চাঁদপুর। সোমবার ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ***
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৬-সূরা শু’আরা


২২৭ আয়াত, ১১ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১০৯। আমি তোমাদের নিকট ইহার জন্যে কোন প্রতিদান চাহি না; আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে। 


১১০। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 

প্রকৃতি তার গোপন কথা একদিন বলবেই।              -এমিলি ডিকেন্স।   


যখন কোন দলের ইমামতি কর, তখন তাহাদের নামাজকে সহজ কর। 


গর্ভবতী মা ও নিরাপদ মাতৃত্ব
হাকীম মোঃ বাকী বিল্লাহ
০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


 



 



নিরাপদ মাতৃত্ব একজন গর্ভবতী মায়ের অধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করার পরিবেশ তৈরি করা সকলের দায়িত্ব। কারণ পরিবার ও সমাজ সচেতন হলেই গর্ভবতী মা নিরাপদ মাতৃত্ব পেতে পারে। আমাদের দেশে বেশির ভাগ জনগণই গ্রামে বসবাস করে। তাই গর্ভবতী মায়ের সংখ্যা গ্রামেই বেশি হবে এটাই স্বাভাবিক। গ্রামের সাধারণ মানুষ অনেকাংশে সেকেলে নিয়ম মেনে চলেই অভ্যস্ত। আধুনিকতার সাথে সম্পর্ক আছে এমন সংখ্যা নিতান্তই কম। গ্রামে যৌথ পরিবারের সংখ্যাই বেশি। তাই কোন মা গর্ভবতী হবেন কি-না সেক্ষেত্রে পরিবারের সিদ্ধান্ত প্রাধান্য পায়। কিন্তু নিরাপদ মাতৃত্ব বলতে আমরা বুঝি একজন মহিলা গর্ভবতী হবেন কি-না সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন তিনি, যিনি গর্ভবতী হবেন। কারণ মহিলার শারীরিক অবস্থা, পারিপাশ্বর্িক অবস্থা, গর্ভস্থ আন্তজটিলতা সম্পর্কে কোন সমস্যা আছে কিনা তা তা তিনিই বিবেচনায় নিবেন। গর্ভকালীন সময় গর্ভবতীর অনুকূলে আছে কিনা তা বুঝেই কেবল তিনি সিদ্ধান্ত দিতে পারেন। সুতরাং সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত হয়ে পরিবারের সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিলেই কেবল একজন মায়ের নিরাপদ মাতৃত্বের আশা করা যেতে পারে। কিন্তু আমাদের সমাজে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একজন মা গর্ভবতী হওয়ার ব্যাপারে পরিবারের অন্যায় সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হয়। অনেক সময় সচেতনতার অভাবে নিরাপদ মাতৃত্বের কথা চিন্তা না করে একজন মা গর্ভবতী হয়ে যান, যার কারণে শারীরিক বিভিন্ন জটিলতা ও অর্থনৈতিক সমস্যার সম্মুখীন হন। তাই একজন মা গর্ভবতী হওয়ার আগে গর্ভসংক্রান্ত জটিলতা সম্পর্কে ধারণা থাকা একান্ত প্রয়োজন। গর্ভবতী মাকে নিরাপদ মাতৃত্বের সকল সুবিধা পাওয়ার জন্য পরিবারের সদস্যগণও সহায়তা করতে হবে।



একজন গর্ভাবতী মা যে সকল সেবাসমূহ পাওয়ার অধিকার রাখে ঃ



গর্ভসংক্রান্ত জটিলতা প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে গর্ভকালীন চিকিৎসা সুবিধা।



প্রসবের সময় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মীর সেবার সুবিধা।



গর্ভবতী হওয়া থেকে প্রসবোত্তর সকল ধরণের সুযোগ সুবিধা ভোগ করা।



প্রয়োজনে জরুরী প্রসুতি সেবা এবং প্রসব পরবর্তী প্রয়োজনীয় সেবা।



একজন গর্ভবতী যখন মাসিক ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া থেকে ৯ মাস ৭ দিন ব্যাপী গর্ভবতী মা এবং তার পেটের সন্তানের যত্ন নেয়াকে গর্ভকালীন যত্ন বলা হয়।



গর্ভকালীন পরিচর্যা ঃ



গর্ভধারণের পর থেকে ২৮ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতি মাসে ১ বার, ৩৬ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতি মাসে ২ বার এবং তারপর থেকে সন্তান প্রসব পর্যন্ত সপ্তাহে ১ বার নিয়মিত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। একজন গর্ভবতী মায়ের গর্ভবাস্থায় বিপদজ্জনক লক্ষণসমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো।



ব্যথাসহ অথবা ব্যথা ছাড়া যে কোন ধরণের প্রসবপূর্ব রক্তস্রাব বা প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব।



অতিরিক্ত রক্তস্রাব।



অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।



উচ্চ রক্তচাপ, জ্বর, শরীরে পানির উপস্থিতি বেড়ে যাওয়া।



অত্যাধিক বমি হওয়া।



সার্বক্ষণিক পেট ব্যথা।



গর্ভবতী মায়ের খাবার ঃ



গর্ভবতী মাকে অন্য সময়ের চেয়ে কমপক্ষে ১ মুষ্টি চালের ভাত ও ১ চামচ ডাল বেশি খেতে হবে।



বাড়তি খাবারের মধ্যে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ ফলমুল, রঙিন শাক-সব্জি, আয়রণ সমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে হবে।



গর্ভবতী মাকে বেশি পরিমাণে পানি পান করতে হবে।



ভাত খাওয়ার সময় লবন খাওয়া বাদ দিতে হবে।



ধূমপান, তামাক পাতা, জর্দ্দা খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।



প্রথম তিন মাস জিংক ও ফলিক এসিড খেতে হবে। তিন মাস পর থেকে প্রতিদিন ১টি করে আয়রণ ২টি করে ক্যালসিয়াম ঔষধ খেতে হবে।



গর্ভবতী মায়ের বিশ্রাম ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঃ



দুপুরে খাওয়ার পরে ২ঘন্টা বিশ্রাম নিতে হবে।



অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলতে হবে।



স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারবে।



হাত দিয়ে ভারি জিনিষ উঠানো যাবে না।



প্রতিদিন গোসল করা, দাঁত ব্রাশ করা, পরিষ্কার কাপড় পরা, জামা কাপড় ভাল করে রোদে শুকিয়ে পড়া।



সংক্রামক রোগী হতে দূরে থাকা।



প্রসব পরবর্তী সেবা ঃ



পারিবারিকভাবে আমরা গর্ভবতী মায়েদের নিয়ে যতটা চিন্তিত থাকি যখন সন্তান প্রসব হয়ে যায় তখন অনেকটা স্বস্তি বোধ করি। কিন্তু প্রসব পরবর্তী বিষয় নিয়ে ততটা ভাবি না। যার কারণে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রসবোত্তর সেবা থেকে মায়েরা অনেক সময় বঞ্চিত হয়। আমাদের দেশে বর্তমান সরকার ও বিভিন্ন এনজিও প্রতিষ্ঠান গর্ভকালীন সেবার মান উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রসব পরবর্তী সেবার ক্ষেত্রে এখনও অনেকটা পিছিয়ে। প্রকৃত পক্ষে আমাদের প্রসব পরবর্তী বিষয়টি আরও গুরুত্ব দেয়া উচিত। কারণ সঠিক সময়ে প্রসব পরবর্তী সেবা নিতে না পারলে মা ও নবজাতক উভয়েই বিরাট ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে। সচেতনতার অভাবে অথবা পারিবারিক প্রতিবন্ধকতার কারণে প্রসব পবরর্তী মায়েরা কিছু কিছু সমস্যার প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা নিতে পারেন না। ফলে এসকল মায়েরা দীর্ঘ মেয়াদী অথবা স্থায়ী অসুস্থতায় ভোগেন। গর্ভবতী মায়ের প্রসব পরবর্তী যে সকল বিষয়ের প্রতি নজর রাখতে হবে তা হলো-



তাপ মাত্রা



নাড়ির গতি



শ্বাস প্রশ্বাস



রক্তচাপ



জন্ডিস



শরীরে পানি জমা।



উপরোক্ত সমস্যা প্রকাশের সময় হলো - প্রথম প্রসবের ২৪ ঘন্টার মধ্যে, দ্বিতীয় প্রসবের ২-৩ দিনের মধ্যে, তৃতীয় প্রসবের ৭ দিনের মধ্যে এবং চতুর্থ প্রসবের ৪২ দিনের মধ্যে ।



 



লেখক পরিচিতি ঃ হাকীম মোঃ বাকী বিল্লাহ



ডি ইউ এম এস ঢাকা



মাও শিশু রোগে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত



লেকচারার



চাঁদপুর ইউনানি তিবি্বয় কলেজ, চাঁদপুর।



চেম্বার ঃ আজমেরি মেডিক্যাল হল



নারায়ণপুর বাজার, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৫১৯৭৮২
পুরোন সংখ্যা