চাঁদপুর। সোমবার ১৩ মার্চ ২০১৭। ২৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • --
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৪৬। সে বলিল, ‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা কেন কল্যাণের পূর্বে অকল্যাণ ত্বরান্বিত করিতে চাহিতেছে? কেন তোমরা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিতেছ না, যাহাতে তোমরা অনুগ্রহভাজন হইতে পারো?


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


প্রতিভাই শক্তি কিন্তু কৌশল হচ্ছে দক্ষতা। 


                         -ডাব্লিউ পি কারজিল।

কবরের উপর বসিও না এবং উহার দিকে মুখ করিয়া নামাজ পড়িও না।   


ফটো গ্যালারি
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস
১৩ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


গর্ভকালীন ডায়াবেটিস কাকে বলে এবং এর ঝুঁকি ও লক্ষণগুলো কী কী?



গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এক ধরনের ডায়াবেটিস যা শুধুমাত্র গর্ভবর্তী মহিলাদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। গর্ভাবস্থায় প্রথম শনাক্তকৃত যে কোন মাত্রার গ্লুকোজ অসহনীয়তাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা জিডিএম বলা হয়। সন্তান প্রসবের পর এই গ্লুকোজ অসহনীয়তা স্থায়ী হওয়া না হওয়া নির্বিশেষে এই সংজ্ঞা প্রযোজ্য। বংশগত ও পরিবেশগত ভিন্নতার ফলে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীতে ডায়াবেটিসের কারণ ও রোগতত্ত্বের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। যে সকল নারী ২৫ বছর পরে সন্তান ধারণ করেন, যাদের পরিবারে ডায়াবেটিস রোগের ইতিহাস রয়েছে, উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে, ওজনাধিক্য ও মেদবাহুল্য রয়েছে, ঘন ঘন গর্ভপাত ও গর্ভে সন্তান মারা যাওয়ার ইতিহাস রয়েছে-তাদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস-এর সাধারণ লক্ষণগুলো হলো অধিক তৃষ্ণা ও মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ঘন ঘন প্রস্রাব, সব সময় ক্ষুধা রোধ করা, অল্প সময়ে ওজন হ্রাস পাওয়া, অতিশয় দুর্বল ভাব, মূত্রথলি, চর্ম ও যোনী পথে ঘন ঘন সংক্রমণ।



 



গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হলে মা ও শিশুর কী কী জটিলতা হতে পারে?



গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে মা ও শিশু উভয়েরই নানান জটিলতা হতে পারে, এমনকি তাদের মৃত্যু ঝুঁকিরও সম্ভাবনা থাকে। মায়ের জটিলতার মধ্যে রয়েছে-গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, খিঁচুনি অকাল প্রসব, সিজারিয়ান ডেলিভারীর বর্ধিত হার এবং প্রসব পরবর্তী টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি। শিশুর জটিলতার মধ্যে রয়েছে অতিবৃদ্ধি, গর্ভকালীন মৃত্যু, স্কন্ধ আটক, জন্মকালীন আঘাত প্রাপ্তি, জন্ডিস, জন্মের পর হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্ত গ্লুকোজের স্বল্পতা) ও শ্বাসকষ্ট কৈশোরে বা পরবর্তী সময়ে স্থূলতা ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার অধিক সম্ভাবনা।



গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মায়ের প্রসবিত শিশুর সম্ভাব্য জটিলতা :



১. শ্বাসকষ্ট, ২. শিশুর অতিবৃদ্ধি, ৩. জন্মকালীন আঘাত, ৪. স্কন্ধ আটক, ৫. জন্ডিস, ৬. কৈশোরে বা পরবর্তী সময়ে স্থূলতা।



 



গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা :



গর্ভাবস্থায় ২৪-২৮ সপ্তাহের মধ্যে সকল গর্ভবতী মায়েরই ডিডিএম-এর জন্য রক্ষের গ্লুকোজ পরীক্ষা করা আবশ্যক। যদি গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ঝুঁকি সমূহের কোনো একটি থাকে তাহলে ২৪-২৮ সপ্তাহের পূর্বে পরীক্ষা করা দরকার। ওজিটিটি (৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ) দ্বারা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নিশ্চিত করা যায়। এর জন্য সময়মতো নিকটস্থ হাসপাতাল কিংবা ডায়াবেটিস চিকিৎসা কেন্দ্রে যোগাযোগ করা দরকার।



গর্ভকালীন ডায়াবেটিস-এর ব্যবস্থাপনা ও প্রতিরোধ :



গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনার মূল খুঁটিই হচ্ছে পুষ্টি ও জীবনাচরণজনিত ব্যবস্থাপনা। সঠিকভাবে এই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করলে অধিকাংশ রোগীরই কোন ঔষধের প্রয়োজন হয় না। গর্ভধারণের পূর্বে কিংবা গর্ভাবস্থার প্রথম থেকে মায়ের ওজনের ভিত্তিতে গর্ভাবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত পুষ্টির কথা স্মরণ রেখে প্রত্যেক রোগীর জন্য পৃথকভাবে একজন প্রশিক্ষিত পুষ্টিবিদ কর্তৃক খাদ্যতালিকা প্রস্তুত করা উচিত। পুষ্টি গ্রহণের সঙ্গে সমতা রেখে মাকে চিকিৎসক কর্তৃক নির্দেশিত দৈনন্দিন শরীর চর্চা করতে হবে। গর্ভাবস্থায় ক্যাফিন, অ্যালকোহল, তামাক সেবন, ধূমপান এবং সুপারীসহ পান পরিত্যাগ করতে হবে। মনে রাখা দরকার যে, পুষ্টি ও জীবনাচরণজনিত ব্যবস্থাপনার দ্বারা সপ্তাহ খানেকের মধ্যে রক্তে গ্লুকোজ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে পৌছলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা করতে হবে। গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের প্রধান ঔষধই হলো ইনসুলিন। যেহেতু ইনসুলিনের ধরণ ও মাত্রাভেদে এর কার্যকারিতার তফাৎ রয়েছে সেজন্যে দক্ষ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এ চিকিৎসা করালে মা ও বাচ্চার মারাত্মক ক্ষতি, এমনকি মায়ের জীবন সংশয় কিংবা গর্ভের শিশুর মৃত্যু হতে পারে। সময়মতো ইনসুলিন দ্বারা চিকিৎসা না করালেও একই ঘটনা ঘটতে পারে।



গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা জিডিএম-এর কারণে গর্ভস্থ শিশু, নবজাতক ও পরবর্তী জীবনে সন্তানের মধ্যে ঝুঁকির পরিমাণ অনেক বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও জিডিএম মায়ের নবজাতকের জন্মগত ত্রুটির সম্ভাবনা প্রায় ৩ গুণ এবং মৃত্যুসহ অন্যান্য মারাত্মক জটিলতার সম্ভাবনা প্রায় ৫ গুণ। সেজন্যে গর্ভাবস্থার তিন পর্যায়ে (গর্ভকালীন, প্রসবকালীন ও প্রসবপরবর্তী) নিয়মিত মনিটরিং, সময়মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সংশোধনী পদক্ষেপ নিলে প্রসবপূর্ব, প্রসবকালীন ও প্রসবপরবর্তী সময়ে আঘাত ও অন্যান্য জটিলতাসহ মা ও শিশুর ক্ষতিকর প্রভাব কমানো যায়। একজন গর্ভকালীন ডায়াবেটিস-এ আক্রান্ত মহিলার হাসপাতালে কমপক্ষে ১০টি ফলো-আপ ভিজিটের প্রয়োজন (ইনসুলিন দ্বারা চিকিৎসার ক্ষেত্রে আরো ঘন ঘন প্রয়োজন হতে পারে)। এছাড়া কোনো কোনো ক্ষেত্রে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার কারণে শিশুর মৃত্যু হতে পারে। এক্ষেত্রে জন্মের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত শিশুর ঘনিষ্ঠ মনিটরিং দরকার। তাই গর্ভকালীন ডায়াবেটিস মায়েদের প্রসব অবশ্যই একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে হওয়া উচিত।



গর্ভকালীন ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে গর্ভকালীন সময়ে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা সঠিক রাখাই প্রধান লক্ষ্য। এজন্যে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, যথোপযুক্ত খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও গর্ভধারণের পরিকল্পনা গ্রহণের পর চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা (প্রিকনসেপশন কেয়ার), নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিকট ভিজিট করা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ঔষধ গ্রহণ করা, শিশুকে ২ বছর পর্যন্ত মায়ের দুধ খাওয়ানো, প্রসব পরবর্তী (৪২ দিন পর) ৭৫ গ্রাম ওজিটিটি পরীক্ষা করানো, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিকট শিশুকে নিয়ে নিয়মিত ভিজিট করা, শিশুর সুষম খাদ্যাভ্যাস তৈরি করা প্রয়োজন।



গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ও প্রতিরোধের মাধ্যমে আমরা মায়েদের প্রসবকালীন জটিলতা, মায়ের মৃত্যুহার, শিশুদের জন্মকালীন ও জন্মপরবর্তী জটিলতা, শিশু মৃত্যুহার এবং পরবর্তী জীবনে মা ও শিশুর টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার বর্ধিত ঝুঁকি কমাতে পারি। তাই এই বিষয়টি সকলের মনোযোগের দাবি রাখে। একই সঙ্গে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের হার কমালে এবং সঠিক সময়ে নির্ণয় ও চিকিৎসা করালে এমডিজি বা মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল ৪ ও ৫ (গউএ ৪ @ ৫)-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে। সুতরাং গর্ভকালীন ডায়াবেটিস-এর ব্যাপারে সচেতন হোন এবং নিজেকে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিপদমুক্ত রাখুন।



 



সূত্র : সিজিডিএম প্রকল্প, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেস, ঢাকা।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬৭২৭০
পুরোন সংখ্যা