চাঁদপুর, বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল ২০২০, ১৮ চৈত্র ১৪২৬, ০৭ শাবান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে আরো ১২ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ১৫৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


১৬। এবং আকাশ বিদীর্ণ হইয়া যাইবে আর সেই দিন উহা বিশ্লিষ্ট হইয়া পরিবে।


১৭। ফিরিশ্তাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকিবে এবং সেই দিন আটজন ফিরিশ্তা তোমার প্রতিপালকের আরশকে ধারণ করিবে তাহাদের ঊধর্ে্ব।


 


assets/data_files/web

বেদনা হচ্ছে পাপের শাস্তি।


-বুদ্ধদেব।


 


 


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।


 


জাটকা রক্ষায় সচেতন হোন
সুধীর বরণ মাঝি
০২ এপ্রিল, ২০২০ ১৫:৫৯:৩৪
প্রিন্টঅ-অ+


খুব কষ্ট এবং যন্ত্রণা থেকে লিখতে বসলাম। দেখি আর ভাবি- মানুষ কীভাবে পারে এসব? দিনের বেলাতেই জেলেরা অবাধে জাটকা ধরছে; তার সঙ্গে ইলিশ। অথচ ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ।

নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও এবং রাতে নদীগুলো অন্ধকার থাকার কথা থাকলেও সন্ধ্যার পরপরই নদীগুলো আলো ঝলমলে হয়ে উঠে। প্রশাসনকে ফোন করেও কোনো সুফল পাওয়া যায় না। আমরা এ অবস্থা দেখতে চাই না; আমরা এর প্রতিকার চাই।

ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ, জাতীয় সম্পদ এবং ইলিশ উৎপাদনে বাংলাদেশ প্রথম। আজকের জাটকা আগামী দিনের বড় ইলিশ। একটি জাটকা ৫-৭ মাসের মধ্যে এক কেজি ওজনের ইলিশে পরিণত হয়।

একটি জাটকা ৫ টাকা আর একটি ইলিশ ৬০০-৯০০ টাকা। জাটকা রক্ষা করতে পারলে ইলিশ হয় এবং তা জাতীয় সম্পদে পরিণত হয়। আজকের জাটকা আগামী দিনের বড় ইলিশ-মানুষের মধ্যে এই বোধ পুরোপুরিভাবে জাগাতে পারলেই ইলিশ রক্ষা হবে এবং ইলিশের উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ এবং ঐতিহ্যের একটি অংশ। একে রক্ষা করা এবং এর উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করা প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য।

ডিম ছাড়ার সময় এবং প্রজনন মৌসুমে নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলে কতিপয় অসাধু ব্যক্তি অতিরিক্ত মুনাফার আশায় কখনও গোপনে এবং কখনও প্রশাসনের যোগসাজশে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে জাটকাসহ অন্যান্য মাছ ধরে আমাদের মৎস্যসম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।

জাটকাসহ নদীর অন্যান্য মাছ রক্ষা করতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক নজরদারি, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং এর সঙ্গে নদীর নাব্য ও গতি সচল রাখতে হবে।

নিষিদ্ধ মৌসুমে নদীতে সব ধরনের মাছ না ধরার অভিযান শতভাগ সফল করতে হবে। এ অভিযান সফল করার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। গত দুই বছরে এ অভিযান সফল হলেও চলতি বছরের অভিযানে প্রশাসনের কিছুটা নমনীয়তা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গত দু’বছরের অভিযানে ইলিশ মাছসহ অন্যান্য মাছের উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনই পূরণ হয়েছে আমাদের পুষ্টি চাহিদা।

নিয়মিত অভিযান পরিচালিত না হওয়ার ফলে জেলেরা অবাধে মাছ ধরার সুযোগ পাচ্ছে। চাঁদপুর লঞ্চঘাটের পর থেকে গজারিয়া পর্যন্ত, হাইমচরের চরভৈরবী, ঈশানবালা, মাঝেরচর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা এবং বরিশালে অনেকটা প্রকাশ্যে প্রশাসনের নাকের ডগায় দিনের বেলায়ই নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে অবাধে জাটকাসহ অন্যান্য মাছ নিধন চলছে।

আর রাতের আঁধারে তো কথাই নেই; যেন অবৈধভাবে মাছ ধরার মহোৎসব চলছে। জাটকাসহ নদীর অন্যান্য মাছ রক্ষার অভিযান সফল করতে এবং মৎস্যসম্পদ রক্ষা করতে হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত, কোস্টগার্ডসহ অন্য সব টহল অভিযান আরও জোরদার করতে হবে এবং প্রত্যেকের কাজের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে। প্রশাসনের কাজের জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।



জাটকাসহ নদীর অন্যান্য মাছ রক্ষার গুরুত্ব বিষয়ে স্থানীয় পর্যায়ে চলমান সভা-সমাবেশ, লিফলেট, ফেস্টুন ইত্যাদি এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। জাটকা রক্ষা অভিযানে প্রশাসনের কোনোরকম অবহেলা পরিলক্ষিত হলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। নিষিদ্ধ সময়ে কোনো জেলে মাছ ধরলে তার জেলেকার্ড বাতিলসহ ন্যূনতম ১০ বছরের জামিন অযোগ্য সশ্রম কারাদ- দিতে হবে।



আইনের সঠিক প্রয়োগ যেমন থাকতে হবে, তেমনি থাকতে হবে সচতেনতামূলক কার্যক্রম। তাহলেই রক্ষা পাবে পৃথিবী বিখ্যাত চাঁদপুরের ইলিশ এবং বাড়বে রফতানি আয়। আসুন, মৎস্যসম্পদ রক্ষার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি।



অপরাধীরা সংখ্যায় কম হয়েও আমাদের ওপর কর্তৃত্ব করে যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। প্রশাসন যত কঠোর হবে, জাটকা ও ইলিশ রক্ষার অভিযান তত সফল হবে। আমরা জাটকা রক্ষার সফল অভিযান দেখতে চাই।


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৭৭৩৪৫২
পুরোন সংখ্যা