চাঁদপুর। সোমবার ১৩ মার্চ ২০১৭। ২৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৩৮
ckdf

সর্বশেষ খবর :

  • পুরানবাজার ট্রাঙ্কপট্টিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড, আগুন নিয়ন্ত্রনে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস || পুরানবাজার ট্রাঙ্কপট্টিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড, আগুন নিয়ন্ত্রনে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪৬। সে বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কেন কল্যাণের পূর্বে অকল্যাণ ত্বরান্বিত করিতে চাহিতেছে? কেন তোমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিতেছ না, যাহাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হইতে পারো?


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


প্রতিভাই শক্তি কিন্তু কৌশল হচ্ছে দক্ষতা। 


                         -ডাব্লিউ পি কারজিল।

কবরের উপর বসিও না এবং উহার দিকে মুখ করিয়া নামাজ পড়িও না।   


শিশুর খাবার ও পুষ্টি
১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


মায়ের দুধ খাওয়ানো



IYCF জব এইড/সহায়িকার ব্যবহার



সেবা প্রদানকারীর জন্যে নির্দেশনা



* এই সহায়িকাটি আপনাকে গর্ভবতী মা ও দুই বছরের কম বয়সী শিশুর খাবার ও পুষ্টির ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো মনে রাখতে সাহায্য করবে।



* গর্ভবতী মা ও দুই বছরের কম বয়সী শিশুর খাবার ও পুষ্টির ব্যাপারে গর্ভবতী ও প্রসবোত্তর মাকে সঠিক তথ্য দিতে এই সহায়িকাটি ব্যবহার করবেন।



* মায়েদের সাথে কথা বলার আগে প্রতিবার সহায়িকাটি ভালোভাবে পড়ে নিবেন।



 



গর্ভবতী ও প্রসবোত্তর মা'র জন্যে নির্দেশনা :



* এই সহায়িকাটি গর্ভকালীন বা প্রসব পরবর্তী সময়ে আপনার এবং আপনার শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।



* এই সাহয়িকাটিতে ০-৬ মাস বয়সের শিশুর শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়াানোর সঠিক পদ্ধতি বর্ণনা করা আছে, যা পালন করে আপনি আপনার শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করতে পারেন।



* আপনার ৬-২৪ মাস বয়সের শিশুর জন্যে বয়সভিত্তিক খাবার তৈরি করতে ও খাওয়াতে এই সহায়িকাটি ব্যবহার করবেন।



 



স্বামী ও পরিবারের অন্যান্য পরিচর্যাকারীদের জন্যে নির্দেশনা :



* এই সহায়িকাটি আপনাকে পরিবারের গর্ভবতী ও বা প্রসবোত্তর মা, দুই বছরের কম বয়সী শিশুর সুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নির্দেশনা দিয়ে সাহায্য করবে।



* ০-৬ মাস বয়সের শিশুকে সঠিক পদ্ধতিতে বুকের দুধ খাওয়ানো এবং ৬-২৪ মাস বয়সী শিশুর বয়সভিত্তিক খাবার তৈরি ও খাওয়ানোর জন্যে মাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ সময় দিতে আপনি সাহায্য করুন এবং পরিবারের অন্যান্য পরিচর্যাকারীদের উৎসাহিত করুন।



* কম জন্ম ওজনের এবং অসুস্থ শিশুকে খাওয়ানোর বিশেষ কিছু পদ্ধতি আছে, যা এই সহায়িকাটিতে বর্ণনা করা আছে। এই পদ্ধতিগুলো মেনে চলতে মাকে উৎসাহিত করুন এবং সাহায্য করুন।



 



গর্ভবতী মহিলা



* প্রতিদিন ৩ বারের পরিবর্তে ৪ বার খাবার খেতে হবে। প্রতিবার অতিরিক্ত খাবার হিসেবে ১ মুঠো ভাত, সঙ্গে অন্যান্য খাবার একটু বেশি পরিমাণে খেতে হবে।



* মাছ, ডিম, মাংস, কলিজা, সবুজ শাক, ঘন ডাল, রঙিন সব্জি ও ফল এবং তেলে ভাজা খাবার খেতে হবে।



* মনে রাখবেন, শিশুর জন্মের ১ ঘণ্টার মধ্যে শিশুকে অবশ্যই মায়ের স্তন চুষতে দিতে হবে।



বিঃ দ্রঃ গর্ভাবস্থায় রাতের খাবারের পর ১টি করে আয়রন বড়ি খেতে হবে।



 



নবজাতক : শূন্য (০) থেকে ২৮ দিন



* শিশুর জন্মের সাথে সাথে (অবশ্যই ১ঘণ্টার মধ্যে) তাকে মায়ের স্তন চুষতে দিতে হবে।



* মায়ের দুধ ছাড়া শিশুকে পানি, চিনির পানি, মধু, তেল বা অন্য কিছুই খাওয়ানো যাবে না।



* মা ও শিশুর অবস্থান (পজিশন) দেখুন।



-শিশুর মাথা আছে মায়ের কনুইতে।



- পাছা আছে মায়ের হাতের তালুতে।



-শিশুর মাথা, পিঠ ও পাছা একই লাইনে আছে এবং মা শিশুর সমস্ত শরীর ধরে আছে।



-শিশুর পেট মায়ের পেটের সাথে লেগে আছে।



-দুধ খাওয়ানোর সময় শিশুর মুখ মায়ের স্তনের কাছে আছে।



-শিশুর নাক নিপলের উপরের দিকে আছে।



 



নবজাতক : শূন্য (০) থেকে ২৮ দিন



* শিশুর মায়ের স্তন ভালোভাবে লেগেছে (এটাচমেন্ট) কিনা তা লক্ষ করুন।



-শিশুর নিচের ঠোঁট উল্টানো এবং সে বড় হা করেছে।



-স্তনের কালো অংশের বেশির ভাগ শিশুর মুখের ভেতর আছে এবং মা শিশুর দুধ গেলার শব্দ পাবেন।



-মায়ের হাত ঈ-এর এর মতো করে স্তন ধরবেন।



 



শূন্য (০) থেকে ৬ মাস বয়সের শিশু



মায়ের দুধের পরিমাণ



* দুধের পরিমাণ বাড়াতে হলে প্রতিবার একটি স্তনের দুধ শেষ হলে শিশুকে অন্য স্তনের দুধ খাওয়াতে হবে।



-ঘন ঘন মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে



-প্রতিবার মাকে একটি স্তনের দুধ শেষ হওয়া পর্যন্ত বেশি সময় নিয়ে খাওয়াতে হবে, পরের বার অন্য স্তন থেকে একই নিয়মে খাওয়াতে হবে



- অবস্থান (পজিশন), শিশু মায়ের স্তনে ঠিকভাবে লেগে আছে (এটাচমেন্ট) কিনা খেয়াল করতে হবে।



-শিশুকে পানি বা অন্য কোনো খাবার দেয়া যাবে না।



 



* মাকে শেখান কীভাবে তিনি বুঝবেন শিশু যথেষ্ট দুধ পাচ্ছে;



-দিনে কমপক্ষে ৬ বার প্রস্রাব করছে।



-ভালোবাসে ঘুমায়, হাসিখুশি থাকে ও স্বাভাবিক খেলাধুলা করে।



-ওজন বাড়ছে।



 



মায়ের দুধ কীভাবে গালতে হয়



* মায়ের দুই হাত, একটি বড় মুখের বাটি ও একটি চামচ সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।



* বাটি স্তনের নিচে ধরতে হবে।



* স্তনের উপরে বুড়ো আঙ্গুল ও স্তনের নিচের কালো অংশে বাইরে বাকি ৪ আঙ্গুল রাখতে হবে।



* স্তনে চাপ দিয়ে বোঁটার দিকে আনতে হবে। কোনো অবস্থায় বোঁটায় চাপ দেয়া যাবে না।



* সব আঙ্গুল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সমস্ত স্তনে চাপ দিয়ে দুধ গালতে হবে।



* গলানো দুধ ৬-৮ ঘণ্টা ঘরের তাপমাত্রায় স্বাভাবিক থাকে, যা চামচ দিয়ে শিশুকে খাওয়াতে হবে।



 



শূন্য (০) থেকে ৬ মাস বয়সের শিশু : অসুবিধা



* কম জন্ম ওজনের শিশু।



-ঘন ঘন মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।



-মায়ের দুধ টানতে না পারলে দুধ গেলে বাটিতে নিতে হবে এবং চামচ দিয়ে খাওয়াতে হবে।



 



 



 



 



* ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়া স্তন



-গরম কাপড় দিয়ে স্তনে সেঁক দিতে হবে।



- দুধ গেলে ফেললে স্তন নরম হয়ে আসবে।



-শিশুকে স্বাভাবিকভাবে মায়ের দুধ খেতে দিতে হবে।



 



শূন্য (০) থেকে ৬ মাস বয়সের শিশু : অসুবিধা



* স্তনের বোঁটা ফেটে গেলে কী করতে হবে



-শিশুকে মায়ের বুকে ঠিকমতো লাগাতে হবে।



-ফেটে যাওয়া বোঁটায় মায়ের বুকের দুধ লাগিয়ে বাতাসে শুকাতে হবে।



-যে স্তনের বোঁটা ভালো আছে তা থেকে শিশুকে প্রথমে খাওয়াতে হবে।



-অসুবিধা চলতে থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।



 



* শিশু অসুস্থ হলে তাকে ঘন ঘন মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।



 



৬ থেকে ৮ মাস পূর্ণ বয়সী শিশুর খাবার



* শিশুকে প্রথমে মায়ের দুধ এবং পরে পারিবারিক খাবার থেকে তৈরি বাড়তি খাবার খাওয়াতে হবে।



* শিশুকে প্রতিদিন অন্তত ২ বার ঘরে তৈরি বাড়িতি খাবার (ভাত, ডাল, শাক/সব্জি সঙ্গে মাছ/মাংস/ডিম) অর্থাৎ ৪ ধরনের খাবার খাওয়াতে হবে। (২৫০ মিঃ লিঃ বাটির আধা বাটি করে দিনে ২ বার)



* শিশুকে দিনে ১-২ বার পুষ্টিকর নাস্তা খাওয়াতে হবে।



* খাবার তৈরির এবং খাওয়ানোর আগে মায়ের এবং শিশুর হাত সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।



বিঃ দ্রঃ প্রয়োজনে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত আয়রন খাওয়াতে হবে।



 



৯ থেকে ১১ মাস পূর্ণ বয়সী শিশুর খাবার



* মাকে হাসিখুশি থাকতে হবে।



* প্রতিবেলা শিশুকে অন্যান্য খাবারের সাথে অবশ্যই মাছ বা ডিম বা মুরগির কলিজা বা মাংস দিতে হবে।



* শিশুকে প্রতিদিন অন্তত ৩ বার ঘরে তৈরি বাড়তি খাবার (ভাত, ডাল, শাক/সব্জি সঙ্গে মাছ/মাংস/ডিম) অর্থাৎ ৪ ধরনের খাবার খাওয়াতে হবে।



(২৫০ মিঃ লিঃ বাটির অর্ধেক বাটি করে দিনে ৩ বার)



* শিশুকে দিনে ১-২ বার পুষ্টিকর নাস্তা খাওয়াতে হবে।



* বাড়তি খাবারের পাশাপাশি শিশুকে মায়ের দুধ দিতে হবে।



* খাবার তৈরির এবং খাওয়ানোর আগে মা ও শিশুর হাত সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।



* সময় নিয়ে শিশুকে নিজে নিজে বাড়তি খাবার খেতে উৎসাহ দিতে হবে।



বিঃ দ্রঃ প্রয়োজনে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত আয়রন খাওয়াতে হবে।



 



১২ থেকে ২৩ মাস পূর্ণ বয়সী শিশুর খাবার



* শিশুকে নিজে নিজে খেতে উৎসাহ দিতে হবে



* শিশুকে প্রতিদিন অন্তত ৩ বার ঘরে তৈরি বাড়তি খাবার (ভাত, ডাল, শাক/সব্জি সঙ্গে মাছ/মাংস/ডিম) অর্থাৎ ৪ ধরনের খাবার খাওয়াতে হবে)



(২৫০ মিঃলিঃ বাটির ১ বাটি করে দিনে ৩ বার )



* শিশুকে দিনে ১-২ বার পুষ্টিকর নাস্তা খাওয়াতে হবে।



* বাড়তি খাবারের পাশাপাশি শিশুকে মায়ের দুধ দিতে হবে।



* খাবার তৈরির এবং খাওয়ানোর আগে মা ও শিশুর হাত সাবান ও পরিষ্কার সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।



বিঃ দ্রঃ প্রয়োজনে স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত আয়রন খাওয়াতে হবে।



 



যে সকল শিশু খেতে চায় না, তাদের কীভাবে খাওয়াবেন



* শিশুর যখন ক্ষুধা লাগবে, তখন খাওয়াতে হবে।



* একই খাবার বার বার না খাইয়ে খাবারে বৈচিত্র্য আনতে হবে।



* জুস, চকলেট, চিপস, চানাচুর, বিস্কুট জাতীয় খাবার শিশুকে খাওয়ানো যাবে না।



* উৎসাহ দিয়ে ও প্রশংসা করে শিশুকে খাওয়াতে হবে।



* সময় নিয়ে ও ধৈর্য ধরে শিশুকে খাওয়াতে হবে।



* শিশুকে তার পছন্দের সুষম খাবার দিতে হবে।



* শিশুকে জোর করে বা মারধর করে খাওয়ানো যাবে না।



 



অসুস্থ শিশুকে খাওয়ানো



* অসুস্থ শিশুকে ঘন ঘন মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।



* শিশুর পছন্দের সুষম খাবার দিতে হবে।



* শিশুকে অল্প অল্প করে বার বার খেতে দিতে হবে।



* অসুখ থেকে সেরে উঠলে আগের ওজন না হওয়া পর্যন্ত অন্তত ২ সপ্তাহ ধরে বেশি পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খেতে দিতে হবে।



 



৬ মাস থেকে ২৪ মাস বয়সের শিশু, গর্ভবতী মহিলা ও প্রসূতি মায়ের খাবার



পুষ্টিকর খাবার



প্রত্যেক ভাগ থেকে অন্তত ১টি করে খাবার প্রতিদিন প্রতিবেলা দিতে হবে



-ভাত, রুটি



-মাছ, ডিম, কলিজা, মাংস



-শাক, পাকা আম, পাকা পেঁপে, মিষ্টি কুমড়া, কাঁঠাল



-ঘন ডাল



-দুধ (গুঁড়ো দুধ ছাড়া)



 



নাস্তা



দুধ ছাড়া নাস্তা : পিঠা, তেলমাখা মুড়ি, তেলমাখা চিড়া, ফল, বাদাম



দুধসহ নাস্তা : সেমাই, পায়েস, ফিরনি, ক্ষীর, পুডিং, হালুয়া, ছানা।



সূত্র : সূর্যের হাসি ক্লিনিক।



 



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৮১৬২০
পুরোন সংখ্যা