চাঁদপুর। বুধবার ৭ নভেম্বর ২০১৮। ২৩ কার্তিক ১৪২৫। ২৭ সফর ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৩-সূরা যুখ্রুফ


৮৯ আয়াত, ৭ রুকু,' মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


৭৩। সেথায় তোমাদের জন্যে রহিয়াছে প্রচুর ফলমূল, তাহা হইতে তোমরা আহার করিবে।


৭৪। নিশ্চয় অপরাধীরা জাহান্নামের শাস্তিতে থাকিবে স্থায়ীভাবে;


৭৫। উহাদের শাস্তি লাঘব করা হইবে না এবং উহারা উহাতে হতাশ হইয়া পড়িবে।


 


 


assets/data_files/web

বীরত্বের নির্যাস হলো আত্মবিশ্বাস। -ইমারসন।


 


 


বিদ্যা শিক্ষার্থীগণ বেহেশতের ফেরেশতাগণ কৃর্তক অভিনন্দিত হবেন।


 


 


 


ফটো গ্যালারি
মাহে সফর ও আখেরি চাহার শোম্বা
০৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


'সফর' আরবি সনের দ্বিতীয় মাস। ইসলামের ইতিহাসে এ মাসটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। মানব ইতিহাসের বহু ঘটনা বিশেষভাবে এ মাসে সংঘটিত হয়েছে এবং হাদীস শরীফে এ মাস সম্পর্কে বহু বর্ণনা পাওয়া যায়।



পৃথিবীতে যতো রকমের বিপদ-আপদ ও বালা-মছিবত রয়েছে তার অধিকাংশই এ মাসে হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হবে এ বিশেষ মাসটিতে। যেমন হাদীস শরীফের এক বর্ণনানুযায়ী বার মাসে যতো বালা-মছিবত অবতীর্ণ হয় তার সবই এ মাসের মধ্যে রয়েছে এবং গোটা বছরে আল্লাহ তা'য়ালা যেভাবে বিপদ-মছিবত দিয়ে থাকেন তন্মধ্যে নয় অংশ সফর মাসের মধ্যে এবং বাকি এক অংশ সারা বছরে। এজন্যে এ মাসকে 'মাহে নুযূলে বালা' বা বালা মছিবত অবতীর্ণ হওয়ার মাস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।



এ মাসে অনেক সম্মানিত নবী নবুয়তের পরীক্ষামূলক মছিবতের সম্মুখীন হয়েছেন, যা ইতিহাসে খ্যাত। যেমন : হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম'র জান্নাতে থাকাবস্থায় নিষিদ্ধ গাছের ফল ভক্ষণ, হযরত ইব্রাহীম আলায়হিস্ সালামকে অগি্নকু-ে নিক্ষেপ, হযরত আইয়ুব আলায়হিস্ সালাম'র কঠিন বালায় পতিত হওয়া, হযরত ইউনুছ আলায়হিস্ সালাম মাছের উদরস্থ হওয়া, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর লোবাইদ ইবনে আছম ও তার পুত্রদের কৃত যাদুর বাহ্যিক প্রভাব থেকে আরোগ্য লাভের মত বহু ঘটনা ঘটেছে এ মাসেই।



বালা-মছিবত মুমিনের জন্যে পরীক্ষাস্বরূপ। এ ধরণের বিপদে-আপদে ধৈর্য ধারণ ও আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করার জন্যে হাদীস শরীফে শিক্ষা দেয়া হয়েছে। অলি বুযুর্গগণ বিভিন্ন ধরণের দু'আ, নফল নামাজ, অজিফা ইত্যাদি দ্বারা সাধারণ মানুষকে ধন-স্বাস্থ্য ও সম্পদ এবং ঈমানী বালা-মছিবত থেকে রক্ষা করে খোদার নৈকট্যলাভের পথ দেখিয়েছেন। আমাদের উচিৎ এ মাসে আল্লাহর অসন্তুষ্টি থেকে বেঁচে থাকার সাধারণ অনুশীলনে ব্রতি হওয়া।



এ মাসের নফল এবাদত : সফর মাসের চাঁদ উদিত হওয়ার পর দুই রাকাত করে ছয় রাকাত নফল নামাজ পড়া যায়। অতঃপর দরূদ শরীফ পাঠ করে নিম্নের দু'আ পাঠ করবেন-



উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা সল্লে আলা মুহাম্মাদিন আবদিকা ওয়া নাবিয়্যিকা ওয়া আ'লা আলিহী ওয়া বারিক ওয়াছালি্লম। আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযুবিকা মিন শার্রি হাযাশ শার্রি ওয়া মিন কুলি্ল শিদ্দাতিন ওয়া বালাইন ওয়া বালিয়্যাতিন কদ্দরতা ফীহি ইয়া দাহ্রু, ইয়া দায়াহারু, ইয়া দায়াহারু ওয়া ইয়া কানা ইয়া কায়নুন, ইয়া কায়নানু ইয়া আজালু ইয়া আবাদু ইয়া মুবদিউ ইয়া মুরীদু, ইয়া যালজালালী ওয়াল ইকরামি ইয়া যাল আরশিল মাজীদী আন্তা তাফয়ালু মা তুরীদু আল্লাহুম্মাহরুছ বি আইনিকা নফ্সী ওয়া আহ্লি ওয়া মালি ওয়া ওয়ালাদী ওয়া দ্বীনি ওয়া দুনয়াঈ মিন হা-যিহিছ ছানাতি ওয়াকিনা মিন শাররি মা ক্বাদাইতা ফীহা ওয়া কারিমনী ফিচ্ছফরে বি করমিন নজরে ওয়াখতিমহু লী বি ছালামাতিন ওয়া আদাতিন ওয়া আহ্লি ওয়া আউলিয়াই ওয়া কারাবায়ি ওয়া জামিয়ি উম্মাতি সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিন আলায়হিস্ সালামি ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরামি ইবতালাইতানী বি ছিহ্হাতিহা বি হুরমাতিল আবরারি ওয়াল আখয়ায়ি ইয়া আজিজু ইয়া গাফ্ফারু ইয়া কারীমু ইয়া ছাত্তারু বি রাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।



সফর মাসের প্রত্যেক দিন উক্ত দু'আ পাঠ করা যায়।



আখেরি চাহার শোম্বা : সফর মাসের শেষ বুধবারকে আখেরি চাহার শোম্বা বলা হয়। এ দিনটি মুসলিম সমাজে অতি গুরুত্ব সহকারে পালন করা হয়। হুজূর সাইয়্যিদে আলম সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম'র প্রতি ইহুদীরা যাদু করেছিল এবং এর বাহ্যিক প্রভাব তাঁর দেহ মোবারকের বহির্ভাগে ক্রিয়াশীল হওয়ায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। অতঃপর হযরত জিব্রাঈল আলায়হিস্ সালাম আল্লাহর হুকুমে তাঁর হাবীবকে এ সম্পর্কে অবহিত করেন। অতঃপর প্রভাব নষ্ট করার পর হুজূর সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এ সফর মাসের শেষ বুধবার সুস্থতা বোধ করেন এবং গোসল করেন। নিম্নে বর্ণিত কার্যদ্বারা এ দিন উদ্যাপন করা অত্যন্ত উপকারী ও ফলদায়ক। সারা বছরের বালা-মছিবত, রোগ-শোক থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতে এ আমল অত্যন্ত ফলপ্রদ বলে সূফী সাধক ও আলেমগণ মত প্রকাশ করেন।



আমল : সফর মাসের শেষ বুধবার সূর্যোদয়ের পূর্বে গোছল করা উত্তম। অতঃপর সূর্যোদয়ের পর দোহার নামাজান্তে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া যায়। প্রতি রাকাতে সূরা ফাতিহার পর এগারবার সূরা ইখলাস তথা কুল হুয়াল্লাহু আহাদ পাঠ করবে, সালাম ফিরানোর পর সত্তরবার বা ততোধিক দরূদ শরীফ পাঠ করে নিম্নের দু'আ তিনবার পাঠ করবে-



 



উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ছার্রিফ আন্নী ছুআ হাযাল ইয়াওমা ওয়া আছিমনী মিন ছূয়িহী ওয়ানাযযিনী আম্মা আছাবা ফীহি মিন নাহূ ছাতিহী ওয়া কুরবাতিহী বিফাদ্বলিকা ইয়া দাফিয়াশ শার্রি ওয়া ইয়া মালিকান নুশূরি ইয়া আরহামার রাহিমীন; ওয়া ছাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদিন ওয়া আলিহিল আমজাদি ওয়া বারাকা ওয়াছাল্লাম।



এ দিন আয়াতে সালাম প্রত্যেক ফরজ নামাযের পর পাঠ করে সিনায় ফুঁক দিলে এবং কলা পাতায় বা কাগজে লিখে তা পানীয় জলে দিয়ে পান করলে আল্লাহর রহমতে বহু রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।



 



এদিন গোসল করার পর একটি পবিত্র ও পরিষ্কার পাত্রে পানি নিয়ে কলাপাতা বা কাগজে নিয়ে দু'আ ও নঙ্া লিখে পাত্রের পানিতে ডুবিয়ে অতঃপর কোমর পর্যন্ত পানিতে দাঁড়িয়ে মাথার উপর পানি ঢালবে। আল্লাহর ফজলে রোগ-ব্যাধি থেকে এর দ্বারা নিরাপদ থাকা যাবে।



আখেরি চাহার শোম্বা সম্পর্কে ফক্বীহগণের অভিমত : জাওয়াহেরুল কুঞ্জ ৫ম খ-ের ৬১৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে, ছফর মাসের শেষ বুধবার সূর্যোদয়ের পূর্বে গোসল করা উত্তম। আর সূর্যোদয়ের পর দুই রাকাত নফল নামাজ পড়া ভালো।



নিয়ম : প্রথম রাকাতে 'কুলিল্লাহুম্মা মালিকাল মুল্ক এবং দ্বিতীয় রাকাতে 'কুল আদয়ুল্লাহা আদয়ুর রহমান' থেকে সূরার শেষ পর্যন্ত পাঠ করবে। সালাম ফিরানোর পর নিম্নোক্ত দু'আ পাঠ করবে-



আল্লাহুম্মাছরাফ আন্নী শার্রা হাযাল ইয়াউমা ওয়াছমনী মিন শাউমিহি ওয়াজতানিবনী আম্মা আখাফু ফীহি মিন নহুছাতিহী ওয়া কুরবাতিহী বিফাদ্বলিকা ইয়া দাফিয়াশ শুরুরি ইয়া মালিকান্ নুশূরি ইয়া আরহামার রাহিমীন।



অনুরূপভাবে 'জাওয়াহেরে কাঞ্জ, ৫ম খ-, ৬১৭ পৃষ্ঠায় আছে, মাহে ছফরের শেষ বুধবার 'সপ্তসালাম' লিখে তা পানিতে ধুয়ে পানিটুকু পান করবে। আবদুল হাই লক্ষ্নৌভী সাহেব তাঁর মজমুয়ায়ে ফতওয়ায়ও একথা উল্লেখ করেছেন। 'তাযকিরাতুল আওরাদ' কিতাবে উল্লেখ আছে-



যে ব্যক্তি আখেরি চাহার শোম্বার প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাযের পর আয়াতে রহমত (সাত সালাম) পাঠ করে নিজের শরীরে ফুঁক দেয় বা তা পানের উপর লিখে ধুয়ে পান করে, আল্লাহপাক তাকে সবরকম বালা-মুছিবত ও রোগব্যাধি হতে নিরাপদ রাখবেন।



'আনওয়ারুল আউলিয়া' কিতাবে বর্ণিত আছে-যে ব্যক্তি আখেরি চাহার শোম্বার দিন দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে আল্লাহপাক তাকে হৃদয়ের প্রশস্ততা দান করবেন। প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পর এগার বার সূরা ইখলাস, নামাজ শেষে ৭০ বার দরূদ শরীফ পড়বে (আল্লাহুম্মা ছালি্ল আ'লা সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদিনিন নাবিয়্যিল উম্মিয়্যি ওয়া আলা আলিহি ওয়া আছহাবিহী ওয়াসাল্লাম)। অথবা প্রতি রাকাতে ৩ বার সূরা ইখলাস দ্বারা নামাজ শেষ করে ৮০ বার সূরা আলাম নাশরাহলাকা, সূরা নছর, সূরা ত্বীন ও ইখলাস পড়বে।



 



এ মাসে ওফাতপ্রাপ্ত কয়েকজন বুযুর্গ :



০৮ সফর : দাতা গঞ্জেবখশ্ লাহোরী (রাহঃ)।



১১ সফর : হযরত সালমান ফারসী (রাদ্বিঃ)।



২৬ সফর : মুজাদ্দিদ আল্ফেসানী (রাহঃ) ওফাত ১০৩৪ হিজরি।



২৫ সফর : ইমাম আহমদ রেযা খান বেরলভী (রাহঃ)।



২৯ সফর : হযরত ইমাম হাসান (রাদ্বিঃ) শাহাদাত ৪৯ হিজরি।



আল্লাহ আমাদের ব্যক্তিগত, রাষ্ট্রীয়, সামাজিক বালা-মছিবত ও বিপদ-আপদ থেকে পানাহ দিন; বিহুরমাতি সাইয়্যিদিল আম্বিয়া সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম।



মাসিক তরজুমান থেকে সংকলিত।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩৫৮৬৬
পুরোন সংখ্যা