চাঁদপুর। সোমবার ৬ আগস্ট ২০১৮। ২২ শ্রাবণ ১৪২৫। ২৩ জিলকদ ১৪৩৯
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • ফরিদগঞ্জের চান্দ্রার খাড়খাদিয়ায় ট্রাক চাপায় সাইফুল ইসলাম (১২) নামের ৭ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ও সদর উপজেলার দাসাদি এলাকায় পিকআপ ভ্যান চাপায় কৃষক ফেরদৌস খান নিহত,বিল্লাল নামে অপর এক কৃষক আহত হয়েছে।
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪০-সূরা আল মু’মিন

৮৫ আয়াত, ৯ রুকু, মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।

২৬। ফেরাউন বললো, তোমরা আমাকে ছাড়, মূসাকে হত্যা করতে দাও, ডাকুক সে তার পালনকর্তাকে! আমি আশঙ্কা করি যে, সে তোমাদের ধর্ম পরিবর্তন করে দেবে অথবা সে দেশময় বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।

২৭। মূসা বললো, যারা হিসাব দিবসে বিশ^াস করে না এমন প্রত্যেক অহংকারী থেকে আমি আমার ও তোমাদের পালনকর্তার আশ্রয় নিয়ে নিয়েছি।

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন




মন যদি চোখকে শাসন করে তবে কখনো চোখ ভুল করবে না।    


-পাবলিয়াস সাইরাস।                    


রাসূলুল্লাহ (দঃ) বলেছেন, নামাজ আমার নয়নের মণি।    

     


ফটো গ্যালারি
পানিতে ঝাঁপাঝাঁপির ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরামর্শ
এসএম গল্প ইকবাল
০৬ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


ন্যাশনাল ড্রাউনিং প্রিভেনশন অ্যালায়ান্স অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে অপমৃত্যুর মধ্যে পাঁচ নম্বর অবস্থানে আছে পানিতে ডুবে মৃত্যু। আমাদের দেশেও প্রতি বছর পানিতে ডুবে অনেক শিশু ও লোক মারা যায়। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্যে কিছু পরামর্শ শেয়ার করেছেন, যা এ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হলো।



 



* একা সাঁতার কাটবেন না



এমনকি মাইকেল ফেলপসও এই গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শকে উপেক্ষা করতে পারবেন না। কনজ্যুমার সেফটি ডট অর্গের হেলথ অ্যান্ড সেফটি ইনভেস্টিগেটর কেইটলিন হফ বলেন, 'যদি কোনো নিঃসঙ্গ সাঁতারু পানিতে কোনো ধরনের ইনজুরিতে পড়েন অথবা বিপজ্জনক পরিস্থিতির শিকার হন, তাহলে তার দ্রুত সাহায্য পাওয়ার সম্ভাবনা কম এবং তিনি ডুবে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন।' যে কোনো জরুরি অবস্থা প্রতিরোধ করার জন্যে তিনি কাউকে সঙ্গে নিয়ে অন-ডিউটি লাইফগার্ডসহ নিরাপদ জলাশয়ে সাঁতার কাটতে পরামর্শ দিচ্ছেন।



 



* ওয়াটার ওয়াচার রাখুন



সবচেয়ে আদর্শ ওয়াটার ওয়াচার হচ্ছে, সার্টিফায়েড লাইফগার্ড, কিন্তু তাদের সবসময় পাওয়া যায় না। মেডিকেল ইভেন্ট বা দুর্ঘটনা যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে, তাই অন্ততপক্ষে নিজে বা আপনার বাচ্চা সাঁতার কাটার সময় কোনো প্রাপ্তবয়স্ককে সঙ্গে রাখুন। গোল্ডফিশ সুইম স্কুলের সিইও ও প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস ম্যাককুইস্টন এমন ওয়াটার ওয়াচার রাখতে বলছেন যিনি মোবাইল, আড্ডা, ম্যাগাজিন অর্থাৎ সাঁতারুর ওপর সবসময় নজর রাখা ব্যাহত করতে পারে এমন কিছু বর্জন করবেন। তিনি বলেন, 'এমনকি আশপাশে অনেক লোক থাকলেও প্রকৃতপক্ষে মাঝেমাঝে কেউই জলাশয়ে সাঁতারুকে লক্ষ্য করে না।' তাই নিরাপদ সাঁতারের জন্যে ওয়াটার ওয়াচার রাখুন।



 



* আপনার সাঁতার কাটার সামর্থ্যকে ওভারস্টিমেট করবেন না



এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ যদি আপনি কয়েক বছর ধরে সাঁতার না কাটেন অথবা কোনো নতুন পরিবেশে সাঁতার কাটেন। আমেরিকান রেড ক্রসের অ্যাকোয়াটিঙ্ প্রোডাক্ট ম্যানেজার নিকোলে স্টিফেনস বলেন, 'ঠা-া তাপমাত্রা, স্রোত ও পানির নিচে প্রতিকূলতার কারণে সাগর, হ্রদ বা নদীতে সাঁতার কাটা অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জিং হতে পারে, তাই নিশ্চিত হোন যে আপনার এসব পরিবেশে সাঁতার কাটার মতো দক্ষতা রয়েছে।' তিনি যোগ করেন, 'অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক তাদের সাঁতার দক্ষতা নিয়ে ওভারকনফিডেন্ট থাকেন এবং একই সময়ে তারা পরিবেশ নিয়ে নার্ভাসও অনুভব করতে পারেন, কারণ তারা সম্ভবত ইতোমধ্যে কোনো সমস্যায় পড়েছেন।'



 



* মদ্যপান করে পানিতে ঝাঁপ দেবেন না



কখনো কখনো সমুদ্রসৈকত বা সুইমিংপুলে অ্যালকোহল পান মজা ও রিলাঙ্রে বিষয় হতে পারে, কিন্তু সতর্ক হোন যে ড্রিংকিং সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে না। স্টিফেনস্ বলেন, 'অ্যালকোহল বিবেচনাবোধ, ভারসাম্য ও সহযোজন বিঘি্নত করে, নিরাপদে জলযান চালানোর সামর্থ্যকে ব্যাহত করে, সাঁতার দক্ষতায় বিরূপ প্রভাব ফেলে এবং উষ্ণ থাকার জন্যে শরীরের ক্ষমতা হ্রাস করে।' তাই সাঁতারের পূর্বে ড্রিংক করা উচিত নয়।



 



* অপরিচিত জলাশয়ে প্রথমে মাথা দিয়ে ডাইভ দেবেন না



যদি আপনি নিশ্চিত না হন যে জলাশয় কত গভীর বা পানির নিচে কী আছে, তাহলে এতে ঝাঁপ দেবেন না। হফ বলেন, অগভীর বা প্রস্তরময় জলাশয়ে প্রথমে মাথা দিয়ে ডাইভ দেয়া মারাত্মক স্পাইনাল কর্ড ইনজুরির কারণ হতে পারে।



 



* বোটিংয়ের সময় লাইফ জ্যাকেট পরুন



অনেক প্রাপ্তবয়স্করা মনে করেন যে, লাইফ জ্যাকেট শুধুমাত্র সেসব লোক বা পোষা প্রাণীদের জন্যে যারা সাঁতার কাটতে জানে না। কিন্তু পানিতে দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্যে এটি সবার জন্যে প্রযোজ্য। অ্যামসস্নি ইনস্টিটিউটের সভাপতি, ওয়াটার অ্যাওয়ারনেস কোর্সের শিক্ষক এবং জরুরি প্রাথমিক সেবার সনদপ্রাপ্ত প্রশিক্ষক এলিজাবেথ ম্যালসন বলেন, 'এমনকি সবচেয়ে দক্ষ সাঁতারুর জীবনও লাইফ জ্যাকেটের কারণে বেঁচে যেতে পারে, যখন জলযান ডুবে যায় অথবা তারা স্রোতে আটকা পড়ে।'



 



* সাঁতারের জন্যে নির্দিষ্ট অংশে সাঁতার কাটুন



কোনো হ্রদ বা পুলে সাঁতারের জন্যে নির্দেশিত অংশে সাঁতার কাটুন। সনদপ্রাপ্ত পানি নিরাপত্তার প্রশিক্ষক ম্যালরি থম্পসন বলেন, 'প্রায়ক্ষেত্রে সাঁতারের জন্যে নির্ধারিত স্থান জলযানমুক্ত থাকে ও সেখানে পানির নিচের প্রতিকূলতা অপসারণ করা হয়। এছাড়া নির্ধারিত সুইমিং এরিয়ায় সাধারণত বিপজ্জনক স্রোত থাকে না এবং প্রায়ক্ষেত্রে লাইফগার্ড উপস্থিত থাকে।' যদি আপনার জানা না থাকে যে, কোনো জলাশয়ের কোন্ অংশ সাঁতারের জন্যে নিরাপদ, তাহলে আশপাশে জিজ্ঞেস করতে পারেন অথবা স্থানীয় পর্যটক কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে পারেন।



 



* সিপিআর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হোন



সিপিআর সনদপ্রাপ্ত হওয়ার অনেক কারণ রয়েছে। এক নম্বর কারণ হচ্ছে, নিজেকে ও প্রিয়জনকে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করা। এ বিষয়ে ক্লাস করলে আপনি আরো বেশি প্রস্তুত থাকতে পারবেন। স্টিফেনস্ বলেন, 'প্রাপ্তবয়স্কদের পানির দুর্ঘটনা থেকে বাঁচানোর লক্ষ্যে রেড ক্রস পানি নিরাপত্তা ও সিপিআর/এইডি প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে।'



 



* সান এঙ্পোজার সীমিত করুন



আমরা সময়ের দিকে খেয়াল না রেখে সূর্যের অতিরিক্ত রশ্মিতে থেকে সানবার্ন নিয়ে ঘরে ফিরে আসি। ভুলে যাবেন না যে, কোনো জলাশয়ের কাছে থাকলে আপনি অধিক সানবার্নপ্রবণ হবেন। ম্যালসন বলেন, 'পানি আপনার ত্বকে সূর্যের অতিরিক্ত রশ্মি রিফ্লেক্ট করতে পারে, তাই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ, প্রতি ৬০ থেকে ৯০ মিনিটে এটি পুনরায় প্রয়োগ করুন।' হ্যাট, সানগ্লাস ও র‌্যাশগার্ড পরিধান সূর্য ক্ষতি সীমিত করতে পারে, তীব্র সূর্য রশ্মির বিকিরণের সময় সূর্যের নিচে থাকবেন না-সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা।



 



* নিয়মকে অবহেলা করবেন না



ম্যালসন বলেন, 'অভিজ্ঞতা থেকে নিয়মের সৃষ্টি হয়, তাই অগভীর জলাশয়ে অথবা জলাশয়ের গভীরতা ও পানির নিচে নিরাপত্তা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়ে ঝাঁপ দেবেন না। সৈকতে সতর্কীকরণ নিয়মগুলো মনে রাখুন এবং তীব্র স্রোতের সময় পানিতে নামবেন না।' তিনি জেট স্কিইংয়ের সময় হেলমেট পরিধান এবং বোটিং, কায়েকিং, প্যাডল বোর্ডিং ও অন্যান্য ওয়াটার স্পোর্টসে অংশগ্রহণের সময় সকল কোস্টগার্ড নিয়ম অনুসরণ করতে পরামর্শ দিচ্ছেন।



 



* বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবেলায় পরিকল্পনা করুন



কোনো নতুন ওয়াটার ডেস্টিনেশনে যাওয়ার আগে কিছু সময় আলোচনা করে জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করুন। কোথায় মিলিত হবেন যখন আপনারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন? সাহায্যের প্রয়োজনে কল করার জন্যে সেখানে কি কোনো ল্যান্ডলাইন ফোন বা সেলফোন আছে? বাচ্চাদের দেখাশোনার দায়িত্বে কে থাকবেন? ম্যালসন বলেন, 'কেউই ইমার্জেন্সির সম্মুখীন হতে চায় না, কিন্তু প্রস্তুত থাকা জীবন বাঁচাতে পারে। ইমার্জেন্সি ফার্স্ট এইড সঙ্গে নিন ও সিপিআর ক্লাস করুন, যাতে প্রয়োজনে নিজেকে বা প্রিয়জনকে সাহায্য করার জন্যে প্রস্তুত থাকতে পারেন।'



তথ্যসূত্র : রিডার্স ডাইজেস্ট।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৮০৫৯৯৪
পুরোন সংখ্যা