চাঁদপুর। সোমবার ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। ২৪ মাঘ ১৪২৩। ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোড়া, চাঁদপুরে ০৭ (সাত) নম্বর বিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ১০ (দশ) নম্বর মহাবিপদ সংকেত  || ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় মোড়া, চাঁদপুরে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৭। স্মরণ কর সেই সময়ের কথা, যখন মূসা তাহার পরিবারবর্গকে বলিয়াছিলো, ‘আমি আগুন দেখিয়াছি, সত্বর আমি সেথা হইতে তোমাদের জন্য কোনো খবর আনিবো অথবা তোমাদের জন্য আনিবো জ্বলন্ত অঙ্গার, যাহাতে তোমরা আগুন পোহাইতে পারো’।  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


ঔদ্ধত্য মানুষের জীবনে দুঃখ আনে।


                   -টমাস ক্যাম্বেল।


ধনের যদি সদ্ব্যবহার করা হয় তবে তা সুখের বিষয় এবং সদুপায়ে ধন বৃদ্ধির জন্যে সকলেই বৈধভাবে চেষ্টা করতে পারে।    


 

ঘাতক ব্যাধি জলাতঙ্ক
হাকীম মোঃ বাকী বিল্লাহ
০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


পানি দেখলে ভয় পায়, কারণ পানি খেতে পারে না। তাই এ রোগের নাম রাখা হয়েছে জলাতঙ্ক। এটি একটি ভাইরাস জনিত রোগ। রাবডু/র‌্যাবিস ভাইরাস দ্বারা মানুষ ও প্রাণী আক্রান্ত হয়। আমাদের দেশে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক লোক মারা যায়। আমরা এ রোগের জন্য কুকুরকে বেশি ভয় পাই। তবে কুকুর ছাড়া অন্যান্য প্রাণীও এ রোগের জীবাণু বহন করে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত যে কোনো প্রাণী মানুষকে কামড় বা অাঁচড় দিলে এতে কামড় বা অাঁচড়ের শিকার মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি করে প্যারালাইসিস বা অবশ করে রোগীর মৃত্যু ঘটায়। এ রোগের জীবাণু বহনকারী প্রাণীর মুখের লালার মধ্যে থাকে। যখন সে কামড় দেয় তখন তার মুখের লালার মাধ্যমে ক্ষতস্থান দিয়ে এক প্রাণী থেকে অন্য প্রাণীর দেহের রক্তে প্রবেশ করে জলাতঙ্ক হয়। কুকুর কামড়ালে জলাতঙ্ক রোগ হবে এ ধারণা ভুল। একমাত্র জলাতঙ্ক রোগের ভাইরাস বহনকারী কুকুর বা প্রাণী কামড়ালে এ রোগে আক্রান্ত হয়। তবে সচেতন থাকলে জলাতঙ্ক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আমাদের দেশে জলাতঙ্ক রোগ বহনকারী প্রাণীগুলো হলো : কুকুর, বিড়াল, শিয়াল, বেজি, বানর ইত্যাদি।



 



 



কুকুর কামড়ালে দ্রুত যে ব্যবস্থা নিতে হবে :



* কুকুর কামড়ালে সাথে সাথে ক্ষত স্থান ভালভাবে সাবান-পানি দিয়ে পরিষ্কার করা।



* পভিডোন আয়োডিন বা অন্য কোনো অ্যান্টিসেপটিক লোশন দ্বারা জীবাণু মুক্ত করা।



* কুকুরটি আপনার পরিচিত বা এলাকার কিনা তা খেয়াল রাখা।



* কুকুরের আচরণ অস্বাভাবিক কিনা তা খেয়াল রাখা।



* পালিত কুকুর হলে জলাতঙ্ক রোগের প্রতিষেধক দেয়া হয়েছে কিনা তা জেনে নেয়া।



* বিনা প্ররোচনায় কুকুরটি মানুষ বা অন্য কোন পশুকে কামড় দিয়েছে কিনা তা জেনে নেয়া।



* খেয়াল রাখা যে, আক্রান্ত ব্যক্তির মাঝে জলাতঙ্কের কোনো লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে কিনা।



* যদি কুকুরটি পরিচিত বা বাড়িতে থাকে তবে ১০দিন কুকুরটিকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।



* কুকুরটি জলাতঙ্কগ্রস্ত হলে ১০দিনের মধ্যে মারা যাবে। যদি ১০দিনের মধ্যে মারা না যায় তাহলে ভয়ের কোনো কারণ নেই।



* যদি কুকুরটি জলাতঙ্কগ্রস্ত হয় অথবা ১০দিন পর্যবেক্ষণে না রাখা যায় বা অপরিচিত হয় তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টির‌্যাবিস ভ্যাকসিন নিতে হবে।



* রোগীকে ধনুস্টংকারের টিকা নিতে হবে।



জলাতঙ্কে আক্রান্ত মানুষ ও পশু চেনার উপায় :



* জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত মানুষ বা পশু পাগলের মত আচরণ করে, সামনে যাকে পায় কামড়ানোর চেষ্টা করে। মুখ দিয়ে লালা পড়ে। লালার সাথে জীবাণু নির্গত হয়।



* জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত মানুষের উপসর্গের মধ্যে কামড়ের জায়গায় ব্যথা করা, জ্বর থাকা, ঢোক গিলতে ব্যথা ও খিচুনি হওয়া। তাই সে পানি পান করতে চায় না। মুখের লালা খুব ঘন চটচটে আঠালো হয়। শান্ত থাকতে থাকতে হঠাৎ রেগে যায়। মৃত্যু ঘনিয়ে এলে ফিট বা পক্ষাঘাত দেখা দেয়।



* কুকুর কামড়ানোর ১০ দিন থেকে ৭ সপ্তাহের মধ্যে জলাতঙ্কের প্রথম লক্ষণগুলো দেখা দেয়। অথবা এই লক্ষণ দুই বছরের মধ্যেও দেখা দিতে পারে। তাই এ রোগের লক্ষণ দেখা দেয়ার আগেই চিকিৎসা শুরু করতে হবে। কারণ এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর আর রোগীকে বাঁচানো যায় না।



জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে করণীয় :



* সকল বেওয়ারশি কুকুর, বিড়াল মেরে ফেলা।



* নিয়মিত পোষা কুকুর বিড়ালকে জলাতঙ্ক রোগের টিকা দিয়ে রাখা।



* যাদের কুকুর বিড়াল কামড়ানোর সম্ভাবনা বেশি তাদের আগে থেকেই টিকা নিয়ে নেয়া।



* জলাতঙ্ক রোগে আক্রান্ত প্রাণী কামড় দিলে বা সন্দেহ হলে কামড়ানোর পর দ্রুত টিকা নেয়া এবং কামড়ানোর জায়গা সাথে সাথে ভালোভাবে ধৌত করা।



লেখক পরিচিতি : হাকীম মোঃ বাকী বিল্লাহ, ডিইউএমএস, ঢাকা; মাও শিশু রোগে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত; লেকচারার, চাঁদপুর ইউনানি তিবি্বয়া কলেজ, চাঁদপুর। চেম্বার ঃ আজমেরি মেডিক্যাল হল, নারায়ণপুর বাজার, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৯১৩৮৬
পুরোন সংখ্যা