চাঁদপুর, শনিবার ২৩ মে ২০২০, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ রমজান ১৪৪১
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুরে আরো ১২ জনের করোনা শনাক্ত, মোট আক্রান্ত ১৫৯
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৬৯-সূরা হাক্কা :


৫২ আয়াত, ২ রুকু, মক্কী


১৬। এবং আকাশ বিদীর্ণ হইয়া যাইবে আর সেই দিন উহা বিশ্লিষ্ট হইয়া পরিবে।


১৭। ফিরিশ্তাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকিবে এবং সেই দিন আটজন ফিরিশ্তা তোমার প্রতিপালকের আরশকে ধারণ করিবে তাহাদের ঊধর্ে্ব।


 


বেদনা হচ্ছে পাপের শাস্তি।


-বুদ্ধদেব।


 


 


স্বভাবে নম্রতা অর্জন কর।


 


করোনাভাইরাস : গভীর ষড়যন্ত্র
হাসান আলী
২৩ মে, ২০২০ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


সুন্দর বন-দুবলার চরে তিন দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজক বিশ্ব জীব-জন্তু পরিষদ। লক্ষাধিক জীবজন্তুর উপস্থিতিতে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন সিংহ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাঘ, শিয়াল, বানর, গাধা, উট, তিমি, কুমির, বলদ, তেলেপোকা, পাঠা, শার্ক, মৌমাছি, ব্যাঙ, কেঁচো, ডলফিন, ঢোল কলমি, ইলিশ প্রমুখ!



সিংহ : মানব জাতি একতরফাভাবে নিজেদের শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করেছে, যা কোনোমতেই মানা যায় না। তাঁরা প্রাণীকুলের কারো মতামত নেয়ার সামান্য সৌজন্যবোধটুকু দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। সবাইকে অধীনস্থ করার সাহস দেখিয়েছে!



মৌমাছি : আমাদের অনেক কষ্টের আহরিত মধু মানবজাতি লুট করে নিয়ে যায়। ডিম, ছোট বাচ্চা, বাড়িঘর আগুনের ধোঁয়া দিয়ে ধ্বংস করে।



কেঁচো : আমাদের এক সময় প্রাকৃতিক লাঙল বলতো। জমিতে ক্রমাগত সার কীটনাশক ব্যবহার করে আমাদের ধ্বংস করেছে।



ব্যাঙ : বিভিন্ন ধরনের পোকা মাকড় খেয়ে আমরা পরিবেশ রক্ষা করতাম। আমাদের বিক্রি করার ফলে মশার বিস্তার বেড়ে গেছে।



ইলিশ : মানুষের মুখে স্বাদ দিতে জীবন দেই, তারপরও আমাদের শিশুদের খেয়ে ফেলে।



কুমির : আমরা মানুষের অবাধ চলাচল ও প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করতাম। মানুষ আমাদের চামড়া দিয়ে সৌখিন জিনিসপত্র তৈরি করে।



শার্ক : আমাদের নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। পাখনা দিয়ে স্যুপ বানিয়ে খায়।



গাধা : বিনা পয়সায় পরিশ্রম করে মন পাই না, উল্টো গালি শুনি!



পাঠা : আমাদের বিচি কেটে প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে দিয়েছে।



বলদ : চাষবাস, আরোগ্য লাভে মুত, শরীরের মাংস দিয়েও সন্তুষ্ট



করতে পারিনি। তাঁরা হাড্ডি দিয়ে নেহারী পর্যন্ত বানিয়ে খায়।



শকুন : আমরা কোনো দিন জীবিত প্রাণীকে আক্রমণ করিনি। মৃত প্রাণী খেয়ে পরিবেশ রক্ষা করেছি। ডায়াক্লোনফেক ব্যবহার করে আমাদের ধ্বংস করেছে।



শিয়াল : আমাদের মেরে এক হাজার টাকা কেজি মাংস বিক্রি করে।



ঢোল কলমি : আমরা পরিবেশ বান্ধব উদ্ভিদ। গুজবে কান দিয়ে আমাদের নির্মম ভাবে ধ্বংস করেছে।



তিমি : সাবমেরিন ব্যবহার বাড়িয়ে আমাদের চলাচল সীমিত করেছে।



বাঘ : বনজঙ্গল ধ্বংস করে আমাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।



শিয়াল : চিড়িয়াখানা, সাফারী পার্কের নামে প্রাণীকুলকে লক ডাউনে ফেলে বিকৃত আনন্দ উল্লাস করে।



তেলাপোকা : আমাদের মৃত্যুই যেন মানুষের কাছে কাম্য।



দীর্ঘ আলোচনার বেশিরভাগ সময়েই সিংহ ঘুমিয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন। এতে প্রাণীকুলের মধ্যে হাস্যরস ও বিরক্তি সৃষ্টি হয়েছে, কিন্তু বিশৃঙ্খলা হয়নি।



অবশেষে সিংহ : তোমরা কী চাও?



সমবেত কণ্ঠে : মানুষের বিচার চাই! ন্যায় বিচার চাই! এই পৃথিবী শুধু মানুষের একার না।



সিংহ প্রচ- জোরে হাঁচি দিল। সবাই হতচকিত হলো।



সিংহ : আমার হাঁচি থেকে এক হাজার কোটি করোনাভাইরাস বের হয়েছে। তোমরা কি কেউ দেখতে পেলে?



সমবেত কণ্ঠে : না, দেখতে পাইনি।



সিংহ : এরা সবসময় দৃষ্টির আড়ালে থাকে। যে সব প্রাণী পৃথিবীতে বেশি বাড়াবাড়ি করে তাদের শায়েস্তা করার জন্য পাঠানো হয়! এবার মানুষ কে শায়েস্তা করা হবে। শিক্ষা না নিলে বিলুপ্ত হবে।



সমবেত কণ্ঠে : জয় জীবজন্তুর জয়! জয় বন জঙ্গলের জয়! ক্ষয় হোক মানুষের অহংকার!



(লেখা পড়ে এলার্জি হলে ক্ষমা করবেন প্লিজ)



 



করোনাভাইরাস : এঙ্ক্লুসিভ ইন্টারভিউ



মানব : সভ্যতা বিনাশী করোনাভাইরাস বজ্জাত আপনাকে ঘৃণা জানাই!



করোনা : ধ্বংস হোক, নিপাত যাক, মানব জাত!



মানব : আপনার আগমনের হেতু কী?



করোনা : শৃঙ্খলা তৈরি করা!



মানব : মানুষ তো মরছে।



করোনা : মানুষ কি অমর? মানুষ তো মরবেই। সময়ে অসময়ে মরাই মানুষের কাজ!



মানব : প্রশ্ন হলো বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হচ্ছে!



করোনা : চিকিৎসার সুযোগ থাকলে বিত্তবানদের টিকে থাকার সুযোগ থাকবে আর বিত্তহীনদের সুযোগ থাকবে না। তখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।



মানব : স্যার, কত লোক মরবে?



করোনা : পাঁচ-ছয়শ' কোটি !



মানব : স্যার, পৃথিবী খালি করে দিবেন?



করোনা : আপনাকে দেখি জনসংখ্যা পড়াতে হবে! খ্রিস্টপূর্ব পাঁচ হাজার বছর আগে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচ লাখ। ১৫০০ খ্রিস্টাব্দে পৃথিবীতে ৪৫ কোটি মানুষ বসবাস করতো। ১৯৩০ সালে পৃথিবীর জনসংখ্যা ২০০ কোটি ছিল আর এখন ৮০০ কোটি। প্রতি সেকেন্ডে জন্ম নেয় পাঁচজন এবং মরে দুইজন!



মানব : জ্ঞান বিজ্ঞানের উন্নতি, চিকিৎসার উন্নয়নের কারণে দীর্ঘায়ু হচ্ছে। মানব সভ্যতার বিকাশ ঘটাচ্ছে।



করোনা : আপনি দেখি রাজনীতি শুরু করলেন! মানুষ বেঁচে থাকে নিজের সুবিধার জন্যে আর অন্যের সুযোগ- সুবিধা নষ্ট করার জন্য। প্রকৃতির সম্পদ দখল, শ্রমিকের পরিশ্রমে সৃষ্ট সম্পদ কৌশলে বুদ্ধি খাটিয়ে নিজের বলে চালিয়ে দেয়া, পারমাণবিক অস্ত্রভা-ার গড়ে তুলেছে পৃথিবীকে ধ্বংস করার জন্য। বন জঙ্গল, নদনদী, সাগর মহাকাশ সব কিছু দূষিত করে পৃথিবীর অন্যান্য প্রাণীর বসবাস অযোগ্য করে তুলেছে।



মানব : স্যার! এবারের মত সতর্ক করে বাঁচতে দিন প্লিজ।



করোনা : অতীতে কলেরা, বসন্ত, ইনফ্লুয়েঞ্জা, সোয়াইন ফ্লু, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া, সার্স, ইবোলা, প্লেগ, মার্স-এর মত ভাইরাস দিয়ে কোটি কোটি মানুষের মৃত্যু ঘটানো হয়েছে। তারপরও কি মানুষ সংযত হয়েছে? এখনও আপনাদের হাত ধোয়ার কথা বলতে হয়, কনুইয়ের ভাঁজে হাঁচি দিতে বলতে হয়, দূরত্ব বজায় রাখতে বলতে হয়।



মানব : স্যার, আমাদের আর কিছু দিন সুযোগ দেন। আমরা সব কিছু শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসবো।



করোনা : বিভিন্ন সময়ে প্রকৃতি থেকে সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়েছে। আপনারা পাত্তা দেন না। প্রকৃতিকে বশ করে ফেলেছেন বলে গর্ব করেন। প্রাণ প্রকৃতি ধ্বংস করে শুধু নিজেরা বেঁচে থাকার কৌশল খুঁজে বেড়ান।



মানব : স্যার ! মৃতের সংখ্যা পাঁচ-ছয় কোটির মধ্যে রাখুন প্লিজ।



করোনা : আচ্ছা রাজি।



মানব : স্যার ! ভুল হয়েছে, পাঁচ ছয় লাখে রাখুন প্লিজ।



করোনা : যান পাঁচ ছয় লাখেই রাখলাম, তবে তিন শর্ত আছে। ব্যক্তিগত ভাবে সম্পদ জমা করা যাবে না; অন্যান্য প্রাণীর জীবন যাপনের সুযোগ নষ্ট করা যাবে না ; পরিবার থাকবে না।



মানব : স্যার আপনার কথা অক্ষরে অক্ষরে পালিত হবে। এক চুলও নড়চড় হবে না।



করোনা : আপনারা কথা দেন না রাখার জন্য। গাঙ পার হয়ে বলেন, মাঝি শালা! তবে এবার ওয়াদা ভঙ্গ হলে একেবারেই বিলুপ্তি !!



মানব : স্যার, এই যে কান ধরলাম, আর কোনো দিন ওয়াদা ভঙ্গ করবো না। আমরা আপনার কাছে খুবই কৃতজ্ঞ স্যার।



 



(যাদের এলার্জি আছে তারা আমার লেখা এড়িয়ে চলুন প্লিজ)



লেখক : হাসান আলী, প্রবীণ বিশেষজ্ঞ।



 



 


এই পাতার আরো খবর -
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫০৭৩৮৫৪
পুরোন সংখ্যা