চাঁদপুর। সোমবার ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। ২৪ মাঘ ১৪২৩। ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৭। স্মরণ কর সেই সময়ের কথা, যখন মূসা তাহার পরিবারবর্গকে বলিয়াছিলো, ‘আমি আগুন দেখিয়াছি, সত্বর আমি সেথা হইতে তোমাদের জন্য কোনো খবর আনিবো অথবা তোমাদের জন্য আনিবো জ্বলন্ত অঙ্গার, যাহাতে তোমরা আগুন পোহাইতে পারো’।  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


ঔদ্ধত্য মানুষের জীবনে দুঃখ আনে।


                   -টমাস ক্যাম্বেল।


ধনের যদি সদ্ব্যবহার করা হয় তবে তা সুখের বিষয় এবং সদুপায়ে ধন বৃদ্ধির জন্যে সকলেই বৈধভাবে চেষ্টা করতে পারে।    


 

নিউমোনিয়া থেকে শিশু রক্ষায় চাই মায়ের সচেতনতা
০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

সর্দিজ্বর-কাশি থেকে সাবধান

শিশুর শরীর বড়ই নাজুক। খুব সহজেই তা নেতিয়ে পড়ে। আর রোগবালাই হলে তো কথাই নেই। নিউমোনিয়ার মতো অসুখ শিশুর জন্য কঠিন বিপদ হয়ে দেখা দেয়। কখনো কখনো তা প্রাণনাশেরও হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে মায়েরা তাদের প্রাণপ্রিয় সোনামনির জীবন নিয়ে অজানা আশঙ্কা ও ভয়ে অস্থির হয়ে পড়েন। কি করবেন ভেবে পান না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, এক্ষেত্রে মাকে ধৈর্য সহকারে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, একটু অসাবধানতার দরুন তাকে বড় ধরনের মাশুল দিতে হতে পারে। অথচ এক্ষেত্রে মায়ের একটুখানি সচেতনতাই নিউমোনিয়া আক্রান্ত শিশুর জীবনকে ঝুঁকিমুক্ত করতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, ছোট বলেই শিশুর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। ফলে, একটুতেই ঠা-া লেগে যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে প্রথমে মাকে বুঝতে হবে, এটা নিছক সর্দিজ্বর কি-না। সাধারণ সর্দিজ্বর হলে শিশুকে ঠা-া থেকে দূরে রেখে, কিংবা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে প্যারাসিটামল জাতীয় সিরাপ খাওয়ালে জ্বর ও ঠা-া লাগা ভালো হয়ে যেতে পারে।

আর যদি দেখা যায়- দুই মাস বয়সের কম কোন শিশুর ঠা-া-জ্বর হয়েছে; কিন্তু কমছে না বরং ক্রমশ বাড়ছে, কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসছে, নিঃশ্বাস নিলে বুকের ভেতর থেকে শব্দ আসছে, শ্বাস ঘন ঘন পড়ছে, নাক দিয়ে নিঃশ্বাস নিতে পারছে না, বুকের দুধ টানতে পারছে না, পাঁজরের হাড়গুলো ভিতরের দিকে নেমে যাচ্ছে- তাহলেই এটিকে নিউমোনিয়া বলে ধরে নিতে হবে।

এমনটি দেখলে মায়েদের ভীত না হয়ে শিশুর জন্য ঠিক সময়ে উপযুক্ত ব্যবস্থাটা গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে শিশুকে গরম রাখতে হবে তবে কিছুতেই তাকে ঘামতে দেয়া যাবে না। শিশু যাতে সহজে নিঃশ্বাস নিতে পারে সেজন্য নাক পরিষ্কার করে দিতে হবে। শিশুকে খাওয়ানোর চেষ্টা করে যেতে হবে। মিনিটে কবার শ্বাস নিচ্ছে তার হিসাব রাখতে হবে এবং অতিদ্রুত নিকটস্থ কোন হাসপাতালে ভর্তি করাটাই হবে শিশুর জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ও নিরাপদ ব্যবস্থা।

মোটামুটি ভাবে দুই মাস বয়স থেকে পাঁচ বছর বয়সের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার একই লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়- কাঁপুনি দিয়ে জ্বর, সঙ্গে কাশি, শ্বাসে ফাটা বাঁশের শব্দ ও খেতে না পারা।

ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়া হলে শরীরে তাপমাত্রা কম উঠবে এবং ভাইরাসজনিত নিউমোনিয়ায় তাপমাত্রা অনেক বেড়ে যাবে। একটু বড় বাচ্চারা যেহেতু কথা বলতে পারে তাই তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও তারা প্রকাশ করতে পারে। তবে বয়স যা-ই হোক না কেন, নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়ামাত্রই আর অপেক্ষা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়াই বাঞ্ছনীয়। এ ক্ষেত্রে অতিদ্রুত নিকটস্থ হাপাতালে ভর্তি করে দিতে হবে।

নিউমোনিয়া সাধারণত অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের বেশি হয়ে থাকে। গরিব ঘরের শিশুরাই বেশি করে এর শিকার হয়।

উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে প্রতি পাঁচটি শিশুর মধ্যে চারটিরই প্রাণনাশের হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে অর্থাভাবের চেয়ে সচেতনতার অভাবে আক্রান্তরা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা অকালে প্রাণ হারায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি জরিপে দেখা গেছে, ইনফ্লুয়েঞ্জা-নিউমোনিয়ায় ২০১১ সালে এদেশে ১ লাখ ৪২ হাজার ৫৪ জন মারা যায়, যা ছিল মোট শিশু মৃত্যুর ১০ দশমিক ৮৯ ভাগ।

যেহেতু প্রতিরোধ নিরাময়ের চেয়ে উত্তম। তাই নিউমোকোক্কাল কনজুগেট ভ্যাকসিন (চহবঁসড়পড়পপধষ ঈড়হলঁমধঃব ঠধপপরহব, চঈঠ) ও নিউমোকোক্কাল পলিস্যাকারাইড ভ্যাকসিন (চহঁসড়পড়পপধষ চড়ষুংধপপযধৎরফব ঠধপপরহব, চচঠ)- এ রোগ প্রতিরোধের জন্য দেয়া যেতে পারে। শিশুরা যাতে পুষ্টিহীনতায় না ভোগে সেদিকটি সর্বাগ্রে খেয়াল রাখতে হবে। জন্মের পর থেকেই তাকে বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। শিশুর বয়স ছয় মাস না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ কোন কারণ ছাড়া তাকে বুকের দুধের বাইরে কোন খাবার দেয়া উচিত হবে না। মায়ের বুকের দুধ থেকেই তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

সামান্য কারণে শিশুদের হাসপাতালে না নেয়াই ভালো। সেখান থেকে রোগ জীবাণু শিশুদেহে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া, পারিবারিক বা গৃহেরও পরিবেশ ভালো ও পরিচ্ছন্ন রাখা বাঞ্ছনীয়। শিশুর আশেপাশে ধূমপান করা একেবারেই অনুচিত। মোট কথা, শিশুকে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বেড়ে উঠতে দিতে হবে।

শীতকালে যেহেতু নিউমোনিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা যায়, সেময় শিশুদের ঠা-া লাগা থেকে রক্ষা করতে হবে। তবে অনেক সময় এতো বেশি গরম কাপড় তাদের শরীরে জড়ানো হয় যা থেকে ঘাম বসে গিয়ে ঠা-া লেগে যাবার আশঙ্কা থাকে। এ বিষয়গুলোও মায়েদেরই খেয়াল রাখতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘ শিশু তহবিল যৌথ উদ্যোগে কেবল নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া থেকে শিশুদের রক্ষার লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ১২ এপ্রিল একটি নতুন আন্তর্জাতিক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্যই হলো এ দুইটি রোগের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করা। বিশ্বে প্রতি বছর এ রোগে পাঁচ বছর বয়সের নীচে ২০ লাখ শিশু মারা যায়।

এসব প্রকল্প এবং সরকারের নেয়া সব উদ্যোগ সফল করতে হলে স্কুল শিক্ষক, মসজিদের ইমাম এমনকি গ্রামীণ পুলিশসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গকে সম্পৃক্ত করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিউমোনিয়া সচেতনতা আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে দেশের সব মাকে নিউমোনিয়া রোগ প্রতিরোধ ও এর প্রতিকারের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সহজভাবে বুঝিয়ে দেয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে।

আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫৬৪৭৩
পুরোন সংখ্যা