চাঁদপুর, বুধবার ২ অক্টোবর ২০১৯, ১৭ আশ্বনি ১৪২৬, ২ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৬ সূরা-ওয়াকি 'আঃ


৯৬ আয়াত, ৩ রুকু', মক্কী


 


৪১। আর বাম দিকের দল, কত হতভাগ্য বাম দিকের দল!


৪২। উহারা থাকিবে অত্যুষ্ণ বায়ু ও উত্তপ্ত পানিতে,


৪৩। কৃষ্ণবর্ণ ধূম্রের ছায়ায়,


৪৪। যাহা শীতল নয়, আরামদায়কও নয়।


 


 


মহৎ কারণে যার মৃত্যু ঘটে সে অপরাজেয়। -বার্জিল।


 


 


 


 


সদর দরজা দিয়ে যে বেহেশ্তে যেতে চায়, সে তার পিতামাতাকে সন্তুষ্ট করুক।


 


 


ফটো গ্যালারি
ক্রিকেটের পর ফুটবলেও জেলা চ্যাম্পিয়ন গণি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়
ক্রীড়া কণ্ঠ প্রতিবেদক
০২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ক্রীড়া ও সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমে ঈর্ষণীয় ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে চাঁদপুর সদরস্থ শতবর্ষী বিদ্যাপীঠ গণি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। চলতি বছরের শুরুতে শীতকালীন আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় ইভেন্ট ক্রিকেটে জেলা চ্যাম্পিয়ন হয় প্রতিষ্ঠানটি। চ্যাম্পিয়ন হয়ে চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি হয়ে কুমিল্লা উপ-অঞ্চলে অংশ নেয় গণি স্কুল ক্রিকেট একাদশ। একই বছর সেপ্টেম্বরে সদ্য সমাপ্ত হওয়া ৪৮তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় ইভেন্ট ফুটবলেও জেলা চ্যাম্পিয়ন হয় প্রতিষ্ঠানটি। আন্তঃস্কুল টুর্নামেন্টভিত্তক দু'টি প্রতিযোগিতার সবচেয়ে বড় ইভেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে স্কুলটি জেলাবাসীকে জানান দিলো তাদের ক্রীড়া সক্ষমতার কথা।



গত ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয় চাঁদপুর সদরস্থ উপজেলা ভিত্তিক ৪৮তম স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ গ্রীষ্মকালীন আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্ট। এ বছর ফুটবলে সদর উপজেলা থেকে মোট ৩২ দল অংশ নেয়। প্রথম পর্বে গণি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় হামানকর্দ্দী পল্লী মঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয়কে টাইব্রেকারে হারিয়ে সুপার সিঙ্টিন নিশ্চিত করে। এ দিন ইঞ্জুরির কারনে মাত্র নয় জন খেলোয়াড় নিয়ে মাঠে নামে গণি স্কুল।



পরদিন চাঁদপুর আউটার স্টেডিয়ামে সুপার সিঙ্টিন রাউন্ডে মুখোমুখী হয় কামরাঙ্গীচর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাথে। ম্যাচ রেফারী ছিলেন, চাঁদপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নিয়মিত রেফারি মাসুদুর রহমান মাসুম। এ দিন ২-০ গোলে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে গণি মডেল স্কুল।



স্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক নাজির আহমেদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ও সহকারি শিক্ষক রাসেল হাসানের উদ্দীপনায় ৯ সেপ্টেম্বর বিকাল ৩টায় কোয়ার্টার ফাইনালে চাঁদপুর আল-আমিন একাডেমিকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ হয় গণি স্কুল ফুটবল একাদশ।



পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় প্রতিপক্ষ ছোট সুন্দর এআলী উচ্চ বিদ্যালয়। পাসিং ফুটবল আর শক্তিমত্তায় এ বছর প্রথম থেকেই আলোচিত ছিলো গণি স্কুল ফুটবল টিম ও ছোট সুন্দর এআলী ফুটবল টিম। সেমিফাইনালে শক্তিশালী দু'টি দল মুখোমুখী হলে কিছুটা চিন্তার ছাপ পড়ে উভয় দলের খেলোয়াড়দের কপালে। মাঠে দু'দলই লড়ে সমানে সমান। খেলার প্রথমার্ধে দু'দলই আক্রমন পাল্টা আক্রমনের মধ্য দিয়ে ম্যাচটিকে প্রাণবন্ত করে তুললেও কোন দলই গোলের দেখা পায়নি। দ্বিতীয়ার্ধও ছিলো গোল শূন্য। যার ফলে সরাসরি টাইব্রেকারে চলে যান ম্যাচ রেফারী। টাইব্রেকারেও দু'দলের মধ্যে ছিলো সমান শক্তি প্রদর্শন। প্রথমে ৫জন করে শুটারকে শুট নেবার সুযোগ দিলেও প্রথম চেষ্টায় ৪-৪ গোলে ড্র হয় ম্যাচ। পরবর্তীতে ম্যাচ রেফারি আবারো ১জন করে শুট নিতে আমন্ত্রন জানান ম্যাচ রেফারি। সেখানেও ১-১ গোলে ড্র হয় ম্যাচ। রেফারি পূনরায় ১-১ শুট দেবার জন্য ১জন করে খেলোয়াড়কে আমন্ত্রন জানান। সেই শুটে গণি স্কুল ১-০ ব্যবধানে জয় লাভ করে। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে স্বপ্নের ফাইনালে গণি মডেল স্কুল। জয়টি যে মোটেই সহজ ছিলো না তা দলপ্রধান সাকিব হোসেনের কান্না দেখেই উপলব্ধি করেছে উপস্থিত দর্শক।



১১ সেপ্টেম্বর বিকাল তিনটায় উপজেলা ফাইনাল আয়োজন। প্রতিপক্ষ বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয়। যথাসময়ে যাচাই-বাছাই শেষে মাঠে নামলো দু'দল। খেলার উদ্বোধন করলেন চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা। উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, বাবুরহাট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন, গণি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্বাস উদ্দিনসহ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।



টানটান উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে প্রথমার্ধে গোল পায়নি কোন দল। দ্বিতীয়ার্ধে গণি মডেল স্কুল গোল পেলেও পার্শ্ব রেফারির সিদ্ধান্তে অফসাইড আইনে বাতিল হয়ে যায় গোলটি। তারপর যতবারই আক্রমন হয় তাতে শুধুই উত্তেজনা বেড়েছে সমর্থকদের কিন্তু সোনার হরিণ গোলের দেখা পায়নি কোনো দল। অবশেষে আবারো টাইব্রেকারের বাঁধা! টাইব্রেকার মানেই যে ভাগ্য পরীক্ষা তা জানা আছে উভয় দলের। তাই স্তব্ধ চাঁদপুর আউটার স্টেডিয়াম! উভয় দলের শত শত সমর্থকরা তন্ময় হয়ে তাকিয়ে আছে। শেষ পর্যন্ত ভাগ্যের পরীক্ষা আর কৌশলী শুটে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পায় গণি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। পুরো আউটার স্টেডিয়াম 'গণি মডেল' শ্লোগানে মুখরিত হয়ে পড়ে। স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক তাজুল ইসলাম, ক্রীড়া শিক্ষক নাজির আহমেদ, সহকারি শিক্ষক রাসেল হাসান, মাকসুদুর রহমান ও সাইফুল ইসলাম সহ উল্লাস করে স্কুলের শিক্ষার্থীরা। দিন শেষে উপজেলা চ্যাম্পিয়নের ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয় স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ক্রীড়া শিক্ষকসহ খেলোয়াড়দের হাতে।



উপজেলা চ্যাম্পিয়ন হয়ে আন্তঃউপজেলা প্রতিযোগিতায় ১৪ তারিখের জন্য চলে প্রাথমিক প্রস্তুতি। ১৪ তারিখ সকাল ১০টায় গণি স্কুল চাঁদপুর সদর উপজেলা প্রতিনিধি হয়ে মুখোমুখী হয় হাইমচর উপজেলার সাথে। জেলা ভিত্তিক সুপার এইট পর্বে হাইমচরকে ২-০ গোলে হারিয়ে সহজ জয় পায় গণি স্কুল ফুটবল দল। উত্তীর্ণ হয় সেমিফাইনালে।



১৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় সেমিফাইনালে মতলব উত্তর উপজেলার সাথে খেলে গণি স্কুল। এই ম্যাচের প্রথমার্ধ্ব মতলবের নিয়ন্ত্রণে বল থাকলেও গোল শূন্য ড্র হয় প্রথমার্ধ্ব। দ্বিতীয়াধর্ে্ব কয়েক মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল দিয়ে দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায় গণি স্কুলের স্ট্রাইকার সাহেদ হাওলাদার। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে আরও একটি গোল দিয়ে ৩-০ গোল ব্যবধানে জয় পায় গণি স্কুল।



১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় জেলা ভিত্তিক ফাইনাল ম্যাচ। প্রতিপক্ষ ফরিদগঞ্জ উপজেলা। এ উপজেলার হয়ে মাঠে নামেন চান্দ্রা ইমাম আলী উচ্চ বিদ্যালয়। বিকাল ৩টায় চাঁদপুর আউটার স্টেডিয়ামে ফাইনাল খেলার বিভিন্ন ইভেন্টের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ মাজেদুর রহমান খান। নারীদের ফুটবল শেষে বিকাল সাড়ে ৩টায় মাঠে নামে চাঁদপুর ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা ফুটবল দল। ম্যাচটি উদ্বোধন করেন ভূমি মন্ত্রনালয়ের সচিব মাকসুদুর রহমান পাটওয়ারী।



ফরিদগঞ্জ ও চাঁদপুর দু'টি দলই যে শক্তিশালী তা সমর্থকরা খেলায় প্রমান পেয়েছে দু'দলের খেলার মাধ্যমে। আক্রমন পাল্টা আক্রমনের মধ্য দিয়ে আকর্ষণীয় একটি ম্যাচ উপভোগ করেছে দু'দলের সমর্থকরা। শেষ পর্যন্ত গোল শূন্য ম্যাচ ড্র হওয়ায় আবারো টাইব্রেকারে গড়ায় ম্যাচটি। ম্যাচ রেফারি মাসুদুর রহমান মাসুম যথা নিয়মে টাইব্রেকার শুরু করেন। এবার আর কঠিন বাধা নয়। প্রতিপক্ষ ফরিদগঞ্জ দু'টি শুট গোলে পরিণত করতে ব্যর্থ হওয়ায় ৪-২ গোলে সহজ জয় পেয়ে চাঁদপুর উপজেলা চ্যাম্পিয়ন হয় চাঁদপুর সদর উপজেলার গণি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়।



পুরো মাঠ জুড়ে দীর্ঘসময় ধরে চলতে থাকে আনন্দ মিছিল। বিজয়ীদের ভূমি মন্ত্রনালয়ের সচিব মাকসুদুর রহমান পাটওয়ারী মাঠে নেমে অভিনন্দন জানান। অবশেষে এ বছরের জন্য ফুটবলে জেলা চ্যাম্পিয়ন হয় গণি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। একই বছর ক্রিকেটের পর ফুটবলেও সে ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে স্কুলটি।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
১৪৬২৯৬
পুরোন সংখ্যা