চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১৪ মে ২০১৯, ৩১ বৈশাখ ১৪২৬, ৮ রমজান ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

১৭। স্মরণ রাখিও, ‘দুই গ্রহণকারী’ ফিরিশ্তা তাহার দক্ষিণে ও বামে বসিয়া তাহার কর্ম লিপিবদ্ধ করে;

১৮। মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তাহার জন্যে তৎপর প্রহরী তাহার নিকটেই রহিয়াছে।


assets/data_files/web

অপ্রয়োজনে প্রকৃতি কিছুই সৃষ্টি করে না। -শংকর।


 


 


কবর এবং গোসলখানা ব্যতীত সমগ্র দুনিয়াই নামাজের স্থান।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
সকল সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে, তবুও-
প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে অংশ নেয়নি পুরাণবাজারের ৪টি ক্লাব
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
১৪ মে, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর স্টেডিয়ামে চলছে প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ। প্রায় ৪ বছর পরে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও ক্রিকেট উপ-কমিটির আয়োজনে এ প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগের উদ্বোধন করেন গণপজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপি। এবারের ক্রিকেট লীগে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত ২০টি ক্লাবের মধ্যে ৮টি ক্লাব অংশ নিয়েছে। চাঁদপুর জেলা শহরের পুরাণবাজার ও নতুনবাজারস্থ ক্লাবগুলোই জেলা ক্রীড়া সংস্থায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত পুরাণবাজারের ৪টি ক্লাব প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে অংশ নেয়নি। অথচ জেলা ক্রীড়া সংস্থার অধীনস্থ হওয়ায় এ ক্লাবগুলো জেলা ক্রীড়া সংস্থার দোকানপাট-মার্কেটসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নিচ্ছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত এ ৪টি ক্লাব হচ্ছে পশ্চিম শ্রীরামদী ক্লাব, পূর্ব শ্রীরামদী ক্লাব, নিতাইগঞ্জ ক্রীড়া চক্র ও ভাই ভাই স্পোর্টিং ক্লাব।



বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলা অনেক ক্রিকেটারই ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে অংশ নেয়া বিভিন্ন দল থেকে সুযোগ পেয়েছে মূল দলে। আর ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে খেলার সুযোগ পেয়েছে নিজ নিজ জেলার প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে খেলার কারণে। জেলাগুলোতে অনুষ্ঠিত লীগে বিভিন্ন দলে খেলার কারণেই ওই সমস্ত ক্রিকেটার নিজ জেলা ছাড়াও বিভিন্ন জেলায় খেলার সুযোগ পেয়েছেন। প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ থেকেই নতুন নতুন ক্রিকেটার তৈরি হচ্ছে। সারা বাংলাদেশের বিভাগীয় শহরসহ বিভিন্ন জেলাতে প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ নিয়মিত আয়োজন করা হয়। কিন্তু চাঁদপুর জেলা শহর এর ব্যতিক্রম। চাঁদপুর স্টেডিয়ামটি ফুটবল কিংবা ক্রিকেট খেলার উপযোগী একটি মাঠ। এতো সুন্দর মাঠ থাকলেও বিভিন্ন কারণে মাঝে মাঝে খেলা শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজন করা ওই খেলাগুলো শেষ হয়েও হয় না। এ রকম ঘটনা চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার জন্যে নতুন কিছু নয়।



ইদানীং চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত ওই ক্লাবগুলোর বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা গেছে যে, জেলা ক্রীড়া সংস্থায় অন্তর্ভুক্তির সুযোগ-সুবিধা পাওয়া ক্লাবগুলো আউটডোর থেকে ইনডোর খেলা নিয়েই বেশি ব্যস্ত। এ রকম কয়েকটি ক্লাবে যদি জেলা ক্রীড়া সংস্থার দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও সুধীজনরা আকস্মিক অভিযান চালান তাহলে গিয়ে দেখতে পাবেন যে, কিছু সদস্য বিকেলের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইনডোরে ঠান্ডা বাতাসের মধ্যে বসে নিজেকে অনেক বড়মানের মানুষ হিসেবে ভাব করে খেলা খেলছেন।



চাঁদপুরের অনেক ক্রিকেটার বিশেষ করে উদীয়মান ক্রিকেটারদের করুণ কান্নার কারণে হয়তো জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট উপ-কমিটির নতুন কর্মকর্তারা এবার সাহস করে প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগটি শুরু করেছেন। এ লীগটি শুরু হওয়ার পর থেকে শহরের ক্রীড়ামোদী দর্শকরা বলতে থাকেন, জেলা শহরে অনেক দিন পর উদীয়মান ক্রিকেটারদের নিয়ে খেলা শুরু হলো। কিন্তু বাণিজ্যিক নগরী পুরাণবাজারের কোনো ক্লাবই অংশ নেয়নি। মূলত প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগের খেলার মাধ্যমেই একজন ক্রিকেটার তার ক্যারিয়ারের অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে। পুরাণবাজারের বেশ ক'টি এলাকায় স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া অনেক ক্রিকেটার রয়েছেন। জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত ওই ক্লাবগুলো খেলাতে অংশ না নেয়ায় অনেক ক্রিকেটারই প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে খেলার সুযোগ পেলো না। অথচ এ সমস্ত উদীয়মান খেলোয়াড়কে নিয়মিত খেলাধুলা করানোর জন্যেই ক্লাবগুলোকে জেলা ক্রীড়া সংস্থা স্টেডিয়ামের গ্যালারীর নিচে বড় বড় দোকান এবং আউটার স্টেডিয়ামের সামনে অরুন নন্দী সুইমিংপুলে যাওয়ার রাস্তাটি দখল করে জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্মিত মার্কেটে নিচতলা ও দোতালায় দোকান বরাদ্দ দিয়েছেন। আবার জেলা ক্রীড়া সংস্থা ক্লাবগুলোর উন্নয়নের কথা চিন্তা করে অরুণ নন্দীর গেইট লাগোয়া মার্কেটের ৩য় তলা ও ৪র্থ তলায় রেস্তোরাঁর জন্যে ভাড়াও দিয়ে দিয়েছেন। ইতিমধ্যে শহরের ১০ নম্বর ঘাট এলাকার চিহ্নিত জুয়াড়ী ব্যবসায়ী আইয়ুব ও লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের জুয়াড়ী হোটেল শেরাটনের কর্ণধার জুয়াড়ী বাবুল তাদের লোকজনদেরকে জানান দিচ্ছেন, অচিরেই নদীর পাড় লাগোয়া পূর্ব শ্রীরামদী ক্লাবে ওয়ানটেন চালু করবে। অথচ এ ক্লাবটিসহ পুরাণবাজারের ক্লাবগুলোর সামনে বড় বড় মাঠ থাকলেও নিয়মিত তাদের আউটডোরের খেলা হতে দেখা যায় না। তবে ইনডোরের খেলা হয় নিয়মিত। ওই সমস্ত অংশ না নেয়া ক্লাবগুলোর কর্মকর্তাদের চলমান প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগের খেলাগুলোতে দর্শক হিসেবেও তেমন দেখা যায় নি।



চাঁদপুর স্টেডিয়ামে প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগের প্রথম রাউন্ডের খেলা চলাকালীন জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত ক্লাব ভাই ভাই স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও ক্রীড়া সংগঠক মোঃ মিজানুর রহমান খান বাদলের সাথে মুঠোফোনে ক্রিকেট লীগে অংশ নেয়ার বিষয় তুলে ধরলে তিনি জেলা ক্রীড়া সংস্থার বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজকদের ওপর প্রথমেই ক্ষোভ ঝাড়েন। তার মূল কথা হলো, আপনি যে লীগে অংশ নিয়েছি কিনা জানতে চাইলেন, আমরা তো ভাই ভাই ক্লাব মূলত ফুটবল লীগেই অংশগ্রহণ করি। আর জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজন করা লীগে অংশগ্রহণ করলেই লাভ কী? আপনি জেনে রাখেন, আমাদের স্থানীয় এমপির বাবা শ্রদ্ধেয় ভাষাবীর এম এ ওয়াদুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট-এর পক্ষ থেকে ফুটবল খেলার আয়োজন করা হলেও এর পুরস্কার বিতরণ এখনও করতে পারেনি জেলা ক্রীড়া সংস্থা কর্তৃপক্ষ। আর এবার ক্রিকেট লীগে লটারীর মাধ্যমে ক্রিকেটার ভাগ করে দিয়েছে, এতেও অনেক ক্লাব অংশগ্রহণ করেনি। 'আপনারা এখন কি ইনডোর নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে আউটডোরের খেলার প্রতি মনোযোগ হারিয়ে ফেলেছেন' এই প্রশ্নটা অনেকটা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, না আমরা ফুটবলের পর ব্যাডমিন্টনে অংশ নিয়েছি। কিন্তু এই খেলার পুরস্কার কবে পাবো তাও বলতে পারি না। এমন যদি চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার অবস্থা হয় তাহলে কী করে ক্লাবগুলো খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করবে ? তবে প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগের ব্যাপারে জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে আমাদের ক্লাবকে চিঠি দিয়েছে।



পশ্চিম শ্রীরামদী ক্লাবের সভাপতি ও চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও ক্রীড়া সংগঠক সুভাষ চন্দ্র রায়ের সাথে মুঠোফোনে প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে অংশ নেয়া সম্বন্ধে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে আমি খেলার শুরুতেই দেশে ছিলাম না। দেশে থাকলে হয়তো প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে অংশগ্রহণ করাতে পারতাম। আমরা অনেক সময়ই জেলা ক্রীড়া সংস্থার অনেক চিঠিপত্র ঠিকমতো পাই না। এমনকি খেলার উদ্বোধন ও ফাইনাল হবে যেদিন ওইদিনই দেখা যায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার পিয়ন চিঠিপত্র এনে দিয়ে যায়। সমন্বয়ের অভাবের কারণেই জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে অনেক কিছুই ঠিকমতো পাওয়া যায় না।



পূর্ব শ্রীরামদী ক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ক্রিকেটার নজরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা এর আগে ক্রিকেটে অংশ নিয়েছি। কিন্তু এবার আমাদের খেলোয়াড় না থাকার কারণে আমরা এতে অংশগ্রহণ করতে পারিনি। এছাড়া বেশ কয়েক বছর ধরে ক্রিকেট না হওয়ার কারণে স্থানীয় খেলোয়াড়ও খুঁজে পাওয়া যায় না। আর খেলাধুলা করতে হলেও তো অনেক টাকা পয়সার প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের এখন টাকা পয়সারও সমস্যা আছে। 'আচ্ছা আপনারা তো এখন আউটডোর বাদ দিয়ে ইনডোর নিয়েই তো ব্যাস্ত বেশি' এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ইনডোর খেলি খুবই কম। আর ওই টাকাতো বেশি হয় না। জেলা ক্রীড়া সংস্থা যদি নিয়মিত ক্রিকেট খেলার আয়োজন করতো তাহলে হয়তো এ ধরনের লীগে অনেক দলই অংশগ্রহণ করতো বলে আমার মনে হয়।



নিতাইগঞ্জ ক্রীড়া চক্রের সভাপতি ও ক্রীড়া সংগঠক বোরহান খানের সাথে মুঠোফোনে লীগে অংশ নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগের বিষয়ে আমাদের নিতাইগঞ্জ ক্রীড়া চক্রকে জানানো হয়নি। এছাড়া আপনি যে কোনো জেলাতেই খোঁজ নিলে জানতে পারবেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত ক্লাবগুলোর সদস্যদেরকে নিয়েই জেলা ক্রীড়া সংস্থার মূল কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু জেলা ক্রীড়া সংস্থা আমাদের নিতাইগঞ্জ ক্রীড়া চক্রের কোনো সদস্যকেই জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান কার্যকরী কমিটিতে রাখে নি। তাহলে আমরা কিভাবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজন করা টুর্নামেন্ট কিংবা লীগে অংশগ্রহণ করবো ? জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে খেলাধুলার আয়োজন করা হলেও আমাদেরকে ঠিকমতো কোনো চিঠিপত্র দেয়া হয় না। 'আপনারা তো ক্লাবের সদস্য নয় এমন লোকদের নিয়ে ইনডোরে ব্যস্ত থাকেন, তাই আউটডোরের খেলায় আপনাদের অংশ নেই' এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের কোনো আউট সদস্য নেই এবং আউটডোর খেলা আমাদের ক্লাবে খুবই কম হয়।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৭৫৯২৪
পুরোন সংখ্যা