্বপ্নের দীপ জ্বেলে তবে সেই দীপের শিখায় আলোকিত হয়ে উঠে অন্যসব সহ-খেলোয়াড়। আমাদের ম্যাশ সেই রকম একজন অনির্বাণ শিখায় প্রজ্জ্বলিত ক্যাপ্টেন। ম্যাশের হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেই তিনটি ওয়ানডে-র দুটিতে জয় আর একটিতে মাত্র তিন রানের হার আমাদের সিরিজ জিততে অনুপ্রাণিত করেছে। এর মাধ্যমে আমাদের ওয়ানডেতে সাবালকত্ব প্রতিষ্ঠিত হলো। খোদ পেস ব্যাটারীর দেশে গিয়ে পেস ব্যাটারীকে জিতে নেওয়া চাট্টিখানি কথা নয়। গাভাস্কার কিংবা কপিল দেবের ভারতও হিমশিম খেয়েছে এক সময়। অবশ্য সে সময় ছিলো ক্যালিপসোর মোহনীয় সুরের স্বর্ণকাল। ক্রিকেটের রাজপুত্র ভিভ রিচার্ডস আর মেধাবী ক্যাপ্টেন ক্লাইভ লয়েডের যুগলবন্দীতায়, অ্যান্ডি রবার্টস্, জোয়েল গার্নার, মাইকেল হোল্ডিং ও ম্যালকম মার্শালের আগুনের ফুলকি ছোটানো বোলিংয়ে সে সময় তারা ছিল অবধ্য, অপরাজেয়। তবুও আজকের ওয়েস্ট ইন্ডিজকে তাদের ভূমিতে হারানোতেও আমাদের প্রাপ্তি অনেক।



সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া মাশরাফি জ্বলে উঠেছে স্বমহিমায়। ইনজুরি আক্রান্ত দুটো হাঁটুকে ইঞ্জেকশনে বশে রেখে সে যেভাবে জানপ্রাণ দিয়ে খেলে যায় তার সাথে কেবল তুলনা হয় এক দেশপ্রেমী যোদ্ধার। সত্যিকার অর্থেই মাঠের মুক্তিসেনা মাশরাফি। তার নেতৃত্ব, তার উজ্জীবন এবং তার জিতবার অদম্য স্পৃহা আমাদের রোমাঞ্চিত করে প্রতিনিয়ত। বোলিংয়ে এই সফরে বাংলাদেশের সেরা পারফর্মার মাশরাফি।



মাশরাফি যেমন বল হাতে জ্বলে উঠেছে, তেমনি ব্যাটকে তরোয়াল করে এগিয়ে এসেছে তামিম ইকবাল। সফরে উভয় দলের মধ্যে সর্বোচ্চ দুইশ' সাতাশি রান করা তামিম পেয়েছে দুটো সেঞ্চুরি। বাঁ-হাতি তামিম বিদেশের মাটিতেই জ্বলে উঠে যেন বাঘের গর্জনে। তামিম ইকবালকে সহায়তা দিতে কখনো সাকিব, কখনো মুশফিক দাঁড়িয়ে গেছে ব্যাটকে চওড়া করে ক্যারিবিয়ান বোলিং-এর ধার কমিয়ে।



ক্রিকেট বাংলাদেশের মানকে বাড়িয়ে দিয়েছে পৃথিবীর কাছে। কিন্তু বিদেশের মাটিতে টেস্ট জিতার অভ্যাস না করতে পারলে ধীরে ধীরে অন্য নাক উঁচু দলগুলোর কাছে আমাদের মর্যাদা তৈরি হবে না। ক্রিকেটীয় মর্যাদা তৈরি করতে টেস্টে ধারাবাহিক বিজয়ের বিকল্প নেই।



এই দল থেকে এটাও আমাদের ভাবার সময় হয়েছে, ভবিষ্যতে মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ গং সবাই একযোগে অবসরে যাবে। এই হাল ধরতে সেই কা-ারীরা কই? কমপক্ষে আরও পাঁচজন চৌকষ খেলোয়াড়ের আগাম একটি ব্যাক আপ তৈরি করতে হবে যাতে কোনো গ্যাপ দেখা না দেয়। তার জন্যে এখন থেকেই আমাদের খোঁজ লাগাতে হবে। কমপক্ষে দুইজন বোলিং অলরাউন্ডার, দুইজন নিখাদ ব্যাটসম্যান ও একজন ব্যাটিং অলরাউন্ডারের দরকার আমাদের



ভবিষ্যতে। এই শূন্যতা না পুরাতে পারলে এটা আবার সেই প্রাথমিক যুগে নিপতিত হবো। বাংলাদেশের ক্রিকেট একদিন জয় করবে বিশ্ব-এই হোক আমাদের ভবিষ্যতের উদ্দীপনা।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৮০৬৩
পুরোন সংখ্যা