চাঁদপুর। সোমবার ১০ এপ্রিল ২০১৭। ২৭ চৈত্র ১৪২৩। ১২ রজব ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৮২। যখন ঘোষিত শাস্তি উহাদের নিকট আসিবে তখন আমি মৃত্তিকাগর্ভ হইতে বাহির করিব এক জীব, যাহা উহাদের সহিত কথা বলিবে, এই জন্যে যে, মানুষ আমার নিদর্শনে অবিশ্বাসী। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

assets/data_files/web

সংসারে যে সবাইকে আপন ভাবতে পারে, তার মতো সুখী নেই।              

-গোল্ড স্মিথ।


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


ডায়াবেটিসে ভয় নয়, করতে হবে জয়
১০ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ডায়াবেটিস কী? ডায়াবেটিস হলো ইনসুলিন নামক একটি হরমোনের সমস্যাজনিত অসুখ। ইনসুলিন তৈরি হয় পেটে অবস্থিত অগ্ন্যাশয় নামক অঙ্গ থেকে। ইনসুলিনের কাজ হলো রক্তে গ্লুকোজের ভারসাম্য রক্ষা করা। শরীরে ইনসুলিন কমে গেলে বা অকার্যকর হলে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই অবস্থাই হচ্ছে ডায়াবেটিস মেলাইটাস (বা ডায়াবেটিস)।



ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণ কী?



ক) ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া। খ) খুব বেশি পিপাসা লাগা। গ) বেশি ক্ষুধা পাওয়া। ঘ) যথেষ্ট খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া। ঙ) ক্লান্তি ও দুবর্লতা বোধ করা। চ) ক্ষত শুকাতে বিলম্ব হওয়া। ছ) চোখে কম দেখা। জ) খোশ-পাচড়া, ফোঁড়া প্রভৃতি চর্মরোগ দেখা দেয়া।



প্রি-ডায়াবেটিস কী? প্রি-ডায়াবেটিস হল ডায়াবেটিসের পূর্বাবস্থা। অনেকেই একে 'বর্ডার-লাইন' ডায়াবেটিস বলে থাকে। এ অবস্থায় রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কিন্তু ডায়াবেটিক রোগীদের চেয়ে কম থাকে। প্রি-ডায়াবেটিস থাকলে পরবর্তীকালে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা অনেক গুণ বেড়ে যায়



ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ : * টাইপ-২ ডায়াবেটিস * ডায়াবেটিস গর্ভকালীন * বিবিধ কারণ ভিত্তিক ডায়াবেটিস।



এসবের মধ্যে পৃথিবীর শতকরা প্রায় ৯৫ জনের ডায়াবেটিস হচ্ছে টাইপ-২ ডায়াবেটিস। আমাদের মূল বিবেচ্য হচ্ছে এই টাইপ-২ ডায়াবেটিস



ডায়াবেটিসের (টাইপ-২) ঝুঁকিসমূহ কী কী? ওজনাধিক্য ও স্থূলতা * শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা * স্বাস্থ্যহানিকর খাদ্যাভ্যাস * মানসিক চাপ * গর্ভকালীন সমস্যা * ধূমপান/তামাক * বয়স * পারিবারিক ইতিহাস। ঝুঁকিগুলি যাদের মধ্যে যত বেশি তাদের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা অন্যদের থেকে তত বেশি।



১. ওজনাধিক্য ও স্থূলতা : বর্তমান বিশ্বের ৫০-৬০% মানুষ ওজনাধিক্য/স্থূলতায় আক্রান্ত। প্রতি ১ কেজি ওজন বৃদ্ধিতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ৫% বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। শিশু-কিশোরদের মধ্যেও স্থূলতার কারণে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।



২. শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা : বর্তমানে বিশ্বের ৬০% মানুষই পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম করে না। শুধুমাত্র শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার সাথে সম্পর্কিত থাকার কারণে প্রতি বছর পৃথিবীতে ১৯ লাখ মানুষ মারা যায়। ১০-১৬% ডায়াবেটিস শুধুমাত্র শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাজনিত কারণে হয়ে থাকে। ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাজনিত কারণে ডায়াবেটিস হবার ঝুঁকি ৬ গুণ বেশি।



৩. স্বাস্থ্যহানিকর খাদ্যাভ্যাস : ক্রটিপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসই পৃথিবীর এক তৃতীয়াংশ অসুখের মূল কারণ। যারা জীবনের প্রথম দিকে অপুষ্টিতে ভোগে আর বয়সকালে স্থূল হয়ে যায় তাদের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ আর হৃদরোগ বেশি দেখা যায়।



৪. মানসিক চাপ : মানসিক চাপ কায়িক শ্রম কমায় ও খাদ্যাভ্যাস ক্রটিপূর্ণ করে এবং ওজনাধিক্য ও স্থূলতা বৃদ্ধি করে। এছাড়াও মানসিক চাপ ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা কমাতে পারে।



৫. গর্ভকালীন সমস্যা : যেসব শিশু গর্ভাবস্থায় অপুষ্টিতে ভোগে ও জন্মকালীন ওজন কম তাদের পরবর্তীকালে ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ আর হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি। যেসব শিশুর জন্মকালীন ওজন বেশি তাদেরও পরবর্তীকালে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি ।



মহিলাদের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে পরবর্তীকালে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা অনেক গুণ বেড়ে যায়। এটা নির্ভর করে গর্ভধারণের সংখ্যা ও অন্যান্য ঝুঁকির উপস্থিতির উপর।



৬. ধূমপান/তামাক : ধূমপান/তামাক ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা কমিয়ে ডায়াবেটিস বৃদ্ধি করতে পারে।



৭. বয়স : বয়স বাড়ার সাথে সাথে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে থাকে।



৮. পারিবারিক ইতিহাস : পারিবারে কারো ডায়াবেটিস থাকলে ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।



ডায়াবেটিস কেন প্রতিরোধ করা দরকার?



ডায়াবেটিস (বিশেষত টাইপ-২ ডায়াবেটিস) দ্রুত বাড়ছে। এশীয় দেশ সমূহে এর প্রকোপ তুলনামূলকভাবে বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৬০ লাখ লোক ডায়াবেটিসে ভুগছে। বিশ বছর পর এই সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে যাবে। একই সাথে বাড়ছে প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্তের সংখ্যা এবং প্রি-ডায়াবেটিস থেকে ডায়াবেটিসে রূপান্তরের সংখ্যা। ডায়াবেটিসের স্বাস্থ্যগত সমস্যা অনেক। বিশেষ করে এর জটিলতাগুলো যেমন হৃদরোগ, কিডনি রোগ, অন্ধত্ব, স্ট্রোক, পায়ের ঘা ইত্যাদি একবার হলে এগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া দুরূহ। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুঝুঁকিও কয়েক গুণ বেশি। অর্থনীতিতেও এই রোগের বিরাট প্রভাব রয়েছে। ডায়াবেটিসের চিকিৎসা ও এর জটিলতার চিকিৎসায় প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। এই অসুখের ফলে কেউ কাজের অনুপযুক্ত হয়ে পড়লে তা পরিবার ও সমাজের উপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। আমাদের মত দেশসমূহে এই চাপ সামলানো বেশ কঠিন। এছাড়া ডায়াবেটিসে আরো কিছু অসুবিধা হতে পারে, যেমন- গতিশীলতা কমে যাওয়া, দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্মের ব্যাঘাত হওয়া, মানসিক বিষণ্নতা ইত্যাদি। ডায়াবেটিস প্রতিরোধের সাথে সাথে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার ইত্যাদি রোগও প্রতিরোধ করা সম্ভব। এখানে আরো উল্লেখ্য যে, সারা পৃথিবীতে ডায়াবেটিস চিকিৎসা সেবার মান এবং চিকিৎসায় বরাদ্দকৃত অর্থ ও সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। সবকিছু বিবেচনা করে বুঝা যায় যে ডায়াবেটিস প্রতিরোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



ডায়াবেটিস কিভাবে প্রতিরোধ করা যায় ?



অনেকদিন ধরে বিভিন্ন গবেষণা করে দেখা গেছে নিচের পদক্ষেপ দ্বারা টাইপ-২ ডায়াবেটিস বহুলাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।



* উচ্চতা অনুযায়ী ওজন স্বাভাবিক মাত্রায় রাখার চেষ্টা করতে হবে। শরীরের ওজন বেশি থাকলে কমপক্ষে ৫%-১০% ওজন কমাতে হবে। একই সাথে মেদভুঁড়ি যেন না বাড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।



* শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়াম করতে হবে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট দ্রুতভাবে হাঁটতে হবে। অন্যান্য ব্যায়ামও করা যেতে পারে, যেমন দৌড়ানো, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো ইত্যাদি।



* পরিমিত খাবার ক্যালরিবহুল খাবার, যেমন:



* তেল-চর্বিযুক্ত খাবার (তেল, ঘি, মাখন, ডালডা, চর্বি, ডিমের কুসুম, মগজ ইত্যাদি) কম খেতে হবে।



* চিনি-মিষ্টিযুক্ত খাবার (সফ্ট ড্রিংক, চকলেট, কেক, পেস্ট্রি, কুকি ইত্যাদি) কম খেতে হবে।



* ফাস্টফুড (বার্গার, পিজা, সিঙ্গারা, সমুচা ইত্যাদি) কম খেতে হবে।



* শর্করাবহুল খাবারগুলো (চাল, আটা ইত্যাদি দিয়ে তৈরি খাবার) কিছুটা হিসাব করে খেতে হবে।



ক্যালরিবহুল খাবারগুলো বেশি খেলে ওজন বেড়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।



* শাকসবজি, ফল-মূল বেশি করে খেতে হবে।



* লবণ কম খেতে হবে।



* মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবদের সাথে বেশি করে সময় কাটাতে হবে। নিজের বিচারবুদ্ধি ও ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস বাড়াতে হবে। আশাবাদী হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।



* গর্ভকালীন সময়ে মায়ের পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে, যেন গর্ভস্থ শিশু অপুষ্টিতে না ভোগে। মায়ের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে তাও সুনিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে।



* শিশু কিশোরদের মধ্যেও আজকাল টাইপ-২ ডায়াবেটিস বেড়ে যাচ্ছে। তাই এরা যেন অপুষ্টিতে না ভোগে, আবার অতি পুষ্টিতে ওজন না বাড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। একই সাথে শিশুরা যেন শ্রমবিমুখ না হয় তা দেখাও গুরুত্বপূর্ণ।



* ধূমপান/তামাক ডায়াবেটিসের ভয়াবহতা এবং জটিলতা অনেক গুণ বাড়িয়ে দেয়। ধূমপানসহ সব ধরণের তামাক বর্জন করতে হবে।



ডায়াবেটিস শনাক্তকরণ :



রক্ত পরীক্ষার (ওজিটিটি) মাধ্যমে গ্লুকোজের মাত্রা এবং ডায়াবেটিস ও প্রি-ডায়াবেটিস অবস্থা শনাক্ত করা হয়।



পরীক্ষা পদ্ধতি : ১. সকালে খালি পেটে রক্ত পরীক্ষা (রাতে খাবারের ৮-১৪ ঘন্টা পর) এবং



২. ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ, মাঝারি মাপের ১ গ্লাস (২৫০-৩০০ মি.লি. ) পানিতে মিশিয়ে খাওয়ার ২ঘন্টা পর রক্ত পরীক্ষা।



আপনার বয়স যদি ৩৫ বছর বা ঊধর্ে্ব হয় এবং ডায়াবেটিস হবার কোন ঝুঁকি না থাকে, তবে প্রতি ৩ বছর পরপর ডায়াবেটিস আছে কিনা রক্ত পরীক্ষা করে দেখতে হবে। ডায়াবেটিস হবার যে কোন ঝুঁকি থাকলে আরো কম বয়সে এবং প্রতি বছর ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে হবে।



ডায়াবেটিস প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে ?



ব্যক্তি পর্যায়ে : কম চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে, ওজন কমিয়ে কম ক্যালরিযুক্ত খাবার এবং শারীরিক কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগকে প্রতিরোধ অথবা বিলম্বিত করতে পারে। নিম্ন লিখিত কার্যকরী পদ্ধতিগুলো সর্ব সাধারণকে টাইপ ২ ডায়াবেটিস এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক রোগের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে।



* মৌলিক খাদ্য শ্রেণীর (ফল, সবজি, দুধ, মাংস, শস্য এবং সীম) মধ্যে বৈচিত্র্য রক্ষা করে খাদ্য গ্রহণ করা উচিত।



* কম চর্বিযুক্ত খাদ্য (২ বছর এবং তার নিচের শিশুদের জন্য প্রযোজ্য নয়) এবং কোলস্টোরেল মুক্ত খাদ্য বেছে নিতে হবে। চিনি এবং এলকোহলের ব্যাপারে সংযমী হতে হবে।



* ভোজে স্বাস্থ্য সম্মত খাবারের অর্ডার দিতে হবে অথবা খাবারটি বন্ধুর সাথে ভাগ করে খেতে হবে অথবা বেয়ারাকে বাকি খাবারটি দিয়ে দিতে বলতে হবে।



* ভোজে খাবারের জন্য এক প্লেট পূর্ণ মশলাদার খাবারের চেয়ে এক প্লেট সালাদ গ্রহণ করা উত্তম ।



* খাবারের পূর্বে বড় গ্লাসের এক গ্লাস পানি অথবা কম ক্যালরিযুক্ত পানীয় পান করা উচিত যাতে ক্ষুধা সংযত হয়।



* দিনভর প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে।



* পূর্ণ ননী যুক্ত দুধের চেয়ে কম ননীযুক্ত দুধ পান করতে হবে।



* যদি কোন স্টোরে যেতে চান তাহলে গাড়ি দূরে পার্কিং করুন ও পায়ে হেঁটে স্টোরে যান।



* আনন্দ এবং শারীরিক পরিশ্রম করা যায় এমন একটি পরিবেশ বেছে নিতে হবে। উদাহরণ স্বরূপ মিউজিকের তালে তালে নাচ উপভোগ করা।



* টিভি দেখার সময় সব সময় বসে না থেকে মাঝে মাঝে সামান্য ব্যায়াম করা যায় যেমন এক জায়গায় দাঁড়ানো অথবা মার্চ করা।



* সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন ৩০মিনিট ব্যায়াম করার জন্য একটি লক্ষ্য স্থির করা এবং রেকর্ড রাখা কতদিনে এই লক্ষ্য সফল হল এবং ৫ দিনের মধ্যে ১ দিন ব্যায়াম না করতে পারলে তাহলে তা লিখে রাখতে হবে এবং কেন করতে পারে নাই তাও লিখে রাখতে হবে । পরবর্তী সপ্তাহে এটি কাজে দিবে।



* খাদ্য পুষ্টির কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। কিছু লোক দেহের ওজন কমাতে সক্ষম হয়েছে শুধুমাত্র মিষ্টি পানীয়ের পরিবর্তনের মাধ্যমে।



* দৈনিক কর্ম তালিকার একটি অংশ হিসেবে শরীর চর্চাকেও রাখতে হবে।



* এলিভেটর এবং এসকেলেটরের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করতে হবে।



* স্বাস্থ্য সম্মত খাবারের রেসিপি তৈরি করতে হবে।



* দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য খাদ্য না খেয়ে অন্য উপায় বের করতে হবে। যেমন হাঁটা, দীর্ঘশ্বাস নেওয়া।



* এক টুকরা কেক খাওয়ার চেয়ে এক টুকরা ফল খেতে হবে অথবা কম তেলে ভাজা পপকর্ণ খেতে হবে।



পরিবার এবং বন্ধু পর্যায়ে



ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্য সম্মত খাবারের অভ্যাস তৈরি করার জন্য উৎকৃষ্ট উপায় হল পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুর সাথে মিলেমিশে করা। যেমন নিম্নে কিছু পরামর্শ দেয়া হল।



* বাবা-মা তাদের সন্তানদেরকে সঙ্গে নিয়ে শরীর চর্চা করতে পারে। ছেলেমেয়ের জন্য এটি একটি আদর্শ ভূমিকা পালন করবে।



* একত্রে বন্ধু বান্ধব অথবা পরিবারের সদস্যদের সাথে হাটার একটি আলাদা উপকারিতা আছে।



* ভাল খাদ্যাভ্যাস যেমন প্রচুর পরিমাণে শস্য জাতীয় খাবার, সবজি, ফল ও কম চর্বি এবং কোলেস্টোরেল মুক্ত খাবার গ্রহণের মাধ্যমে পিতা মাতা সন্তানের কাছে একটি আদর্শ ভূমিকা পালন করতে পারে।



* পোষা কুকুরটিকে নিয়ে দৈনিক হাঁটাকে পারিবারিক কার্যকলাপে পরিণত করতে হবে।



* পরিবারের বয়স্ক সদস্যসহ অন্যান্য সকলকে ব্যায়ামের অভ্যাসকে উৎসাহিত করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করে তারা যেন সুস্থ থাকতে পারে তার একটা পন্থা অবলম্বন করা।



* কোন আত্মীয় বা বন্ধুর বাসায় দাওয়াত খেতে গেলে ডেজার্টে কেক অথবা কুকিজ-এর পরিবর্তে তাজা ফলের জন্য বলতে হবে।



* পরিবার দেখাশুনার দায়িত্বে যারা আছে তাদের পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের শরীর চর্চা এবং স্বাস্থ্য সম্মত খাদ্যাভ্যাসের জন্য উৎসাহিত করতে হবে।



প্রচারে : চাঁদপুর ডায়াবেটিক হাসপাতাল, কুমিল্লা রোড, চাঁদপুর।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
২৭২৭৪৬
পুরোন সংখ্যা