চাঁদপুর, শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৫ জিলকদ ১৪৪০
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • এক কিংবদন্তীর প্রস্থান চাঁদপুরবাসী শোকাহত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৩-সূরা নাজম


৬২ আয়াত, ৩ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


assets/data_files/web

যাকে মান্য করা যায় তার কাছে নত হও। -টেনিসন।


 


 


যারা ধনী কিংবা সবকালয়, তাদের ভিক্ষা করা অনুচিত।


 


 


ফটো গ্যালারি
'পরিকল্পিত ফল চাষ যোগাবে পুষ্টিসম্মত খাবার'
মুহাম্মদ আবদুল লতিফ ছিদ্দিকী
১৯ জুলাই, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রতি বছরের ন্যায় এবারো জেলা প্রশাসন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সামাজিক বন বিভাগ চাঁদপুর-এর যৌথ উদ্যোগে হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বৃক্ষমেলা-২০১৯। আমরা যদি প্রতিপাদ্যের দিকে খেয়াল করি তাহলে দেখতে পাবো সরকারের বহুমাত্রিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের সাথে মিল রেখে এবার 'বৃক্ষমেলা-২০১৯'-এর প্রতিপাদ্য বিষয় নির্বাচন করা হয়েছে। স্বাধীনতোত্তর কৃষি উন্নয়নের জন্যে যতোগুলো কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে সফল, ব্যাপক এবং দীর্ঘতম কর্মসূচি ছিলো বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তি শ্রেণির উদ্যোগে এ দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ঈদগাহ, রাস্তাঘাট, নদীর পাড়, পাহাড়, সমুদ্রের তীরসহ এমন কোনো জায়গা নেই যে, যেখানে বনায়ন হয়নি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্যে বা পরিবেশের উন্নয়নের জন্যে যে সমস্ত বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়েছে তা এখন পরিবেশের জন্যেই হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।



 



'নগদ যা পাও, হাত পেতে নাও



বাকির খাতায় শূন্য থাক।



দূরের বাদ্য লাভ কি শুনে



মধ্যে যে তার বেজায় ফাঁক।'



নগদ নারায়ণের আশায় আমরা নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মেরেছি। এমন কিছু গাছ আমরা রোপণ করেছি যেমন : রেনট্রি, ইউটিকিলিপ্যাস, মেহগনি, চাম্বুল ইত্যাদি। এ সমস্ত গাছের নিচে ফসল তো দূরের কথা, দুর্বাও জন্মায় না, পাখি বাসা বাঁধে না, এদের ডাল পানিতে ডুবে না বরং পানিতে ভেসে থাকে। এ সমস্ত গাছের ডালা মাছের ঘেরে ব্যবহার করলে ওই সমস্ত ঘেরে কোনো মাছ থাকে না। এদের কাঠজ মূল্য তেমন বেশি না। এ থেকে বোঝা যায় যে, এ সমস্ত বৃক্ষ আমাদের উপকারের চেয়ে অপকার বেশি করে। আমি তো বলি রেনট্রি লাগানো মানে বাড়িতে ঝগড়া করার জন্যে আরেকজন অংশীদার ডেকে আনার মতো।



আমাদের ঐতিহ্যবাহী যে পরিবেশ ছিলো বন-বাদাড়ে ঘেরা, অতিরিক্ত জনসংখ্যার জন্যে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান ইত্যাদি জোগাতে গিয়ে আমরা হারিয়ে ফেলেছি আমাদের মায়া-মমতায় ঘেরা কাজল কালো দিঘি, ঝোঁপ-ঝাড়। যেখানে ছিলো আম, জাম, কাঁঠাল, নারকেল, পেয়ারা, লেবু, গাব, বরই, শিমুল, ছাতিম, বাদাম, হিজল, বাঁশঝাড়, নুনতা, ডুমুর, জামরুল, ছালতা, পেতি জাম, মেহেদী, বইচি, বেল, তেঁতুল, খুদে জাম, অড়ইর, বেত বন, পদ্মভরা পুকুর, তাল, সুপারি। এ সমস্ত বন-বাদাড়, গাছপালা ঘিরে বাসা বাঁধতো ভাদুর, কাক, ঘুঘু, টিয়া, ময়না, বক, শালিক, দোয়েল, শ্যামা ও নানা রকমের পাখপাখালি। এদের মধুর গানের সুর দূর বাতাসে ভেসে আসতো। প্রকৃতিতে ঋতু পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যেতো এদের গান শুনে, বাসা বাঁধা দেখে। তাছাড়া এ বন-বাদাড় গাছপালার নানা গন্ধ ও বর্ণের ফুলে ফুলে ভরে যেতো। যেমন গাব ফুলের মালার বুনো গন্ধ, শিউলি ফুলের মালা, মেহেদী ফুলের মাতোয়ারা ঘ্রাণ। পলাশ, কৃষ্ণচূড়ার লাল টকটকে ফুলের রক্তিম শোভা মনে করিয়ে দিতো 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি'র কথা।



সুতরাং আসুন ফলদ বৃক্ষমেলা ২০১৯ খ্রিঃ-এর প্রতিপাদ্য বিষয় 'পরিকল্পিত ফল চাষ যোগাবে পুষ্টিসম্মত খাবার'কে বাস্তবায়ন করতে বৃক্ষরোপণ করে তাকে বাস্তবে রূপদান করি। আমরা যতোই আধুনিক হই, যতোই নাগরিক যাপিত জীবনে অভ্যস্ত হই না কেনো, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্যে বৃক্ষরোপণ বা প্রাকৃতিক পরিবেশের বিকল্প নেই। আমরা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের শুধু একটি বিষয় স্মরণে আনতে চাই তা হলো 'বজ্রপাত'। বর্তমান সরকার বজ্রপাতকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। আর এ বজ্রপাতের ৯০% শিকার হচ্ছে মাঠে কর্মরত আমাদের কৃষক ভাই। যারা আমাদের ক্ষুধার জন্যে অন্ন জোগায়। সুতরাং আসুন শত কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে আওয়াজ তুলি 'যারা জোগায় ক্ষুধায় অন্ন, আমরা আছি তাদের জন্য'। আমরা কীভাবে তাদের জন্যে তা হলো, তাল বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আমরা বজ্রপাতজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ রোধ করতে পারি। সুতরাং আসুন তাল পাকা/পড়ার পরে তালের ভরা মৌসুমে প্রত্যেকে কমপক্ষে ৫টি তালের অাঁটি, ৫টি ফলদ বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে আমরা 'বৃক্ষমেলা-২০১৯খ্রিঃ'কে সাফল্যম-িত করে তুলি। জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সামাজিক বন বিভাগ আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে মেলাটিকে সাফল্যম-িত করে তোলার জন্যে। জেলা প্রশাসক জনাব মোঃ মাজেদুর রহমান খান, সভাপতি বৃক্ষমেলা-২০১৯ সকলকে বৃক্ষরোপণসহ মেলা চত্বরে সবান্ধবে অংশগ্রহণের জন্যে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।



মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জনাব জিহাদুল কবির বিপিএম, পিপিএম, পুলিশ সুপার, চাঁদপুর; জনাব কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, সামাজিক বন বিভাগ, কুমিল্লা; জনাব নাছির উদ্দিন আহমেদ, সভাপতি, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ ও মেয়র, চাঁদপুর পৌরসভা এবং জনাব আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, সাধারণ সম্পাদক, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগ।



সুতরাং আমাদের অনাগত প্রজন্মের জন্যে একটি আবাসযোগ্য বাসভূমি রেখে যাওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে কিশোর কবি সুকান্তের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে বলতে ইচ্ছে করে,



'এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান।



জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ পিঠে চলে যেতে হবে আমাদের।



চলে যাবো_তবু আজ যতোক্ষণ দেহে আছে প্রাণ



প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,



এ বিশ্বেকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি_



নবজাতকের কাছে আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।'



মেলায় আগত সকলকে জেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও সামাজিক বন বিভাগ থেকে শুভেচ্ছা স্বাগতম।



বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুুর রহমান স্বাধীনতার মহানায়ক,



বাংলার মেহনতি কৃষকই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহানায়ক।



কৃষিবিদ মোঃ আবদুর রশীদ, উপ-পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চাঁদপুর 'বৃক্ষমেলা-২০১৯'কে সাফল্যম-িত করে তোলার জন্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সবাইকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্যে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।



লেখক : মুহাম্মদ আবদুল লতিফ ছিদ্দিকী, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার, উপজেলা কৃষি অফিস, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর। মোবাইল ফোন : ০১৭১৪৫০১০২৭।



 



 


এই পাতার আরো খবর -
    আজকের পাঠকসংখ্যা
    ১০০৭৪৭৯
    পুরোন সংখ্যা