চাঁদপুর। সোমবার ০৭ জানুয়ারি ২০১৯। ২৪ পৌষ ১৪২৫। ৩০ রবিউস সানি ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দীপু মনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন || চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য দীপু মনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন || *
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৫-সূরা জাছিয়া :

৩৭ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।



২৩। তুমি কি লক্ষ্য করিয়াছ তাহাকে, যে তাহার খেয়াল-খুশিকে নিজ ইলাহ্ বানাইয়া লইয়াছে? আল্লাহ জানিয়া শুনিয়াই উহাকে বিভ্রান্ত করিয়াছেন এবং উহার কর্ণ ও হৃদয় মোহর করিয়া দিয়াছেন এবং উহার চক্ষুর উপর রাখিয়াছেন আবরণ। অতএব আল্লাহর পরে কে তাহাকে পথনির্দেশ করিবে? তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করিবে না?

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


অসতর্ক জ্ঞানের অভাবের চেয়েও ক্ষতিকর।

-টলস্টয়।


মায়ের পদতলে সন্তানদের বেহেশত।

 


ফটো গ্যালারি
থ্যালাসেমিয়া কি?
০৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+


থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত মারাত্মক রক্তের রোগ। থ্যালাসেমিয়া রোগীরা প্রতি মাসে ১ থেকে ২ ব্যাগ রক্ত গ্রহণ করে বেঁচে থাকে। আর যদি সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হয়, আক্রান্ত রোগী রক্তশুন্যতায় মারা যেতে পারে।



 



বাংলাদেশে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কত?



থ্যালাসেমিয়া বাংলাদেশের একটি অন্যতম জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বাংলাদেশের ১ কোটি ১০ লাখ লোক অজ্ঞাতসারে থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক। প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ৭,০০০ শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এ রোগে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা প্রায় ৬০,০০০।



 



এ রোগের লক্ষণ কি?



শিশু জন্মের ১-২ বছরের মধ্যে থ্যালোসেমিয়া রোগ ধরা পড়ে। এই রোগের লক্ষণগুলো হল-ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা, ঘন ঘন রোগের সংক্রমণ, শিশুর ওজন বৃদ্ধি না পাওয়া, জন্ডিস, খিটখিটে মেজাজ ইত্যাদি।



 



 



এ রোগের কি চিকিৎসা রয়েছে?



থ্যালাসেমিয়া রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত জটিল এবং ব্যয়বহুল। রক্তশূন্যতা পূরণের জন্য রোগীদের প্রতি মাসে ১-২ ব্যাগ রক্ত দিতে হয়। এছাড়া এদের শরীর থেকে ক্ষতিকর আয়রন বের করার জন্য নানাবিধ দামী ঔষধ খেতে হয়। একটি শিশুর চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে ব্যয় করতে হয় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা।



 



থ্যালাসেমিয়া কিভাবে হয়?



স্বামী-স্ত্রী দুজনই যদি থ্যালাসেমিয়া রোগের বাহক হন তাহলে তাদের প্রতিটি সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার ২৫% সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি এ ধরনের পরিবারে একাধিক সন্তানের থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত হওয়ার নজির রয়েছে। জেনে রাখা ভাল যে, রক্তের গ্রুপের সাথে থ্যালাসেমিয়া রোগ হওয়ার কোন সম্পর্ক নেই।



 



থ্যালাসেমিয়া থেকে বাঁচার উপায় কি?



স্বামী-স্ত্রী দুজনের একজন যদি বাহক হন এবং অন্যজন সুস্থ হন, তাহলে তাদের সন্তানদের এই রোগ হবে না। হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস (ঐধবসড়মষড়নরহ ঊষবপঃৎড়ঢ়যড়ৎবংরং) পরীক্ষার মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া বাহক নির্ণয় করা যায়। তাই সবারই বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া বাহক কিনা জানা উচিত?



 



থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কর্মসূচি



থ্যালাসেমিয়া রোগের কোন স্থায়ী প্রতিষেধক বা সহজ প্রতিকার না থাকায় এর নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি জাতীয় রূপরেখা প্রণয়ন করেছে।



 



উদ্দেশ্য :



১। থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া মুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।



২। চিকিৎসার মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের সমাজের সক্রিয় এবং কার্যক্ষম অংশ হিসেবে গড়ে তোলা।



 



কর্মসূচী :



১। থ্যালাসেমিয়া এবং এর প্রতিরোধ বিষয়ে জনগণের মধ্যে বিশেষ করে তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা



২। বিবাহপূর্ব স্ক্রিনিং এর মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া রোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দম্পতি নির্ণয় করা



৩। গর্ভাবস্থায় অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষার সাথে থ্যালাসেমিয়া স্ক্রিনিং করা



৪। ঝুঁকিপূর্ণ দম্পতিদের সন্তান গ্রহণের সময় বিনামূল্যে গর্ভস্থ ভ্রুণ পরীক্ষা করা



৫। থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য একটি জাতীয় রেজিস্ট্রি প্রণয়ন করা



৬। থ্যালাসেমিয়া রোগীদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সকল পর্যায়ে জাতীয় অভিন্ন চিকিৎসা প্রদানের জন্য একটি গাইডলাইন প্রণয়ন করা



৭। ডাক্তার, নার্স সহ সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের থ্যালাসেমিয়া চিকিৎসা ও প্রতিরোধ বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা।



৮। থ্যালাসেমিয়া রোগীদের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার জন্য রক্ত, ঔষধ, ফিল্টার, পাম্পসহ সকল চিকিৎসা অনুষঙ্গ সরবরাহ এবং সহজলভ্য করা।



৯। থ্যালাসেমিয়াকে একটি ডিজেবিলিটি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া



১০। মাধ্যমিক পাঠ্য পুস্তকে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধের উপায় সম্বলিত তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা



১১। থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে গণমাধ্যমের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে প্রচারণা অভিযান পরিচালনা করা।



 



রোডম্যাপ:



১০/০১/২০২০-চিকিৎসা সচেতনতা



১০/০১/২০২১ -প্রাক বিবাহ থ্যালাসেমিয়া স্কিনিং



১০/০১/২০২২-গর্ভস্থ ভ্রুণে থ্যালাসেমিয়া নির্ণয়



১০/০১/২০২৩-অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন বা জিন থেরাপি



১০/০১/২০২৮-থ্যালাসেমিয়া মুক্ত বাংলাদেশ



 



সূত্র : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার,



স্বাস্থ্য অধিদপ্তর,



স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।



 


আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭৫৬৬৫
পুরোন সংখ্যা