চাঁদপুর, বুধবার ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ২৮ কার্তিক ১৪২৬, ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৭-সূরা হাদীদ


২৯ আয়াত, ৪ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


২৭। অতঃপর আমি তাহাদের পশ্চাতে অনুগামী করিয়াছিলাম আমার রাসূলগণকে এবং অনুগামী করিয়াছিলাম মারইয়াম তনয় ঈসাকে, আর তাহাকে দিয়াছিলাম ইঞ্জীল এবং তাহার অনুসারীদের অন্তরে দিয়াছিলাম করুণা ও দয়া। আর সন্নাসবাদ-ইহা তো উহারা নিজেরাই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য প্রত্যাবর্তন করিয়াছিল। আমি উহাদের ইহার বিধান দেই নাই; অথচ ইহাও উহারা যথাযথভাবে পালন করে নাই। উহাদের মধ্যে যাহারা ঈমান আনিয়াছিল, উহাদিগকে আমি দিয়াছিলাম পুরস্কার এবং উহাদের অধিকাংশই সত্যত্যাগী।


 


 


অপ্রয়োজনে প্রকৃতি কিছুই সৃষ্টি করে না। -শংকর।


 


 


কবর এবং গোসলখানা ব্যতীত সমগ্র দুনিয়াই নামাজের স্থান।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
মুুক্তিযোদ্ধা ক্লাবেই আগামী মাস থেকে চলতে পারে ওয়ানটেনসহ কাটাকাটি
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
১৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


চাঁদপুর শহরের প্রাণকেন্দ্রেই অবস্থান চাঁদপুর মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্রের। এই ক্লাবটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত একটি ক্লাব। কিন্তু জেলা ক্রীড়া সংস্থার নামে এ ক্লাবটি হলেও তারা নিয়মিতভাবে জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজিত অনেক টুর্নামেন্টেই অংশ নেন না। আবার কোন কোন টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও দেখা গেছে যে তাদের যেদিন খেলা থাকে সেই দিন তারা মাঠে অংশ নেয়া দলের খেলোয়াড় নিয়ে মাঠে উপস্থিত না থেকে প্রতিপক্ষ দলকে ওয়াকওভার দিয়ে দেন। কিন্তু এ ক্লাবটি জেলা ক্রীড়া সংস্থার অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার সুবিধাগুলো ভোগ করছেন। অথচ তারা শুধু জেলা ক্রীড়া সংস্থার আয়োজনে ২য় বিভাগ ক্রিকেট লীগ ছাড়া অন্য কোনো ক্রীড়া ইভেন্টে অংশ নিয়েছে কিনা তা জানা যায়নি। আর এ ক্লাবকে পুঁজি করে গুটি কয়েকজন উপদেষ্টা ও ক্লাবের কার্যকরী কমিটির নেতারা শহরের মধ্যেই জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকাসহ উপজেলার নামকরা জুয়াড়িদের নিয়ে বেশ ক'বছর (জুয়া খেলার) ওয়ানটেন, কাটাকাটিসহ বিভিন্ন ধরনের জুয়া চালিয়ে গেছেন। আর শহরের নামকরা জুয়াখেলা পরিচালনাকারী চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের বাসিন্দা ও শহরের শেরাটন হোটেলের মালিকানা দাবিকারী জুয়াড়ি বাবুল অনেকটা উত্তেজিতভাবে বলেন যে আগামী মাস থেকে আমরা মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের মাধ্যমে আবারো ওয়ানটেন ও কাটাকাটি খেলাসহ জুয়ার আয়োজন করবো। অবশ্যই এই জুয়াখেলা পরিচালনাকারী শহরের নামকরা স্ট্রান্ডরোড নিবাসী জুয়াড়ি আইউব, পুরাণবাজারের এক সময়ের চোরাকারবারী সেলিম, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের যুবলীগ নামধারী জাটকা মাছ ব্যবসায়ী সফিক এবং একই ইউনিয়নের বাসিন্দা বিএনপির বিপুল মিলেই শহরের বিভিন্ন স্থানে এই জুয়া খেলার আয়োজন করে থাকে এবং খেলা আয়োজন করার আগে যেই ক্লাব কিংবা স্থানের নাম বলে সেখানে তারা অবশ্যই খেলার আয়োজন করে থাকে। গত কয়েকমাস আগে চাঁদপুর কণ্ঠের ক্রীড়াকণ্ঠের পাতায় ছাপানো হয়েছিলো যে সহসাই শহরের পুরানবাজারের পূর্ব শ্রীরামদী ক্লাবে হবে। এ সংবাদের এমন ধরনের কিছু লেখা নিয়ে তখন এ প্রতিবেদকের সাথে অনেক খারাপ আচরণ করেছিলেন। অবশ্যই সংবাদ প্রকাশ হওয়ার কয়েকদিন পর থেকেই শহরের জুয়া পরিচালনাকরী সেই জুয়াড়িরা ক্লাবটিতে ঠিকই খেলা চালিয়েছেন। বতর্মানে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হলেই পূর্ব শ্রীরামদী ক্লাবের খেলা বন্ধ হয়ে যায়। জুয়াড়ি এ ক্লাবে খেলার আয়োজনের জন্য ক্লাবের পাশের একটি রুমও ভাড়া নেয়। জুয়াড়িদের তথ্যমতে জানা গেছে এজন পূর্ব শ্রীরামদী ক্লাবের পদবীধারী কর্মকর্তাদেরকে দেড়লক্ষ টাকা অগ্রিম দিয়েছিলেন। আর মাসিক টাকা সহ ক্লাবের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদেরকেও প্রতিদিন মাসোহারা হিসেব করে টাকা দিতেন। এ খেলায় অংশ নেয়ার জন্য মাঝে মাঝে দেখা যেতো বিভিন্ন উপজেলার জুয়াড়িদেরকে নিয়ে ক্লাবের একটি রুমের নিচে বসেই কাটাকাটি ও ওয়ানটেন খেলা হতো। আর সেই খেলা পরিচালনাকারী একজনই হচ্ছেন জুয়াড়ি বাবুল। তিনি গত সপ্তাহে এ ক্রীড়া প্রতিবেদকে শহরের কোর্ট স্টেশন এলাকায় অনেকটা উচ্চস্বরেই বলতে থাকেন যে আমরা আগামীতে শহরের মুক্তিযোদ্ধা ক্রীড়া চক্রের মাধ্যমে অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ৩য় ও ৪র্থ তলায় খেলার আয়োজন করবো।



চাঁদপুর শহরের বিভিন্ন বয়সী মানুষের সাথে আলাপ করে জানা গেছে যে শহরের মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবে জনৈক জসিম ৮ বছর বিভিন্ন উপজেলার জুয়াড়িদের নিয়ে খেলা চালিয়েছেন। এরপর আইউব, বাবুল, সফিক, পুরাণবাজার মেরকাটিজ রোড এলাকায় সেলিমরা প্রায় ৪ বছর এ ক্লাবের নামেই খেলা চালিয়ে গেছেন। তারাই আবার চেষ্টা করছেন জুয়া খেলা আয়োজন করার জন্য। আরো জানা যায়, এই ক্লাবে গত কয়েক মাস আগে জেলার গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় শহরের পালবাজার এলাকার নামকরা এক জুয়াড়ি ডিবি পুলিশের উপস্থিতির কথা শুনে চারতলা থেকে লাফ দেয়। এ সময় তিনি মারাত্মক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। এছাড়া খেলায় অংশগ্রহণকারী বেশ কয়েক'জন জুয়াড়িকে আটক করে আদালতে পাঠায়। অবশ্য তারা নাকি আদালত থেকে ছাড়া পাওয়ার পর পুনরায় বেশ কয়েকমাস নিয়মিতভাবে জুয়া খেলায় অংশ নিয়েছেন। স্থানীয় লোকজনদের সাথে আলাপ করে আরো জানা গেছে অনেক মুক্তিযোদ্ধাগণ নাকি এই জুয়ার টাকার ভাগ পেতেন। খেলা চলাকালীন নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের কয়েকজন কর্মকর্তা জুয়াখেলা পরিচালনাকারীদের কাছে থেকে আগে মাসে যেই পরিমাণ টাকা পেতেন তার চেয়েও বেশি টাকা দাবি করার কারণে অনেকটা ঝসড়রা মাধ্যমেই জুয়া খেলা পরিচালনাকারীরা খেলার আয়োজন বন্ধ করে রাখে। শহরের নতুনবাজার কিংবা পুরাণবাজারের কয়েকটি ক্লাবের সভাপতিসহ ক্লাব প্রতিষ্ঠাদের সাথে আলাপ করে কোন ব্যবস্থা করতে না পেরে পুনরায় তারা জমজমাট জুয়া খেলার আয়োজন করার জন্য জুয়া পরিচালনাকারীদের এবং জুয়াড়িদের প্রিয় ক্লাব মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবকেই বেছে নিয়েছে।



চাঁদপুর শহরের মুক্তিযোদ্ধা ক্লাব ছাড়াও শহরের তালতলার এলাকার একটি চতুর্থতলার ভবন সহ বেশ কয়েকটি স্থানে নাকি এখনও শহরের ভিভিআইপিরা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারগণ সেখানে নিয়মিতভাবে আসা-যাওয়াসহ জুয়া খেলায় অংশ নিচ্ছেন।



জেলার স্থানীয় জনসাধারণসহ ক্রীড়ামোদীরা এ বিষয়ে স্থানীয় সাংসদ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করছেন। আর এ সমস্ত জুয়া খেলা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৬৯৬৪২
পুরোন সংখ্যা