চাঁদপুর। সোমবার ৮ জানুয়ারি ২০১৮। ২৫ পৌষ ১৪২৪। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৯

বিজ্ঞাপন দিন

jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৩৩-সূরা আহ্যাব

৭৩ আয়াত, ৯ রুকু, মাদানী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

৬৪। আল্লাহ কাফিরদিগকে অভিশপ্ত করিয়াছেন এবং তাহাদের জন্য প্রস্তুত রাখিয়াছেন জ্বলন্ত অগ্নি;

৬৫। সেখানে উহারা স্থায়ী হইবে এবং উহারা কোন অভিভাবক ও সাহায্যকারী পাইবে না।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


বিনা পরিশ্রমে যা অর্জন করা যায়, তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।                          


-ইমারসন।


নারী-পুরুষ যমজ অর্ধাঙ্গিনী।


ফটো গ্যালারি
শীতে স্ট্রোক ও তার প্রতিরোধ
ডাঃ পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
০৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

পৃথিবীতে মানুষের জীবন বড়ো অনিশ্চয়তায় ভরা। দিন যতো যাচ্ছে ততই মরণব্যাধির সংখ্যা বেড়ে চলেছে পাল্লা দিয়ে। আজকের পৃথিবীতে সবচেয়ে বড়ো মরণব্যাধির নাম স্ট্রোক। বিশ্বে মানব মৃত্যুর পঞ্চম বৃহৎ কারণ স্ট্রোক। প্রতিনিয়ত শোনা যায় কেউ না কেউ স্ট্রোক আক্রান্ত হচ্ছে। নিকট অতীতে চেনা-জানা অনেকেই আক্রান্ত হয়েছেন স্ট্রোকে। তাদের এই হঠাৎ রুগ্নতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্ট্রোককে জানার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় অনিবার্যভাবে। তারই ফলস্বরূপ আজকের এই প্রয়াস।

স্ট্রোক কী :

স্ট্রোক একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি। বছরে প্রতি লক্ষ মানুষে ১৮০ হতে ৩০০ জন লোক স্ট্রোক আক্রান্ত হয়। বয়সবৃদ্ধির সাথে সাথে এর সংখ্যা বাড়তে থাকে। স্ট্রোকে আক্রান্তের এক পঞ্চমাংশ মাসখানেকের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করে এবং অবশিষ্টের অর্ধেকই স্থায়ী দৈহিক প্রতিবন্ধিতা নিয়ে বেঁচে থাকে।

স্ট্রোক হার্ট বা ব্রেন উভয়ের হতে পারে। খন হার্ট বা ব্রেনের কোনো অংশে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় তখন তৎপরবর্তী অঞ্চলে অঙ্েিজন স্বল্পতা তৈরি হয় ও কোষগুলো মারা যায়। এটাই হলো স্ট্রোক। প্রতিদিন প্রতি চলি্লশ সেকেন্ডে একজন লোক স্ট্রোকে আক্রান্ত হয় এবং প্রতি চার মিনিটে কেউ না কেউ স্ট্রোকের কারণে মারা যায়। পুরুষ অপেক্ষা নারীদের স্ট্রোক আক্রান্ত হওয়ার হার অধিক।

স্ট্রোকের ধরণ :

হার্টের ক্ষেত্রে কোনো করোনারী আর্টারি বস্নকড্ হলে হার্ট মাসলের কোষগুলো অঙ্েিজন বঞ্চিত হয়ে নষ্ট হয়ে যায় বা মরে যায়। এতে আক্রান্ত ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে মারা যেতে পারে। হার্টের ক্ষেত্রে এই স্ট্রোকই অনেক সময় হার্ট অ্যাটাক বলে পরিচিত।

ব্রেনের ক্ষেত্রে যে তীব্র ও তাৎক্ষণিক স্ট্রোক হয় তাতে কয়েকটা পর্যায় দেখা যায়। যেমন : ১. ক্ষণকালীন অঙ্েিজন স্বল্পতাজনিত স্ট্রোক

* চবি্বশ ঘণ্টার মধ্যেই উপসর্গ বিলুপ্ত হয়

* আক্রান্ত ব্যক্তি পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠে

২. পূর্ণাঙ্গ স্ট্রোক

* স্ট্রোকের উপসর্গ ও লক্ষণসমূহ চবি্বশ ঘন্টার অধিক বিরাজ করে।

ক) অগ্রসরমান স্ট্রোক :

এতে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রথম যে উপসর্গ নিয়ে উপস্থিত হয় তার চেয়ে অধিক ক্ষতি পরবর্তীতে সংঘটিত হয়।

খ) পরিণত স্ট্রোক :

এতে স্ট্রোক আক্রান্ত ব্যক্তির আর কোনো ক্ষতি সাধিত হয় না, কিন্তু ইতোমধ্যে ঘটে যাওয়া ক্ষতি দীর্ঘদিন বজায় থাকে।

ব্রেনের স্ট্রোকের ক্ষেত্রে রক্ত চলাচল ও ক্ষরণের উপর ভিত্তি করে স্ট্রোককে ইনফার্কটিভ স্ট্রোক ও হেমোরেজিক স্ট্রোকে ভাগ করা হয়।

* ইনফার্কটিভ স্ট্রোক :

* এতে ব্রেনের কোনো রক্তনালী বন্ধ হয়ে গিয়ে পরবর্তী অংশে রক্ত চলাচল স্তিমিত হয়ে মারাত্মক অঙ্েিজন স্বল্পতা দেখা দেয় ও ব্রেনের কোষগুলো মারা যায়।

* মস্তিষ্কের বাইরে বড় কোনো রক্তনালীতে অ্যাথেরোস্ক্লেরোমা গঠিত হওয়ার কারণে সেই স্থল হতে ছুটে যাওয়া রক্ত-দলার কারণে মস্তিষ্কে ইনফার্কটিভ স্ট্রোক হয়।

* হেমোরেজিক স্ট্রোক : রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোক

* মস্তিষ্কে কোনো রক্তনালী ছিঁড়ে গেলে রক্তক্ষরণ ঘটে এবং রক্ত জমাট বেঁধে যায়। এতে স্ট্রোক সাধিত হয়।

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি-উপাদান :

* বয়স

* উচ্চ রক্তচাপ

* রক্ত জমাট না বাঁধার ঔষধ সেবন

* মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্তনালীর গাঠনিক দুর্বলতা

* কোনো মাদকতা তৈরিকারী কিংবা অচেতনকারী পদার্থের অপপ্রয়োগ

স্ট্রোকের লক্ষণ :

* হঠাৎ তীব্র মাথা ব্যথা

* আকস্মিক জড় বিবশতা ও দুর্বলতা

* মুখ, হাত ও পায়ের প্যারালাইসিস

* কথা বলতে কষ্ট হওয়া

* কথা জড়িয়ে যাওয়া

* কথা বলা বন্ধ হয়ে যাওয়া

* কনফিউশান তৈরি হওয়া

* কাউকে চিনতে না পারা

* চলার ভারসাম্য, বলার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়া

* আকস্মিক চোখের দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন হওয়া

হার্ট স্ট্রোকের ক্ষেত্রে

* শ্বাস-প্রশ্বাসে কষ্ট হওয়া

* বুকে চাপ চাপ অনুভব হওয়া

* বাম বুকে ব্যথা অনুভব হওয়া, ব্যথা দীর্ঘসময় ধরে থাকা

* বাম হাতের ঊর্ধ্বাংশে ব্যথার সমপ্রসারণ হওয়া

* বুকে ব্যথা বা শ্বাস কষ্টের সাথে হাল্কা ঘাম দেয়া

* হাঁটতে গেলে শরীরের ঊর্ধ্বাংশে বিশেষত হাত, গলা ও ঘাড়ে চাবানো-কামড়ানো বোধ করা

* অল্প হাঁটলে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়া বা আর হাঁটতে অসমর্থ হওয়া

* অধিক দুর্বলতা, ক্লান্তি ইত্যাদি।

স্ট্রোকের পরীক্ষণ :

* হার্টের ক্ষেত্রে ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, অ্যানজিওগ্রাম, ইটিটি, চবি্বশ ঘন্টা হল্টার মনিটর

* রক্তে শর্করার মান

* লিপিড প্রোফাইল

* ব্রেনের এমআরআই

* সিটি স্ক্যান

* রক্তনালীর ইমেজিং

স্ট্রোক আক্রান্ত রোগীর সাধারণ ব্যবস্থাপনা :

* ব্রেনের স্থায়ী ক্ষতি কমিয়ে আনা

* জটিলতা প্রতিরোধ করা

* স্ট্রোকজনিত প্রতিবন্ধিতা কমিয়ে আনা

* পরবর্তী স্ট্রোক সংঘটনের ঝুঁকি কমানো

* দ্রুত মবিলাইজেশনের ব্যবস্থা করা

স্ট্রোক রোগীর পরিচর্যা :

* শয্যাজনিত ক্ষত নিরসনে বায়ুপূর্ণ বিছানার ব্যবস্থা করা

* প্রতি দুই ঘণ্টা পর পর শয্যাশায়ী রোগীর পার্শ্ব পরিবর্তন করে দেয়া

* ক্যাথেটারের মাধ্যমে প্রস্রাব করানো যাতে রোগী নিজে ভিজে না থাকে

* মল যাতে নরম থাকে সেই রকম পথ্যের ব্যবস্থা করা (কোষ্ঠ কাঠিন্যের কারণে মলত্যাগকালে ব্রেনে চাপ পড়ে)

* রোগীকে ফিজিওথেরাপীর মাধ্যমে দ্রুত চলনক্ষম করা

* আক্রান্ত রোগীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করা

কেন শীতকালে স্ট্রোক আক্রান্তের হার অধিক :

* শীতকালে শরীরের উত্তাপ বজায় রাখার জন্যে রক্তের কাজ বৃদ্ধি পায়। ফলে হার্ট পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ পেতে বিঘ্ন হয়।

* শীতের মওসুমে ব্যায়ামের মাত্রা কমে যায়। এতে স্ট্রোকের আশঙ্কা বাড়ে।

* শীতে ঠা-াজনিত জীবাণু সংক্রমণ বৃদ্ধি পায়। ফলে স্ট্রোকের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।

* ঠা-ার কারণে শীতে শ্বাসযন্ত্রের স্বাভাবিক কর্ম ব্যাহত হয়। ফলে অঙ্েিজন সঙ্কট তৈরি হয়। এতে স্ট্রোক হয়।

* শীতকালে শরীরের উত্তাপ বজায় রাখার জন্যে খাদ্যগ্রহণের পরিমাণ ও হার বেড়ে যায়। এতে স্ট্রোক হয়।

স্ট্রোক প্রতিরোধের উপায় :

* পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ

* নিয়মিত হাঁটা ও হাল্কা ব্যায়াম করা

* খাবারে আলগা লবণ এড়িয়ে চলা

* দৈনিক খাদ্য তালিকায় সব্জির প্রাধান্য দেওয়া

* উঁচু সিঁড়ি ওঠার সময় ধীরে ধীরে ওঠা

* ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবন বন্ধ করা

* পর্যাপ্ত মানসিক বিনোদন উপভোগ করা

* অতিরিক্ত মানসিক চাপ না নেওয়া

* পরিমিত সুনিদ্রা

* অতিরিক্ত উত্তেজনা পরিহার করা।

* নিয়মিত মেডিটেশনের মাধ্যমে আত্মনিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা

এই পাতার আরো খবর -
    আজকের পাঠকসংখ্যা
    ৩৭৭৪৩১
    পুরোন সংখ্যা