চাঁদপুর। শুক্রবার ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮। ৩০ ভাদ্র ১৪২৫। ৩ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪১-সূরা হা-মীম আস্সাজদাহ,

৫৪ আয়াত, ৬ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৬। কাফিররা বলে, তোমরা এই কোরআন শ্রবণ করো না এবং তা তিলাওয়াতকালে শোরগোল সৃষ্টি করো, যাতে তোমরা জয়ী হতে পারো।

২৭। আমি অবশ্যই কাফিরদেরকে কঠিন শাস্তি আস্বাদন করাবো এবং নিশ্চয়ই আমি তাদেরকে নিকৃষ্ট কার্যকলাপের বিনিময় দেবো।

২৮। জাহান্নাম, এটাই আল্লাহর শত্রুদের পরিণাম; সেখানে তাদের জন্যে রয়েছে স্থায়ী  আবাস আমার নিদর্শনাবলি অস্বীকৃতির প্রতিফলস্বরূপ।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


কাঁচা যে-কোনো জিনিসই পচনশীল

 -লুই পাস্তুর।


স্বদেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ।

 


ফটো গ্যালারি
বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ
ড. মোহাম্মদ হাসান খান
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


'একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে



লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধীর ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতা বসে আছে



ভোর থেকে জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতে_



'কখন আসবে কবি?' 'কখন আসবে কবি?'



...........................................



গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন তাঁর



অমর কবিতাখানি_



'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,



এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।'



আজ আমি সেই কবিতার কথা বলতে এসেছি যার নাম বাংলাদেশ। আর শ্রদ্ধাভরে অবনত চিত্তে সেই কবিকে স্মরণ করছি যিনি বাংলাদেশ নামক কবিতাটির রূপকার, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৩শ' বছর মোঘল শাসন আর ২শ' বছর ব্রিটিশ শাসনের কবলে ছিল বাঙালি জাতি। ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার পর বাঙালি নতুন করে পাকিস্তানের করালগ্রাসের শিকার হয়। পাকিস্তানের ২৪ বছর বাঙালির বঞ্চনা ও নিপীড়নের ইতিহাস। দীর্ঘ ২৪ বছরের মুক্তির সংগ্রাম আর নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক ভূখ-ের জন্ম হয়। এর আগে বাঙালির জন্য কোনো নির্দিষ্ট ভূখ- ছিলো না। বাঙালি জাতি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি ভূখ-ের মালিকানা পেল। এটি সম্ভব হয়েছে একজন মহামানবের জন্যে। তিনিই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।



তাঁর নেতৃত্বে ত্রিশ লাখ শহিদের রক্তের বিনিময়ে পরাধীনতার শেকল ভেঙে নবজন্ম লাভ করে বাঙালি, গঠিত হয় বাংলাদেশ। তাই তো তিনি বাঙালি জাতির পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। স্বাধীনতা সংগ্রামে কেউ একটি অংশ, কেউবা একটি অধ্যায়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু নিজেই একটি ইতিহাস। একজন শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ না করলে একটি বাংলাদেশের জন্ম হতো না। তাই বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বঙ্গবন্ধু মানে স্বাধীনতার সংগ্রাম, বঙ্গবন্ধু মানে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে পাওয়া বাংলাদেশ।



বঙ্গবন্ধু বাংলার মানুষের জন্য মুক্তির সংগ্রাম করেছেন ২৪ বছর। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ভাবশিষ্য ছিলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যারয়ের ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অধিকার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার সংগ্রামী জীবন। বঙ্গবন্ধু একজন ভাষাসৈনিক। তিনি ভাষা আন্দোলন চলাকালে জেলে ছিলেন। সেখানে তিনি অনশন করেন। তারই সৃষ্ট ছয় দফা গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। যার ফল '৭০ নির্বাচনে জয়লাভ ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। পাকিস্তানী সেনাশাসকদের রক্তচক্ষু তাঁকে ভীত করতে পারেনি, জেলজুলুমের তোয়াক্কাও তিনি করেননি। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও তিনি বাংলার মানুষের মুক্তির প্রশ্নে অবিচল ছিলেন। পাকিস্তানী সেনা শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, 'আমি বাঙালি, আমি মুসলমান একবার মরে বারবার নয়।'



মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হানাদাররা বন্দী করে পাকিস্তান নিয়ে যায়। কিন্তু তিনি বন্দী হওয়ার আগে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। তিনি জাতির উদ্দেশ্যে বলেন, 'এটাই হয়তো আমার শেষ বার্তা। আজ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীন। বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমার আহ্বান, আপনারা যে যেখানেই থাকুন এবং যার যা কিছু আছে তা দিয়ে শেষ পর্যন্ত দখলদার সেনাবাহিনীকে প্রতিহত করুন। বাংলাদেশের মাটি থেকে পাকিস্তান দখলদার বাহিনীর শেষ সৈনিকটি বিতাড়িত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আপনাদের এ লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।' তারও আগে ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু এবারের সংগ্রামকে মুক্তি ও স্বাধীনতার সংগ্রাম হিসেবে আখ্যায়িত করেন। শুধু তাই নয়, তিনি এদেশের মানুষকে যার যা কিছু আছে তা নিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলেন। তাঁর এ ঘোষণার পর থেকেই বাঙালিরা স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। বঙ্গবন্ধু বন্দী হওয়ার পর ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। নয় মাস যুদ্ধ শেষে বাংলার মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার স্বাদ পায় বাংলাদেশ। দেশ স্বাধীন হলো। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তখনো পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী। অবশেষে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির জনক স্বাধীন বাংলাদেশে এসে পেঁৗছলেন। এদেশের মানুষ তখন পুরোপুরি স্বাধীনতার স্বাদ পেল। লেখক অন্নদাশঙ্কর রায় বলেছিলেন, বাংলাদেশের অন্য নাম মুজিবল্যান্ড। আর বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ত্রো গর্বসহকারে বলতে পেরেছেন, আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি। অর্থাৎ একজন বঙ্গবন্ধুর কর্ম হিমালয়ের চেয়েও বিশাল।



শুধু স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকারই নন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭২ সালে স্বদেশে ফিরে অতিদ্রুত তিনি বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন করেন। স্বাধীনতার তিন মাসের মধ্যে আর কোনো দেশ সংবিধান পেয়েছে কিনা সন্দেহ। তারই কূটনৈতিক সাফল্যে ইন্দিরা গান্ধী সরকার মাত্র তিন মাসের মধ্যে স্বাধীনতা যুদ্ধের মিত্রবাহিনী ভারতীয় সেনাদের ফিরিয়ে নেয়। সে সময় এ সফলতাকে ২য় স্বাধীনতা অর্জন বলা হয়েছিল।



একজন বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব বঙ্গবন্ধু। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের জেলে বন্দী থাকার সময় তার সেলের পাশে কবর খোড়া হয়। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তাতে ভীত হননি। তাঁর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিনে তিনি আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেছিলেন, 'ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময় আমি বলব, আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা, জয় বাংলা।' বাংলার মানুষেরা ছিল তার আত্মীয়-বান্ধব। সেজন্য রাষ্ট্রপ্রধান হয়েও তাঁর তেমন নিরাপত্তা বেষ্টনী ছিল না। সাধারণ মানুষ খুব সহজেই তাঁর সাক্ষাৎ পেতে পারতো। এই সরলতা ও ভালোবাসাই কাল হলো তাঁর জন্য। কিছু দেশদ্রোহী, দিকভ্রষ্ট, উশৃঙ্খল সেনাসদস্য ১৯৭৫ সালে নির্মমভাবে তাঁকে সপরিবারে হত্যা করল। পঁচাত্তরের পর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও বঙ্গবন্ধুর খুনীরা তাঁর নাম মুছে দেয়ার জন্য বহু ষড়যন্ত্র করেছে। দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করেছে। রাজাকাররা রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু ঘাতকরা জানে না, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধু থাকবে। ইতিহাসের যেমন মৃত্যু নেই তেমনি বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু নেই। তাঁর আদর্শের মৃত্যু নেই। বঙ্গবন্ধু বললেই চলে আসে বাংলাদেশ, আবার বাংলাদেশ বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি। আমি বিশ্বাস করি, আদর্শের প্রতীক হিসেবে হাজার বছর ধরে বঙ্গবন্ধু এভাবেই বেঁচে থাকবেন প্রতিটি স্বাধীনতাপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে।



তবে খুব কষ্ট পাই যখন দেখি ইতিহাস বিকৃতকারীরা এখনও বলে, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান। তারা ভুলে যায়, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। একটি নির্বাচিত সরকার প্রধান, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতিকে হত্যা করে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে জিয়াউর রহমান। '৫০ থেকে '৭১ তার কোনো রাজনৈতিক কর্মকা- ছিল না। সাধারণ মানুষের জন্য আত্মত্যাগ করা তো দূরের কথা। একাত্তরের পূর্বে বাংলার মানুষ জিয়াউর রহমানের নাম কখনো শুনেছে কিনা সন্দেহ আছে। অথচ তারা বলে, জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। তারা বায়ান্ন, ছয় দফা, আওয়ামী লীগ, ঊনসত্তর, সত্তরের কথা, ৭ মার্চের কথা ভুলে যায়। অথচ জিয়াউর রহমান ছিলেন বঙ্গবন্ধুর দেয়া স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের পাঠক মাত্র। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধানের যে ক্ষতি জিয়াউর রহমান করেছে তা বলতে গেলে ইতিহাস লিখতে হবে। বাংলাদেশের মানুষকে স্বাধীনতার মূল চেতনা থেকে সরিয়ে রাখার জন্য ধর্মের রাজনীতির গোড়াপত্তন করে জিয়াউর রহমান। আজ এটি বিষবৃক্ষ হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি উঠিয়ে দেয়া হয়। হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকদের সংখ্যালঘু ঘোষণা করা হয়। গোলাম আজমকে নাগরিকত্ব দেয়াসহ কুখ্যাত রাজাকারদের ক্ষমতায় বসান সবই জিয়াউর রহমানের কীর্তি। তাই ইতিহাস বিকৃতকারীদের বলব, নূ্যনতম দেশপ্রেম থাকলেও ভুল তথ্য ছড়াবেন না। জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বললে ত্রিশ লাখ শহীদ, আর দু লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম হারানোর ত্যাগকে অবমাননা করা হয়। শহীদদের ত্যাগকে অসম্মান করা হয়।



সবশেষে আমি দেশবাসী ও নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্যে বলতে চাই : বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে ধারণ করুন এবং বাস্তবায়ন করুন। ইতিহাস বিকৃতকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্ক ও বিকৃতির ঊধর্ে্ব রাখুন। একটি কথা মনে রাখতে হবে আমাদের পিতা কলঙ্কিত হলে যেমন আমরা কলঙ্কিত হই তেমনি আমাদের জাতির পিতাকে কলঙ্কিত করা হলেও আমরা কলঙ্কিত হবো।



জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।



 



অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ হাসান খান : সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, চাঁদপুর জেলা।



 


এই পাতার আরো খবর -
    আজকের পাঠকসংখ্যা
    ৫৯০৩১৭
    পুরোন সংখ্যা