চাঁদপুর। সোমবার ১০ এপ্রিল ২০১৭। ২৭ চৈত্র ১৪২৩। ১২ রজব ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • ---------
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৭-সূরা নাম্ল 


৯৩ আয়াত, ৭ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৮২। যখন ঘোষিত শাস্তি উহাদের নিকট আসিবে তখন আমি মৃত্তিকাগর্ভ হইতে বাহির করিব এক জীব, যাহা উহাদের সহিত কথা বলিবে, এই জন্যে যে, মানুষ আমার নিদর্শনে অবিশ্বাসী। 


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন

assets/data_files/web

সংসারে যে সবাইকে আপন ভাবতে পারে, তার মতো সুখী নেই।              

-গোল্ড স্মিথ।


দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞানচর্চায় নিজেকে উৎসর্গ করো।


ডিপ্রেশন একটি মানসিক রোগ
হাকীম মোঃ বাকী বিল্লাহ
১০ এপ্রিল, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

আমাদের জীবনে কোন না কোন সময় আমরা ডিপ্রেশনে ভোগে থাকি। ডিপ্রেশন একটি মানসিক রোগ যা টিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়। জীবনের প্রতিটি স্তর অতিক্রম করার সময় বিভিন্ন প্রতিকুলতার সৃষ্টি হয় বা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আর এ প্রতিকুলতার কারণে ডিপ্রেশনের সৃষ্টি হয়। এ রোগ সৃষ্টির কারণ হিসেবে দেখা যায় সামাজিক, পারিবারিক, অর্থনৈতিক ও আবেগজনিত সমস্যা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে মানসিক রোগ যে কোন অবস্থায়, যে কোন পরিবেশে যে কোন নারী পুরুষের হতে পারে। বংশে ডিপ্রেশন জনিত মনোরোগ থাকলে শতকরা ৪০ ভাগ ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এ মনোরোগটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার ক্রিয়েটিভ বা শিল্পী-সাহিত্যিকদের মধ্যে ডিপ্রেশন রোগে ভোগার হার অন্যান্য জনসাধারণের চেয়ে বেশি। আমাদের আসে পাশে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, অনেক ব্যক্তি ছয় ঋতুর যে কোন একটি ঋতুতে বার বার ডিপ্রেশন রোগে ভুগে থাকেন। শীতকালে এ রোগ বেশি হয় বলে একে শীতকালীন ডিপ্রেশন রোগ বলা হয়। আবেগপ্রবণ ব্যক্তিদের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই ডিপ্রেশনকে আবেগজনিত রোগও বলা হয়। অল্প মাত্রায় রোগটি হলে তেমন সমস্যা হয় না। সাধারণ কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন এনার্জির অভাব বোধ হয়, ঘুম বেশি হয়। শর্করা জাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়। ডিপ্রেশনে যারা ভোগেন তাদের কাজকর্মে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। আবেগজনিত ডিপ্রেশনে যারা ভোগেন তাদের মধ্যে যে তারতম্য দেখা যায়, তা হলো আবেগ অনুভূতির তারতম্য কষ্টদায়ক, আবেগের প্রকাশ, মন খারাপ ভাব থাকা অশান্তিভাব বিরাজ করা। তবে এ অশান্তিভাব ডিপ্রেশন হলেই থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই। ডিপ্রেশনে যারা ভোগে থাকেন তারা তাদের অনুভূতির ব্যাপক পরিবর্তন দেখতে পান এবং অনুভূতির প্রকাশবোধও করেন। সমস্ত পৃথিবীকে তারা অশান্তিময় মনে করেন। তাদের অনুভূতি প্রকাশও সেরকম হয়।

ডিপ্রেশনের স্থায়িত্বকাল স্বল্প থেকে দীর্ঘতর হতে পারে। ডিপ্রেশন রোগ স্থায়িত্বকাল বেশি হলে জীবনের জন্য হুমকি কারণ হতে পারে। এমনকি প্রাণঘাতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যাকে বলা হয় মেজর ডিপ্রেশন। মেজর ডিপ্রেশন হলো বড় মাপের মানসিক রোগ। এর উৎপত্তি মস্তিষ্কে। মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার অংশে বিভিন্ন ধরনের জৈব রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। যার ফলে ডিপ্রেশনে আক্রান্ত মানুষের সমস্ত অঙ্গ-প্রতঙ্গ নার্ভাস সিস্টেমের প্রতিটি সেল বা কোষে এর আক্রমণ করে। ফলে শারীরিক বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে তারা স্বাভাবিক জীবন যাপনে ব্যর্থ হয়। এ রোগের ভাল চিকিৎসা আছে। এ রোগ ঔষধ দ্বারা সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। তাই এই রোগে আক্রান্ত হলে অবহেলা না করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। আমরা এ রোগের উপসর্গ দ্বারা এ রোগ চিহ্নিত করতে পারি।

ডিপ্রেশন রোগের উপসর্গগুলো নিম্নরূপ ঃ

* অশান্তিরবোধ, সারাদিন বিষন্ন অনুভূতি।

* অস্থিরতা ও স্থবিরতা, অনিদ্রা ও অতিনিদ্রা।

* কোন কাজে যথাযথ উৎসাহের অভাব।

* চিন্তা করতে না পারা, মনোযোগ দিতে না পারা, সিদ্ধান্ত নিতে না পারা।

* ওজন কমে যাওয়া বা ওজন বেড়ে যাওয়া, খাদ্যে অরুচি বা অতিরিক্ত রুচি।

* সবকিছু হারানোর ভাব, নিজেকে অপরাধী ভাবা।

* বার বার মৃত্যু চিন্তা আসা, সারাক্ষণ আত্মহত্যার চিন্তা করা বা আত্মহত্যার চেষ্টা করা।

* আশাহত অনুভূতি, নেতিবাচক ভাব।

* মন খালি খালি লাগা, সেঙ্ বা যৌনতা সম্পর্কে উৎসাহ কমে যাওয়া।

* শেষ রাতে ঘুম ভাঙ্গলে আর ঘুম না আসা।

* আস্থাহীনতা বা আত্মবিশ্বাসের অভাব।

* বিরক্তিভাব ও ক্রোধপ্রবণতা।

* মাথা ব্যথা, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা অনুভব।

* ক্লান্তিভাব, কাজকর্মে ধীরগতি ইত্যাদি।

লেখক পরিচিতি : হাকীম মোঃ বাকী বিল্লাহ, ডি ইউ এম এস ঢাকা, চাঁদপুর ইউনানি তিবি্বয় কলেজ, চাঁদপুর।

আজকের পাঠকসংখ্যা
২৭৩২১৮
পুরোন সংখ্যা