চাঁদপুর, শুক্রবার ১৫ মার্চ ২০১৯, ১ চৈত্র ১৪২৫, ৭ রজব ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫০-সূরা কাফ্

৪৫ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৩৮। আমি আকাশম-লী ও পৃথিবী এবং উহাদের অন্তর্বর্তী সমস্ত কিছু সৃষ্টি করিয়াছি ছয় দিনে; আমাকে কোন ক্লান্তি স্পর্শ করে নাই।৩৯। অতএব উহারা যাহা বলে তাহাতে তুমি ধৈর্য ধারণ কর এবং তোমরা প্রতিপালকের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে,


assets/data_files/web

প্রতিভাবান ব্যক্তিরাই ধৈর্য ধারণ করতে পারে। -ই. সি. স্টেডম্যান।


যে শিক্ষিত ব্যক্তিকে সম্মান করে, সে আমাকে সম্মান করে।


ভোক্তাদের সংগ্রাম অতি মুনাফালোভী খাদ্যে ভেজালকারী ও প্রতারণার বিরুদ্ধে, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে না
এএসএম শফিকুর রহমান
১৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আজ ১৫ মার্চ বিশ্ব ভোক্তা অধিকার দিবস। জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত সকল রাষ্ট্রে এই দিবসটি পালন করা হবে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে। বাংলাদেশেও প্রতি বছরের ন্যায় প্রচার-প্রচারণা, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সেমিনার ইত্যাদি কর্মসূচির মাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে এই দিবসটি পালন করা হবে। এই ধারাবাহিকতায় আশা করা যায় যে, চাঁদপুরে দিবসটি পালন করা হবে।



ভোক্তা কী এবং ভোক্তা কারা এ ব্যাপারে ধারণা দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করি। সাধারণ অর্থে বাজার থেকে যারা জীবনের দৈনন্দিন প্রয়োজনে বিভিন্ন জিনিস বা পণ্য ক্রয় করে তারাই ভোক্তা। অনুরূপভাবে হোটেল রেস্তোরাঁয় যারা খাবার খান কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে এবং রেল, স্টিমার, বাসে যাতায়াত করে বিভিন্ন সেবা ধর্মী প্রতিষ্ঠানের সেবা গ্রহণ করেন তারাই ভোক্তা। এই দৃষ্টিকোণে ধনী থেকে গরীব, গরীব থেকে ধনী, ছোট থেকে বড় সকলেই ভোক্তা। স্পষ্ট করে বলা যায় যে, দিনমজুর, ফকির, মিসকিন এবং অভিজাত শ্রেণির সকলেই ভোক্তা বা ক্রেতা।



এই ভোক্তার স্বার্থ তখনই প্রশ্নবিদ্ধ হয় যখন দেখা যায় যে, ভোক্তাদের ক্রয় করা পণ্যে / জিনিসে থাকে ওজন কম, থাকে ভেজাল। বিক্রেতা করেন অধিক মুনাফা বা লাভ। যখন হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা সঠিকভাবে পাওয়া যায় না এবং নদী পথে যাতায়াতে যাত্রী সাধারণের সেবার পরিবর্তে বিভিন্ন অনভিপ্রেত ভোগান্তি ও বিড়ম্বনার পড়তে হয়, আর এসব বিড়ম্বনার সুবাদেই ভোক্তার অধিকারের বিষয়টি সামনে চলে আসে।



এসব নিয়ে সৃষ্ট ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণের দিবসের গোড়ার কথায় আসা যাক। এই আন্দোলনের জন্ম খোদ মার্কিন মুল্লুকে। মূল প্রবক্তা ছিলেন ওয়াশিংটনভিত্তিক মাল্টিন্যাশনাল মনিটর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সিনেটর র‌্যালফ ন্যাদের। তিনি সর্বপ্রথম তাঁর পত্রিকায় ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণের বিষয়ে গুরুত্বের সাথে লিখে মার্কিন জনগণের কাছে সমাদৃত হন। তার অব্যাহত লেখার সুবাদে ক্রেতা-ভোক্তার স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন. এফ. কেনেডি ১৯৬০ সালে চারটি বিষয়কে মূল নীতি ঠিক করে মার্কিন মুল্লুকে প্রতি বছর ১৫ মার্চ ভোক্তার অধিকার দিবস পালনের ঘোষণা দেন। মার্কিন কংগ্রেসে আমেরিকার মানুষের দিবসটি পালনের অনুপ্রেরণায় পরবর্তীকালে নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে বিভিন্ন দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের প্রতিনিধিদের আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনেই যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ভোক্তা সংগঠন তথা কনজিউমার ইন্টারন্যাশনাল গঠন করা হয়। স্বার্থ সংরক্ষণের আনুষ্ঠানিক পরিপূর্ণতা আসে ১৯৮৫ সালের ১৬ এপ্রিল। ঐ দিন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত এক প্রস্তাবে জন এফ কেনেডি ঘোষিত ১৫ মার্চকে সারা পৃথিবীতে ভোক্তা অধিকার দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।



এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর র‌্যালফ ন্যাদের যদি এই ভোক্তা আন্দোলনের প্রবক্তা হন তাহলে ভারতীয় উপমহাদেশে এই আন্দোলনের প্রবক্তা হবেন মজলুম জননেতা মরহুম মাওলানা ভাসানী। চলি্লশের দশকে ভারত বিভাগের আগে এই উপমহাদেশের আসামে স্বার্থবাজ কিছু ব্যবসায়ী ও মহাজন ওজন কারচুপি করে ক্রেতা-ভোক্তাদের উপর জুলুম করতো। সেই সময় আসামে ৬০, ৮০, ৮৪, ৯০ এবং ১২০ তোলা ওজনের বাটখারার পরিমাপ প্রচলিত ছিল। স্র্বাথবাজ এই সব ব্যবসায়ী ও মহাজনরা পণ্য ক্রয় করার সময় কৃষকদের কাছ থেকে ৯০ এবং ১২০ তোলার মাপে পণ্য ক্রয় করতো। আর ক্রেতার কছে বিক্রি করার সময় ৬০ এবং ৮০ তোলার পরিমাপের বাটখারা ব্যবহার করতো। আসামে তখন বাঙালি খোদও এবং লাইন প্রথা আন্দোলন তুঙ্গে। মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী এই ওজন কারচুপি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে জনগণকে সাথে নিয়ে স্বার্থবাজ ব্যবসায়ী ও মহাজনদের বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলেন। সেই আন্দোলনের ব্যাপকতায় স্বার্থবাজ ব্যবসায়ী ও মহাজনরা কেনাবেচায় পরিমাপের এই বৈষম্য অবসানে বাধ্য হন এবং বাজার থেকে সব ধরনের বাটখারা সরিয়ে কেবল মাত্র ৮০ তোলা ওজনের বাটখারার পরিমাপ স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন।



আন্তর্জাতিক ক্রেতা সংগঠন কনজুমার ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে পর্যায়ক্রমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ক্রেতা ভোক্তা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই ভাবেই এর বিশ্বায়ন শুরু হয়। এই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে ভোক্তা আন্দোলনের সূচনা হয় ১৯৭৮ সালে। ঐ বছর নেতৃস্থানীয় ভোক্তা প্রতিনিধিদের এক জাতীয় সম্মেলন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই সম্মেলনে ঈঅই তথা কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ গঠন করা হয়। প্রাথমিকভাবে খাদ্যে ভেজাল এবং কৃত্রিম উপায়ে মূল্য বৃদ্ধির চাপ প্রতিরোধের লক্ষ্য নিয়ে এই সংগঠনের সূচনা হলেও পরবর্তীতে সামাজিক, আর্থিক, স্বাস্থ্য, শিক্ষা সেবা ও পরিবেশ ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ বিষয়গুলোর মধ্যে ঈঅই-এর পরিধি বিস্তৃত হয়। ইতিমধ্যে দেশে দেশে এই আন্দোলনের বিস্তার এবং ব্যাপকতা বিবেচনায় নিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ১৯৮৫ সালের ১৬ এপ্রিল জন এফ কেনেডির ঘোষিত ১৫ মার্চকে সারা বিশ্বে ভোক্তা অধিকার দিবস পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। এতেই ভোক্তা আন্দোলনের পরিপূর্ণতা আসে এবং একযোগে জাতিসংঘভুক্ত সকল দেশে এই দিবস পালন করা শুরু হয়।



আন্তর্জাতিকভাবে এই ভোক্তা আন্দোলনের ফলে ক্রেতা ভোক্তাদের কতগুলো অধিকার জাতীয়ভাবে এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। অধিকারের মধ্যে আছে অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান পাবার অধিকার, নিরাপদ পণ্য ও সেবা পাবার অধিকার, পণ্যের উৎপাদন, ব্যবহার বিধি, মেয়াদ, পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি তথ্য জানার অধিকার, স্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করার অধিকার, পণ্য কিংবা সেবা গ্রহণে ক্ষত্রিগ্রস্ত হলে ক্ষতিপূরণ পাবার অধিকার, প্রতারণা ও ঠকবাজির বিরুদ্ধে অভিযোগ করার অধিকার। আর ক্রেতা ভোক্তার দায়িত্বের মধ্যে আছে পণ্য বা সেবার মান গুণাগুণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া, দর-দাম ঠিক করে সঠিক পণ্য বাছাই করা, দাম বাড়ার গুজবে কান দিয়ে এক সঙ্গে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকা, নিজের আচরণে অন্য ভোক্তা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখা সর্বোপরি ক্রেতা-ভোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংগঠিত ও সোচ্চার হওয়া।



বাংলাদেশে পণ্য মূল্যের ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতি, অতি মুনাফালোভী কিছু ব্যবসায়ীর ওজনে কম দেয়া বা নকল ও ভেজাল খাদ্য সামগ্রী বিপণন, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি, বিভিন্ন অজুহাতে পণ্য মূল্য বৃদ্ধি এবং সমিতির নামে সিন্ডিকেট করে দর বেঁধে দেয়া অধিক মূল্য, হোটেল রেস্তোরাঁয় নিম্নমানের খাবার তৈরি, হাসপাতালের চিকিৎসা গ্রহণে দালালের দৌরাত্ম্য, ভোগান্তি সহ প্রায় সকল ক্ষেত্রে ক্রেতা ভোক্তার স্বার্থ প্রতিনিয়তই উপেক্ষিত। সব মিলিয়ে ক্রেতা-ভোক্তাদের জীবন বলতে দুর্বিষহ এবং আমরা ভোক্তারা অসহায়। আমাদের দেশই একমাত্র দেশ যে দেশে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য মূল্য কমলেও আমরা ভোক্তারা এর সুফল পাই না। একবার যে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে আর কখনো কমানো হয় না। দাম বাড়তে বাড়তে বর্ধিত এক জায়গায় এসে স্থির হয়ে যায় এবং বর্ধিত সেই দরকে আমরা স্থিতিশীল হিসেবে গ্রহণ করে থাকি। গত ৯ মার্চ ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে কমনওয়েলথ সচিবালয়ের সাবেক প্রধান ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক বাজার দরের তুলনায় বাংলাদেশে ভোগ্য পণ্যের মূল্য ৭০ শতাংশ বেশি। এর প্রভাব নিম্ন ও মধ্যবর্তী ভোক্তাদের উপর সবচেয়ে বেশি হয়। এটি দেশের দারিদ্র্য হ্রাসের ক্ষেত্রে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। আন্তর্জাতিক বাজারে কয়েক দফা ডিজেল ও তেলের মূল্য কমলেও বাংলাদেশে দাম কমানো হয় না বরং বিভিন্ন অজুহাতে বহির্বিশ্বের দোহাই দিয়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য দফায় দফায় বাড়ানো হয়। বিভিন্ন যানবাহনে যাত্রীদের কাছে অধিক হারে ভাড়া নেয়া হয়। অথচ পরিবহনে যাত্রী সেবা ঠিকমত দেয়া হয় না। খাদ্য সামগ্রীতে বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য মিশানো হয়, কোনো কোনো পণ্য এমনভাবে নকল করা হয় যার ফলে আসল নকল চেনাই যায় না। চলমান এই নকল, ঠকবাজি ও প্রতারণা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার লক্ষ্যে কনজুমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ তথা ক্যাব ১৯৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশের ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করে আসছে নিরবচ্ছিন্নভাবে। ক্লাবের নিরন্তর আন্দোলনের সুবাদে ২০০৯ সালে ক্রেতা ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ পাস করা হয়। আইনের অধিকাংশ ধারা ভোক্তার প্রতিকূলে হলেও ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ কে ভোক্তাদের অধিকারের স্বীকৃতি অর্জন এবং প্রাথমিকভাবে ভোক্তাদের বড় সাফল্য বলে মনে করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে জাতীয় ভোক্তা অধিকার পরিদপ্তর জেলায় জেলায় ভোক্তা দপ্তর চালু এবং জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলা ভোক্তা পরিষদ গঠন ভোক্তাদের জন্যে বড় অগ্রগতি। আইনের একটি দিক হলো অভিযোগ দায়ের করতে কোনো ফি লাগে না। আর অভিযোগ প্রমাণিত হলে ক্ষতিপূরণ হিসেবে জরিমানার ২৫ ভাগ সংশ্লিষ্ট অভিযোগকরী অথবা সংক্ষুব্ধ ভোক্তা পাবেন।



উল্লেখ্য, ২০০৯-এর আগে ভোক্তা অধিকার রক্ষায় আর কোনো আইন ছিল না। সুতরাং ক্যাবের নেতৃত্বে আন্দোলনের এই প্রাপ্তি ভোক্তাদের বড় সাফল্য বলা চলে। গণশুনানির মাধ্যমে দফায় দফায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ক্যাবের জোরালো ভূমিকা প্রশংসার দাবি রাখে। জেলা উপাজেলায় ক্যাবের শাখা গঠন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সময়ে সময়ে কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে ভোক্তাদের সচেতন ও সংগঠিত করার কাজ চলমান আছে। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, ভোক্তার স্বার্থরক্ষায় বিদ্যমান ভোক্তা আইনে জেলা ও উপজেলা ভোক্তা পরিষদে ভোক্তাদের প্রতিনিধি একেবারে নগণ্য। আমি একজন ভোক্তা হিসেবে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় গঠিত ভোক্তা পরিষদের ভোক্তা সংগঠনে বর্তমান প্রতিনিধির সংখ্যা এক থেকে নূ্যনতম তিনে উন্নীত করা এবং সেই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলার প্রেসক্লাবের সভাপতি, বারের সভাপতিকে জেলা ভোক্তা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করে জেলা ভোক্তা পরিষদের পরিধি বৃদ্ধির জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট সবিনয় আবেদন জানাই।



এই আন্দোলনে একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে সম্পৃক্ত হয়ে মাঝে মাঝে ব্যবসায়ী ভাইদের মধ্যে ক্যাব তথা ভোক্তা সংগঠনের উপর বিরূপ মনোভাব বা অসন্তোষ লক্ষ্য করে আসছি। অর্থাৎ আন্দোলনকে ব্যবসায়ী বন্ধুগণ অকারণে ভুল বুঝে আসছেন। এটা পরিষ্কার করতে চাই যে, ক্যাব কিংবা ভোক্তার সংগ্রাম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে না। কারণ আমরা জানি ব্যবসায়ীরা কোনো না কোনোভাবে ভোক্তা। তাই তাদের সাথে আমাদের বিরোধের কোনো সুযোগ নেই। তবে আমাদের আন্দোলন সেইসব অতি মুনাফালোভী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে, যারা ফলে কার্বাইড, মাছে ফরমালিন, দুধে পানি, মধুতে চিনি ইত্যাদি মিশিয়ে সাধারণ ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করে ওজনে কম দেন কিংবা নিম্নমানের সেবা দিয়ে অধিক টাকা আয় করে নেন এবং রোজা ঈদ কিংবা পূজা উপলক্ষে ভোক্তাদের বর্ধিত চাহিদাকে কেন্দ্র করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ান এবং ভোক্তাদের জিম্মি করেন। আমাদের সংগ্রাম তাদের বিরুদ্ধে, ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে না। শুধু তাই নয়, এক সঙ্গে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য কেনা থেকে বিরত থাকার জন্য এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় আমাদের সকলকে ভোক্তা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রয়োজন বলে মনে করি। মনে রাখতে হবে যে, ভোক্তা অধিকার যেমন মানবাধিকারের সমতুল্য তেমনি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনে এবং শোষণহীন সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে ভোক্তাদের অধিকার বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। আরো মনে রাখতে হবে যে, অধিকার কারোর দয়ার দান নয়। একে আদায় করে নিতে হয় নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে। আর ভোক্তাদের জন্যে অধিকার আদায়ের একমাত্র উপায় ক্যাবের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়া। কারণ অধিকার প্রাপ্তিতে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।



লেখক : এ.এস.এম. শফিকুর রহমান, একজন ভোক্তা, ০১৬৭০-৮৭৯৫৮৯।



 



 



 



 


এই পাতার আরো খবর -
    আজকের পাঠকসংখ্যা
    ৩০৮০৯৩
    পুরোন সংখ্যা