চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৯ অক্টোবর ২০১৮। ২৪ আশ্বিন ১৪২৫। ২৮ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা শূরা

৫৪ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৭। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের রুজি বাড়িয়ে দিলে তারা পৃথিবীতে অবশ্যই সীমালঙ্ঘন করতো; কিন্তু তিনি তাঁর ইচ্ছামত পরিমাণেই দিয়ে থাকেন। তিনি তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক জানেন ও দেখেন।

২৮। তারা তখন নিরাশ হয়ে পড়ে তখনই তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাঁর করুণা বিস্তার করেন। তিনিই তো অভিভাবক, সর্বপ্রশংসিত।

২৯। তাঁর মহা নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত হলো আকাশম-লী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং এতোদুভয়ের মধ্যে তিনি যেসব জীবজন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন সেগুলো; তিনি যখন ইচ্ছা তখনই ওদেরকে সমবেত করতে সক্ষম ।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


দুঃখ দৈন্য মানুষের মনের সুকোমল বৃত্তিগুলো নষ্ট করে দেয়।                      


  -ইমারসন।


যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে চড়–ই পাখির ন্যায় একটি ছোট্ট পাখিকেও হত্যা করে, আল্লাহ সেই হত্যা সম্বন্ধে তাকে প্রশ্ন করবেন।

 


ফটো গ্যালারি
ফুটবলার তৈরিতে প্রস্তুত চাঁদপুর সোনালী অতীত ফুটবল একাডেমি
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
০৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশে আশির দশকের ফুটবলারদের খুঁজতে হলে চলে আসতো ঢাকার নামকরা ক্লাবের ফুটবলারগণের নাম। আর সে ক্লাবের অধিকাংশ ফুটবলারই ছিলেন চাঁদপুরের। ওই সমস্ত ফুটবলার বয়সের ভারে খেলাধুলা ছেড়ে দিয়েছেন কিংবা নিজ জীবনের তাগিদে অন্য দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। এদের মধ্যে ঢাকার মাঠে নিয়মিত দেশের জাতীয় দলের হয়ে এবং বিভিন্ন ক্লাবের হয়ে খেলেছেন এমন কিছু ফুটবলার এখন চাঁদপুরে বসবাস করছেন। এই ফুটবলারগণ ঢাকা সোনালী অতীত ক্লাবসহ বিভিন্ন জেলার সোনালী অতীত ক্লাবের সাথে এবং ইন্ডিয়া ও ইংল্যান্ডের সোনালী অতীত ক্লাবের সাথে রাজধানী ঢাকাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত খেলছেন। আর ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানের সাবেক ফুটবলারগণ এবার উদ্যোগ নিয়েছেন চাঁদপুর জেলা শহরের, বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তৃণমূল পর্যায়ের খেলোয়াড়দের খুঁজে এনে ভালোমানের ফুটবলার হিসেবে তৈরি করতেন। সেজন্যে গত শনিবার আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছেন চাঁদপুর সোনালী অতীত ফুটবল একাডেমির।



চাঁদপুর আউটার স্টেডিয়াম সংলগ্ন সোনালী অতীত ক্লাব মিলনায়তনে আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে একাডেমির কার্যক্রম নিয়ে কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক চাঁদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটওয়ারী। উপদেষ্টাম-লীতে রয়েছেন চাঁদপুর জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, সাবেক জাতীয় ফুটবলার প্রবাসী মোস্তফা হোসেন মুকুল, সাবেক জাতীয় ফুটবলার প্রবাসী আবুল হোসেন, সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও চাঁদপুর সোনালী অতীত ক্লাবের সভাপতি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য মনোয়ার হোসেন চৌধুরী, জেলা ক্রীড়া সংস্থার ফুটবল উপ-কমিটির সম্পাদক ও ক্রীড়া সংগঠক আলহাজ্ব শাহির হোসেন পাটওয়ারী, জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও চাঁদপুর সোনালী অতীত ক্লাবের এবং পূর্ব শ্রীরামদী ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ফুটবলার গোলাম মোস্তফা বাবু। প্রধান সমন্বয়কারী হয়েছেন বেলায়েত হোসেন চৌধুরী, সহকারী সমন্বয়কারী বোরহান খান, মাঈনুল ইসলাম জীবন, কোষাধ্যক্ষ কামরুল হোসেন চৌধুরী টুটুল, প্রধান কোচ সাবেক ফুটবলার আনোয়ার হোসেন মানিক ও সহকারী কোচ সাবেক ফুটবলার জাহাঙ্গীর গাজী এবং জাহাঙ্গীর পাটওয়ারী।



একাডেমির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সাবেক সকল ফুটবলারই একমত পোষণ করেন যে, আমরা আশির দশকে যেভাবে ঢাকার মাঠে খেলেছি সেই রকম খেলোয়াড়দেরকে আবারো নতুন প্রজন্মের মাঝে দেখতে চাই। আমরা যদি এ একাডেমির মাধ্যেমে শুরু থেকেই স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে খেলা শুরু করি তাহলে অনেক ফুটবলার তৈরি করা যাবে। এক সময়ে ফুটবলারদের কথা বললেই আমাদের চাঁদপুর জেলার কথা মনে পড়তো সকলেরই । আগের দিনের দর্শকরা আমাদের খেলা দেখার জন্যে নিজ জেলা থেকে ছুটে যেতেন বিভিন্ন জেলায়। আমরা এখন একটাই কাজে নেমে যাবো আর সেটা হলো ভালো মানের ফুটবলার তৈরি করা। চাঁদপুরে ক্রিকেটের উন্নয়ন ও ক্রিকেট খেলোয়াড়দের কথা বললে ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমির কথা সকলেরই মনে পড়ে। আর আমাদের পার্শ্ববর্তী এ একাডেমি করার কারণে জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা এখানে এসে নিয়মিত দেখি ক্রিকেট অনুশীলন করে যাচ্ছে। আর এ রেজাল্টও জেলাবাসী ঠিকমতো উপভোগ করছে। একটি একাডেমি থাকার কারণে ক্রিকেটাররা তাদের অনুশীলন নিয়মিতভাবে ধরে রাখছে। চাঁদপুর ক্রিকেট একাডেমি থেকে অনেক খেলোয়াড় এখন জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট দলে খেলছেন। যারা একদিন জাতীয় দলের হয়ে চাঁদপুরের সুনাম বয়ে আনবে। আমরাও চাই আমাদের চাঁদপুর সোনালী অতীত ফুটবল একাডেমির মাধ্যমে পুরো বছরই খেলাধুলার অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার জন্যে। আমাদের মূল টার্গেট থাকবে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নূ্যনতম যদি ১০ জন করে ফুটবলার বাছাই করে তাদের নিয়ে অনুশীলন করাই তাহলে সেখান থেকে ১৪, ১৫ ও ১৭ বছর বয়সী ফুটবলার সৃষ্টি হবে। তাদেরকে নিয়ে যদি আমরা দীর্ঘমেয়াদী ফুটবল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি তাহলে আশা করি ঢাকার মাঠে আগামীতে চাঁদপুরের ফুটবলারদের সংখ্যা থাকবে বেশি। সারা দেশের মধ্যে যদি মেয়েদের ফুটবলে একটি জেলা থেকে অনেক প্রমিলা ফুটবলার স্থান পায়, তাহলে চেষ্টা করলে চাঁদপুর থেকেও তো ভালো মানের ফুটবলার সৃষ্টি করা যাবে। আমরা যেই লক্ষ্য নিয়ে জেলা থেকে ফুটবলার সৃষ্টি করার উদ্যোগ নিয়েছি। এ জন্য মনোবল ও আর্থিক বিভিন্ন বিষয় রয়েছে। আমরা আশা করি অনেক দূর এগুতো পারবো আমাদের একাডেমীর প্রধান উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটওয়ারীর মাধ্যমে।



চাঁদপুর সোনালী অতীত ফুটবল একাডেমির আগামী দিনের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও ফুটবলার তৈরি নিয়ে ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকতা ও সাবেক ফুটবলারদের সাথে আলাপকালে তারা তাদের ভিন্ন ভিন্ন মতামত প্রকাশ করেন । পাঠকদের সুবিধা ও জেলাবাসীর জন্যে তাদের বক্তব্যগুলো তুলে ধরা হচ্ছে।



একাডেমীর প্রধান উপদেষ্টা ও চাঁদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওচমান গনি পাটওয়ারী বলেন, চাঁদপুরের সাবেক ফুটবলাররা যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এক সময় ফুটবল খেলার কথা শুনলে আমরা খেলা দেখতে চলে আসতাম। আমরা দেখেছি এক সময় ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবে নিয়মিত খেলেছেন চাঁদপুরের মুকুল, আবুল ভাইরা। পরবর্তীতে আরো বেশ কয়েকজন ফুটবলারই খেলেছেন ঢাকার মাঠে। আর এরাই এখন চাঁদপুর থেকে ভালো মানের ফুটবলার তৈরি করতে তাদের ক্লাবের নামেই একাডেমির কার্যক্রম শুরু করেছেন। আমি সবসময়ই ক্রীড়াঙ্গনের যে কোনো ভালো কাজের সাথে ছিলাম, আশা করি সবসময়ই থাকবো। আর সাবেক ফুটবলাররা আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন আমি যেনো সকলের সহযোগিতা ও ভালোবাসা নিয়ে তাদের মনের আশাগুলো পূরণ করতে পারি এজন্যে সকলের সহযোগিতা চাই।



চাঁদপুর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের সভাপতি রোটারিয়ান মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, চাঁদপুরে খেলাধুলায় এখন আশেপাশের জেলা থেকে অনেক এগিয়ে রয়েছে। এই জেলা শহরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট সহ বিভিন্ন ধরনের লীগ ও টুর্নামেন্ট হচ্ছে। আমাদের এই জেলায় আগে ফুটবলারদের অভাববোধ করতে হয়নি। মাঝামাঝি সময়ে এই খেলাটি যেনো হারিয়ে যেতে বসেছিলো। তখনই আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জেলা থেকে খেলাধুলার মাধ্যমে বিভিন্ন বয়সী ফুটবলার খোঁজ করে তাদেরকে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে ফুটবলের জোয়ার যেনো আবার শুরু হয়েছে। আর সেই সময়ে চাঁদপুরের সাবেক ফুটবলারগণ জেলা থেকে ভালো খেলোয়াড় তৈরি করার জন্য যে চেষ্টা করছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি একজন সংগঠক হিসেবে বলতে চাই, এ ধরনের উন্নয়নমূলক সকল কাজের সাথে ছিলাম এবং সবসময়ই থাকবো।



চাঁদপুর সোনালী অতীত ক্লাবের সভাপতি ও সাবেক জাতীয় ফুটবলার মনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমাদের এ একাডেমির মূলে আমরা সবাই সাবেক ফুটবলার। আমরা চেষ্টা করছি যে ঢাকার মাঠে আবারো চাঁদপুরের ফুটবলারদের দেখতে। আর আমাদের এ উদ্যোগের সাথে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একাত্মতা ঘোষণা করে আমাদেরকে যে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিচ্ছেন এ জন্যে আমরা সাবেক ফুটবলারগণ তাঁর কাছে ঋণী। আমাদের একাডেমি আজকে বা এ মাসের এবং এ বছরের জন্যে নয়। আমাদের একাডেমির যখন যাত্রা শুরু হয়েছে আশা করি এ একাডেমি আজীবন থাকবে। হয়তো আজ আমরা আছি আগামীতে অন্য ফুটবলাররা এসে তাদের বড়ভাইদের দেখানো পথ অনুসরণ করে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।



একাডেমির উপদেষ্টা চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ফুটবলার গোলাম মোস্তফা বাবুর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমাদের জেলায় নতুন করে উদীয়মান ফুটবলারদের জন্য ফুটবল সহায়ক হিসেবে এ একাডেমিটির আত্মপ্রকাশ ঘটলো। আমরা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আমাদের চাঁদপুর সোনালী অতীত ক্লাবের সাধারণ সভা ডেকে সেখানে সকল সদস্যের ভালো আরো কিছু মতামত নিয়ে আরো নতুন নতুন পরিকল্পনা হাতে নেবো। আমাদের মূল লক্ষ্যই থাকবে উপজেলা থেকে ভালো মানের খেলোয়াড় সৃষ্টি করা এবং ওই সমস্ত খেলোয়াড়কে ঠিকমতো নার্সিং করা। আমাদের সেই ফুটবলারদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। আমরা বিভিন্ন উপজেলায় সশরীরে গিয়ে ফুটবলার খোঁজ করে বাছাই করে আনবো। আমি একজন সাবেক ফুটবলার হিসেবে বলতে পারি, চাঁদপুর জেলার জন্যে সাবেক ফুটবলারদের নিয়ে যে ভালো মানের একাডেমি আত্মপ্রকাশ হয়েছে সেই একাডেমি থেকে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভালো ভালো ফুটবলার জেলাবাসী খুঁজে নিতে পারবে এবং তাদেরকে সেইভাবেই তৈরি করা হবে। সাবেক ফুটবলারদের থেকে কোচের প্যানেল তৈরি করা হবে এবং সেখান থেকেই বতর্মান কোচদের সাথে তাদেরকে সমন্বয় করে দায়িত্ব দেয়া হবে। একাডেমির ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা অনেক সুন্দর দিকনির্দেশনামূলক কথা বলেছেন।



একাডেমির প্রধান কোচ ও সাবেক ফুটবলার এবং চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার ফুটবল উপ-কমিটির সাবেক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মানিকের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, খেলোয়াড় সৃষ্টি করা এবং তাদেরকে দিয়ে মাঠে ম্যাচ খেলার উপযোগী করে তোলাই হবে আমাদের প্রধান কাজ। এ জেলা থেকে যেনো ফুটবলার হারিয়ে গেছে। আমাদের প্রথম টার্গেট থাকবে বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১০ জন করে মোট ৮০ জন খেলোয়াড় বাছাই করা । আর সেই সমস্ত খেলোয়াড়কে নিয়ে প্রথমে কয়েকদিন



 



অনুশীলন করিয়ে তাদের মাঝখান থেকে যারা ভালো খেলবে তাদেরকে আবার বাছাই করে একাডেমির পক্ষ থেকে দীর্ঘমেয়াদী অনুশীলনের ব্যবস্থা করা । আশা করি আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছি, আমরা আমাদের সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারবো।



চাঁদপুর সোনালী অতীত ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক ফুটবলার ইউছুফ বকাউলের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, ভালো খেলোয়াড়রা অনেক সময় ভাালো কোচ হতে পারে না। আমাদেরকে লক্ষ্য রাখতে হবে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বাছাইকৃত ফুটবলারদেরকে এনে তাদেরকে ভালো কোচের মাধ্যমে অনুশীলন করানো। আমাদের মনে রাখতে হবে, ফুটবলারদের যে সময় যে ধরনের খেলার প্রয়োজন তাদেরকে সেই ভাবেই অনুশীলন করাতে হবে। আমি একজন সাবেক ফুটবলার ও সোনালী অতীত ক্লাবের কর্মকর্তা হিসেবে বলতে পারি, ক্লাবের পক্ষ থেকে যে ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে সেটা অনেক ভালো দিক। তবে এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। সাবেক ফুটবলার ও চাঁদপুর সোনালী অতীত ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান খানের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমাদের সময়ে ফুটবল মাঠে খেলাটা ছিলো যেনো স্বপ্নের মতো। আমাদের সময় প্রতিযোগিতা ও শারীরিক উচ্চতার মাধ্যমে দলগুলোতে খেলার সুযোগ পাওয়া যেতো। আমাদের সময় ফুটবলারদের সংখ্যা ছিলো বেশি। প্রতিযোগিতা করে মাঠে নামতে হতো। আর এখন মাঠগুলোতে সেই ধরনের অংশগ্রহণকারী ফুটবলারদের খুঁজে পাওয়া যায় না। আমাদের একাডেমির প্রধান উপদেষ্টা যে ধরনের সহযোগিতার কথা বলছেন সেইভাবে এ জেলায় বসবাসকারী শিল্পপতিরা যদি ক্রীড়াঙ্গনে এগিয়ে আসে তাহলে পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে অনেক খেলোয়াড়ই সৃষ্টি হবে।



হাজীগঞ্জ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ফুটবলার শাহজাহান তালুকদার শাহা বলেন, আমরা যদি আমাদের নতুন একাডেমির মাধ্যমে প্রথমেই স্কুল পর্যায়ের ছাত্রদের নিয়ে কার্যক্রম শুরু করি তাহলে অনেক খেলোয়াড়কে পাবো। কারণ জেলা বলি আর উপজেলা বলি স্কুলে পড়ুয়া অনেক ছাত্রই খুবই ভালো মানের ফুটবল খেলা খেলে। আর ওই সমস্ত খেলোয়াড়কে যদি বাছাই করে ঠিকমতো একাডেমির মাধ্যমে নার্সিং করা যায়, আমি একজন সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে বলতে পারি যে, অবশ্যই এ জেলা থেকে ভালো মানের ফুটবলার তৈরি হবে। আমরা দেখেছি যে, কয়েকদিন আগে জাতির পিতার নামে যে ফুটবল খেলা চালানো হয়েছে, সেখানে অনেক দলই তাদের খেলোয়াড়দের বয়স কমিয়ে খেলেছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের লক্ষ্য থাকবে স্কুল পড়ুয়া ১৩, ১৫ ও ১৭ বছর বয়সী ফুটবলারদের নিয়ে আমাদের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেয়া। আমাদের জেলা শহরে স্থানীয় খেলোয়াড়দের সংখ্যা খুবই কম। আমরা প্রত্যেক উপজেলা থেকে বাছাই করে এই একাডেমির মাধ্যমে ভালো ফুটবলার তৈরির চেষ্টা করবো। আর এজন্যে খেলোয়াড় সহ তাদের অভিভাবকদেরকেও একটু দায়িত্ব নিতে হবে।



কচুয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ চন্দ্র বলেন, চাঁদপুরের সাবেক ফুটবলাররা যে ভালো একটি উদ্যোগ নিয়েছেন এজন্যে আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই। আমি ফুটবল একাডেমির আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে দেখেছি যে, সাবেক ফুটবলারগণ এ জেলা থেকে ভালো মানের ফুটবলার তৈরির জন্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। আমি ফুটবল একাডেমীকে স্বাগত জানাই । তারা যেনো তাদের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করে তোলে। জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেই অনেক ভালো মানের ফুটবলার রয়েছে। তাদেরকে যদি সাবেক খেলোয়াড়রা একটু ঠিকমতো নার্সিং করতে পারে তাহলে প্রত্যেক উপজেলা থেকেই ভালো মানের ফুটবলার সৃষ্টি হবে।



সাবেক ফুটবলার সেলিমুস্সালাম বলেন, যুব সমাজকে ভালো পথে ধরে রাখতে হলে খেলাধুলার বিকল্প নেই। অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। ক্রীড়াই সভ্যতার প্রতীক । আমাদের এ একাডেমির মাধ্যমে বয়স ভিত্তিক খেলোয়াড় বাছাই করে তাদেরকে যদি আমরা ঠিকমতো অনুশীলন করে গড়ে তুলতে পারি তাহলে আবার ঢাকার মাঠে চাঁদপুরের খেলোয়াড়দেরকে খুঁজে পাওয়া যাবে। অনেক জেলাতেই ফুটবলটা মৌসুমী খেলা হলেও চাঁদপুরে কিন্তু পুরো বছর জুড়েই ফুটবল খেলাটা হয়ে থাকে। আশির দশকে অনেক ফুটবলারই ছিলেন। কিন্তু এখন আর তেমন ফুটবলার খুঁজে পাওয়া যায় না। আশা করি আগামীতে এ একাডেমির মাধ্যমে ফুটবলারও সৃষ্টি হবে এবং ভালোমানের ফুটবলার দিয়ে দেশের যে কোনো দলের সাথে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলাতে পারবো আমরা।



সাবেক ফুটবলার ও ক্রীড়া সংগঠক জয়নাল আবেদীন জনু বলেন, চাঁদপুরের ফুটবলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এটা খুব ভালো দিক। সারা বাংলাদেশেই এখন ফুটবলার তৈরির জন্যে বিভিন্ন টুর্নামেন্ট ও লীগ হচ্ছে বয়সভিত্তিক ফুটবলারদের নিয়ে। আর একাডেমিরও মূল লক্ষ্য স্কুল পড়ুয়া ছেলেদের নিয়ে অনুশীলন শুরু করানো। আমি বয়সভিত্তিক অনেক খেলাই চাঁদপুর স্টেডিয়ামে দেখেছি, ওই খানে স্কুল পড়ুয়া অনেক ফুটবলারের খেলা নজরে পড়েছে। এরা যদি পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা অব্যাহত রাখে তাহলে আমাদের লক্ষ্য তাদের মাধ্যমে আশা করি পূরণ হবে।



একাডেমির প্রধান সমন্বয়কারী বেলাল চৌধুরী বলেন, আমরা একাডেমিটি করেছি স্থানীয় ফুটবলারদের নিয়ে সেখান থেকে বাছাই করে ভালো ফুটবলার তৈরি করতে । আমরা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে একাডেমির কোচ ও কর্মকর্তাদের নিয়ে প্রতিটি উপজেলায় গিয়ে স্কুল পড়ুয়া বিভিন্ন বয়সী ফুটবলারদের সেই উপজেলাতেই বাছাই করবো। বাছাইকৃতদেরকে জেলা পর্যায়ে এনে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো। আমাদের জেলা শহরে ফুটবল দল গড়ার সময় দেখা যায় যে, বাইরের থেকে খেলোয়াড় এনে দল গঠন করতে হয়। জেলা পর্যায়ে যদি ভালো ফুটবলার থাকতো তাহলে আর আমাদেরকে অনেক টাকা খরচ করে বাইরের ফুটবলার এনে ম্যাচ খেলাতে হতো না। আমরা যদি ভালো ফুটবলার তৈরি করতে পারি তাহলে আগামীতে আর অন্য জেলার খেলোয়াড় আনতে হবে না।



সাবেক ফুটবলার ও কোচ জাহাঙ্গীর গাজী এবং জাহাঙ্গীর পাটওয়ারীর সাথে আলাপকালে তারা বলেণ, আমাদের জেলায় ফুটবলারদের সংখ্যা বর্তমানে খুবই কম। এক সময় আমরা খেলার জন্য মাঠের সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকতাম। আর এখন মাঠ আছে কিন্তু খেলোয়াড় নেই। চাঁদপুরে কোনো টুর্নামেন্ট বা লীগের আয়োজন করা হলে বাইরের থেকে খেলোয়াড় ভাড়া করে আনতে হয়। আমরা সাবেক ফুটবলাররা মিলে যে একাডেমিটি করেছি, আশা করি আগামীতে এই একাডেমি থেকেই অনেক ফুটবলার ঢাকার বিভিন্ন ক্লাবসহ জাতীয় পর্যায়ে খেলার সুযোগ পাবে। আমরা আমাদের প্রধান উপদেষ্টা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের যে সহযোগিতা পেয়েছি, আশা করি ফুটবলারদের অনুশীলনের জন্যে অনেক ভালো কাজ হবে। আমরা যেনো আমাদের একাডেমির কার্যক্রমগুলো সঠিকভাবে চালাতে পারি এজন্যে সকলের সহযোগিতা ও সমর্থনসহ দোয়া প্রত্যাশা করছি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬১৭০১৭
পুরোন সংখ্যা