চাঁদপুর, সোমবার ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১ পৌষ ১৪২৬, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৫৯-সূরা হাশ্‌র


২৪ আয়াত, ৩ রুকু, মাদানী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


১০। যাহারা উহাদের পরে আসিয়াছে, তাহারা বলে, 'হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদিগকে এবং ঈমানে অগ্রণী আমাদের ভ্রাতাগণকে ক্ষমা কর এবং মুমিনদের বিরুদ্ধে আমাদের অন্তরে বিদ্বেষ রাখিও না। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তো দয়ার্দ্র, পরম দয়ালু।'


 


 


 


কারো অতীত জেনো না তার বর্তমানকে জানো এবং সে জানাই যথার্থ। -এডিসন।


 


 


যারা অতি অভাবগ্রস্ত, দীন-দরিদ্র কেবল তারা ভিক্ষা করতে পারে।


 


ফটো গ্যালারি
প্রথম স্বাধীনতা দিবস ও বঙ্গবন্ধুর ভাষণ
ড. মোহাম্মদ হাসান খান
১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


আজ ১৬ ডিসেম্বর। এইদিন পাকিস্তানের বর্বর বাহিনী মিত্র বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। আজ আমরা বিজয় দিবস পালন করছি। আমরা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। আজ আমাদের পতাকা দুনিয়ায় উড়ে।



স্বাধীনতা সংগ্রাম একদিনে শুরু হয়নি, স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু হয়েছে অনেক আগে। অনেক ত্যাগ তিতীক্ষা, অনেক অত্যাচার, অবিচার, অনেক রক্ত, অনেক কারাভোগ, তারপরে স্বাধীনতার চরম পর্যায় আসে। কতদিন, কতরাত, কত বছর, এইভাবে গোপনে গোপনে আমাদের আন্দোলন গড়ে তুলতে হয়েছে, সে ইতিহাস জানা দরকার।



১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর, স্বাধীন দেশের প্রথম বিজয় দিবস। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রেসকোর্সে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। দিনটিকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করা হয়। শুধু তাই নয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের চিত্র তুলে ধরে দেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।



বঙ্গবন্ধু সবাইকে দেশের বিধ্বস্ত অবস্থা তুলে ধরে দেশ গড়ার কাজে নিবেদিত হওয়ার আহ্বান জানান। রেসকোর্সে এ তিনি আরো বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে। নইলে শহীদের রক্তের সাথে প্রতারণা করা হব। আপোষ করতে শেখ মুজিবুর রহমান জানে না। বাংলার বুকে বিচার হবে, বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীর বিচার হবে।



আজ আমার মানুষ রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছে, রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করব। কারো কাছে মাথা নত করতে আমি জানি না। যে দেশে ত্রিশ লক্ষ লোক জীবন দিবার পারে, যে জাতি দুই লক্ষ মা-বোন ইজ্জত দেবার পারে, যে জাতি মানুষের সামনে বুক ফুলিয়ে গুলি খেয়ে মরতে পারে, এই জাতিকে আর দমানোর শক্তি কারো নাই।



যারা দেশকে সেই সময় অস্থিতীশিল করতে চাইত তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, কিছু কিছু পাকিস্তানী দালাল আজ এই বাংলাদেশে খেলছে, যারা আমার পাটের গুদামে আগুন লাগায়। পাটের গুদাম বাংলার সম্পদ। তোমাদের আমি ক্ষমা করেছিলাম। মুজিবুর রহমান নরম মানুষ, বাংলার মাটি যেমন নরম, পলিমাটি যেমন ভিজলে নরম হয়, আমিও তেমনি নরম। আবার চৈত্রের প্রখর রৌদ্রে যেমন শক্ত হয় বাংলার মাটি, আমি তেমনি শক্ত হতে জানি।



আজ চোর, গুন্ডা, বদমাইশ, ডাকাতরা যারা অস্ত্র পেয়েছে, গ্রামে গ্রামে ডাকাতি করে। দুঃখী মানুষ ঘুমাতে চায়। আজ এই ১৬ ডিসেম্বর, আজ থেকে আপনারা দলিল পেয়েছেন শাসনতন্ত্র, সংবিধান। দুনিয়ার ইতিহাসে বিপ্লবের পর কেউ শাসনতন্ত্র ১১ মাসে দিতে পারে নাই।...২৫ বছর কত সংগ্রাম করেছি এই দলিলের জন্য। সেই দলিল বাংলার মানুষ আজ পেয়েছে।



যত কালাকানুন ছিল পাকিস্তান আমলে, আজ থেকে বাতিল করে দেয়া হলো। তিনি বলিষ্ঠকণ্ঠে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীত্বের জন্য শেখ মুজিবুর রহমান রাজনীতি করে নাই। বাংলার মানুষকে ভালোবাসি বলেই রাজনীতি করেছিলাম। হাসতে হাসতে ফাঁসির কাষ্ঠে যেতে চেয়েছিলাম। বাংলার মানুষকে ভালোবাসি আর বাংলার মানুষ একদিন যদি দেখি আমাকে ভালোবাসে না, এই প্রধানমন্ত্রিত্ব লাথি দিয়ে আবার আমি বাংলার মাটিতে চলে যাব।



বঙ্গবন্ধু চাইলে বাহাত্তরের পর ৫ বছর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি নির্বাচন দিয়ে দিয়েছেন। কারণ গণতন্ত্রের জন্যেই তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। বঙ্গবন্ধু আগামী ৭ মার্চ নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেন। বীরের নাম থেকে যায় যুগ থেকে যুগে। আমাদের একটি দেশ, একজন জাতির পিতা। একজন স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু জাতিকে স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন দেখিয়ে ছিলেন। কিন্তু ঘাতকদের কারণে তাঁর স্বপ্ন পূরণ হয়নি।



বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হলে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে ছিটকে পড়ে। আজ ৪৯তম বিজয়ের দিবসে বাংলাদেশের সাফল্য অনেক। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্ন তাঁর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা পূরণ করেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে, বাংলাদেশ ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত হয়েছে। এদেশের মানুষ বিশ্বজয় করছে।



আরো আনন্দের বিষয়, আগামী বছরই বাংলাদেশ জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন করবে। বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ শব্দ তিনটি একসূত্রে গাঁথা। বিজয়ের এ দিনে জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই। পিতা আমরা তোমার আদর্শ ভুলিনাই কোনদিন ভুলবনা। আমাদের অর্জিত স্বাধীনতা জীবন দিয়ে হলেও রক্ষা করবই।



জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।



-ড. মোহাম্মদ হাসান খান, কলামিস্ট ও রাজনীতিবিদ।



 



 



 



 


এই পাতার আরো খবর -
    আজকের পাঠকসংখ্যা
    ৮৩১৪৫৬
    পুরোন সংখ্যা