চাঁদপুর। মঙ্গলবার ১৮ এপ্রিল ২০১৭। ৫ বৈশাখ ১৪২৪। ২০ রজব ১৪৩৮
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোড়া, চাঁদপুরে ০৭ (সাত) নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ১০ (দশ) নম্বর মহাবিপদ সংকেত  || ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোড়া, চাঁদপুরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৮৯। যে কেহ সৎকর্ম লইয়া আসিবে, সে উহা হইতে উৎকৃষ্ট প্রতিফল পাইবে এবং সেই দিন উহারা শঙ্কা হইতে নিরাপদ থাকিবে।  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

যে পতনকে ভয় করে সে কখনো জয় লাভ করতে পারে না।                       -কিটস। 


ভিক্ষা করা অভাবহীন সুস্থ ব্যক্তির জন্য পাপ। যে ব্যক্তি অত্যন্ত অভাবগ্রস্ত, ঋণগ্রস্ত, সে ভিক্ষা করতে পারে।  


আওয়ামী লীগ দেশ বিক্রি করে না, ওটা বিএনপির কাজ
সুজিত রায় নন্দী
১৮ এপ্রিল, ২০১৭ ২০:৩০:৩৯
প্রিন্টঅ-অ+
১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৫৮-এর সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-এর ৬ দফা, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন, অতঃপর ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ, ৩ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জন করেছি আজকের বাংলাদেশ।

এ সকল আন্দোলন সফল হয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বলিষ্ঠ, সাহসী, দৃঢ়চেতা নেতৃত্বের গুণে।

বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রথম সূত্রপাত ৫২-এর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। দলমত নির্বিশেষে ভাষার দাবিতে প্রথম সংঘবদ্ধ আন্দোলন ছিল ভাষা আন্দোলন। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী আমরা যারা পড়েছি, সেখানে বঙ্গবন্ধু ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে একটি জায়গায় বর্ণনা করেছেন, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সময়েও তৎকালীন মুসলিম লীগ সরকার প্রোপাগান্ডা চালায় যে, কলকাতা থেকে হিন্দুরা পায়জামা পরে এসে আন্দোলন করছে। অথচ আন্দোলনে যেসব ছাত্র বন্দী হয়েছে তাদের একজনও হিন্দু ছিল না, সবাই ছিল মুসলমান। আবার ২১ শে ফেব্রুয়ারি যখন পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠী ভাষার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার বুকে গুলি চালালো, নিহত হলো সালাম, রফিক, বরকত, শফিউর। যাদের সকলেই ছিলেন মুসলমান।

এই ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ সৃষ্টির মহান ভাষা আন্দোলন থেকে একটা গোষ্ঠী ছিল, যারা সব কিছুতে ভারত জুজু দেখাতে চাইত। আর এটা শুধু অবৈধভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যেই করা হতো। আজও মুসলিম লীগের আদর্শের অনুসারীরা রব তোলে বাংলাদেশ ভারতের কাছে বিক্রি হয়ে গেলো!

১৯৭১ সালের পরেও এই প্রোপাগান্ডা অব্যাহত ছিল। বঙ্গবন্ধু যখন দেশ স্বাধীন হওয়ার পর দেশে ফিরলেন, তখন বাংলাদেশ-ভারত ঐতিহাসিক মৈত্রী চুক্তি হল। যার মেয়াদ ছিল ২৫ বছর। তখন স্বাধীনতা বিরোধীরা এই চুক্তিকে বাংলাদেশ বিরোধী চুক্তি বলে অপপ্রচার চালায়। অথচ ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু যখন দিল্লির পালাম বিমান বন্দরে নামেন, সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী, প্রেসিডেন্ট ভি ভি গিরি, পররাষ্ট্র মন্ত্রী শরণ সিং। সেখানে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর সাথে প্রথম সাক্ষাতে বঙ্গবন্ধু জানতে চান ‘ভারতীয় সেনাবাহিনী বাংলাদেশ থেকে কবে ফিরে আসবে?’। জবাবে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী বলেন, ‘আপনি যে দিন চাইবেন সেদিন’। বিচক্ষণ ইন্দিরা গান্ধী ১৭ই মার্চের আগে বাংলাদেশের মাটি থেকে সকল ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার শুরু করেন। কারণ ১৭ই মার্চ ছিল বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন। ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ তৎকালীন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে বাইগার নদীর তীরে জন্মগ্রহণ করেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের ৫ দিন আগে ১৯৭২ সালের ১২ই মার্চ বাংলাদেশের মাটি থেকে তাই সকল ভারতীয় সৈন্য প্রত্যাহার করে নেন শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী। তবুও কিছু লোক ২৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী চুক্তিকে দেশ বিক্রির চুক্তি বলে কটাক্ষ করে। বর্তমানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ৪ দিনের সফল ভারত সফর শেষে দেশে ফিরলেন, তার পূর্বেই বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বললেন দেশ নাকি বিক্রি হয়ে গেছে।

পাঠক উপরের ঘটনাগুলো মনোযোগ সহকারে লক্ষ্য করলেই দেখবেন, বেগম জিয়ার এই বক্তব্যের সাথে তাঁর পূর্বসূরিদের একই রকম মিল। অথচ ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় ছিল তখনই বাংলাদেশ কিছু না কিছু অর্জন করেছে।

দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে চলা ছিটমহল সমস্যার সমাধান জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই সফলতার মুখ দেখেছে। ছিটমহল চুক্তির ফলে বাংলাদেশ লাভ করে প্রায় ১৭ হাজার একর ভূমি। অথচ ফিলিস্তিন দশকের পর দশক ধরে ইজরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত শুধু নিজেদের ভূমির অধিকারের জন্য। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই বাংলাদেশ দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে ছিটমহল বাসীর বঞ্চনার ইতিহাসের ইতি টানে। বিনা রক্তপাতে ভূখ- বিনিময় হয়, মানচিত্রেও বদল হয়। যা বর্তমান পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

১৯৯৬ সালে জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সম্পাদন করেন। ১৯৯৬ সালের ১২ই ডিসেম্বর সম্পাদিত হয় ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি। পরবর্তী বছর ১৯৯৭ সালের ২রা ডিসেম্বর সম্পাদিত হয় ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তি।

দশকের পর দশক ধরে পার্বত্য তিনটি জেলা বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ছিল অশান্ত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় শান্তি চুক্তির পর আজ পার্বত্য অঞ্চল শান্ত সমুদ্রের ন্যায়। যার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেস্কো জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ফেলিক্স হুফে বইনি’ শান্তি পুরস্কার প্রদান করে। এক সময় যেসব জনপদ ছিল অশান্ত আজ তা পর্যটন নগরীতে রূপ নিয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থান, লাঘব হয়েছে বেকারত্ব।

২০০৮ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভূমিধ্বস বিজয়ের পর ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের ৭ জুলাই ভারত-বাংলাদেশ সমুদ্র সীমা বিরোধ নিষ্পত্তির রায় বাংলাদেশের পক্ষে আসে। ফলে বিশাল সমুদ্রবক্ষে বাংলাদেশ লাভ করে বিপুল গ্যাস, খনিজ এবং মৎস্য সম্পদের অধিকার।

জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে আজ বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার আয়তন প্রায় ১,১৮,৮১৩ বর্গ কিলোমিটার। আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ভারত সমুদ্রসীমা রায় মেনে নেয়, কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই। কিন্তু দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ের পরেও চীনের সাথে তার পাশের দেশ সমূহের বিরোধ এখনো নিষ্পত্তি হয় নি। যা ভারত বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফর শেষে সম্পর্ক আরও নতুন উচ্চতায় উঠেছে।

একইভাবে বন্ধুপ্রতিম ভারত মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এক কোটি শরণার্থীর ঢল সামাল দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেয়। সে সময় শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী সরকার ভারতের জনগণের উপর ‘শরণার্থী কর’ আরোপ করে বাংলাদেশী শরণার্থীদের খরচ মেটাবার জন্য। বাংলাদেশী শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য সে সময় ভারতের হাজার হাজার স্কুলও বন্ধ রাখা হয়।

প-িত রবি শংকর নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ারে আয়োজন করে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। রবি শংকরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে কনসার্টে গান পরিবেশন করেন ২০১৬ সালে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী বব ডিলান, জর্জ হ্যারিসনসহ ভুবন বিখ্যাত শিল্পীরা। কনসার্টের প্রাপ্ত অর্থ বরাদ্দ করা হয় ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশী শরণার্থীদের জন্য। অথচ মানবাধিকারের ধ্বজাধারী পশ্চিমা বিশ্ব শরণার্থী সঙ্কট সামাল দিতে গিয়ে তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে অসহায় মানুষের জন্য। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের গণহত্যার বিষয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখেন ইন্দিরা গান্ধী সরকার। আমাদের মুক্তিসংগ্রামে প্রাণ দিয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য।

পাকিস্তানী বাহিনী ১৬ই ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করে, তখনও ধানমন্ডিতে বন্দী অবস্থায় ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর পরিবার। সে সময় ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরুণ অফিসার-মেজর যারা, তারা ১৭ই ডিসেম্বর অসীম সাহস নিয়ে উদ্ধার করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সকল সদস্যকে।

আজ যখন খালেদা জিয়া বলে, বাংলাদেশ বিক্রি হয়ে গেছে, তখন মনে পড়ে যায়, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাবস্থায় ভারত সফরে যান। সে সফরের এজেন্ডায় গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে আলোচনা করার কথা ছিল। সফর শেষে খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে সাংবাদিকরা তাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন গঙ্গা চুক্তির বিষয়ে ভারতে কী আলোচনা হয়েছে? তখন খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, গঙ্গা চুক্তির কথা বলতে তিনি ভুলে গেছেন। যিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাবস্থায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করতে ভুলে যান, তার মুখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে সমালোচনা বড্ড বেমানান।

যারা কথায় কথায় দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন তোলে, তারা ভুলে যায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকাবস্থায় মুক্তিযুদ্ধকালীন বন্ধু রাষ্ট্র রাশিয়া থেকে মিগ ২৯ যুদ্ধ বিমান ক্রয় করেন। তারই ধারাবাহিকতায় তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে জননেত্রী শেখ হাসিনা চীন থেকে ‘বাংলাদেশ নবযাত্রা’ এবং ‘বাংলাদেশ জয়যাত্রা’ নামে দুটি সাবমেরিন ক্রয় করেন। ৪১তম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সাবমেরিন অধিকার লাভ করে। বাংলাদেশের প্রথম সাবমেরিন ঘাঁটির নাম ‘বি এন এস শেখ হাসিনা’, যা চট্টগ্রামে অবস্থিত।

দেশের সার্বভৌমত্বের কথা জননেত্রী শেখ হাসিনা চিন্তা করেন বলেই তিনি দেশের প্রয়োজনে মিগ এবং সাবমেরিন ক্রয় করতে ইতস্তত বোধ করেন নি। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে শত্রুতা নয়’ আমলে নিয়েই তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব অটুট রাখতে বদ্ধপরিকর।

মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৪৬ বছরে নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতৃত্বে ছিল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে কুচক্রী মহল নানাভাবেই হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমালোচনা করে দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে। তার ধকল এখনও বাংলাদেশ কাটিয়ে উঠতে পারে নি। স্বাধীনতার ৪৬ বছরে প্রায় ৩০ বছরের বেশি ক্ষমতায় ছিল স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। যারা দেশকে পরিণত করেছিল মিনি পাকিস্তানে। সংবিধানের চার মূলনীতিকে ছুঁড়ে ফেলে দেশকে পাকিস্তানী ভাবধারায় টেনে নিয়ে দুর্নীতিতে ৫ বার চ্যাম্পিয়ন করেছে।

স্বাধীনতার ৪৬ বছরের মধ্যে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল মাত্র ১৫ বছর। আর এই স্বল্প সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বগুণে শুধু ভারত নয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সফলতার পরিচয় দিয়েছে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন আজ সত্যি হওয়ার পথে।

যারা আজ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে নানামুখী সমালোচনায় মুখর তারা কি কখনো প্রশ্ন করেছেন, যারা ৩০ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিল স্বাধীনতার পর, তারা বাংলাদেশের জন্য কী করেছে? তারা কেন ক্ষমতায় থাকতে বাংলাদেশের সমস্যা সমাধান করতে পারেনি? ভারতের সাথে কোনো চুক্তি বা সমঝোতা যাই হোক, কিছু লোক গেল রে গেল রব তোলে। তাদের অনেকেই আবার হয়ত চুক্তি আর সমঝোতার পার্থক্য বুঝতে পারে না। চুক্তির আইনি বাধ্যবাধকতা আছে, কিন্তু সমঝোতার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকে না। ভারত বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় প্রতিরক্ষা সমঝোতা। এ ধরনের সমঝোতা চীন সহ আরও অনেক দেশের সাথেই আছে।

চীন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, আর ভারত বাংলাদেশকে সমর্থন করেছিল। তাহলে চীনের সাথে সমঝোতা স্মারক হতে পারলে ভারতের সাথে সমস্যা কোথায়? আজকের এই বিশ্বায়নের যুগে আমেরিকা রাশিয়ার সাথে চুক্তি করে, চীন আমেরিকার সাথে চুক্তি করে। যদিও তাদের অভ্যন্তরীণ নানামুখী সংঘাত আছে। চির বৈরী চীন-আমেরিকা-রাশিয়ার মধ্যে চুক্তি-সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে, তাহলে পরীক্ষিত বন্ধু ভারতের সাথে চুক্তি বা সমঝোতা স্মারকে সমস্যা কোথায়?

ভারতের সাথে কোন চুক্তি স্বাক্ষর হলেই কেউ কেউ সার্বভৌমত্ব ক্ষুণœ হচ্ছে বলে রাজনীতির মাঠে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে। তারাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে রুশ-ভারত চক্রান্ত বলে প্রোপাগান্ডা ছড়ায়। কিন্তু ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কখনো নাক গলায় নি, বরং পাকিস্তান মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের পর বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে।

এ বিষয়ে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে প্রস্তাবও পাস হয়। ২০০২ সালে খালেদা জিয়া চীন সফরে গিয়ে ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল, তখন তো কেউ সার্বভৌমত্ব কিংবা মর্যাদার প্রশ্নে জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেনি। শুধু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের স্বার্থ অক্ষুণœ রেখে কোনো চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করলেই বিশেষ মহল ভারত জুজুর অবতারণা করে। আবার তারাই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য দেশের সম্মান বিসর্জন দিয়ে হোটেল লবিতে দাঁড়িয়ে থাকে।

যারা কথায় কথায় জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দেশের সম্মান, মর্যাদা, সার্বভৌমত্ব অক্ষুণœ রাখার পরামর্শ দেয়, তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্য আপনাদের পরিবারের কত জন জীবন দিয়েছে? এক রাতে পরিবারের ১৬জন সদস্য হারানোর ক্ষত আপনারা কয় জন বয়ে বেড়াচ্ছেন? শত বাধা-বিপত্তি মোকাবেলা করেই ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্যা আর্থ’ হয়ে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, মর্যাদা উজ্জ্বল করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশ বিক্রি করে না, দেশ বিক্রি করে তারা, যারা দুর্নীতিতে ৫বার চ্যাম্পিয়ন হয়। দেশ বিক্রি করে তারা, যারা বিদেশ ভ্রমণে গিয়ে গঙ্গা চুক্তির কথা ভুলে যায়। দেশ বিক্রি করে তারা, যারা পাচার করার জন্য দশ ট্রাক অস্ত্র এনেছিলো। দেশ বিক্রি করে তারা, যারা রাজাকার শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী করে, নিজামী-মুজাহিদদের মন্ত্রী করে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ উদ্ধার করে। যার ফলে আজ মাথাপিছু আয় ১,৪৬৫ ডলার, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭.১১%, রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার, রপ্তানি আয় ৩৪.২৪ বিলিয়ন ডলার। জয়তু শেখ হাসিনা। 

লেখক : সুজিত রায় নন্দী, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

এই পাতার আরো খবর -
    আজকের পাঠকসংখ্যা
    ৯১১১১
    পুরোন সংখ্যা