চাঁদপুর। বুধবার ৩ অক্টোবর ২০১৮। ১৮ আশ্বিন ১৪২৫। ২২ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • হাজীগঞ্জে আটককৃত বিএনপি'র ১৭ নেতাকর্মীকে জেলহাজতে প্রেরন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা শূরা


৫৪ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১৫। সুতরাং তুমি ওর দিকে (সবাইকে) আহ্বান করো এবং এতেই দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকো যেভাবে তুমি আদিষ্ট হয়েছো এবং তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না। বল : আল্লাহ যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন আমি তাতে বিশ্বাস করি এবং আদিষ্ট হয়েছি তোমাদের মধ্যে ইনসাফ করতে। আল্লাহই আমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের প্রতিপালক আমাদের আমল আমাদের এবং তোমাদের আমল তোমাদের; আমাদের এবং তোমাদের মধ্যে কোন ঝগড়া-বিবাদ নেই। আল্লাহই আমাদেরকে একত্রিত করবেন এবং প্রত্যাবর্তন তাঁরই নিকট।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


 


সন্দেহ করার চেয়ে বিশ্বাস করা সহজ।


-ইডিমার্টিন।


 


 


যে কোনো ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তির জন্যে দোয়া করলে তা অতিসত্বর কবুল হয়।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রবীণদের স্মরণ পরম শ্রদ্ধায়
হাসান আলী
০৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার প্রথম অনুচ্ছেদে লেখা রয়েছে 'জন্মগতভাবে সব মানুষ স্বাধীন এবং সমান সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী।' মানবাধিকার হচ্ছে মানুষের সহজাত অধিকার, যা যে কোনো মানব সন্তান জন্মলাভের সঙ্গে সঙ্গে অর্জন করে। জীবনধারণ ও বেঁচে থাকার অধিকার, অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদন, মতপ্রকাশ, ধর্ম পালন, সংগঠন করার অধিকারকে মানবাধিকার বলতে পারি। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন-২০০৯-এ মানবাধিকার অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান দ্বারা নিশ্চিত কোনো ব্যক্তির জীবন, অধিকার, সমতা ও মর্যাদা এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ কর্তৃক অনুসমর্থিত এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আদালত দ্বারা বলবৎযোগ্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলে ঘোষিত মানবাধিকার। জাতিসংঘ ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য করেছে 'মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রবীণদের স্মরণ পরম শ্রদ্ধায়।' যেসব প্রবীণ একদিন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত ছিলেন এবং আধিকার আদায়ে সোচ্চার হয়েছেন তাদের আমরা স্মরণ করব গভীর শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা দিয়ে। এদের লড়াই, সংগ্রাম, ত্যাগ তিতিক্ষার ফলে আমরা আজকের এ মানবিক পৃথিবীটুকু পেয়েছি। প্রশ্ন উঠতে পারে, আজকের এ পৃথিবী কি মানবিক? অতীতের দিকে তাকালে আমরা বুঝতে পারব পৃথিবী আগের তুলনায় অনেকখানি মানবিক। মানুষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ, স্বস্তিদায়ক মর্যাদাপূর্ণ জীবনের আকাঙ্ক্ষা তীব্র হয়েছে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার হচ্ছে। যদিও বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার কর্মীরা নানারকম হয়রানির শিকার। জাতিসংঘ মনে করে ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকার এবং মর্যাদা হ্রাস না পায় সে জন্য কাজ করতে হবে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম একটি মহৎ কাজ। এ কাজ করতে গিয়ে অনেকেই নানারকম নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অনেক কষ্টকর তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে আমাদের মানবাধিকার কর্মীদের।



আমাদের দেশে প্রবীণরা কতখানি স্বাধীন জীবনযাপন করতে পারে সেই প্রশ্নটি আসে সবার আগে। গণপরিবহনে প্রবীণের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় চলাফেরা সীমিত হয়ে যায়। ব্যক্তিগত যানবাহন না থাকায় এবং অসহনীয় যানজট থাকায় প্রবীণদের পক্ষে অবাধ চলাচল করা কঠিন। আর্থিক সংকটও প্রবীণের চলাফেরা সীমিত করে দেয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আমাদের প্রবীণরা তেমন গুরুত্ব পান না। সামাজিক কিংবা রাষ্ট্রীয় কর্মকা-ে প্রবীণের অংশগ্রহণ দুর্বল। পরিবার ও সমাজে প্রবীণের অংশগ্রহণকে যথেষ্ট সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে দেখা হয় না। প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মর্যাদা রক্ষা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের দেশের বেশিরভাগ প্রবীণই আর্থিক সংকটে ভুগছেন। ফলে তারা জীবনযাপনে পরিবারের সদস্যদের ওপর কিংবা সামাজিক অনুদানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যান। সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য আমন্ত্রিত হন না। যেসব প্রবীণ আর্থিকভাবে দুর্বল তাদের যথাযথ মর্যাদা দিতে আমরা কার্পণ্য বোধ করি।



প্রবীণের যথাযথ সেবাযত্ন পাওয়া মানবাধিকার। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিগত কারণে প্রবীণের প্রতি সঠিক যত্ন নিতে পারি না। প্রবীণের ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আরামদায়ক কাপড়চোপড় পরিধান, আলো-বাতাস আছে এমন ঘর, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রের জোগান দেয়া, পুষ্টিকর খাবার-এসব মানবাধিকার। নানাভাবে আমরা এ মানবাধিকার লঙ্ঘন করি। আমাদের দেশে প্রবীণরা নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। এসব নির্যাতন হলো শারীরিক, সামাজিক, আর্থিক, যৌন নিপীড়ন। প্রবীণের সহায় সম্পত্তি থাকলে তা বেহাত করার জন্যে অনেকে ব্যস্ত হয়ে যায়। এতসব মানবাধিকার লঙ্ঘন হওয়ার পরও একদল মানুষ প্রবীণের মানবাধিকার রক্ষায় সোচ্চার ছিলেন এবং বর্তমানে তারা প্রবীণ। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত এসব প্রবীণকে যথাযথ সম্মান দেয়ার আহ্বান খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।



ভালো কাজের স্বীকৃতি থাকলে মানুষ ভালো কাজ করতে উৎসাহী হয়। কথায় আছে, যে সমাজ গুণী মানুষের কদর করে না, সে সমাজে গুণী মানুষ সৃষ্টি হয় না। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নিবেদিত প্রবীণদের আমরা নানাভাবে সম্মানিত করতে পারি। খ্যাতিমান মানবাধিকার প্রবীণ কর্মীদের বীরত্বপূর্ণ জীবনগাঁথা বই আকারে প্রকাশ করা যায়। পাঠ্যপুস্তকে বাছাই করা কয়েকজনের জীবনী সংযুক্ত করা যায়। রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে গুরুত্ব সহকারে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো, তাদের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কমিউনিটি সেন্টারের নামকরণ করা যেতে পারে। জাতীয় দৈনিক এবং টিভি চ্যানেলগুলোতে ধারাবাহিকভাবে প্রবীণ বীরদের কথা তুলে ধরা, প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বড় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে প্রবীণ মানবাধিকার কর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, শিশু-কিশোর অনুষ্ঠানে তাদের বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করা, প্রবীণদের সম্মানে ভোজসভার আয়োজন করে বন্ধুবান্ধর, আত্মীয়স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া, বিশেষ করে আজকের নবীন মানবাধিকার কর্মীদের এ বিষয়ে যথাযথ ভূমিকা পালনের সুযোগ সবচেয়ে বেশি। তারা প্রতি বছরই আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে প্রবীণ মানবাধিকার কর্মীদের ক্রেস্ট প্রদান করে সম্মানিত করতে পারেন।



প্রবীণ মানবাধিকার কর্মীটি যে এলাকার বাসিন্দা সেখানকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্যোগে গণসংবর্ধনার আয়োজন করা, পরিবারের সদস্য এবং আত্মীয়স্বজন মিলে অনুষ্ঠান করে প্রবীণ মানবাধিকার কর্মীকে সম্মান জানানো যেতে পারে। যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেদের উদ্যোগে বিশিষ্ট প্রবীণ মানবাধিকার কর্মীদের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশংসাপত্র এবং আর্থিক অনুদান দিয়ে সম্মাননা জানাতে পারেন। প্রবীণ মানবাধিকার কর্মীটি যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন তারা তাদের আলোকিত সন্তানকে বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্বীকৃতি দিতে পারেন। কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রবীণ মানবাধিকার কর্মী কাজ করে থাকলে তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার প্রতি সম্মান জানাতে পারেন। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নিবেদিত এসব মানুষকে স্মরণ করতে হবে আমাদের প্রয়োজনে। আগামী দিনে বিপুলসংখ্যক প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বস্তিদায়ক, শান্তিপূর্ণ মর্যাদাকর জীবন নিশ্চিত করা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জতিসংঘের এবারের প্রতিপাদ্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।



 



লেখক : সভাপতি, এজিং সাপোর্ট ফোরাম; ট্রেজারার, বাংলাদেশ জেরোন্টজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২০৬৫৪১
পুরোন সংখ্যা