চাঁদপুর। রোববার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮। ২ পৌষ ১৪২৫। ৮ রবিউস সানি ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দীপু মনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন || চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য দীপু মনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন || *
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৫-সূরা জাছিয়া :

৩৭ আয়াত, ৪ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩১। পক্ষান্তরে যাহারা কুফরী করে তাহাদিগকে বলা হইবে, তোমাদের নিকট কি আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হয় নাই? কিন্তু তোমরা ঔদ্ধত্য প্রকাশ করিয়াছিলে এবং তোমরা ছিলে এক অপরাধী সম্প্রদায়।  

 


assets/data_files/web

অসৎ আনন্দের চেয়ে পবিত্র বেদনা মহৎ।

-হোমার


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান চর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।

 


ফটো গ্যালারি
বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে ভোট দিন
অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ হাসান খান
১৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ১১:৩৩:১০
প্রিন্টঅ-অ+


১৯৭১ একটি সময়, একটি ইতিহাস। সে সময়ের সাহসী মানুষদের কালো রাত্রি পেরিয়ে আসা এক নতুন সূর্যোদয় হলো মুক্তিযুদ্ধ। যিনি এই কালো রাত্রি পেরিয়ে আসার প্রকাশ্য এবং নেপথ্য নায়ক তিনি হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। বিজয় ছোট্ট একটি শব্দের সমষ্টিগত গল্প, একটি ৯ মাসের যুদ্ধই নয় এটি ইতিহাসের এক মহাপর্ব। অন্যায় নির্যাতন আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে এটি একটি মানবিক উদ্বোধন, কেবল বাঙ্গালি জাতির কাছে নয় সারা বিশে^র কাছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস একটি বিস্ময়।

    আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। ৩০ লক্ষ শহিদ, ৩ লক্ষ বীরাঙ্গনা যাদের আত্মত্যাগে আমরা একটি মানচিত্র পেয়েছি। আরো স্মরণ করছি এবং শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এদেশের অগণিত বীর মুক্তিযোদ্ধা, সকল সেক্টর কমান্ডার এবং মিত্রবাহিনীর যোদ্ধাদের। এ দেশ স্বাধীন না হলে আমরা আজও পরাধীন থাকতাম, ঠিকমতো বাঁচতে পারতাম না, কথা বলতে পারতাম না, মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করে নিতো শোষকরা। তাই বিজয় দিবস বাঙ্গালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। আজ শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যিনি না থাকলে আমরা আজও দাসত্ব করে যেতাম, নির্যাতিত হতাম। তাঁর সাহসী নেতৃত্বে ৯ মাস যুদ্ধের পর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি সেইসব শহিদ, বীরাঙ্গনা, মুক্তিযোদ্ধা, তাদের সহযোগীদের। তাঁদের আত্মত্যাগের কারণেই আমরা আজকে স্বাধীন দেশে বসবাস করতে পারছি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিশে^র বুকে মাথা তুলে পেরেছি দাঁড়াতে।

    আজ একটি বিশেষ দাবি আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করছি। আপনারা সবাই জানেন এই বিজয়ের মাসেই আমাদের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০১৮ সালের বিজয়ের ডিসেম্বর মাস বহু কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কথা বলতে এবং শোসকদের প্রতিরোধ করতে। বিগত ১০০ বছরে বাঙ্গালির অধিকার নিয়ে সবগুলি আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্ব দিয়েছে আওয়ামী লীগ এবং এর নেতা-কর্মীরা। ৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ৬৬-এর ৬ দফা, ৬৯-এর গনঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সবগুলো আন্দোলনের সামনের সারিতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীবৃন্দ ছিল। আওয়ামী লীগ তাই ঐতিহ্যবাহী দল, স্বাধীনতার সপক্ষের দল, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ^াসী দল। এই দেশের অধিকাংশ দলগুলো হুট করে তৈরি হয়েছে। বাঙালির গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে এসব দলের উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা নেই। নেতা-কর্মীরাও কোনো আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন না। এ কারণে আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখনই দেশের উন্নয়ন করেছে।

    ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও পাকিস্তানের দোসর-প্রেতাত্মা অনেকেই এই স্বাধীনতা মানতে পারেনি। তারা পাকিস্তান চেয়েছিল। তারাই স্বাধীন বাংলাদেশকে আবারও পাকিস্তান বানানোর জন্যে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। এই দেশেরই এমন কিছু কুলাঙ্গার এবং মীর জাফরদের ষড়যন্ত্রে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হয়েছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অপরাধ কী ছিল? তিনি জীবনের বেশিরভাগ সময় দেশের মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। জীবনের তিন ভাগের একভাগ সময় তিনি ছিলেন জেলে, পাকিস্তানি কারাগারে থেকেও তিনি বশ্যতা মানেননি। তাঁর নেতৃত্বে শত শত বছরের বন্দি দশা থেকে স্বাধীনতা পেয়েছে বাঙালিরা। তিনি আমাদের দিয়েছেন বাংলাদেশ। একটি লাল সবুজের পতাকা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছেন। এসব কিছু কি তাঁর অপরাধ ছিল? যে মানুষটা আজীবন সংগ্রাম করে ত্যাগ স্বীকার করে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এনেছে, তাঁকে কুলাঙ্গাররা হত্যা করলো। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলবার আগেই বঙ্গবন্ধু নিহত হলে বাংলাদেশ আবার থমকে দাঁড়ায়। এর দীর্ঘদিন পর বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী মানবতার নেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের হাল ধরেন। অনেক ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও শেখ হাসিনা দমে যান নাই। জাতির জনকের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্নটি তিনি বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। ২য় ও ৩য় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশকে তিনি উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে এসেছেন। দেশের এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে জননেত্রীর উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এখন দেশের মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে।

    আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসা মানে দেশের উন্নয়ন হওয়া স্বাধীনতার চেতনা বিকশিত হওয়া। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসা মানে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস মানুষকে জানানো। সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা। অন্যদিকে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় এসে স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি করেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে চেয়েছে ধ্বংস করতে। দেশ এবং দেশের মানুষের উন্নয়ন নিয়ে তাদের ভাবনা ছিলো না। যার কারণে তাদের আমলে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে হ্যাট্টিক করেছিল। তারা লুটপাটের রাজত্ব চেয়েছে, মানুষের অধিকার নিয়ে ভাবনা ছিলো না। আজ বিজয় দিবসের মাত্র ১৩ দিন পর জাতীয় নির্বাচন হবে। জনগণ ভোটের মাধ্যমে ঠিক করবে দেশ পরিচালনার ভার কার হাতে থাকবে। পনের-বিশ বছর আগের চেয়ে এখন মানুষ বেশি সচেতন। এবার তরুণ ভোটারদের সংখ্যা বেশি, তাদের ভোট খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই তরুণরা শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশে বেড়ে উঠেছে। তারা সব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে বড় হয়েছে। তাদেরও ভাবতে হবে ভোট কাকে দিবে। শুধু তরুণরা না, সব শ্রেণি পেশার মানুষদেরকে ভোট দেয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। যাকে-তাকে ভোট দিলে দেশের অগ্রগতির পথ রুদ্ধ হবে। দেশে সহিংস, লুটপাট আবারও শুরু হবে। আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশি তাকে দিবো-এই স্লোগানের দিন এখন নেই। আমার ভোট আমি দেবো দেখে শুনে বুঝে দিবো। আমার ভোট আমি দিবো মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে দেবো, স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে দিবো-এমন স্লোগানের দিন এখন। কাজেই ভোট দিতে হলে সচেতন হয়ে ভেবে-চিন্তে যাকে দিলে দেশের উন্নয়ন হবে তাকে ভোট দিতে হবে।

    ৩০ ডিসেম্বর আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, জাতির জন্য তাৎপর্যবহ; কারণ এদিনের পরই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা হবে কি না। আমি মনে করি বিজয়ের মাসে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী বঙ্গবন্ধু এবং আওয়ামী লীগকেই সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ভোট দেয়া উচিত। উন্নয়ন চাইলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নৌকা মার্কার বিকল্প নাই। স্বাধীনতার স্বপক্ষে ভোট দিতে চাইলে নৌকা মার্কা ভোট দিতে হবে। স্বাধীনতা বিরোধীদেরকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না দেখতে চাইলে নৌকায় ভোট দিতে হবে। সংঘাত, সহিংসা, দুর্নীতি না চাইলে আওয়ামী লীগকেই ভোট দিতে হবে। ঘাতক-দালালদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে চাইলে ভোট দিতে হবে নৌকা মার্কায়।

    ভোটারদের স্মরণ রাখতে হবে, আওয়ামী লীগের আমলে গত দশ বছরে একবারও তো বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়নি, হ্যাট্টিক চ্যাম্পিয়ন হওয়া তো দূরের কথা। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে কোনো বাংলা ভাই সৃষ্টি হয়নি, ২১ আগস্টের মত প্রতিপক্ষকে চিরতরে সরিয়ে দিতে কোন নৃশংস হামলা করা হয়নি। মুক্তিযোদ্ধাদের অবমূল্যায়ণ করা হয়নি, বরং তাদের সুযোগ-সুবিধা বহুগুণে বাড়িয়েছে সরকার। আওয়ামী লীগ দেশ এবং মানুষের উন্নয়ন চায়, এটা এখন প্রমাণিত। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যেতে চান। সুখি-সমৃদ্ধ দারিদ্রমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ তিনি একে একে সমাপ্ত করছেন। বাংলাদেশকে এখন অনেক দেশই রোল মডেল হিসেবে দেখছে। শেখ হাসিনা যদি আরেকবার ক্ষমতায় আসেন তবে বাংলাদেশকে পৃথিবীর অধিকাংশ দেশই অনুসরণ করবে বলে আমার বিশ^াস।

    আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে কয়েক দশকে বিকৃত ইতিহাস থেকে মুক্তি পেয়েছি। খুঁজে পেয়েছি মুক্তিযুদ্ধের আসল ইতিহাস। আমাদের পরর্বতী প্রজন্ম জানতে পেরেছে আসলে মুক্তিযুদ্ধ কি, শুধু তাই নয় এ সরকারের আমলে যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার হয়েছে। শেখ হাসিনা পৃথিবীর ৫ জন সৎ রাষ্ট্রনায়কদের একজন এবং তিনি মানবতার নেত্রী হিসেবে বিশে^র কাছে পরিচিত হয়েছেন। অন্যদিকে কোনো কোনো দলের প্রধানরা দুর্নীতির দায়ে এখন সাজাপ্রাপ্ত, কেউ কেউ সাজা এড়াতে দেশের অবস্থান করছেন। সবকিছু দেখেই ভোটারদের ঠিক করতে হবে আপনারা কি সৎ মানুষকে প্রধানমন্ত্রী করতে ভোট দিবেন, নাকি দূর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত কারো হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা তুলে দিতে তাদেরকে ভোট দিবেন? ভোটার কি দেশের উন্নতি অব্যাহত রাখতে নৌকায় ভোট দিবেন নাকি যারা দুর্নীতিতে হ্যাট্টিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তাদেরকে ভোট দিবেন। যে দল মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন ও ধারণ করে ভোটাররা কি সেই দলকে ভোট দিবেন? নাকি যে দল যুদ্ধাপরাধীদের এমপি মন্ত্রী বানায়, গাড়িতে পতাকা তুলে দেয় সেই দলকে ভোট দিবেন ? আমি মনে করি, বাংলাদেশের মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন। তারা এবার কোনো ভুল করবেন না। বঙ্গবন্ধুর পক্ষে, স্বাধীনতার পক্ষে, উন্নয়নের পক্ষে, দেশের অগ্রগতির পক্ষে তারা ভোট দিয়ে বিজয়ের মাসে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী দলকে তারা বিজয়ী করবেন। ২০১৮ সালের বিজয়ের মাস বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকুক।



লেখক : সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, চাঁদপুর জেলা।



 


এই পাতার আরো খবর -
    আজকের পাঠকসংখ্যা
    ৪১৩০৯৯
    পুরোন সংখ্যা