চাঁদপুর। মঙ্গলবার ৯ অক্টোবর ২০১৮। ২৪ আশ্বিন ১৪২৫। ২৮ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে আটককৃত বিএনপি'র ১৭ নেতাকর্মীকে জেলহাজতে প্রেরন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা শূরা

৫৪ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৭। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের রুজি বাড়িয়ে দিলে তারা পৃথিবীতে অবশ্যই সীমালঙ্ঘন করতো; কিন্তু তিনি তাঁর ইচ্ছামত পরিমাণেই দিয়ে থাকেন। তিনি তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক জানেন ও দেখেন।

২৮। তারা তখন নিরাশ হয়ে পড়ে তখনই তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তাঁর করুণা বিস্তার করেন। তিনিই তো অভিভাবক, সর্বপ্রশংসিত।

২৯। তাঁর মহা নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত হলো আকাশম-লী ও পৃথিবীর সৃষ্টি এবং এতোদুভয়ের মধ্যে তিনি যেসব জীবজন্তু ছড়িয়ে দিয়েছেন সেগুলো; তিনি যখন ইচ্ছা তখনই ওদেরকে সমবেত করতে সক্ষম ।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


দুঃখ দৈন্য মানুষের মনের সুকোমল বৃত্তিগুলো নষ্ট করে দেয়।                      


  -ইমারসন।


যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে চড়–ই পাখির ন্যায় একটি ছোট্ট পাখিকেও হত্যা করে, আল্লাহ সেই হত্যা সম্বন্ধে তাকে প্রশ্ন করবেন।

 


ফটো গ্যালারি
মতলব মুন্সিরহাট সপ্রাবি ও হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের নেই সুপরিসর খেলার মাঠ
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
০৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বাবুরহাট-মতলব সড়কের পাশে একটি প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয় মুন্সিরহাট হাই স্কুল। চাঁদপুর-৩-এর একপাশ এবং চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণের) অংশের দিঘলদী এলাকায় এ বিদ্যালয়টির অবস্থান। জেলা শহর থেকে ঢাকা কিংবা মতলবের দিকে যেতে হলেই পেন্নাই সড়কে এ বিদ্যালয়টি দেখা যাবে। বিদ্যালয়টির পাশে ছোট স্কুল বলে মুন্সিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি সকলের চোখে ঠিকমত পড়ে না। শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক হলেও ছোট স্থান হওয়ায় ঠিকমতো শ্রেণীকক্ষ ও শিক্ষার্থীদের চোখে পড়ে না। বিদ্যালয় দুটির শিক্ষার্থীদের প্রধান সমস্যা হলো তাদের ভালো কোনো খেলার মাঠ নেই। যেই একটি মাঠ রয়েছে বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তার পাশে, সেই মাঠটিতে একদল খেলতে নামলে তো আরেক দলকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তাছাড়া খেলাধুলার অনুশীলনের পর্যাপ্ত কোনো ব্যবস্থা না থাকাতে এলাকার ছেলেরা বিভিন্ন সময়ে খেলার বদৌলতে বিভিন্ন আড্ডায় জড়িয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের নিজস্ব ৪৫ শতাংশ জমি রয়েছে বিদ্যালয় থেকে একটু দূরে । কিন্তু সে জমি ভরাট না থাকায় এবং খেলার উপযোগী না হওয়ায় সেটিকে মাঠ হিসেবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। স্থানীয় সাংসদ মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খানসহ শিল্পপতিরা যদি এগিয়ে আসেন তাহলে খেলার মাঠ পেতে পারে শিক্ষার্থীরা। দুটি বিদ্যালয়ে প্রায় ১২শ' শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এই এলাকায় গিয়ে ক্রীড়া সংক্রান্ত খোঁজ নিতে গেলে স্থানীয় এলাকাবাসী পত্রিকার লোক দেখে এগিয়ে এসে বলতে থাকেন, আপনাদের পত্রিকায় যদি 'মুন্সিরহাট এলাকার ছেলে-মেয়েরা খেলাধুলা করতে পারছে না মাঠের অভাবে' এমন ধরনের নিউজ দেন তাহলে আমাদের সন্তানদের অনেক উপকার হতো। হয়তো আপনাদের লেখার কারণে তারা বিত্তবানদের সহযোগিতায় একটি খেলার মাঠ পাবে।



বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও চাঁদপুর সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল হাছানের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমি এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। আমি আমার নিজ অর্থায়নে বিদ্যালয়ের সামনে শহীদ মিনার করছি। বিদ্যালয়টিতে অনেক পুরাতন ভবন রয়েছে। এ ভবনটি ভেঙ্গে নূতন ভবন করা হোক। এখানে দুটি বিদ্যালয়ে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা যে খেলবে সেই ধরনের কোনো খেলার মাঠ নেই । সারা দেশে সরকার প্রধান যেখানে খেলাধুলার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন, আর সেখানে আমাদের এই বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা খেলার মাঠের অভাবে খেলাধুলা করতে পারছে না। আমরা এ ব্যাপারে আমাদের সাংসদের দায়িত্বে থাকা ত্রাণমন্ত্রী মহোদয় ও জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা কামনা করছি। খেলার মাঠ থাকলে শিক্ষার্থীরা মাদকসহ খারাপ পথে কখনও পা বাড়াবে না। শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার অভাবে তথ্যপ্রযুক্তির অবৈধ সুযোগ নিচ্ছে। এখানে যে ছোট্ট একটি মাঠ রয়েছে সেখানে ঈদের নামাজ, জানাজাসহ ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অথচ বড় একটি খেলার মাঠ থাকলে এখানকার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় অংশ নিতে পারতো। এছাড়া বিভিন্ন টুর্নামেন্ট ও লীগ চালানো যেতো। বিদ্যালয়ের সামনে থাকা এই ছোট মাঠটি একসময় বড় ছিলো। চাঁদপুরের আশির দশকের ফুটবলারসহ ঢাকার নামী-দামী ক্লাবের ফুটবলাররা এই মাঠে খেলাধুলা করেছেন। কিন্তু দিন দিন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ও স্কুলের শ্রেণীকক্ষ বৃদ্ধি পাওয়ায় মাঠের পরিধি আস্তে আস্তে কমে গেছে।



মুন্সিরহাট হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছাখওয়াত উল্লার সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমাদের এখানে ভালো একটি খেলার মাঠ নেই । বিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা যদি ভালো একটি খেলার মাঠ পেতো তাহলে স্কুল ছুটি হলে তারা খেলাধুলা করতে পারতো। বিদ্যালয়ের সামনে যে একটি মাঠ রয়েছে সেটি ছোট হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো খেলাধুলা করতে পারছে না। আমাদের মন্ত্রী মহোদয়, জেলা প্রশাসক মহোদয়সহ বিত্তবানরা যদি শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে একটি মাঠের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে আমরা অনেক উপকৃত হবো।



বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ফারুক গাজীর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমাদের এই বিদ্যালয়টি একটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়। বাবুরহাট থেকে আড়ংবাজার যাওয়া পর্যন্ত আমাদের বিদ্যালয়ের ছোট মাঠ ছাড়া তেমন কোনো মাঠ চোখে পড়ে না। আমাদের এলাকায় এখন ছেলেমেয়েদের জন্য একটি খেলার মাঠের বড় প্রয়োজন ।



বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য জিএম মাহবুব হোসেন জানান, আমাদের এখন বড় প্রয়োজন একটি বড় খেলার মাঠ। স্কুলের একটি নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে। অনুদান পেলে সেই জায়গাতেই মাঠ করা যাবে। আমরা যদি অনুদান পাই তাহলে স্কুলের দান করা সেই জায়গা ভরাট করে মাঠ তৈরি করতে পারবো।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২৪৬৭১৪
পুরোন সংখ্যা