চাঁদপুর। বুধবার ১০ জানুয়ারি ২০১৮। ২৭ পৌষ ১৪২৪। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৩-সূরা আহ্যাব

৭৩ আয়াত, ৯ রুকু, মাদানী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৬৮। হে আমাদের পালনকর্তা! তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন এবং তাদেরকে মহা অভিসম্পাত করুন।

৬৯। হে মুমিনগণ! মুসাকে যারা কষ্ট দিয়েছে, তোমরা তাদের মত হয়ো না! তারা যা বলেছিল, আল্লাহ তা থেকে তাঁকে নির্দোষ প্রমাণ করেছিলেন। তিনি আল্লাহর কাছে ছিলেন মর্যাদাবান।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


অসৎ আনন্দের চেয়ে পবিত্র বেদনা মহৎ।

 -হোমার


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান চর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


ফটো গ্যালারি
স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধুর আগমন
অধ্যক্ষ ড. মোঃ হাসান খান
১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


'বাংলাদেশ' একটি মাত্র শব্দ। শুধুই কি শব্দ? বাংলাদেশ মানে ত্রিশ লক্ষ শহীদ, দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীনতা। বাংলাদেশ মানে বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশ মানে লাল-সবুজের পতাকা, জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা/ আমি তোমায় ভালোবাসি।' বাংলাদেশ মানে 'আমি', 'আমরা', 'একটি কবিতা', 'একটি কিংবদন্তী', 'একটি স্বপ্ন', আর 'আমাদের ভালোবাসা'। বাংলাদেশ শব্দটিকে তাই শুধুমাত্র শব্দে শব্দবন্দী করা যায় না। আমাদের জীবনে বাংলাদেশ শব্দটি আমাদের মায়ের মতো স্নেহময়ী। মায়ের মতো এ দেশটি স্বাধীনতার পর থেকে বারবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখেছে। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশটি নতুন যাত্রার সূচনা করেছিলো। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাদার অব হিউম্যানিটি, জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সে যাত্রা অব্যাহত আছে।



 



১৬ ডিসেম্বর আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হলো। কিন্তু ঐ দিনই বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে এলেন না। তিনি তখনো পাকিন্তানের কারাগারে বন্দী। তাঁর প্রতীক্ষায় সারাদেশ। তিনি ফিরে আসবেন, ফিরে এলেন ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি। এদিনের দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে তিনি বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে পাকিস্তানি হানাদাররা বঙ্গবন্ধুকে বন্দী করে পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে যায়। সেখান থেকে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি পাকিস্তানি কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান। এদিন সকাল সাড়ে ছয়টায় বঙ্গবন্ধু ও কামাল হোসেন লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে পেঁৗছেন। ৯ জানুয়ারি তিনি ব্রিটেনের বিমানবাহিনীর একটি বিমানে দেশের উদ্দেশে রওনা করেন। ১০ তারিখ সকালে বঙ্গবন্ধু দিলি্ল পেঁৗছলে ভারত সরকার তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। এদিন দুপুর একটা ৪১ মিনিটে তিনি ঢাকা পেঁৗছলে লাখ লাখ মানুষ তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স পর্যন্ত জড়ো হন। বিকেল পাঁচটায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দশ লক্ষ বেশি লোকের উপস্থিতিতে ভাষণ দেন। ১২ জানুয়ারি তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরে এসেছেন_এটি ছিলো আপামর জনতার জন্যে অনেক আনন্দের ও উল্লাসের বিষয়। বঙ্গবন্ধু দেশ গঠনের কাজে মনোনিবেশ করলেন। অল্প কদিনের মধ্যেই তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে গুছিয়ে আনতে সমর্থ হয়েছিলেন। তাঁর দূরদর্শিতার কারণেই স্বাধীনতা লাভের ক মাসের মাথাতেই বাংলাদেশ থেকে মিত্রবাহিনীর সৈন্যরা নিজদেশে ফিরে গিয়েছিলো। অন্যদিকে বাংলাদেশকে বহির্বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে জাতির পিতা সক্ষম হয়েছিলেন।



বঙ্গবন্ধু সারাজীবন মানুষের কথা বলেছেন। তিনি চাইতেন বাঙালিরা ভালো থাকুক, স্বাধীনতার স্বাদ উপভোগ করুক। সেজন্যে জীবনের বেশিরভাগ সময় তাঁকে জেলে থাকতে হয়েছে। শাসকদের রক্তচক্ষুর মুখোমুখি হতে হয়েছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু তিনি মাথা নত করেননি কখনো। তাঁর শক্তি ছিলো দেশপ্রেম। তাঁর সাথে ছিলো আপামর মানুষের ভালোবাসা। সেজন্যেই লোভ-লালসার ঊধর্ে্ব থেকে তিনি সোনার বাংলাদেশ গঠনের কাজে হাত দিয়েছিলেন। আমরা তাঁর আত্মজীবনীতে পাই তিনি লিখেছেন : ' একজন মানুষ হিসাবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসাবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর সম্পৃক্তির উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা, যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।' এ কারণেই বঙ্গবন্ধুর প্রশংসা কেবল বাংলার মানুষই করেনি, তাঁর প্রশংসার শত্রুরাও করেছে। ১৯৭০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকায় নিযুক্ত কনসাল জেনারেল আর্থার কে বস্নাড-এর ভাষ্যে পাই : 'মুজিব সারাজীবনই একজন রাজনীতিবিদ। ১৯৪৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১০ বছর তিনি কাটিয়েছেন পাকিস্তানি জেলে, যার চূড়ান্ত পরিচয় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা... মানুষ মুজিবকে ছাঁচে ফেলা কঠিন। ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় তিনি আত্মবিশ্বাসী, শান্ত, দৃঢ় প্রত্যয় ও অসাধারণ মনের অধিকারী।' মানুষকে তিনি মনে-প্রাণে ভালোবাসতেন ও প্রভাবিত করতে পারতেন।



 



এজন্যেই তিনি মহান। এজন্যেই তিনি বাঙালির জাতির জনক। তাঁর দীর্ঘ ত্যাগ, সংগ্রামের দীর্ঘ ইতিহাস, এটিই শেখ মুজিবুর রহমানকে অবিসংবাদিত নেতা করেছে। টুঙ্গিপাড়ার ছোট খোকাকে পরিণত করেছে জাতির জনকে। বঙ্গবন্ধু কেবল বাংলাদেশেই নয়, তিনি পৃথিবীর মহান নেতাদের অন্যতম। তাঁর দেয়া ৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্বনেতারা এখনো শেখ মুজিবের সাহসিকতাকে অভিবাদন জানান এবং তাঁর ত্যাগকে শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেন।



 



আজ সেই ঐতিহাসিক ১০ জানুয়ারি। আজকের এ দিনেই জাতির জনক স্বাধীন বাংলাদেশে ফিরেছেন। এ দিনেই বঙ্গবন্ধু তাঁর বহুল প্রত্যাশিত মাতৃভূমে ফিরে আসেন। স্বাধীনতার স্বপ্ন পুরুষের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।



 



লেখক : সদস্য, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ।



 


এই পাতার আরো খবর -
    আজকের পাঠকসংখ্যা
    ২৫১৭৬৭
    পুরোন সংখ্যা