চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০১৯, ২৭ আষাঢ় ১৪২৬, ৭ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


assets/data_files/web

সংশয় যেখানে থাকে সফলতা সেখানে ধীর পদক্ষেপে আসে।


-জন রে।


 


 


যে ব্যক্তি উদর পূর্তি করিয়া আহার করে, বেহেশতের দিকে তাহার জন্য পথ উন্মুক্ত হয় না।


 


যে শিক্ষা গ্রহণ করে তার মৃত্যু নেই।


 


ফটো গ্যালারি
সরকারি কর্মকর্তা বনাম সাধারণ মানুষ
মানুষ মরণশীল-চিরন্তন এ সত্যকে খণ্ডায় কে।
১১ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


জিয়াউলের মত অনেকেরই কপাল পোড়ে প্রবাসে এসে। সরকারের দেখার যেন সময় নেই। তবে এ-ও সত্য সরকার প্রধানতো জানেন না কী ঘটছে বিশ্বের বিভিন্ন দূতাবাসে এবং প্রবাসীদের কার কী সমস্যা। প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ না থাকলেও প্রবাসীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স সব সময় দেশে রিজার্ভ থাকে, যা দিয়ে দেশের অর্থনীতি স্থির থাকে। যাইহোক, লাশ দেশে পাঠাতে মিলান কনসুলেট অফিসের কোনো উদ্যোগ বা মাথা ব্যথা না থাকলেও সাধারণ মানুষের দায়িত্ববোধ সরকারি কর্মকর্তাদের চেয়েও কয়েকগুণ বেশি।



লাশ দেশে পাঠানোর দায়িত্ব নিলেন ভেনিসে বসবাসরত ভেনিস বাংলা স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সৈয়দ কামরুল সারোয়ার। যতটুকু জানি, ভেনিসে প্রবাসী বাংলাদেশীদের যে কোনো সমস্যায় তিনি এগিয়ে আসেন। লাশ দেশে পাঠানোর ব্যাপারে তার সাথে আলাপ হলে তিনি বলেন, মিলান কনসুলেট অফিস লাশ পাঠানোর জন্যে কোনো আর্থিক সহযোগিতা করতে পারবে না। অফিস শুধুমাত্র ট্রাভেল পাস দিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। জিয়াউলের লাশ পাঠাতে মিলান কনসুলেট অফিস আর্থিকভাবে কোনো সহযোগিতা না করার অন্যতম কারণ, মৃত্যুর আগে তিনি সরকারের শর্ত পূরণ করতে পারেননি অর্থাৎ জিয়াউল ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্য হননি। অবশেষে প্রবাসীদের আর্থিক সহযোগিতায় গত বুধবার জিয়াউলের লাশ ভেনিস থেকে দেশে পাঠানো হয়। তাহলে সরকারের এই দুই টাকার প্রণোদনা দিয়ে প্রবাসীদের সমস্যা কি সমাধান হবে ?



এ যাবৎ কোনো দূতাবাস নিজ উদ্যোগে প্রবাসীদের সহযোগিতা করেছে বলে আমার জানা নেই। তাদের কাছে মৃত্যুর আগেই প্রবাসীরা সঠিক মূল্যায়ন পায় না, মৃত্যুর খবর দিলে অফিসিয়াল ব্যবস্থা নিতে একটু সময় লাগা স্বভাবিক নয়কি।



প্রবাসীরা মনে হয় জন্মগতভাবে অস্পৃশ্য। তাই কোনো ভাবেই দূতাবাস থেকে কোনো সহযোগিতা তারা পান না। এমন অভিযোগ বিশ্বের প্রতিটি বাংলাদেশী দূতাবাসের বিরুদ্ধে অহরহ পাওযা যায়। তাছাড়া বাংলাদেশ থেকে কোনো দেশে যেতে যে ধরনের সহযোগিতা সরকারিভাবে পাওয়া দরকার তা কোনো সরকারের আমলে কোনো প্রবাসী পান না।



আমারা যদি চীন, ফিলিপাইন, ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ অন্যান্য দেশের সরকারি সুযোগ-সুবিধার কথা বলি তাহলে আশ্চর্য হওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই। এ সমস্ত দেশের নাগরিকরা অন্য দেশে শ্রমিক হিসেবে যাওয়ার আগে সরকারিভাবে ট্রেনিং, অর্থনৈতিক সহযোগিতা পায় অর্থাৎ প্রয়োজনীয় সুবিধা দেয় সরকার। এক একজন শ্রমিককে প্রবাসে পাড়ি জমাতে ভিসা ফি ও বিমান ভাড়া ছাড়া বাড়তি কোনো টাকা গুণতে হয় না। বাংলাদেশে এর চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। বরং একজন শ্রমিক কোনো দেশে যেতে কী পরিমাণ হয়রানির শিকার হতে হয় তা বিশ্লেষণ আকারে বলা কঠিন।



এরপর একজন শ্রমিক দেশ থেকে নানা রকম চড়াই উৎরাই পাড়ি দিয়ে প্রবাসে এসে কর্মস্থলে কোনো সমস্যায় পড়লে এই সমস্যা সমাধানের জন্যে দূতাবাসগুলোর কোনো সহযোগিতা পান না। কোনো কোনো কোম্পানি বেতন দিতে গড়িমসি করলে এবং মানসিক টর্চারসহ নানাভাবে হয়রানি করলে দূতাবাস শ্রমিকদের জন্যে এগিয়ে আসে না। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একজন প্রবাসীর জন্যে। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য দেশের নাগরিকরা তাদের দূতাবাস থেকে সমস্যা উত্তরণের জন্যে সহযোগিতা প্রাপ্তির অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিকরা দেশ হতে দেশান্তরে সব সময় অবহেলিত।



সরকারি সহযোগিতা ছাড়াই নিজ অর্থে বিদেশে গিয়ে নানা রকম সমস্যার মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীরা বিশেষ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু কোনো প্রবাসী বিপদে পড়লে দূতাবাস সহযোগিতা করতে কার্পণ্য করে। কেন এ রকম করা হয় এ প্রশ্নের জবাব কার কাছে পাওয়া যাবে জানি না।



জিয়াউলের লাশ দেশে পাঠাতে মিলান কনসুলেট অফিসের সহযোগিতা না দেওয়ায় অর্থমন্ত্রী আহম মোস্তফা কামালের কথা উপেক্ষা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ইতালি আওয়ামী লীগের এক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বলেছিলেন, প্রবাসীরা দেশের এক একজন অর্থমন্ত্রী। বর্তমান সরকার প্রবাসবান্ধব। প্রবাসীদের যৌক্তিক দাবি পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রবাসীদের মরদেহ এখন থেকে দেশে যাবে বিনা খরচে।



প্রখর রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে প্রবাসীরা অর্জিত অর্থ দেশে পাঠায় পরিবারের সুখের আশায় এবং দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে। এরপরেও দেশে আসলে বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায় বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা ট্রলি নিয়ে পর্যন্ত হয়রানি করেন। এর চেয়ে দুঃখজনক আর কী হতে পারে। প্রবাসে কষ্ট করে এসে নিজ দেশেও অবশেষে বুক ভরা জ্বালা নিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়। এমন কা- পৃথিবীর আর কোনো দেশে দেখা যায় না। মনে হয় না এ রকম কেউ টানাহেঁচড়া করে। তাও আবার নিজ দেশে এসে খোদ নিজ দেশের মানুষ দ্বারা হয়রানি ! এ আচরণ বড়ই বেদনাদায়ক। প্রবাসীরা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশকে সহযোগিতা করছেন, সরকারের উচিত প্রবাসীদের সহযোগিতা করা এবং পাশাপাশি বিশেষ কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করে হয়রানি নামক ভয়ঙ্কর আচরণ থেকে রক্ষা করা। প্রবাসীরা যত বেশি সুবিধা ভোগ করতে পারবে ততই রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে। সর্বোপরি তারা দেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন। লেখক : প্রবাসী সংবাদকর্মী, ইতালি।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৫৪৮৯৩
পুরোন সংখ্যা