চাঁদপুর, বুধবার ১ জুলাই ২০২০, ১৭ আষাঢ় ১৪২৭, ৯ জিলকদ ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৭১-সূরা নূহ্


২৮ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


৫। সে বলিয়াছিল, হে আমার প্রতিপালক! আমি তো আমার সম্প্রদায়কে দিবারাত্রি আহ্বান করিয়াছি,


৬। 'কিন্তু আমার আহ্বান উহাদের পলায়ন প্রবণতাই বৃদ্ধি করিয়াছে।


 


 


 


 


 


 


 


 


ধনীদের ধন সম্পদ হচ্ছে তাদের স্বাস্থ্যের সবচেয়ে বড় শত্রু।


-জর্জ ওয়েট স্টোন।


 


 


 


 


যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞ নয়, সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ নয়।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ক্রীড়াকণ্ঠের সাথে আলাপকালে ক্রিকেটার নাইমুর রহমান
আমার এখন স্বপ্ন হচ্ছে জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে মাঠে খেলা
চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম
০১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


নিজের স্বপ্ন ছিলো একজন ক্রিকেটার হওয়া। ছোটকাল থেকেই সেই স্বপ্নকে পুঁজি করে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন নিজ গতিতে। নিজ জেলা শহর বলতে ইলিশের নগরী চাঁদপুরকেই সকলের কাছে পরিচয় দেন। আর উপজেলার ছেলে হিসেবে সহজেই বলে ফেলেন আমার উপজেলা হলো চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়ন। বাংলাদেশ জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট দলের ২০২২ সালের খেলোয়াড় হিসেবে দলে রয়েছেন। একজন ক্রিকেটার হিসেবে নিজের জেলা থেকে এখনও ক্রিকেট খেলার সুযোগ না পেলেও কিংবা নিজের জন্মস্থান সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে সহযোগিতা না পেলেও ঢাকার মাঠে শক্তিশালী শেখ জামাল ক্রিকেট দলের হয়ে খেলছেন। তিনি খেলেছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৭ ও ১৮ ক্রিকেট দলে। এর মধ্যে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৮ ক্রিকেট দলের হয়ে অধিনায়কের দায়িত্বও পালন করেছেন। একজন অলরাউন্ডার হিসেবে সিনিয়র ক্রিকেটারদের কাছে রয়েছে তার ব্যাপক পরিচিতি। বর্তমানে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট দলে নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে খেলছেন। ব্যাটসম্যান হিসেবে অনূর্ধ্ব ১৭ ক্রিকেট দলের হয়ে বেশ কয়েকটি সেঞ্চুরীও করেছেন। আর হাফ সেঞ্চুরী হিসেবে অনেক মাঠেই করেছেন বেশ কয়েকটি হাফ সেঞ্চুরী। অনেক দিন ধরে মাঠে খেলা নেই। তাই ছুটি পেয়ে বর্তমানে নিজ বাসস্থান হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলাতেই আছেন। আর এই ক্রিকেটারটি হচ্ছেন নাইমুর রহমান (নাঈম)। তার বাবার নাম মোঃ মিজানুর রহমান। বর্তমানে তিনি বাহারাইন আছেন। ২ ভাই ও বোনের মধ্যে তিনি হচ্ছেন সবার বড়। তাদের বাড়ি হচ্ছে আমাদের চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনির নিজ এলাকায়। নাইমের ইউনিয়ন হচ্ছে রামপুর ইউনিয়ন। তাদের বাড়িকে কামরাঙ্গা হাওলাদার বাড়ি নামেই সবাই চিনে। তার পড়াশোনা শুরু হয় কামরাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে। এরপর তিনি কামরাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে পাস করে ভর্তি হন ঢাকার মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। বর্তমানে সেখানেই তিনি অধ্যয়নরত আছেন। তার ক্রিকেট নিয়ে অনেক স্বপ্ন। অবশ্য এ ব্যাপারে তার প্রবাসী বাবাসহ মায়ের রয়েছে সমর্থন ও দোয়া। ছুটিতে আসা এই ক্রিকেটারের সাথে ক্রীড়া কণ্ঠের এ প্রতিবেদকের আলাপ-আলোচনাকালে তিনি তুলে ধরেন ক্রিকেটীয় স্বপ্নসহ খেলাধুলার বিভিন্ন বিষয়। ক্রীড়ামোদী পাঠকদের জন্য তার তুলে ধরা বক্তব্যগুলো নিম্নে পত্রস্থ করা হলো।



ক্রীড়াকণ্ঠ : কেমন আছো?



নাইমুর রহমান : জ্বি ভালো আছি। বর্তমান এই সময়টুকুতে সারা বিশ্বে যে মহামারি করোনাভাইরাসে মানুষ আক্রান্ত হয়ে রয়েছেন, আল্লাহতায়ালা যেনো এ ভাইরাস থেকে সবাইকে ভালো রাখেন।



ক্রীড়াকণ্ঠ : ক্রিকেট খেলা শুরু হয় কোন্ ক্লাসে পড়া অবস্থায়?



নাইমুর রহমান : আমি নবম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায়ই ক্রিকেট খেলার সাথে জড়িয়ে পড়ি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : কার মাধ্যমে ক্রিকেটে আসা?



নাইমুর রহমান : কারো মাধ্যমেই নয়। নিজের ইচ্ছেতেই। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিলো ক্রিকেটার হওয়া।



ক্রীড়াকণ্ঠ : কোন্ একাডেমী থেকে ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হয়?



নাইমুর রহমান : ঢাকার শেখ জামাল ক্রিকেট একাডেমী থেকে।



ক্রীড়াকণ্ঠ : ক্রিকেট জীবনে প্রথম কোচ কে?



নাইমুর রহমান : শেখ জামালের ক্রিকেট কোচ নবীন স্যার।



ক্রীড়াকণ্ঠ : কতদিন ধরে বাড়িতে আছো?



নাইমুর রহমান : আমি মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে বাড়িতে আছি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : করোনা ভাইরাসের এ বন্ধের সময়ে বাড়িতে কী করা হয়?



নাইমুর রহমান : তেমন কিছু না। তবে বাড়িতে বসে পড়ালেখা ও ফিটনেস নিয়ে কাজ করছি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : বাড়িতে তো মনে হয় অনেকদিন আছো। ঢাকার ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তা কিংবা তোমার সাথের খেলোয়াড়দের সাথে যোগাযোগ হয়নি?



নাইমুর রহমান : হ্যাঁ সবার সাথেই যোগাযোগ হয়। তবে এই যোগাযোগ হয় দুই/একদিন পরপর হয়। সিনিয়ররা খেলার ব্যাপার সহ বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন।



ক্রীড়াকণ্ঠ : ফিটনেস ধরে রাখার জন্য করোনার এই সময়ে বাড়িতে কী ভাবে অনুশীলন করা হয়?



নাইমুর রহমান : আমাদের ফিটনেস কোচ 'রিচাড স্টোনিয়ার ' ভাই। তিনি প্রতিদিন আমাদেরকে ইনস্টাগ্রাম লাইভের মাধ্যমে ফিটনেসের কাজ করাচ্ছেন। আর তাছাড়া নিজেই অনুশীলন করি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : মাঠে খেলাধুলার পরিবেশ ফিরে আসলে কী করবে?



নাইমুর রহমান : নিজের স্কিলগুলোকে আরও উন্নত করবো এবং স্কিলগুলো নিয়ে কাজ করবো।



ক্রীড়াকণ্ঠ : করোনা শেষে বিসিবি তোমাকে কল করলে কী করবে?



নাইমুর রহমান : হ্যাঁ অবশ্যই খেলা শুরুর আগে বিসিবি থেকে আমাদেরকে ফোন করে জানিয়ে দিবে। খেলার জন্য সবসময়ই প্রস্তুত রয়েছি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : করোনা শেষে অনুশীলনে গিয়ে প্রথম টার্গেট থাকবে কী?



নাইমুর রহমান : করোনা শেষে আমার টার্গেট থাকবে যেহেতু আমি একজন অলরাউন্ডার, প্রথমেই আমার ১ম স্কিল ব্যাটিং নিয়ে কাজ করা, এর সাথে বোলিংটাও।



ক্রীড়াকণ্ঠ : জেলা ক্রিকেট দল থেকে কোনো বয়সভিত্তিক দলে খেলা হয়েছিলো কি না?



নাইমুর রহমান : না কখনও নিজ জেলা চাঁদপুরের হয়ে খেলা হয়নি।



 



ক্রীড়াকণ্ঠ : এ পর্যন্ত ক্রিকেট কোচ কার কার সানি্নধ্য পেয়েছো?



নাইমুর রহমান : শেখ জামালের প্রথম কোচ নবীন স্যার, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৭ দলের কোচ সুনান রুবায়েত, অনূর্ধ্ব ১৮ দলের কোচ রুবেল স্যার ও প্রাইম ব্যাংকের কোচ ইনামুল হক স্যার। আর চাঁদপুরের শামিম স্যার আমার খেলাধুলার ব্যাপারে খোঁজ নেন।



ক্রীড়াকণ্ঠ : ঢাকার কোনো ক্লাবে খেলা হয়েছে?



নাইমুর রহমান : শেখ জামাল, ধানমন্ডী ক্লাব ও প্রাইম ব্যাংকে।



ক্রীড়াকণ্ঠ : জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৯ দলে খেলার আগে কোনো বয়সভিত্তিকে খেলার সুযোগ পেয়েছিলে?



নাইমুর রহমান : হ্যাঁ পেয়েছি। এর মধ্যে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৭ ও ১৮ ক্রিকেট দলের হয়ে খেলছি।



ক্রীড়া কণ্ঠ : জাতীয় অনূর্ধ্ব কোনো দলের অধিনায়ক কি ছিলে, ওই বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটে অবস্থান কী?



নাইমুর রহমান : হ্যাঁ, আমি বাংলাদেশ জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৮ ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করি। অনূর্ধ্ব ১৭ দলের হয়ে ৩ টি সেঞ্চুরী ও ৮ টি হাফ সেঞ্চুরী করেছি। এছাড়া অনূর্ধ্ব ১৮ ক্রিকেট দলের হয়ে ৬ টি সেঞ্চুরী ও ৪টি হাফ সেঞ্চুরী করি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : অনূর্ধ্ব ১৯দলে সুযোগ পাওেয়ার আগে ক্রিকেটে তোমার পারফরমেন্স কী ছিলো?



নাইমুর রহমান : আমি শেখ জামালের হয়ে ৩য় বিভাগ ক্রিকেট খেলি। দলের সেরা পারফরমার হওয়ায় সুবাদে (ওয়াইসিএলে) ডাক পাই নর্থ জোনের হয়ে খেলার জন্য। নর্থ জোনে ভালো করার কারণে অনূর্ধ্ব ১৭ দলে ডাক পাই। এবং অনূর্ধ্ব ১৭ খেলার পরের বছরই অনূর্ধ্ব ১৮ দলে ডাক পাই। আমি ২০১৯ সালে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব ১৯ দলে ডাক পাই এবং বর্তমানে সেই দলেই রয়েছি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : ক্রিকেটে স্বপ্ন কী?



নাইমুর রহমান : আমার স্বপ্ন হলো, বর্তমানে অনূর্ধ্ব ১৯ দলের হয়ে আরেকটি শিরোপা জেতা এবং বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে ক্রিকেট খেলা। আমি জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলতে যেনো পারি এবং আমার জেলা চাঁদপুরকে পরিচয় করে দিতে পারি সেজন্যে সকলের দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করছি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : অনূর্ধ্ব ১৭ ও ১৮ ক্রিকেট দলের হয়ে কোন্ কোন্ দেশের সাথে খেলেছো?



নাইমুর রহমান : আমি নেপাল ও শ্রীলংকাসহ কয়েকটি দেশের সাথে খেলেছি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : অনূর্ধ্ব ১৯ জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে?



নাইমুর রহমান : আমি আনঅফিসিয়ালি আফগানিস্তানের সাথে জাতীয় অনূর্ধ্ব ১৯ ক্রিকেট দলের হয়ে খেলেছি।



ক্রীড়াকণ্ঠ : তোমাকে ধন্যবাদ।



নাইমুর রহমান : জ্বি আমাকে আমার জেলায় একজন ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়ার প্রয়াসের জন্য আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা রইলো।



 



 



 



 


করোনা পরিস্থিতি
বাংলাদেশ বিশ্ব
আক্রান্ত ১,৯০,০৫৭ ১,৩০,৪২,৩৪০
সুস্থ ১,০৩,২২৭ ৭৫,৮৮,৫১০
মৃত্যু ২,৪২৪ ৫,৭১, ৬৮৯
দেশ ২১৩
সূত্র: আইইডিসিআর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৩০২৫২
পুরোন সংখ্যা