চাঁদপুর। সোমবার ১৭ জুলাই ২০১৭। ২ শ্রাবণ ১৪২৪। ২২ শাওয়াল ১৪৩৮

বিজ্ঞাপন দিন

বিজ্ঞাপন দিন

সর্বশেষ খবর :

  • আজ ভোরে অ্যাডঃ এ.বি.এম. মোনাওয়ার উল্লা মৃত্যুবরন করেছেন (ইন্নালিল্লাহে.....রাজেউন)। তাঁর মৃত্যুতে চাঁদপুর রোটারী ক্লাব ও চাঁদপুর ডায়াবেটিক সমিতির পক্ষ থেকে গভীর শোক জানিয়েছেন
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

২৮-সূরা কাসাস 


৮৮ আয়াত, ৯ রুকু, ‘মক্কী’


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


৮৬। তুমি আশা কর নাই যে, তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ হইবে। ইহা তো কেবল তোমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ। সুতরাং তুমি কখনও কাফিরদের সহায় হইও না। ’


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


সৌভাগ্যবান হওয়ার চেয়ে জ্ঞানী হওয়া ভালো।


                        -ডাব্লিউ জি বেনহাম।


যাহাদের হৃদয় পবিত্র, দয়া ও সত্যে পূর্ণ, তাহারাই অমৃতলোক বেহেশতের অধিবাসী হবেন।


 

বক্ষপিঞ্জরে হাওয়ার দাপট
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
১৭ জুলাই, ২০১৭ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+
নিউমোথোরাক্স :

            মানুষ ধরণীতে ডুবে আছে বায়ু-সমুদ্রে। এই বায়ু-সমুদ্র হতে অক্সিজেন টেনেই সে জ্বালিয়ে রাখে জীবনের দীপ। কিন্তু যে বাতাস জীবনের দীপে জ্বালিয়ে রাখে আলো, সে বাতাসেরই তুমুল দাপটে নিভে যায় দীপ। জীবন তখন মরণ সাগর পারে খেয়ার যাত্রী। জীবনের দীপ নির্বাপনকারী এ রকম এক হাওয়ার দাপট-ব্যাধির নাম নিউমোথোরা*।

নিউমোথোরাক্স কি :

            ‘নিউমো’ মানে বায়ু বা বাতাস। ‘থোরা*’ মানে বক্ষ। নিউমোথোরা* একটি মেডিকেল কন্ডিশন বা অবস্থা যাতে ফুসফুসের আবরণী বা পুø্যরার মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানে অস্বাভাবিক বাতাস সঞ্চয় বা অনুপ্রবেশের ফলে বক্ষ দেয়াল ও ফুসফুসের মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয় এবং এই সঞ্চিত বা অনুপ্রবেশকারী বাতাস ফুসফুসকে ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-কষ্ট ও শ্বাস-কষ্টজনিত কারণে জীবনাবসান হয়।

নিউমোথোরাক্সের লক্ষ্মণ :

* হঠাৎ বা আকস্মিকভাবে বুকের এক পার্শ্বে ব্যথা বোধ হয় যা তীব্র এবং ধারাল বলে অনুভূত হয়।

* নিঃশ্বাস অগভীর হয়ে আসে বা শর্টনেস অব ব্রেদ দেখা দেয়।

* ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিতে থাকে।

* রক্তচাপ কমে আসে। কোমা বা অচৈতন্য হয়ে পড়ে।

* নীলচে হয়ে যায় দেহ। তীব্র অক্সিজেন স্বল্পতায় সায়ানোসিস হয়।

* ফুসফুস মিইয়ে যায় বা চুপসে যায়। এক কল্যাপস্ড লাং বলে।

* রক্তে কার্বন-ডাই অক্সাইডের মাত্রা বাড়ে। রোগী বিভ্রান্ত বা কনফিউজড হয়ে পড়ে।

নিউমোথোরাক্সের কারণ :

* টিবি, নিউমোনিয়া, সারকায়োডোসিস, ইডিত্তপ্যাথিক পালামোনারী ফাইব্রোসিস

* দীর্ঘদিনের শ্বাসতন্ত্রের ঈঙচউ রোগ

* অ্যাজমা বা হাঁপানি

* বুকে আঘাত প্রাপ্তি  (দৈহিক)

* রিউম্যাটয়েড, আর্থ্রাইটিস, পোলিও মায়েলাইটিস

* হেলথ কেয়ার ইন্টারফেনশন জনিত কারণে ফুসফুসে আঘাত

* সিস্টিক ফাইব্রোসিস

* বন্ধুকের গুলির আঘাত (ছুরিকাঘাত)

* পাঁজরাস্থি বা ‘রিব’ ফ্র্যাকচার।

* লান্স ক্যান্সার সারকোমা (ফুসফুস)

রোগ নিরূপণ :

* রোগীকে পরীক্ষা করে

* বুকের এ*রে

* বুকের সিটি স্ক্যান

* আল্ট্রাসনোগ্রাম (বুকের)

রোগীর ব্যবস্থাপনা

* চেস্ট টিউব অনুপ্রবেশন।

* সিরিঞ্জ  দিয়ে বাতাস বের করা বা অ্যাসপিরেশন।

* অংযবৎসধহ ঝবধষ  এর মাধ্যমে একমুখী ভাল্ব এর ব্যবস্থাপনায় বাতাস বের করে আনা।

* প্ল্যুরোডেসিস ও শৈল্য চিকিৎসা

চিকিৎসা :

* প্রাইমারি কারণ নিরূপন করে চিকিৎসা। যেমন : টিবি বা ফাইব্রোসিস চিহ্নিত করে তা দূরীকরণ।

* রিব ফ্যাকচারে অর্থোপেডিক চিকিৎসা ইত্যাদি

* কমপ্লিট বেড রেস্ট। ড্রেইন টিউব স্থাপন।

* প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে থোরাকোটমি।

আক্রান্ত হওয়ার পরিসংখ্যান :

* ১০০,০০০ জন পুরুষে বছরে ৭.৪ জন এবং বছরে ১.২ জন নারী আক্রান্ত হয় নিউমোথোরাক্সে।

ইতিহাস :

* (১৩৮৫-১৪৬৮) সেরাফেদ্দিন সাবুনকুগোলু, পঞ্ছুরাস্থি ফ্র্যাকচারের কারণে উদ্ভূত নিউমোথোরাক্সের সার্জারী করেন।

* ১৮০৩ সালে জ্যাঁ মার্ক গ্যাসপার্ড ইটার্ড নিউমোথোরাক্সে ব্যাখ্যা করেন।


 

আজকের পাঠকসংখ্যা
২৪৯৩৩৬
পুরোন সংখ্যা