চাঁদপুর, বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬, ১ রজব ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে হোম কোয়ারেন্টাইনে ২৪২ জন, আইসোলেশনে থাকার রোগী করোনা আক্রান্ত কিনা জানা যাবে আজ রাতে
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৪-সূরা তাগাবুন


১৮ আয়াত, ২ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১৫। তোমাদের সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি তো পরীক্ষা বিশেষ; আর আল্লাহ, তাঁহারই নিকট রহিয়াছে মহাপুরস্কার।


১৬। তোমরা আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় কর, এবং শোন, আনুগত্য কর ও ব্যয় কর তোমাদের নিজেদেরই কল্যাণের জন্য; যাহারা অন্তরের কার্পণ্য হইতে মুক্ত তাহারাই সফল কাম।


 


 


 


সাহসহীন কোনো ব্যক্তিই সাফল্য অর্জন করতে পারে না।


-কাও ন্যাল গিবন।


 


 


 


 


 


নিরপেক্ষ লোকের দোয়া সহজে কবুল হয়।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ক্রীড়াকণ্ঠের সাথে আলাপকালে ক্রিকেটার মেহেদী হাসান রানা
জাতীয় দলের হয়ে জিম্বাবুয়ের সাথে টি-টুয়েন্টি ম্যাচে খেলতে চাই
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মাত্র অল্প কয়েকদিন আগেই বিপিএলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জারের হয়ে খেলা শেষ করেন। বাঁ হাতি এ পেসার এরপর কিছু দিন চিকিৎসকদের পরামর্শে বিশ্রামে ছিলেন। গত সপ্তাহে তিনি চাঁদপুরে আসলে তার প্রিয় একাডেমী ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমীর পক্ষ থেকে তাকে লঞ্চঘাটে সংবর্ধনা দেয়া হয়। শুক্রবার বিকেলে এ প্রতিবেদকের সাথে তার খেলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়। তিনি বলেন, যেহেতু আমি টি-টুয়েন্টিতে বিপিএলে সকলের দোয়ায় ভালো খেলেছি, এখন আমার লক্ষ্য বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে জিম্বাবুয়ের সাথে টি-টুয়েন্টি ম্যাচে খেলা। আশা করি যদি দলের হয়ে জিম্বাবুয়ের সাথে খেলতে নামতে পারি তাহলে ভালো কিছু করতে পারবো। এভাবে দলের হয়ে দেশের জন্যে ভালো কিছু করতে পারবো।



মেহেদী হাসান রানা চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলায় ১ জানুয়ারি ১৯৯৭ তারিখে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের একজন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার তিনি। তাদের বাড়ি কচুয়ার করইশ এলাকায় ৮নং ওয়ার্ডের মৃধা বাড়ি। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে, ২০১৬ সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপের স্কোয়াডে সুযোগ হয়েছিলো তার। ২০১৭ সালের ৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ প্রতিযোগিতায় কুমিল্লার হয়ে টি-টুয়েন্টিতে তার অভিষেক ঘটে। ২০১৮ সালে প্রিমিয়ার ক্রিকেট লীগ ও সিলেট সিঙ্ার্সের স্কোয়াডে ছিলেন। ২০১৯ সালে এসিসি ইমার্জিং দল এশিয়া কাপের জন্য বাংলাদেশ স্কোয়ার্ডে মনোনীত করা হয়। একই মাসে পরবর্তীতে তাকে ২০১৯ সালে সাউথ এশিয়ান গেমস-এর ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ স্কোয়াডে মনোনীত করা হয়। বাংলাদেশ দল উক্ত খেলার ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭ উইকেটে পরাজিত করে স্বর্ণপদক জয়লাভ করে। ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯-২০ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে সিলেট থান্ডারের বিপরীতে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স-এর হয়ে খেলে ৪ ওভারে ২৩ রানের বিনিময়ে ৪টি উইকেট লাভ করে ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন।



কচুয়া উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুর হকের ছেলে রানা। তাঁর বাবা সেনাবাহনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। দু'ভাই ও দুবোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। বর্তমানে তারা ঢাকার উত্তরায় বসবাস করেন। চাঁদপুর স্টেডিয়ামে তিনি এক সময় কচুয়ার হয়ে ফুটবলও খেলেছেন। আর স্কুল-ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন।



রানা কচুয়া থেকে ৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সপ্তাহে ৩-৪ দিন চাঁদপুর ক্রিকেট একাডেমিতে এসে অনুশীলন শুরু করেন কিশোর বয়সেই। তিনি আলাপকালে বলেন, ছোটবেলা থেকেই পেস বোলিংয়ের প্রতি আমার বিশেষ দুর্বলতা ছিল। ওই দুর্বলতাই আমাকে উৎসাহ যুগিয়েছে ক্রিকেটার হয়ে উঠতে। ক্রিকেটে মূলত অনূর্ধ্ব-১৬ দিয়ে আমার শুরু । এর আগেও খেলেছি। তবে এটাকে শুরু বলাই ভালো। মাঝখানে অবশ্য ভালো বোলিং হচ্ছিলো না, এ কারণে অনূর্ধ্ব-১৭ দলে ডাক পাইনি। তখন থেকে বাড়তি পরিশ্রম করেছি। যার ফল দ্রুতই পেয়েছি। জাতীয় দলের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৮ দলে সুযোগ পেলাম। এখানে ভালো খেলেই আবার ডাক পেলাম অনূর্ধ্ব-১৯ দলে। অবশ্য তার আগে পেস বোলিং ফাউন্ডেশন। প্রায়ই আমি সহ আমার সাথের অনেকেই মাশরাফি ভাইয়ের কথা আমরা মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনেছি। তিনি বারবার বলেছেন, চাপমুক্ত হয়ে খেলার কথা। এছাড়া আগের ম্যাচের ভালো পারফরম্যান্স ভুলে প্রত্যেকটি ম্যাচকে নতুনভাবে দেখতে বলেছেন তিনি। তার প্রত্যেকটা কথাই অনুপ্রেরণা যোগায়। মাশরাফি ভাই, আসলে কী বলবো, আসলেই উনি সবদিক থেকেই একজন হিরের টুকরো। ক্রিকেটের ক্ষেত্রে বলেন কিংবা ক্রিকেটের বাইরের লাইফস্টাইলের কথা বলেন, সব দিকেই উনি পারফেক্ট। আমি অনেক গর্ব করি যে, আমি উনার অধীনে একটি ম্যাচ খেলতে পেরেছি। আমি আল্লাহর কাছে এটা চাইবো যে, আমি যেন ন্যাশনাল টিমেও একটা ম্যাচ তাঁর অধীনে খেলতে পারি। তারপরও বিসিবি একাদশে খেলার কারণে তাঁকে আমি অনেকটা সামনে থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। আসলেই আমরা মাঠে যখন খেলতে নামি, কোনো ভাইয়া কোনো প্রেশার তৈরি করতে দেন না। তাছাড়া একটা বল যখন বাউন্ডারি হয়, তখন এসে ভালোভাবে বুঝিয়ে দেন যে, 'এই বলটা করিস্ না, ব্যাটস্ম্যান এই বলটা খুব ভালো খেলে'। আসলে এইগুলো অনেক ইন্সপায়ারিং একটা বোলারের জন্যে।



মেহেদীর সাথে একসময়ে যারা চাঁদপুরে খেলেছেন এমন কয়েকজন ক্রিকেটার এ প্রতিবেদককে জানান, মেহেদী ভাই বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা, ভারতসহ অনেক স্থানেই খেলেছেন। ঢাকাতে শেখ জামাল ক্লাব ও লিজেন্ড অব রূপগঞ্জের মতো ক্লাবের হয়ে খেলেছেন। জাতীয় দল ও বর্তমানে ক্রিকেট বিশ্বের বিস্ময় কাটার মাস্টার মুস্তাফিজের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রানা। মুস্তাফিজসহ মিরাজ, সাইফুদ্দিনদের সাথে খেলেছেন অনূর্ধ্ব ১৯ পর্যায়ে। গত কয়েক বছর দেশ-বিদেশে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাতাচ্ছেন এই তারকারা। তাই তো সতীর্থরাই এখন অনুপ্রেরণার নাম মেহেদী হাসান রানার কাছে। চাঁদপুরে রয়েছেন তার প্রিয় কোচ শামিম ফারুকী।



বিপিএলে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন দেশের অনেক খ্যাতিমান তারকা ক্রিকেটাররা খেলছেন। শুরুতে মেহেদীকে তেমন কোনো দল নেয়নি। তবে তার লক্ষ্য ছিলো, যদি ভালো দল পায় তাহলে তিনি ভালো কিছু করবেন। শেষে তাকে দলে ভিড়ায় চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। এ ক্ষেত্রে মাহমুহউল্লাহ রিয়াদ ও ইমরুল কায়েসের অবদান ছিলো বেশি। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি মেহেদীকে। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স দলটিও তার ওপর আস্থা রেখেছিলো। তাদের এই আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন। তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন তিনবার।



মেহেদী হাসান রানার সম্পর্কে তাঁর প্রিয় কোচ শামিম ফারুকী বলেন, মেহেদীর এমন পারফরমেন্সে আমি খুব খুশি। ওর সাথে আমার নিয়মিত কথা হয়। খেলার আগে এবং খেলার পর ও আমাকে কল দেয়। আমি ওকে একটা কথাই বলি যে, যখন খেলা চলে তখন সকল কিছু বাদ দিয়ে খেলার প্রতি মনোযোগী হওয়ার জন্যে। আর মাঠে বোলিং করতে নামলে লক্ষ্য রাখতে যে, প্রতিটি বলই তাকে ভালো মতো করতে হবে। রান চেক দিয়ে দলের জয়সহ উইকেটও নিতে হবে। তবে আমি বিশ্বাস করি, ও যেভাবে বিপিএলে বোলিং করে যাচ্ছে, আশা করি টি-২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে তাকে খেলতে দেখবো। এজন্যে আমি রানার জন্যে সকলের নিকট দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করি।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৬৬২২২
পুরোন সংখ্যা