চাঁদপুর। মঙ্গলবার ২৩ অক্টোবর ২০১৮। ৮ কার্তিক ১৪২৫। ১২ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা যূখরুফ

৮৯ আয়াত, ৭ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

১০। যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন শয্যা এবং ওতে করেছেন তোমাদের চলার পথ যাতে তোমরা সঠিক পথ পেতে পার;

১১। এবং যিনি আকাশ হতে পানি বর্ষণ করেন পরিমিতভাবে এবং আমি তার দ্বারা জীবিত করি নির্জীব ভূ-খ-কে। এভাবেই তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে।

১২। এবং যিনি জোড়াসমূহের প্রত্যেককে সৃষ্টি করেন এবং যিনি তোমাদের জন্যে সৃষ্টি করেন এমন নৌযান ও চতুষ্পদ জন্তু যাতে তোমরা আরহণ কর।   

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন



 


কোনো কিছু যদি পবিত্ররূপে সৃষ্টি হয়ে থাকে তবে তা মানবদেহ।     


-ওয়াল্ট হুইটম্যান।


যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের উপর ঈমান রাখে তার ভালো ও পরিচ্ছন্ন কথা বলা উচিত অথবা নীরব থাকা বাঞ্ছনীয়। পরিচ্ছন্ন কথা হচ্ছে দান কাজের সমতুল্য।

 


ফটো গ্যালারি
ফুটবলে নারী বিপ্লব
পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


বিপ্লব শব্দটা শুনলেই রক্তারক্তির গন্ধ পাওয়া যায়। যদিও বিপ্লবে রক্তের ছোঁয়া সব সময় থাকে না। বিপ্লব মানেই পরিবর্তন। আমূল পরিবর্তন। কিছু কিছু বিপ্লবে দরকার হয় শুধু মানসিকতার পরিবর্তন ঘটানোর। এতে অসি বা ঢাল-তরোয়ালের প্রয়োজন হয় না মোটেই। পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি হলো নারী। নারীকে অবরোধবাসিনী বানিয়ে পৃথিবী এগোতে পারে না। বেগম রোকেয়া এসে ঊনবিংশ শতকের অবরোধবাসিনী নারীদের জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে অচলায়তনের বাইরে আনলেও নারী সত্যিকার অর্থে আজও কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিষেধের নিগড়ে আটকে আছে। ফুটবল এদেশে এমন এক ক্ষেত্র, যেখানে এদেশের নারীরা অফিসিয়ালি মাঠে নামতে পেরেছে দুই হাজার দশ সালের জানুয়ারির আগে নয়। আজ দুই হাজার আঠার সালেও বাংলাদেশের কুড়িগ্রামে নারী ফুটবল বন্ধের দাবিতে মিছিল হয়। অথচ বিশ্বজুড়ে নারীরাই এগিয়ে যাচ্ছে তর তর করে।



সু চু নামে ফুটবল খেলাটা শুরু হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব পঁচিশ হতে দুইশ পঞ্চাশ সালের মধ্যে। চীনে হান রাজবংশের আমলে প্রচলিত হয় ফুটবল। মেয়েদের কপালে ফুটবলের শিকে ছিঁড়ে সতেরশ' নব্বই সালের দিকে স্কটল্যান্ডে।



বাংলাদেশে এই নারী ফুটবল বিপ্লব শুরু হয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী প্রজ্ঞায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুই হাজার দশ সালে। একযোগে দেশের চৌষট্টি হাজার একশ' ছিয়ানব্বইটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দশ লাখ একানব্বই হাজার তিনশ' বত্রিশজন নারী শিশু খেলোয়াড় নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট। একসঙ্গে এক টুর্নামেন্টে এত সংখ্যক খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ আর কোনো প্রতিযোগিতায় নেই। বাংলাদেশ এজন্যে তাই গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড বুকে স্থান পেতে পারে। তৃণমূল থেকে শিশু অবস্থায় খেলোয়াড় তুলে আনার জন্যে এই টুর্নামেন্ট অতীব কার্যকর বলে আজ প্রমাণিত। পাশাপাশি ছেলেদের জন্যে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টও উল্লেখযোগ্য।



দশ লাখ একানব্বই হাজারের অধিক খেলোয়াড় থেকে সাঁইত্রিশজন খেলোয়াড় বাছাই করে বাফুফে নিয়ে আসে নজরদারিতে। এভাবে সংগৃহীত খেলোয়াড় হতেই গড়ে উঠে অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ-১৮ ও জাতীয় মহিলা ফুটবল দল। আগে জাতীয় মহিলা ফুটবল দলে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, সাতক্ষীরা, যশোর ও নারায়ণগঞ্জের খেলোয়াড়দের আধিক্য ছিলো। কিন্তু আজকাল ধীরে ধীরে তা কমে আসছে। আজ প্রায় তিরিশটা জেলার মেয়েরা জাতীয় মহিলা ফুটবলে অংশ নিচ্ছে। কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনের তত্ত্বাবধানে আজ আমাদের মেয়েরা জিতে নিয়েছে অনূর্ধ্ব পনর সাফ শিরোপা, হংকং-এর চার জাতি জকি কাপ শিরোপা ইত্যাদি। ইরান, কিরঘিজিস্থান কিংবা নেপাল, মালদ্বীপের নারী দলগুলোকে বিশাল ব্যবধানে হারানো আজ কোনো ঘটনাই নয়। এমনকি ভারতও ভয়ে কাঁপে এবং ধরাশায়ী হয় কখনও কখনও। এসবই সম্ভব হয়েছে কেবল নারী ফুটবল বিপ্লবের জন্যে।



যারা নাগরিক পরিবেশে সকল সুবিধা পেয়ে ফ্যাশন র‌্যাম্পে হেঁটে যাওয়াকে নারী প্রগতি বলে মনে করেন, যারা মিডিয়াতে ও মাঠে-ময়দানে নারী জাগরণের কথা বলে ঘরে এসে নিজের ছেলের বউয়ের চাকুরিতে যাওয়া বন্ধ করে দেন, যারা নারী প্রগতি বলতে পুরুষ বিরোধিতাকে উস্কে দিয়ে সমাজ-সংসার অস্থির করে তোলেন, তাদের মুখে ঝামা ঘষে গ্রামের অজপাড়াগাঁ-এর কিশোরীরাই আজ এদেশের নারী ফুটবলকে নিয়ে গেছেন এগিয়ে বিশ্বমঞ্চে। এদের পায়ের যাদুতেই বাংলাদেশ হেসে উঠে বিদেশের মাঠে। অথচ এদের কারো পেটে দুবেলা খাওয়া জোটে না, পুষ্টির অভাবে এরা দৌড়াতে পারে না বল নিয়ে। তবু তারাই অদম্য।



এদেশের নারী ফুটবলে কার্যত বিপ্লব এনে দেয় ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ের নিকটবর্তী কলসিন্দুর গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নারী ফুটবল দলটি। তাদের নেপথ্যে যিনি ছিলেন তিনি ঐ স্কুলের আরেক সংগ্রামী নারী, সুযোগ্য প্রধান শিক্ষক মিনতি রাণী। তাকে উপযুক্ত সহায়তা দান করেন স্কুলের শরীর চর্চা বিষয়ক শিক্ষক মফিজুর রহমান। যে গ্রামে বিদ্যুৎ ছিল না, যে গ্রামের মুরুবি্বরা নারীদের ফুটবল খেলায় দিয়েছেন বাধা, সেই গ্রামের স্বর্ণ কিশোরীরাই পর্বতের দেশ নেপালের উঁচু মাঠে গিয়ে মাতিয়ে দিয়েছেন বিশ্ব। যে বাবা তহুরাকে খেলতে দিতে চাননি ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে, সে বাবাই আজ গর্বিত তার মেয়ের হ্যাটট্রিক গোলের পারদর্শিতায়। তহুরার কারণেই আজ তাদের বিদ্যুৎহীন গ্রামে এসেছে বিদ্যুৎ। আজ গ্রামের মুরুবি্ব সবাই তার মাথায় হাত দিয়ে দোয়া করে আরো ভালো খেলার জন্যে। বাধাকে জয় করে আজ এদেশের নারীরা হয়ে গেছে তারকা। আজ তাদের জন্যে গর্বিত হয় সারা বাংলাদেশ।



অন্ধকার এক সময়ে এদেশের কিশোরীরা রজঃস্বীলা হতে না হতেই চলে গেছে শ্বশুরবাড়ি, তার চেয়ে ঢের বড় স্বামীর সেবাদাসী হয়ে। আজ এই কিশোরীরাই বিপ্লবের কারণে হয়ে গেছে স্বর্ণকিশোরী। একজন সাবিনা, একজন সুইনু, একজন অাঁখি, একজন কৃষ্ণা কর্মকার কিংবা যমজ বোন আনচিং মগিনিরা আজ হয়ে উঠেছে দেশের সম্পদ। তাদের ভয় পেয়ে ভারতের কোচও পাল্টায় ট্যাকটিঙ্।



দেশের পুরুষ ফুটবলের প্রাণ যখন ঠেকেছে তলানীতে তখন বাধাপ্রাপ্ত, বৈষম্যের চোখে দেখা নারী ফুটবলাররাই ফিরিয়ে এনেছে মাঠের প্রাণ। প্রথম প্রথম মাঠে দর্শক হতো না। কখনো আটশো, কখনো বারোশ দর্শক হলেই মনে হতো অনেক। আর এখন ঘরোয়া খেলাতেই বারো হাজার দর্শক হলে মনে হয় কিছুই হয়নি। নারী খেলোয়াড়রা এতো বিপ্লব ঘটানোর পরও তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। কেননা, একটু বড় হলেই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেয়া, খেলোয়াড় মেয়েদের উপযুক্ত সম্মানী ও বেতনের অভাব, উপযুক্ত চাকুরির ঘাটতি তাদের খেলোয়াড়ি জীবনকে দ্রুত শেষ করে দেয়। তাই তাদের উপযুক্ত বেতনে বিভিন্ন সার্ভিস রিলেটেড সংস্থাগুলোতে চাকুরির নিশ্চয়তা তৈরি করতে হবে। দেশে পেশাদারী নারী ফুটবল লীগ চালু করতে পারলে আর্থিক সচ্ছলতার নিশ্চয়তা পেয়ে নতুন নতুন খেলোয়াড় তৈরি হবে ও তাদের পদচারণা স্থায়ী হবে। এমনকি তাদের বেতন বৈষম্য দূর করতে পারলেও তাদের মধ্যে জীবিকা হিসেবে খেলোয়াড়ি জীবন বেছে নেয়াটা সহজ হয়ে যাবে।



একটি দেশকে এবং জাতিকে সামগ্রিকভাবে এগিয়ে নিতে হলে নারীদের এগিয়ে আনতে যেমন হবে তেমনি সেই অগ্রগামিতাকে টেকসই রূপ দান করতে হবে। নারী ফুটবলারদের টেকসই ক্যারিয়ার না দিতে পারলে কেবলমাত্র দু-চার বছরেই শেষ হয়ে যাবে একজন নারী ফুটবলারের খেলোয়াড়ি জীবন। তাই সুপরিকল্পনার সন্ধান ও বাস্তবায়ন করা জরুরি।



নারীর পায়ে তৈরি হোক বিপ্লব



নারীর পায়ে গুঁড়িয়ে যাক বাধা সব।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭২২৬২
পুরোন সংখ্যা