চাঁদপুর। সোমবার ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১০৯। আমি তোমাদের নিকট ইহার জন্যে কোন প্রতিদান চাহি না; আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে। 


১১০। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 

প্রকৃতি তার গোপন কথা একদিন বলবেই।              -এমিলি ডিকেন্স।   


যখন কোন দলের ইমামতি কর, তখন তাহাদের নামাজকে সহজ কর। 


ফটো গ্যালারি
শীতাক্রান্ত ত্বকের সমস্যা ও পরিচর্যা
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রকৃতি জুড়ে হিমের চাবুক হেনে শীত আসে। শীত আসে শৈত্যের দাপট নিয়ে। শীতের দাপটে দেহের যে অঙ্গ এবং অঙ্গতন্ত্র নাজুক থাকে তা হলো ত্বক। দেহের বহিঃ প্রতিরক্ষার অগ্র সেনানী ত্বক নিজে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে শীতের আঘাতটুকু নেয়। শীত তাই ত্বকের জন্যে হানিকর এক ঋতুর নাম।



শীতে ত্বকের বড় যে ক্ষতি হয় তা হলো আদ্রতার ঘাটতি তথা অতিরিক্ত শুষ্কতা। এই শুষ্কতার কারণেই ত্বকে ফাটল দেখা দেয়। দেখা দেয় বিচূর্ণতা। ফেটে যায় ঠোঁট, ফাটে পায়ের গোড়ালি, খসখসে হয়ে আসে হাত আর পায়ের চামড়া। পায়ে দেখা দেয় ইকথায়োসিস্ এর মতো ত্বকীয় সমস্যা যাতে মাছের অাঁইশের মতো শুষ্ক চামড়ার বিভাজন প্রকট হয়। শল্কপত্রের ন্যায় চামড়া শুষ্ক হয়ে ঝরে পড়ে। শীত এলেই শুরু হয় ছত্রাক বা ফাংগাসের সংক্রমন। পায়ের আঙ্গুলের ফাঁকে ফাঁকে ডিজিটাল ফাংগাল ইনফেকশন দেখা দেয়। অনেকের পায়ে শীত এলেই দুর্গন্ধ তৈরী হয়। 'অ্যাথলেট'স ফুট' নামে ছত্রাকাক্রান্ত এক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। শীতে বাচ্চাদের ত্বকে 'ইমপেটিগো' নামে ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন এর সূচনা হয়। ত্বকে লাল্চে র‌্যাশ তৈরি হয় এবং মাথায় খুশকীর সমস্যা প্রকট হয়।



ত্বকের যত্নে ভেসলিন এবং অলিভ অয়েল মাখলে আর্দ্রতা বজায় থাকে। ইকথায়োসিস্ এর নিরাময়ে ভেসলিন এবং 'ইকিউরা ক্রিম' ব্যবহার করা যেতে পারে। বাচ্চাদের ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশান রোধে দৈনিক গোসলের চর্চা করতে হবে। পায়ের গোড়ালি ক্র্যাক হয়ে গেলে তাতে স্যালিসাইলিক এসিডের প্রিপারেশন (কেরাসল ক্রীম-১২%) প্রয়োগ করে আল্গা চামড়া খসানো যায় এবং নিয়মিত ভেসলিন মেখে ত্বক ফেটে যাওয়া রোধ করা যায়। খুশকী দমনে কিটোকোনাজল শ্যাম্পু ব্যবহার করা যায়। ডিজিটাল ফাংগাল ইনফেকশান রোধে অ্যান্টিফাংগাল ক্রীম (এফান ক্রীম) প্রয়োগ করা উপকারী। পায়ের পাতার ঘামের দুর্গন্ধ দূরীকরণে মোজার ভিতরে ন্যাপথ্যালিন রাখা যেতে পারে। যাদের ইমপেটিগে তৈরি হয় তাদের জন্যে অ্যান্টিবায়োটিক (ফ্লুঙ্াসিলিন+সেফ্রাডিন) এবং সাথে ফাংগাল ঔষধ প্রয়োগ করতে হয়। যাদের দাদ বা রিং ওয়র্ম ইনফেকশান আছে এই সময়েই তা চিকিৎসা করা উত্তম। শীত মোকাবেলার মূল মন্ত্রই হলো অয়েল বেইজ্ড আর্দ্রতা রক্ষাকারী প্রসাধন বা কেমিক্যাল ব্যবহার করা। এতে খসেখসে ত্বক চকচকে থাকে এবং কোন ধরণের ত্বকীয় ক্ষতি সাধিত হয় না।



ত্বকের উপর শীতের এক সাধারণ ক্ষতি হলো 'একজিমা'। একজিমাতে ত্বক শুষ্ক, অাঁইশের মতো হয়। চুলকায় এবং র‌্যাশ তৈরি হয়। রাতে চুলকানি বাড়ে। ত্বকের উপর হাল্কা স্ফীতি দেখা দেয়। ত্বক পুরু, মোটা ও ফাটলযুক্ত হয়। শিশুরা সাধারণত বেশি আক্রান্ত হয়, তবে বয়স্করাও মুক্ত নন। অধিকাংশ একজিমা আক্রান্ত শিশুই অ্যাজমা-আক্রান্ত হয়। শীতে একজিমা হতে বাঁচতে হলে-



* গরম জলে স্নানের অভ্যাস বন্ধ রাখতে হবে। নচেৎ ত্বক আরো আর্দ্রতা হারায়।



* টাওয়াল বা গামছা দিয়ে স্নানের পর ঘষা যাবে না। এতে একজিমা আরো উদ্দীপ্ত হয়।



* সাধারণ সাবান ব্যবহার করতে হবে।



* ত্বকে পেট্রোলিয়াম জেলি মাখতে হবে। এতে ত্বকীয় আদ্রর্তা বজায় থাকে। লোশন একজিমার জন্যে ক্ষতিকর। কারণ লোশন হলো ওয়াটার বেইজ্ড। ফলে ত্বকীয় শুষ্কতা বৃদ্ধি পাবে।



* একজিমা আক্রান্ত স্থান উল, নাইলন এর সংস্পর্শ হতে দূরে রাখতে হবে। উল, নাইলন একজিমাকে উস্কে দিতে পারে।



* পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।



* ভিটামিন ডি-সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে শীতে একজিমা কমে যায়। আজকাল বাজারে ক্যালসিয়ামের সাথে ভিটামিন ডি এর কম্বিনেশন পাওয়া যায়।



ত্বকের যত্নে কয়েকটি ধাপ :



* কি ধরণের ত্বকীয় প্রসাধন শীতে ব্যবহার্য তার জন্যে একজন প্রসাধন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ। কোন্ কোন্ প্রসাধনে ত্বক সংবেদী ও প্রতিক্রিয়াশীল তা জানা জরুরি।



* ত্বকে তেল জাতীয় প্রসাধন ব্যবহার করা উচিৎ। এতে আদ্রর্তা-বান্ধব আল্গা স্তর তৈরি হয়। সাধারণত 'নাইট ক্রিমগুলো আর্দ্রতা বজায় রাখে।



* মুখে নন ক্লগিং অয়েল মাখা যায়। যেমন : অ্যাভোকাডো অয়েল, মিনারেল অয়েল, প্রিমরোজ অয়েল, অ্যামন্ড অয়েল ইত্যাদি নন ক্লগিং অয়েল। এরা লোমকূপ আটকে রাখে না।



* শীতের রোদেও সান স্ক্রীন ব্যবহার।



* হাতের ত্বকে ভেসলিন ব্যবহার।



* ভিজা গ্লাভস, মোজা ব্যবহার না করা।



* ঘরে শীতের দিনে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার।



* যথেষ্ট পানি পান করা এবং ত্বকে পানি কম লাগানো।



* পায়ের যত্নে ভেসলিন, অলিভ ওয়েল ব্যবহার।



? গরম জলে স্নান বন্ধ করা।



ত্বক হলো দেহের সবচেয়ে বড় অঙ্গ কিন্তু সবচেয়ে নাজুক। শীতের আক্রমণ হতে রক্ষায় ত্বকের যত্নে শীতের শুরুতেই সচেষ্ট হওয়ার উচিৎ। নচেৎ শীতে পেয়ে বসতে পারে খোদ আপনাকেই।



 



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৭৭৩৮০
পুরোন সংখ্যা