চাঁদপুর। সোমবার ১ অক্টোবর ২০১৮। ১৬ আশ্বিন ১৪২৫। ২০ মহররম ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • -
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪২-সূরা শূরা


৫৪ আয়াত, ৫ রুকু, মক্কী


পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।


 


১২। আকাশম-লী ও পৃথিবীর চাবিসমূহ তাঁরই নিকট। তিনি যার প্রতি ইচ্ছা তার রিযিক বর্ধিত করেন অথবা সংকুচিত করেন। তিনি সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।


১৩। তিনি তোমাদের জন্যে নির্ধারণ করেছেন দ্বীন, যার নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি নূহকে আর যা আমি ওহী করেছিলাম তোমাকে এবং যার নির্দেশ দিয়েছিলাম ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে, এই বলে যে, তোমরা এই দ্বীনকে (তাওহীদকে) প্রতিষ্ঠিত কর এবং ওতে মতভেদ করো না। তুমি মুশরিকদেরকে যার প্রতি আহ্বান করছো তা তাদের নিকট কঠিন মনে হয়। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর জন্য চয়ন করে নেন এবং যে তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তন করেন, তাকে দ্বীনের দিকে পরিচালিত করেন।


দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


 


 


আমি চলে গেলে যদি কেউ না কাঁদে তবে আমার অস্তিত্বের কোনো মূল্য নেই। -সুইফট।


 


 


নামাজে তোমাদের কাতার সোজা কর, নচেৎ আল্লাহ তোমাদের অন্তরে মতভেদ ঢালিয়া দিবেন।


 


 


 


 


ফটো গ্যালারি
ডিপ্রেশন রোগের কারণ ও প্রতিকার
হাকীম মোঃ বাকী বিল্লাহ
০১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

আমাদের জীবনে কোনো না কোনো সময় আমরা ডিপ্রেশনে ভোগে থাকি। ডিপ্রেশন একটি মানসিক রোগ যা টিকিৎসায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়। জীবনের প্রতিটি স্তর অতিক্রম করার সময় বিভিন্ন প্রতিকূলতার সৃষ্টি হয় বা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আর এ প্রতিকূলতার কারণে ডিপ্রেশনের সৃষ্টি হয়। এ রোগ সৃষ্টির কারণ হিসেবে দেখা যায় সামাজিক, পারিবারিক, অর্থনৈতিক ও আবেগজনিত সমস্যা। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে মানসিক রোগ যে কোন অবস্থায়, যে কোন পরিবেশে যে কোন নারী পুরুষের হতে পারে। বংশে ডিপ্রেশন জনিত মনোরোগ থাকলে শতকরা ৪০ ভাগ ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে এ মনোরোগটি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার ক্রিয়েটিভ বা শিল্পী-সাহিত্যিকদের মধ্যে ডিপ্রেশন রোগে ভোগার হার অন্যান্য জনসাধারণের চেয়ে বেশি। আমাদের আশেপাশে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, অনেক ব্যক্তি ছয় ঋতুর যে কোন একটি ঋতুতে বার বার ডিপ্রেশন রোগে ভুগে থাকেন। শীতকালে এ রোগ বেশি হয় বলে একে শীতকালীন ডিপ্রেশন রোগ বলা হয়। আবেগপ্রবণ ব্যক্তিদের হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই ডিপ্রেশনকে আবেগজনিত রোগও বলা হয়। অল্প মাত্রায় রোগটি হলে তেমন সমস্যা হয় না। সাধারণ কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন এনার্জির অভাব বোধ হয়, ঘুম বেশি হয়, শর্করা জাতীয় খাবারের প্রতি আকর্ষণ বেড়ে যায়। ডিপ্রেশনে যারা ভোগেন তাদের কাজকর্মে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। আবেগজনিত ডিপ্রেশনে যারা ভোগেন তাদের মধ্যে যে তারতম্য দেখা যায়, তা হলো আবেগ অনুভূতির তারতম্য কষ্টদায়ক, আবেগের প্রকাশ, মন খারাপ ভাব থাকা, অশান্তিভাব বিরাজ করা। তবে এ অশান্তিভাব ডিপ্রেশন হলেই থাকতে হবে এমন কোনো কথা নেই। ডিপ্রেশনে যারা ভোগে থাকেন তারা তাদের অনুভূতির ব্যাপক পরিবর্তন দেখতে পান এবং অনুভূতির প্রকাশবোধও করেন। সমস্ত পৃথিবীকে তারা অশান্তিময় মনে করেন, তাদের অনুভূতি প্রকাশও সেরকম হয়।

ডিপ্রেশনের স্থায়িত্বকাল স্বল্প থেকে দীর্ঘতর হতে পারে। ডিপ্রেশন রোগের স্থায়িত্বকাল বেশি হলে জীবনের জন্য হুমকির কারণ হতে পারে। এমনকি প্রাণঘাতী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যাকে বলা হয় মেজর ডিপ্রেশন। মেজর ডিপ্রেশন হলো বড় মাপের মানসিক রোগ। এর উৎপত্তি মস্তিষ্কে। মস্তিষ্কের নিউরোট্রান্সমিটার অংশে বিভিন্ন ধরনের জৈব রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। যার ফলে ডিপ্রেশনে আক্রান্ত মানুষের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নার্ভাস সিস্টেমের প্রতিটি সেল বা কোষের আক্রমণ করে। ফলে শারীরিক বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে তারা স্বাভাবিক জীবন যাপনে ব্যর্থ হয়। এ রোগের ভাল চিকিৎসা আছে। এ রোগ ঔষধ দ্বারা সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। তাই এই রোগে আক্রান্ত হলে অবহেলা না করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে। আমরা এ রোগের উপসর্গ দ্বারা এ রোগ চিহ্নিত করতে পারি।

ডিপ্রেশন রোগের উপসর্গগুলো নিম্নরূপ ঃ

অশান্তিরবোধ, সারাদিন বিষণ্ন অনুভূতি।

অস্থিরতা ও স্থবিরতা, অনিদ্রা ও অতিনিদ্রা।

কোন কাজে যথাযথ উৎসাহের অভাব।

চিন্তা করতে না পারা, মনোযোগ দিতে না পারা, সিদ্ধান্ত নিতে না পারা।

ওজন কমে যাওয়া বা ওজন বেড়ে যাওয়া, খাদ্যে অরুচি বা অতিরিক্ত রুচি।

সবকিছু হারানোর ভাব, নিজেকে অপরাধী ভাবা।

বার বার মৃত্যু চিন্তা আসা, সারাক্ষণ আত্মহত্যার চিন্তা করা বা আত্মহত্যার চেষ্টা করা।

আশাহত অনুভূতি, নেতিবাচক ভাব।

মন খালি খালি লাগা, সেঙ্ বা যৌনতা সম্পর্কে উৎসাহ কমে যাওয়া।

শেষ রাতে ঘুম ভাঙ্গলে আর ঘুম না আসা।

আস্থাহীনতা বা আত্মবিশ্বাসের অভাব।

বিরক্তিভাব ও ক্রোধপ্রবণতা।

মাথা ব্যথা, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা অনুভব।

ক্লান্তিভাব, কাজকর্মে ধীরগতি ইত্যাদি।

লেখক পরিচিতি : হাকীম মোঃ বাকী বিল্লাহ, ডিইউএমএস ঢাকা, মাও শিশু রোগে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, লেকচারার, চাঁদপুর ইউনানি তিবি্বয়া কলেজ, চাঁদপুর। চেম্বার : আজমেরি মেডিক্যাল হল, নারায়ণপুর বাজার, মতলব দক্ষিণ, চাঁদপুর। ০১৮১৮ ৭১২ ৭৮৪

আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৪৪৫৮২
পুরোন সংখ্যা