চাঁদপুর, মঙ্গলবার ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ সফর ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৬ সূরা-ওয়াকি'আঃ


৯৬ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৮৩। পরন্তু কেন নয়-প্রাণ যখন কণ্ঠাগত হয়


৮৪। এবং তখন তোমরা তাকাইয়া থাক


৮৫। আর আমি তোমাদের অপেক্ষা তাহার নিকটতর, কিন্তু তোমরা দেখিতে পাও না।


 


 


 


হিংসা একটা দরজা বন্ধ করে অন্য দুটো খোলে।


-স্যামুয়েল পালমার।


 


 


নামাজ বেহেশতের চাবি এবং অজু নামাজের চাবি।


 


 


ফটো গ্যালারি
ক্রীড়াকণ্ঠের সাথে আলাপকালে উদীয়মান ফুটবলার আশিকুর রহমান
আশা করি এবার আমি ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে ঢাকাতে খেলবো
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


দেখতে অনেকটা ফুটবলারদের মতোই দেখা যায়। একজন ফুটবলারের যেমন বডি ও লম্বা হওয়া প্রয়োজন সবকিছুই তার মধ্যে রয়েছে। তার উচ্চতা ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি। ফুটবল খেলায় তার পজিশন মূল স্টপার (রক্ষণভাগ)। খেলাধুলার ক্ষেত্রে বাবা এবং মায়ের অনেক উৎসাহ রয়েছে। বাড়ির পাশেই আউটার স্টেডিয়াম এবং এর পরেই চাঁদপুর স্টেডিয়াম। এর সুবাদে খেলাধুলা করতে তার তেমন কোনো অসুবিধায় পড়তে হয় না। প্রাইমারি স্কুল জীবন শেষ করার আগেই সাবেক জাতীয় ফুটবলার ও ফুটবল কোচ ইউছুফ বকাউলের হাতে খড়িতে তার ফুটবল খেলা শুরু হয়। চলতি বছরও ঢাকা স্টেডিয়ামে অনূর্ধ্ব-১৮ বি লীগে ব্রাদার্স ইউনিয়নের পক্ষ হয়ে সংগঠনের কর্মকর্তাসহ ক্রীড়ামোদী দর্শকদের নিজের সেরা খেলাটা উপহার দিয়েছেন। তার দল ব্রাদার্স ইউনিয়ন বি লীগের কোয়ার্টার ফাইনালে হেরে গেলেও তার দলের কোচ, সিনিয়র কর্মকর্তারা ও ব্রাদার্স ইউনিয়নের মূল কোচ তাকে বলে দিয়েছেন প্রস্তুত হতে ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে খেলার জন্যে। আর সেই ফুটবলারটি হলো চাঁদপুর শহরের স্টেডিয়াম রোডস্থ মাদ্রাসা রোডের আশিকুর রহমান আশিক । তার বাবার নাম রফিকুল আলম। বাবা ব্যবসার পাশাপাশি ছেলের খেলাধুলার জন্যে সবসময়ই খোঁজ-খবর রাখেন। আশিক ২ বোনের ১ ভাই। সে বর্তমানে পড়াশোনা করছে শহরের তালতলাস্থ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রেসিডিন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের প্রথম বর্ষে। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত ফুটবল খেলায় তিনি অনুশীলন করে যাচ্ছে। প্রাইমারি স্কুল জীবন থেকে খেলাধুলা শুরু করে আন্তঃস্কুল, জেলা দলের হয়ে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়া জেলা স্টেডিয়ামে ক্লাব কাপ, ঢাকায় পাইওনিয়ার ফুটবল লীগ, ঢাকার ২য় বিভাগ ফুটবল লীগসহ বিভিন্ন স্থানে ফুটবল খেলেছেন। সম্প্রতি এ প্রতিবেদকের সাথে ফুটবলার আশিকের আলাপকালে ধারণকৃত তার বক্তব্যগুলো পাঠকদের কাছে তুলে ধরা হলো।



ক্রীড়াকণ্ঠ : আস্সালামুআলাইকুম, কেমন আছো?



আশিকুর রহমান আশিক : জ্বি ওয়ালাইকুম আস্সালাম। জ্বি আপনার দোয়ায় ভালোই আছি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : খেলাধুলা শুরু হয় কবে থেকে?



আশিকুর রহমান আশিক : জ্বি, আমি পঞ্চম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় এলাকার বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা শুরু করি। তখন দেখি আউটার স্টেডিয়ামে ও চাঁদপুর স্টেডিয়ামে ফুটবল কোচ ইউছুফ আংকেল ফুটবলারদের অনুশীলন করান। আমি তখন ইউসুফ আংকেলের সাথে যোগাযোগ করে ফুটবল অনুশীলন শুরু করি। আমি এখন পর্যন্ত চাঁদপুর কিশোর ফুটবল একাডেমীর মাধ্যমে তার তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করে যাচ্ছি এবং বিভিন্ন স্থানে কোচের মাধ্যমেই ফুটবল খেলায় অংশ নিচ্ছি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : আন্তঃসু্কল ফুটবল টুর্নামেন্টে কি অংশ নিয়েছিলে?



আশিকুর রহমান আশিক : হ্যাঁ আমি এ পর্যন্ত চাঁদপুর স্টেডিয়ামে প্রায় ৩ বছর আন্তঃস্কুুল ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলেছি। আমি ক্লাস সেভেন থেকেই চাঁদপুর গণি মডেল হাইস্কুলের পক্ষ থেকে আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলি। আমি খেলা অবস্থায় গণি মডেল স্কুল আন্তঃস্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টে একবার রানারআপ হয়েছে।



ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুর জেলা দলের বয়সভিত্তিক দলে খেলেছো?



আশিকুর রহমান আশিক : হ্যাঁ, আমি চাঁদপুর অনূর্ধ্ব-১৪, ১৬ ও ১৮ দলের হয়ে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বেশ কয়েকটি ম্যাচে খেলেছি। আমি যে ক'টি ম্যাচই খেলেছি প্রতিটি খেলাই মূল দলের হয়ে খেলি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুরের কোন্ কোন্ ক্লাবে খেলেছো?



আশিকুর রহমান আশিক : আমি চাঁদপুর স্টেডিয়ামে ক্লাব কাপ ফুটবলে চাঁদপুর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ২ বছর ও ভাই ভাই স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ১ বছর খেলি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুর জেলার মূল দলের হয়ে খেলেছো?



আশিকুর রহমান আশিক : হ্যাঁ আমি চাঁদপুর জেলা ফুটবল দলের হয়ে ফেণীতে বিভাগীয় কমিশনার কাপ ফুটবল খেলাতে অংশগ্রহণ করি। এছাড়া মূল দলের হয়ে চাঁদপুর মাঠে নিয়মিত অনুশীলনেও অংশ নিয়েছি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : ঢাকা পাইওনিয়ার ফুটবল লীগে?



আশিকুর রহমান আশিক : আমি গত বছর ঢাকা পাইওনিয়ার ফুটবল লীগে চাঁদপুর কিশোর ফুটবল একাডেমীর হয়ে ১১টি ম্যাচে অংশ নিয়েছি। আমরা ওই লীগে শুরু থেকেই ভালো খেলে ঢাকার ক্রীড়ামোদী দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছিলাম। কোয়ার্টার ফাইনালে লীগ পরিচালনাকারী কমিটির কর্মকর্তাদের ভুলের কারণে আমাদের দল ওই লীগ থেকে ছিটকে পড়ে।



ক্রীড়াকণ্ঠ : ঢাকাতে কোন্ ক্লাবের হয়ে কোন্ কোন্ লীগে খেলেছো?



আশিকুর রহমান আশিক : আমি ২য় বিভাগ ফুটবলে খিলগাঁও ক্লাবের হয়ে খেলি। অনূর্ধ্ব-১৮ বয়সভিত্তিক ফুটবলের বি লীগে ঢাকার রহমতগঞ্জ ক্লাবে খেলি। এবার ব্রাদার্স ইউনিয়নের হয়ে মুক্তিযোদ্ধা, চট্টগ্রাম আবাহনী ও বসুন্ধরার সাথে খেলি। আমাদের দল কোয়ার্টার ফাইনালে বসুন্ধরার সাথে হেরে যায়।



ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুর স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু ফুটবল টুর্নামেন্টে খেলেছো?



আশিকুর রহমান আশিক : আমি গত বছর চাঁদপুর পৌরসভার হয়ে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবলে অংশ নেই। আমি চাঁদপুর পৌরসভার অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করি এবং আমাদের দল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এ বছরও আমি ১ অক্টোরব চাঁদপুর স্টেডিয়ামে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে চাঁদপুর পৌরসভার বালক দলের হয়ে মাঠে খেলেছি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : ফুটবলে আপনার এখন লক্ষ্য কী?



আশিকুর রহমান আশিক : আমি যেহেতু ফুটবলটাকেই ভালোবেসে ফেলেছি, আমার মূল লক্ষ্য এখন ভালো ফুটবলার হওয়ার। আমি আশা করছি এবার ফুটবলে ব্রাদার্স ইউনিয়নের মূল দলের হয়ে ঢাকার মাঠে খেলবো। আর ফুটবল খেলার মাধ্যমেই আমি জাতীয় ফুটবল দলে সুযোগ পেতে চাই।



ক্রীড়াকণ্ঠ : চাঁদপুরের ফুটবল খেলোয়াড়দের জন্য কী প্রয়োজন বেশি?



আশিকুর রহমান আশিক : আমার মতে চাঁদপুরের ফুটবল খেলা ও ফুটবল খেলোয়াড়দের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন দীর্ঘ মেয়াদী প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। যেভাবে চাঁদপুর কিশোর ফুটবল একাডেমী ব্যক্তিগতভাবে খুদে ও উদীয়মান ফুটবলারদের অনুশীলন করাচ্ছে সেইভাবে যদি জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে নিয়মিত ফুটবলের অনুশীলন ও জেলা লীগ এবং ক্লাব কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করে তাহলে অনেক খেলোয়াড়ই সৃষ্টি হবে। আর খেলাধুলার ক্ষেত্রে বিশেষ করে ফুটবল খেলা নিয়মিত চালানো হয় তাহলে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া অনেক খেলোয়াড়ই খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করবে।



ক্রীড়াকণ্ঠ : তোমাকে ধন্যবাদ?



আশিকুর রহমান আশিক : আপনাকে জানাই ধন্যবাদ এবং আমি আপনাদের পত্রিকাটির মাধ্যমে সকলের কাছে দোয়া চাই আমি যেনো ফুটবল খেলায় ভালো খেলাধুলা করতে পারি এবং এ জেলার সুনাম অর্জন করতে পারি।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০৬২৬৪
পুরোন সংখ্যা