চাঁদপুর। সোমবার ১৩ মার্চ ২০১৭। ২৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৩৮
ckdf

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪৬। সে বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কেন কল্যাণের পূর্বে অকল্যাণ ত্বরান্বিত করিতে চাহিতেছে? কেন তোমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিতেছ না, যাহাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হইতে পারো?


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


প্রতিভাই শক্তি কিন্তু কৌশল হচ্ছে দক্ষতা। 


                         -ডাব্লিউ পি কারজিল।

কবরের উপর বসিও না এবং উহার দিকে মুখ করিয়া নামাজ পড়িও না।   


কাশি : কারণ ও করণীয়
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+
কাশি সুস্থ মানুষের জীবনে অতি সাধারণ এক সচেতনতামূলক উপসর্গ। কেউ হাসতে হাসতে কাশিতে আক্রান্ত হন। কেউ খাবার খেতে গিয়ে বিষম খেয়ে কাশিতে ভোগেন। কাশির আওয়াজ দিয়ে কেউ কাউকে আহ্বান করে সন্তর্পণে অথবা কাউকে সচকিত  করে সাবধানতার নিমিত্তে। কেউ রাতে ঘুমুতে গিয়ে কাশেন, কেউবা কাশতে কাশতে মূত্র বিয়োগের অনিরোধযোগ্য চাপে ভোগেন ও অসহ্য চাপে নিজেকে সিক্ত করে তোলেন। কারো কাশিতে দলা দলা আঠালো কফ যায় আর কারো কাশিতে কেবল শুকনো হাওয়ার দমক। কাশি কখনো রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে ভীতি তৈরি করে আবার কাশি কখনো তৈরি করে মরণোন্মুখ শ্বাস কষ্ট। কারো কাশি দীর্ঘ দিনের বেদনার অভিযাত্রা আর কারো কাশি ক্ষণকালের নারকীয় দুর্ভোগ। কেউ কাশে ঠা-া পেলেই আবার কেউ কাশে আতঙ্কে জাঁদরেল অধ্যক্ষের সামনে পড়ে। কাশি কখনো রোগের প্রকাশ, কাশি কখনো দুর্ঘটনার অনিবার্য পরিণতি।

            প্রকৃতি এখন ফাগুনের রঙে রাঙিয়ে নিজেকে শীত হতে উত্তরণের গান শুনিয়ে গরমের তেজ তৈরি করছে ক্রমশঃ। ক্রান্তিকালের এমনই সময়ে ঠা-া-গরমের দ্বৈরথে সংবেদনশীন মানুষ কাশিতে আক্রান্ত হয়ে কাতর হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়। পাশাপাশি রাস্তাঘাটে এখন ঝরাপাতা-মরাপাতা উড়ানোর উৎসব, সাথে পথে-প্রান্তরের ধূলিকণা-বালিরাশি। অ্যালার্জির এতো বাড়াবাড়ি উপাদানের নৃত্যলীলায় আক্রান্ত মানুষের কাশি দীর্ঘস্থায়ী রূপ পেতে পারে। এই আশঙ্কা হতেই আজ কাশি নিয়ে ঝেড়ে কাশা’র অবকাশ।

কাশি কী :

            কাশি হচ্ছে মানবদেহের একটি অতি সাধারণ শারীর বৃত্তীয় প্রতিক্রিয়ামূলক কর্ম, যাতে গলগহ্বরে সঞ্চিত মিউকাস বা বাহির হতে অনুপ্রবিষ্ট বিরক্তি উৎপাদী পদার্থ নিষ্ক্রমণের প্রয়াস নিবদ্ধ থাকে। কাশি কখনো তীব্র হয়। হঠাৎ হয়। আবার পুনরাবৃত্তও হয়। কাশির প্রতিক্রিয়ার তিনটি পর্যায়। যথা :

            * বাতাস দেহাভ্যন্তরে টেনে নেওয়া।

            * বদ্ধ গ্লটিস বা আলজিহ্বার বিপরীতে জোরে বাতাস ছাড়া।

            * গ্লটিস খোলার সাথে সাথে ফুসফুস হতে ধ্বংসাত্মক বেগে শব্দ তৈরি করে বাতাস নির্গমন।

            কাশি স্বেচ্ছাকৃত হতে পারে। কাশি অনিচ্ছাকৃতও হতে পারে।

কাশির ধরণ :

            কাশিকে ব্যাখ্যা করতে গেলে তার স্থায়িত্ব, চরিত্র, গুণাগুণ এবং সময় বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

            ক. (র) হঠাৎ তীব্র কাশি : তিন সপ্তাহের চেয়ে কম স্থায়িত্ব।

            (রর) নাতি তীব্র কাশি : তিন সপ্তাহ হতে আট সপ্তাহ স্থায়িত্ব।

            (ররর) দীর্ঘ মেয়াদী কাশি : আট সপ্তাহের বেশি যার স্থায়িত্ব।

            খ. (র) উৎপাদনশীল কাশি : যে কাশিতে কফ যায় বা তৈরি হয়।

            (রর) অনুৎপাদনশীল কাশি : যে কাশিতে কোনো কফ যায় না, শুকনা কাশি।

            (ররর) ডাক উৎপাদী কাশি : বার্কিং কাশি যা ক্রুপাক্রান্ত (ঈৎড়ঁঢ়) বাচ্চার কাশিতে শোনা যায়।

            গ. জীবাণু সংক্রমণজনিত কাশি :

            * সাধারণ সর্দিকাশি

            * তীব্র ব্রঙ্কাইটিস

            * নিউমোনিয়া

            * পারটুসিস

            * টিউবারকুলোসিস বা যক্ষ্মা

            * সংক্রমণ-উত্তর কাশি

            * প্রদাহজনিত কাশি : অ্যালার্জেন প্রদাহ

            ঘ. শ্বাসতন্ত্রের কারণে কাশি :

            * প্রতিক্রিয়ামূলক শ্বাসনালীর রোগ :

            * ব্রঙ্কিয়াল হাইপার রেসপন্সিভনেস

            * এটপিক কাফ

            * ইওসিনোফিলিক ব্রঙ্কাইটিস

            * অ্যাজমা

            * ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস

            * ধূমপায়ীর কাশি বা স্মোকারস কাফ

            * ঈঙচউ

            * নিউমোকোনিওসিস (পেশাজনিত শ্বাসতন্ত্রের রোগ) 

            ঙ. শারীর বৃত্তীয় কারণে কাশি :

            * শ্বাসনালীতে খাদ্যবস্তু অনুপ্রবেশ

            * শ্বাসনালীতে অনাকাক্সিক্ষত বাহ্যিক বস্তুর অনুপ্রবেশ

            * গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লা* ডিজিজ

            * বায়ু দূষণজনিত কাশি

            চ. ঔষধ ব্যবহারজনিত কাশি :

            * অঈঊ-ইনহিবিটর জাতীয় ঔষধ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যা ব্যবহৃত হয়। যেমন : র‌্যামিপ্রিল, কুইনাপ্রিল ইত্যাদি।

            ছ. সাইকোজেনিক কাশি :

            কোন সমস্যা না থাকলেও মুদ্রাদোষগত কারণে বা ভীতিতে এই কাশি হয়। এটা প্রাপ্ত বয়স্কদের চেয়ে বাচ্চাদের বেশি হয়।

            জ. নিউরোজেনিক কাশি :

            সংবেদী ¯œায়ুবিক বিভ্রাটে এই কাশি হয়। যেমন : ট্যুরেট সিন্ড্রোম। নিউরালজিয়ার চিকিৎসা নিলে নিউরোজেনিক কাশি তিরোহিত হয়।

            ঝ. ফুসফুস সংশ্লিষ্ট কাশির আরো কারণ :

            ব্রঙ্কিয়েকটেসিস, সিস্টিক ফাইব্রোসিস, ইন্টারস্টিশিয়াল লাং ডিজিজ, সারকয়ডোসিস, লাং ক্যান্সার বা লাং টিউমার।

ক্ষণস্থায়ী তীব্র কাশির কারণ :

            * ভাইরাস জনিত লোয়ার রেসপিরেটরী ট্র্যাক্ট সংক্রমণ

            * পোস্ট ন্যাজাল ড্রিপ (রাইনাইটিস/সাইনুসাইটিস)

            * ফরেন বডি অ্যাসপিরেশন

            * ল্যারিঞ্জাইটিস/ফ্যারিঞ্জাইটিস

            * নিউমোনিয়া

            * কনজেস্টিভ হার্ট ফেইলিওর

            * পালমোনারী অ্যামবোলিজম

 

           

 

 

দীর্ঘস্থায়ী কাশির কারণ :

* পোস্ট ন্যাজাল ড্রিপ

* কাশিযুক্ত অ্যাজমা

* এঊজউ

* বর্ডিটেলা পারটুসিস সংক্রমণ

* ঔষধ ব্যবহারের প্রতিক্রিয়ায় কাশি

বিশেষ পরিস্থিতি :

কাশির সাথে রক্ত :

                    অ্যাকিউট    

                    ক্রনিক

* ব্রঙ্কিয়েক ট্যাসিস

* ফুসফুসে ক্যান্সার/ফুসফুসে টিউমার

* রক্ত জমাট না বাঁধার ঔষধ সেবন

* নিউমোনিয়া

* পালমোনারী অ্যামবলিজম

* কনজেসটিভ কার্ডিয়াক ফেইলিওর

* টিউবারকুলোসিস

* অটোইমিউন কন্ডিশন (লুপাস)

* ক্র্যাক কোকেইন

* আঘাতজনিত ক্ষত

শুকনো কাশির কারণ :

* ভাইরাসের শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ

* ইনফ্লুয়েঞ্জা

* হে ফিভার এবং অ্যালার্জি

* বায়ু দূষণ জনিত কাশি

* শ্বাসনালীতে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড অনুপ্রবেশ বা এসিড রিফ্লা*

* ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বিশেষতঃ  উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকারী অঈঊ ইনহিবিটর।

* মানসিক চাপ

* ¯œায়ু বৈকল্য ও ¯œায়বিক চাপ

* অ্যাজমা বা হাঁপানীতে দীর্ঘস্থায়ী শুকনো কাশ দেখা দেয়

* হার্ট ফেইলিওর ও প্ল্যুরাল ইফিউশন

* হুপিং কাশ

* টিবি

* লাং ক্যান্সার

কাশিতে কফ :

* ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস

* নিউমোনিয়া

* ব্রঙ্কোনিউমোনিয়া ইত্যাদি।

* সাদা ফেনিল কফ : পালমোনারী ইডিমা

* দুধাভ সাদা কফ : অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে নির্গত কফ।

* হলদে কফ : ব্যাকটেরিয়া জীবাণু সংক্রমণ

* ব্রঙ্কাইটিস

* ব্রঙ্কোনিউমোনিয়া

* নিউমোনিয়া

* গোলাপী কফ :

* অ্যালভিওলাইটিস

* লাল কফ :

* টিবি

* লাং ইনফার্কশন

* লাং অ্যাবসেস

* লাং ক্যান্সার

* সবুজ কফ : * সিস্টিক ফাইব্রোসিস

* ক্রনিক ইনফেকশাস ডিজিজ

* বাদামী কফ : * ক্রনিক নিউমোনিয়া

কাশির চিকিৎসা :

* শিশুদের কাশি :

* কাশির কারণ নিরূপণ ও তার চিকিৎসা

* সাধারণতঃ অধিকাংশ শিশুর কাশি চিকিৎসাবিহীন ১০ দিনের মাথায় ভালো হয়ে যায়।

বড়দের কাশির চিকিৎসা :

* কাশির কারণ নিরূপণ ও সেই মোতাবেক ব্যবস্থাগ্রহণ।

* মধুর ব্যবহার কাশির প্রকোপ কমিয়ে আনে।

কাশির জটিলতা :

* দীর্ঘক্ষণ কাশি থাকলে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন কমে আসে ও আক্রান্ত ব্যক্তি ফেইন্ট হয়ে যায়।

* অনিদ্রা

* কাশি উদ্ভূত বমি

* কনজাংটিভার নীচে রক্তক্ষরণ (লাল চোখ)

* নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুর মুখ বের হয়ে আসা

* কাশিজনিত মল ও মূত্র বিয়োগ

* কাশির কারণে তলপেট ও পেলভিসের হার্নিয়া

* নীচের দিকের পাঁজর-অস্থির চিড় ধরা ও কস্টো-কন্ড্রাইটিস্ দেখা দেয়।

কাশি হতে মুক্ত থাকার উপায় :

* ধূমপান বর্জন করুন ও দূরে থাকুন।

* অ্যালার্জেন প্রতিরোধে নাকে-মুখে মাস্ক ব্যবহার করুন। ধূলা-বালি ও ধোঁয়া এড়িয়ে চলুন।

* ঠা-া ও গরমের মিশেল এড়িয়ে চলতে হবে। নচেৎ শ্বাসতন্ত্রে প্রতিক্রিয়া জনিত কাশির উদ্রেক হবে।

* অল্প কাশিতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। তাতে কাশি মুক্তির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে।

* টিবি, নিউমোনিয়া জাতীয় রোগের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন নিন।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৬৯০৩
পুরোন সংখ্যা