চাঁদপুর, বুধবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২০ ভাদ্র ১৪২৬, ৪ মহররম ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৫-সূরা রাহ্মান


৭৮ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৬৬। উভয় উদ্যানে আছে উচ্ছলিত দুই প্রস্রবণ।


৬৭। সুতরাং তোমরা উভয়ে তোমাদের প্রতিপালকের কোন্ অনুগ্রহ অস্বীকার করিবে?


৬৮। সেথায় রহিয়াছে ফলমূল -খর্জুর ও আনার।


 


 


 


assets/data_files/web

বাণিজ্যই হলো বিভিন্ন জাতির সাম্য সংস্থাপক। -গ্লাডস্টোন।


 


 


যখন কোনো দলের ইমামতি কর, তখন তাদের নামাজকে সহজ কর।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ক্রীড়াকণ্ঠের সাথে জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটার মাহমুদুল হাসান জয়
উদীয়মান খেলোয়াড়দের অনুশীলন চলাকালে স্যারদের কথাগুলো ও নিয়ম মেনে চলতে হবে
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সারা মাঠের চারপাশেই দেখা যাচ্ছে একই একাডেমির ড্রেস পরে বিভিন্ন বয়সের ক্রিকেটাররা ভিন্ন ভিন্নভাবে অনুশীলন করছেন। আর মাঠের একপাশে চাঁদপুর ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমির বোলাররা বল করে যাচ্ছেন আর নিজে নিজে নেটে অনুশীলন করছেন। এর মধ্যে বোলিংয়ে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন বোলার বল করে যাচ্ছেন আপন গতিতে। কোনো বোলার ডান হাতে এবং কোনো বোলার বাম হাতে পেস এবং স্পিনিং বল করে যাচ্ছেন। মাঠের একপাশে দাঁড়িয়ে থেকে দেখা যাচ্ছে যে, সে দীর্ঘক্ষণ ধরে ব্যাটিং করছেন। যতোক্ষণ নেটে ছিলেন ততোক্ষণ খুব মনোযোগ সহকারে ব্যাটিং অনুশীলন করতে দেখা গেছে। তিনি হলেন চাঁদপুর ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমির সাবেক ছাত্র ও বতর্মানে জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার মাহমুদল হাসান জয়। তার বাবার নাম আঃ বারেক ও মায়ের নাম হাছিনা আক্তার। বাবা চাকুরি করেন চাঁদপুর শহরের নূতনবাজার পূবালী ব্যাংকের ক্যাশ ইনচার্জ হিসেবে। ৩ ভাই, ১ বোনের পরিবার। বড়ভাই রাশেদুল হাসান জুমন এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য করেন। ছোট ভাই জিয়াউল হাসান তার নিজ এলাকা রামপুর দাখিল মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন। একমাত্র বোন ফারজানা আক্তার শুভার বিয়ে হয়েছে। তার পড়াশোনা শুরু হয় রামপুর বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে এবং ওই বিদ্যালয় থেকেই পঞ্চম শ্রেণি শেষ করেন। রামপুর মাজিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হন। এরপর ঢাকার বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার পর ওইখান থেকেই এসএসসি পাস করেন এবং বর্তমানে ঢাকার বিকেএসপি কলেজের ২য় বর্ষে পড়াশোনা করছেন। তিনি ডান হাতে ব্যাটিং করেন। সস্প্রতি তিনি ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসেন এবং নিজ একাডেমি ও নিজের প্রিয় কোচ শামিম ফারুকীর কাছে চলে আসেন। একাডেমিতে আসার পর শুরু করেন অনুশীলন। এ সময় তার সাথে বাড়ি থেকে আসেন তার বড় ভাই, ছোট ভাই এবং চাচাতো ভাইয়েরা। এর ফাঁকে ক্রীড়াকণ্ঠের পক্ষ থেকে তার খেলোয়াড়ি জীবনসহ বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে অংশগ্রহণ ও তার স্বপ্ন নিয়ে এ প্রতিবেদকের আলাপ-আলোচনা হয়। আলাপকালে ধারণকৃত মাহমুদুল হাসান জয়ের কথাগুলো তুলে ধরা হলো পাঠকদের কাছে।



ক্রীড়াকণ্ঠ : কেমন আছেন? ঈদ কীভাবে কাটলো।



মাহমুদুল হাসান জয় : জ্বি ভাইয়া, ভালো আছি। তো এবার ঈদ ভালোভাবে কাটিয়েছি। বাবা-মা, ভাই-ভাবী ও আত্মীয়স্বজনসহ সকলকে নিয়েই ঈদ কাটিয়েছি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : খেলাধুলার সাথে কীভাবে জড়িয়ে পড়লেন?



মাহমুদুল হাসান জয় : আমি সপ্তম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় আমার বড় ভাইয়া আমাকে আউটার স্টেডিয়াম সংলগ্ন চাঁদপুর ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেন। তখন আমরা চাঁদপুরে ভাড়া বাসায় থাকতাম। এছাড়া এর আগে টেপটেনিস খেলতাম। ভাইয়া আমাকে নিজে নিয়ে এসে ভর্তি করিয়ে দেন। আমার প্রিয় স্যার ও ক্রিকেট খেলার অভিভাবক শ্রদ্ধেয় শামিম সা্যরের মাধ্যমে এ একাডেমিতে নিয়মিতভাবে ২ বছর অনুশীলন করি। এভাবেই খেলাধুলার সাথে জড়িয়ে পড়ি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : বিকেএসপিতে কীভাবে সুযোগ পান?



মাহমুদুল হাসান জয় : আসলে বিকেএসপিতে সুযোগ পাওয়া এবং ভর্তি হওয়া সত্যিই বড় ভাগ্যের ব্যাপার। আমি যখন ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমিতে অনুশীলন করি তখন জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেখি যে, অনূর্ধ্ব-১৪ ক্রিকেট দলে খেলোয়াড় বাছাই করবে বিকেএসপি। আমি প্রথমবার বাছাই কার্যক্রম থেকে বাদ পড়ে যাই। এরপর ২০১৪ সালে আবার ঢাকায় ১ দিনের বাছাই কার্যক্রমে অংশ নেই শামিম স্যারের কারণে। ওই সময় আমাকে আমরা বড় ভাইয়া ঢাকায় নিয়ে যান। আল্লাহর রহমতে আমি ওই বছর বাছাই কার্যক্রমে সুযোগ পেয়ে যাই। তখনকার বাছাই কার্যক্রমে আমাদের বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন মন্টু দত্ত, আসাদুল্লাহ হক, টুটুল, হাসান মাসুদ, আখি নূরুজ্জামান রুশু স্যাররা। বিভাগীয় পর্যায়ের বাছাইতে প্রথমে ৩৫০০ জন ক্রিকেটার বাছাই করে। এরপর আবার বাছাই কার্যক্রমের জন্যে ৪৫ জনকে বাছাই করা হয়। আমি সেই বাছাইতে উত্তীর্ণ হই । এই ৪৫ জনকে নিয়ে বিকেএসপিতে সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার জন্যে ২৪ জন ক্রিকেটারকে বাছাই করা হয় এবং তাদেরকে বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ দেন। আমি আল্লাহর রহমতে এবং সকলের দোয়ায় বিকেএসপিতে ভর্তি হই। আমি ২০১৪ সালে বিকেএসপিতে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হই। তারপর থেকে আমার প্রাণের প্রতিষ্ঠান প্রিয় প্রতিষ্ঠান বিকেএসপিতে রয়েছি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার পর?



মাহমুদুল হাসান জয় : ক্লাস সেভেনে পড়া অবস্থায় আমি বিকেএসপির হয়ে জামালপুরে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৪ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নেই। ওই প্রতিযোগিতায় ৬টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই। এই খেলা অবস্থায়ই আমি জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৫ ক্রিকেট দলে খেলার সুযোগ পাই। এরপর ২৪ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে বিকেএসপিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কোচ আমাদেরকে অনুশীলন করান। ২০১৫ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিকেএসপি হয়ে অনূর্ধ্ব-১৬ বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রিকেটে অংশ নিই। আমাদের খেলার ভেন্যু ছিলো কঙ্বাজারে। আমি সব ম্যাচ খেলার সুযোগ পাই। বিভাগীয় খেলায় আমি রাজশাহীর সাথে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ হিসেবে নির্বাচিত হই। ওই বিভাগীয় ক্রিকেটে আমাদের বিকেএসপি দলটি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।



ক্রীড়াকণ্ঠ : জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ ক্রিকেট দলে সুযোগ হয় কীভাবে? কোন্ দেশের সাথে খেলেছেন?



মাহমুদুল হাসান জয় : আমি তো আগেই বললাম যে কঙ্বাজার ভেন্যুতে বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রিকেট খেলায় অংশ নেই। ওই সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের বেশ ক'জন নির্বাচক ওই খেলা দেখতে গিয়েছিলেন। আমি ওই সময়ে তাদের বাছাইতে সুযোগ পাই। সারা বাংলাদেশ থেকে ১০ বিভাগের ৪৫ জন ক্রিকেটার বাছাই করা হয়। ২০১৬-২০১৭ সালে তখন বিসিবির তত্ত্বাবধানে বিকেএসপিতে বিসিবির কোচ আঃ করিম জুয়েল স্যারের ১মাসের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে আমরা ৪৫ জন অংশ নেই। সেখান থেকে ২ সপ্তাহের প্রশিক্ষণের জন্যে ২৪ জন বাছাই করা হয়। এরপর ২৪ জন থেকে ১৮ জনের স্কোয়াড করা হয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৭ ক্রিকেট দলের জন্যে। এরপর আমাদের সেই দল ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ ক্রিকেট দলের বিপক্ষে কঙ্বাজার ভেন্যুতে খেলি। আমি বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচগুলোতে খেলার সুযোগ পাই। আমি ৪ ম্যাচের মধ্যে ২টিতে হাফ সেঞ্চুরি করি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেট দলে খেলেছেন?



মাহমুদুল হাসান জয় : আমি বিকেএসপিতে দশম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় অনূর্ধ্ব-১৮তে খেলার সুযোগ পাই। বিকেএসপির অনূর্ধ্ব-১৮ দলের হয়ে রংপুর শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে খেলি। ওই সময় খুলনা, চট্টগ্রাম ও বরিশালের সাথে বিকেএসপির হয়ে খেলি এবং চট্টগ্রামের সাথে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হই। চারদিনের ম্যাচে ১টি সেঞ্চুরিও করি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলে কীভাবে সুযোগ মিলে? কোন্ কোন্ দেশের সাথে খেলেছেন?



মাহমুদুল হাসান জয় : রংপুরে বিভাগীয় ১৮তে ভালো করার কারণে আমার সুযোগ মিলে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলে। তখন বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় এহসানুল হক সিজান, হাসিবুল হাসান শান্ত, সাজ্জাদ হোসেন শিপন ও হান্নান সরকার। ১০টি বিভাগ থেকে আবারো ৪৫ জন ক্রিকেটার বাছাই করা হয়। খুলনা শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ২১ দিনের ট্রায়াল হয়। ওই ট্রায়াল থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ২৪ জনকে নির্বাচন করে। এরপর ক্রিকেট বোর্ড জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দলের জন্যে ১৫ জনের দল ঘোষণা করে। আমি ২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে খেলার সুযোগ পাই। চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ওই টুর্নামেন্টে স্বাগতিক দেশ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, হংকং ও নেপাল দল অংশগ্রহণ করে। বাংলাদেশ প্রথম পর্যায়ে পাকিস্তান, ভারত ও হংকংয়ের সাথে খেলে সেমি-ফাইনালে উঠে। আমরা সেমি-ফাইনালে গিয়ে ভারতের সাথে ২ রানে হেরে যাই। এ টুর্নামেন্টে ৩ ম্যাচের মধ্যে ২টি ম্যাচ খেলি। প্রথমটিতে ৩২ ও দ্বিতীয়টিতে ২৫ রান করি।



২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশ দল শ্রীলঙ্কা সফর করে। আমরা দ্বি-পাক্ষিক সিরিজে অংশ নেই। আমরা ২টি টেস্ট খেলি এবং ১-১ ভাবে ড্র হয়। ৩টি ওয়ানডে খেলায়ও আমি অংশ নেই।



ক্রীড়াকণ্ঠ : ২০১৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত কোন্ কোন্ দেশের বিপক্ষে ও কোথায় কোথায় খেলায় অংশ নেন?



মাহমুদুল হাসান জয় : ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কঙ্বাজার শেখ কামাল স্টেডিয়ামে ও চট্টগ্রাম জহুর আমেদ স্টেডিয়ামে ইংলান্ড ১৯ ক্রিকেট দলের সাথে খেলায় অংশ নিই। ১টি টি-২০, ২টি টেস্ট ও ৩টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলা হয়। এতে আমরা ইংল্যান্ড দলকে হোয়াইটওয়াশ করি। আমি টি-২০তে কঙ্বাজার স্টেডিয়ামে ৪৪ ও ৩টি ওয়ানডের প্রথমটিতে ৩৩, দ্বিতীয়টিতে অপরাজিত ৫৮ ও শেষ ম্যাচে ৫৭ রান করি। আর ২টি টেস্টের মধ্যে প্রথমটি খেলতে পারিনি এসএসসি পরীক্ষার কারণে। ঢাকা সাভার ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের হয়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেই।



ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনি টেস্টে ইংল্যান্ড দলের সাথে কত করেছেন?



মাহমুদুল হাসান জয় : আমি ইংল্যান্ডের সাথে ২য় টেস্টে ২১৮ বলে ১১৪ রান করি। যাতে ১৩টি চার ছিলো। আমি ওই টেস্টে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হই।



ক্রীড়াকণ্ঠ : ত্রিদেশীয় সিরিজে কোন্ কোন্ দেশের সাথে খেলেন এবং আপনার অবস্থান কী?



মাহমুদুল হাসান জয় : ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ ১৯ ক্রিকেট দলের প্রতিপক্ষ ছিলো ভারত ও ইংল্যান্ড। ভারত চ্যাম্পিয়ন হয় এবং রানারআপ হয় বাংলাদেশ। ৭টি ম্যাচে আমি অংশগ্রহণ করি। এর মধ্যে আমি ৭ ম্যাচে ৩০৫ রান করি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : ত্রি-দেশীয় সিরিজে আপনি কোন্ দলের সাথে সেঞ্চুরি করেছেন?



মাহমুদুল হাসান জয় : আমি ত্রি-দেশীয় সিরিজে ভারতের সাথে ফাইনালে ১০০ রান করি। আমাদের দেশের ঈদুল আজহার আগের দিন এই খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়। অবশ্য ইংল্যান্ডে তখন ঈদের দিন ছিলো। আমরা ম্যাচটা হেরে যাই মাত্র ২ রানে।



ক্রীড়াকণ্ঠ : শ্রীলঙ্কা সফর নিয়ে কি অনুশীলনে অংশ নিচ্ছেন?



মাহমুদুল হাসান জয় : হ্যাঁ আমি ২৪ আগস্ট থেকে আমাদের ক্যাম্পে যোগ দিচ্ছি। নাভিদ নেওয়াজ স্যারের মাধ্যমে আমাদের এ অনুশীলন চলছে।



ক্রীড়াকণ্ঠ : বাংলাদেশ দল কবে যাচ্ছে এশিয়া কাপে?



মাহমুদুল হাসান জয় : আমরা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রওনা দেবো। এই টুর্নামেন্টে এশিয়ার ৮টি দল অংশগ্রহণ করবে। আমার বিশ্বাস এশিয়া কাপে আমি সকলের দোয়া নিয়ে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবো।



ক্রীড়াকণ্ঠ : ভারতের সাথে সেঞ্চুরি করার অনুভূতি কী?



মাহমুদুল হাসান জয় : আমি সবসময়ই ওয়ানডাউনে খেলতে নামি। আমি যখন ব্যাটিং করতে নামি তখন বাংলাদেশ দল অর্থাৎ আমাদের দলের রানের সংখ্যা ছিলো ৫৮ রানে ১ উইকেট। আমার টার্গেট ছিলো যে আমি প্রথম বলটা খেলবো। এরপরের টার্গেট ২য় বল খেলা। এরপর সিঙ্গেল সিঙ্গেল খেলতে খেলতে ৪০ রান করি। এই রান করার পর আমি টার্গেট করি ৫০ রান করার জন্যে। আমি ৭৭ বলে ৫০ রান করি। এরপর সব বল খেলার চেষ্টা করি। এ সময় মিডল অর্ডারের ৩জন আউট হয়ে গেলে আমার উপর দায়িত্ব পড়ে। তখন আমার লক্ষ্য ছিলো শেষ পর্যন্ত খেলা। চেষ্টা করি নিজের জন্যে এবং দলের জন্যে কিছু করার। ৪৯ ওভার শেষে দলের রান ছিলো ২৪৭ ও ৮ উইকেট। আমার ছিলো ব্যক্তিগত ৯৫ রান। ৪৯ ওভারে ১ বলে নো রান, ২য় বলে ভারতের বোলারের বলটিকে লংঅনে মেরে সেঞ্চুরি করি। আমি ওই বলটিতে ছক্কা মারি। ৪৯ ওভারের ৩ বলে চার, এর পরেরটি ২ রান করি। ৪৯ ওভার ৫ বলে ২ রান করতে গিয়ে দলের আরেকটি উইকেট পড়ে যায় এবং শেষ বলে আমি ২ রান নিতে গিয়ে রান আউট হয়ে যাই। দলের সংগ্রহ তখন ২৬১ ও আমার রানের সংখ্যা ১০৯ রান।



ক্রীড়াকণ্ঠ : আপনার প্রথম কোচ কে এবং তার সাথে যোগাযোগ রয়েছে তো?



মাহমুদুল হাসান জয় : আমার জীবনের প্রথম কোচ চাঁদপুরের শামিম ফারুকী স্যার। যখন যেখানে খেলতে যাই স্যার আমাকে অনেক উৎসাহ দেন। আমি সবসময়ই তার সাথে যোগাযোগ রাখি। আমি যেখানে খেলতে যাই ম্যাচের আগের দিন স্যারের সাথে কথা বলি। ভালো কিছু করলেই স্যার আমাকে অভিনন্দন জানান। স্যারের প্রতি আমার সবসময় কৃতজ্ঞতা থাকবে।



ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুর জেলা ক্রিকেট দলের হয়ে কখনো খেলেছেন?



মাহমুদুল হাসান জয় : আমি ২০১৭ সালে জেলা ক্রিকেট দলের হয়ে পিরোজপুর খেলতে যাই। ৩টি ম্যাচের মধ্যে আমরা ১টি ম্যাচে জয় পাই। এর মধ্যে ১টি ম্যাচ বৃষ্টির জন্যে পরিত্যক্ত হয়। ওইসময় আমাদের দল নোয়াখালী ও নড়াইলের সাথে অংশ নেয়।



ক্রীড়াকণ্ঠ : প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ?



মাহমুদুল হাসান জয় : আমি বিকেএসপির হয়ে ২০১৭-১৮ সালে প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে অংশ নেই। ওইখানে আমি ও শামিম অংশ নেই। ২০১৮-২০১৯ মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগে বিকেএসপির হয়ে খেলি। আমি ৭টি ম্যাচের মধ্যে ৬টিতে খেলি। ফতুল্লা স্টেডিয়ামে ৬৭ রান করে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ এবং গাজী গ্রুপের সাথে ৮৫ রান করি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : ঢাকায় কাদের সহযোগিতা পেয়ে থাকেন?



মাহমুদুল হাসান জয় : আমি হাসিবুল হাসান শান্ত, মন্টু দত্ত, টুটুল, রুপু, ডিয়ার ও লিমন স্যারদের অনেক সহযোগিতা পেয়ে থাকি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুরের উদীয়মান খেলোয়াড় ও জেলাবাসীর কাছে প্রত্যাশা?



মাহমুদুল হাসান জয় : আমি প্রথমে উদীয়মান খেলোয়াড়দের বলবো, অনুশীলন চলাকালে স্যারদের কথাগুলো নিয়ম মেনে চলতে হবে। তারা যদি অনুশীলন চলাকালে স্যারদের কথা না শুনে অন্যদিকে মনোযোগ দেয়, তাহলে তারা কিছুই শিখতে পারবে না। মনে রাখতে হবে, যখন যা কিছু করতে হবে সবকিছুই মনোযোগ সহকারে করতে হবে।



আমি চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জের ছেলে। আমি জেলাবাসীর কাছে এই দোয়া প্রত্যাশা করবো, আমি যেনো আমার খেলার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারি। আমার মূল লক্ষ্য জাতীয় দলের হয়ে খেলায় অংশ নেয়া। এজন্যে আমি জেলাবাসীসহ সকলের কাছে দোয়া চাই। আমি জাতীয় ক্রিকেট দলে সুযোগ পেলে এবং খেলার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে আমার জন্মভূমি চাঁদপুরকে সকলেই চিনবে।



ক্রীড়াকণ্ঠ : সময় দেয়ার জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ?



মাহমুদুল হাসান জয় : জ্বি আপনাকে ও চাঁদপুর কণ্ঠকে ধন্যবাদ। আর আমি যদি আপনার সাথে কথা বলার সময় কোনো কিছু ভুল বলে থাকি বা ভুল করি এজন্যে দুঃখ প্রকাশ করছি। আর আমি সকলের কাছেই দোয়া ও ভালোবাসা আশা করি।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১২৮১৯৮
পুরোন সংখ্যা