চাঁদপুর। সোমবার ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭। ২৪ মাঘ ১৪২৩। ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • শুক্রবার সকালে হাজীগঞ্জের সৈয়দপুর সর্দার বাড়ির পুকুর থেকে শাহিদা আক্তার মুক্তা নামের এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ॥ স্বামী হাছান সর্দার পলাতক || হাজীগঞ্জের সৈয়দপুর সর্দার বাড়ির পুকুর থেকে শাহিদা আক্তার মুক্তা নামের এক গৃহবধুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ॥ স্বামী হাছান সর্দার পলাতক
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৭। স্মরণ কর সেই সময়ের কথা, যখন মূসা তাহার পরিবারবর্গকে বলিয়াছিলো, ‘আমি আগুন দেখিয়াছি, সত্বর আমি সেথা হইতে তোমাদের জন্য কোনো খবর আনিবো অথবা তোমাদের জন্য আনিবো জ্বলন্ত অঙ্গার, যাহাতে তোমরা আগুন পোহাইতে পারো’।  


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


ঔদ্ধত্য মানুষের জীবনে দুঃখ আনে।


                   -টমাস ক্যাম্বেল।


ধনের যদি সদ্ব্যবহার করা হয় তবে তা সুখের বিষয় এবং সদুপায়ে ধন বৃদ্ধির জন্যে সকলেই বৈধভাবে চেষ্টা করতে পারে।    


 

ফটো গ্যালারি
কনজাংটিভাইটিস
০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


১. ব্যাকটেরিয়াজনিত কনজাংটিভাইটিস : ইহা সাধারণত বিভিন্ন ধরণের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংঘটিত হয়। এ ধরণের কনজাংটিভাইটিসে চোখ লাল হয়, চোখের কোনে পিচুটি বা ময়লা জমে, সকালে ঘুম থেকে উঠার সময় চোখের দুই পাতা একত্রে লেগে যায়, চোখে আলো সহ্য হয় না। সাধারণত: উভয় চোখ আক্রান্ত হয়। কর্ণিয়াতে ঘা, চোখের পাতায় প্রদাহ ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়াজনিত কনজাংটিভাইটিসের জটিলতা হিসাবে দেখা দেয়।



চিকিৎসা দিনের বেলায় এন্টিবায়োটিক ড্রপ ও রাত্রে এন্টিবায়োটিক মলম ব্যবহার করতে হবে। পরিষ্কার তুলা বা ন্যাকড়া দিয়ে চোখের পিচুটি পরিষ্কার করতে হবে।



২. অফথালমিয়া নিওনেটোরাম (নবজাতকের কনজাংটিভাইটিস) : শিশুর জন্মের পর হতে প্রথম চার সপ্তাহের মধ্যে যে কনজাংটিভাইটিস হয় তাকে অফথালমিয়া নিওনেটোরাম বলে। আমাদের দেশে গনকক্কাস নামক ব্যাকটেরিয়া এই রোগের প্রধান কারণ। তাছাড়া ভাইরাস ও অন্যান্য ব্যাকটেরিয়া দ্বারাও এ রোগ হতে পারে। এ রোগে শিশুর চোখে প্রচুর পিচুটি বা ময়লা হয়। পিচুটি দিয়ে শিশুর চোখের দুই পাতা লেগে থাকে। ফলে চোখের পাতা সহজে খোলা যায় না। চোখ ফুলে যায়। এ রোগের জটিলতা হিসাবে কর্ণিয়াতে ঘা এমনকি কর্ণিয়াতে ছিদ্র হয়ে যেতে পারে। সময় মত সঠিক চিকিৎসা না করালে শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে।



চিকিৎসা : শিশুর চোখ পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কার তুলা দিয়ে এবং প্রয়োজনে ফুটিয়ে নেয়া ঠা-া পানিতে তুলা ভিজিয়ে চোখের পিচুটি পরিষ্কার করে দিতে হবে। আক্রান্ত শিশুর চোখের পাতা কোন অবস্থাতে যাতে পিচুটি দিয়ে আটকিয়ে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। শিশুর চোখ পরিষ্কার করে ঘন ঘন এন্টিবায়োটিক ড্রপ ও মলম ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনে শিরাতে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন দেয়া যেতে পারে।



অফথালমিয়া নিওনেটোরাম :



৩. ভাইরাসজনিত কনজাংটিভাইটিস : ভাইরাসজনিত কনজাংটিভাইটিসের প্রকোপ আমাদের দেশে বেশী দেখা যায়। এই রোগে সব বয়সের লোক আক্রান্ত হয়। এ রোগে চোখ লাল হয়, চোখ দিয়ে পানি পড়ে, চোখ খচ খচ করে, চোখ জ্বালা পোড়া করে। আলোতে অস্বস্থি লাগে। এডিনোভাইরাসজনিত কনজাংটিভাইটিসে সাধারণত উভয় চোখ আক্রান্ত হয়। চোখে সাধারণত: পিচুটি বা কেতর হয় না। এডিনোভাইরাস দ্ব্বারা কনজাংটিভাইটিস হলে কানের সামনের লসিকা গ্রন্থি ফুলে যায় ও চাপ দিলে ব্যথা হয়। হারপিস সিমপ্লেঙ্ ভাইরাসজনিত কনজাংটিভাইটিসে সাধারণত : এক চোখ আক্রান্ত হয়। তবে উভয় চোখও আক্রান্ত হতে পারে।



হারপিস সিমপ্লেঙ্ ভাইরাসজনিত কনজাংটিভাইটিসে কর্ণিয়া আক্রান্ত হতে পারে। কর্ণিয়াতে সাদা দাগ পড়তে পারে, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যেতে পারে।



চিকিৎসা : চোখে এন্টিবায়োটিক ড্রপ ও মলম ব্যবহার করতে হবে। এডিনোভাইরাসজনিত কনজাংটিভাইটিস সাধারণত: দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। চোখের কর্ণিয়াতে প্রদাহ হলে চোখে এন্টিভাইরাল মলম ব্যবহার করতে হবে। কখনো কখনো টপিকাল স্টেরয়েডও দরকার হতে পারে।



৪. এলার্জিক কনজাংটিভাইটিস



ক) সাধারণ এলার্জিক কনজাংটিভাইটিস



এ রোগ দেহের ভিতরের বা বাহিরের কোন এলার্জির কারণে হয়ে থাকে। বাহিরের এলার্জেনের মধ্যে রয়েছে ফুলের পরাগ, ধূলা-বালি ইত্যাদি। ভিতরের এলার্জেনের মধ্যে রয়েছে কোন সংক্রামিত স্থানের জীবাণুর অংশবিশেষ, বিশেষত স্ট্যাফাইলোকক্কাস। এ রোগে চোখ ভীষণ চুলকায়, চোখ লাল হয়, চোখ দিয়ে পানি পড়ে এবং কনজাংটিভার কেমোসিস হয়।



চিকিৎসা : টপিকাল এন্টিহিস্টামিন, মাস্ট সেল স্ট্যাবিলাইজার বা স্বল্প মাত্রার টপিকাল স্টেরয়েড দ্বারা এ রোগ চিকিৎসা করা হয়। এলার্জি সৃষ্টিকারী বস্তু হতে দূরে থাকতে হবে।



খ) ভারনাল কনজাংটিভাইটিস : এ রোগ কনজাংটিভার এক ধরণের হাইপার



সেনসিটিভিটি রিএকশনের জন্য হয়। বাহিরের কোন এলার্জেন এ রোগের জন্য দায়ী। যারা গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় বসবাস করে তাদের এ রোগ বেশি হয়। ভারনাল কনজাংটিভাইটিস গ্রীষ্ম ও বসন্ত কালে বেশি হয়। বাতাসে ফুলের রেণু ও ধূলা-বালি এ রোগের জন্য দায়ী। সাধারণত: ৫ থেকে ২৫ বছর বয়সের মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়। এ রোগে



চোখে ভীষণ চুলকানি হয়, চোখ দিয়ে



পানি পড়ে, চোখ লাল হয়, চোখ জ্বালা পোড়া করে ও চোখে আলো অসহ্য লাগে। ভারনাল কনজাংটিভাইটিস চোখের পাতা ও চক্ষু গোলকে হয়। চোখের পাতার ভারনাল কনজাংটিভাইটিসে উপরের চোখের পাতার নিচে শক্ত উঁঁচু দানা দেখা যায়। দানাগুলি অনেক সময় বড় হয়ে নুড়ী পাথরের মত দেখায়। চক্ষু গোলকের ভারনাল কনজাংটিভাইটিস কর্ণিয়ার চতুর্দিকে ক্ষুদ্র পি-ের মত দেখায়। এ রোগে চোখের কর্ণিয়াও আক্রান্ত হতে পারে।



চিকিৎসা : এ রোগে চোখে স্টেরয়েড ড্রপ, মাস্ট সেল স্ট্যাবিলাইজার, টপিকাল এন্টিহিস্টামিন ব্যবহার করা হয়। স্টেরয়েড রেজিস্ট্যান্ট রোগীদের ক্ষেত্রে সাইক্লোসেপারিন ২% ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব চিকিৎসাতে ভালো ফল না পাওয়া গেলে সুপ্রাটারসাল স্টেরয়েড ইনজেকশন দ্বারা চিকিৎসা করা হয়।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৩৪৪০
পুরোন সংখ্যা