চাঁদপুর। সোমবার ০৭ জানুয়ারি ২০১৯। ২৪ পৌষ ১৪২৫। ৩০ রবিউস সানি ১৪৪০
redcricent
jibon dip

সর্বশেষ খবর :

  • চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডাঃ দীপু মনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন || চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য দীপু মনি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন || *
হেরার আলো
বাণী চিরন্তন
আল-হাদিস

৪৫-সূরা জাছিয়া :

৩৭ আয়াত, ৪ রুকু, ‘মক্কী

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু  আল্লাহর নামে শুরু করছি।



২৩। তুমি কি লক্ষ্য করিয়াছ তাহাকে, যে তাহার খেয়াল-খুশিকে নিজ ইলাহ্ বানাইয়া লইয়াছে? আল্লাহ জানিয়া শুনিয়াই উহাকে বিভ্রান্ত করিয়াছেন এবং উহার কর্ণ ও হৃদয় মোহর করিয়া দিয়াছেন এবং উহার চক্ষুর উপর রাখিয়াছেন আবরণ। অতএব আল্লাহর পরে কে তাহাকে পথনির্দেশ করিবে? তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করিবে না?

দয়া করে এই অংশটুকু হেফাজত করুন


অসতর্ক জ্ঞানের অভাবের চেয়েও ক্ষতিকর।

-টলস্টয়।


মায়ের পদতলে সন্তানদের বেহেশত।

 


ফটো গ্যালারি
জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি
০৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০:০০
প্রিন্টঅ-অ+

১. ভূমিকা

যক্ষ্মা বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ১৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সী মানুষ যক্ষ্মায় বেশী আক্রান্ত হয়। বাংলাদেশে প্রতি বছর নতুন ভাবে প্রতি লাখে প্রায় ২২৫ জন লোক যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয় এবং ৪৫ জন লোক মারা যায়। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্ত্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় যক্ষ্মা রোগের ভয়াবহতা প্রতিরোধের লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতায় জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি শুরু করেছে এবং সাধারণ স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থার সাথে সমন্বিত করা হয়েছে। বর্তমান সরকারি ও সংশ্লিষ্ট বেসরকারী সংস্থার সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। আশা করা যায়, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুহার কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

২. যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য

যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির মূল্য উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাংলাদেশে যক্ষ্মার প্রাদুর্ভাব ও মৃত্যুহার আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে অর্ধেকে নামিয়ে আনা।

৩. যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমসমূহ

যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশ সরকারের একটি অন্যতম কর্মসূচি। এ কর্মসূচি বাংলাদেশের সকল উপজেলা, জেলা সদর হাসপাতাল, মেট্টোপলিটন ও পৌর এলাকা, সামরিক হাসপাতাল, পুলিশ হাসপাতাল, কারা হাসপাতালসমূহে ও বিভিন্ন কর্মস্থলে (ডড়ৎশ চষধপব) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই সকল প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য হলো-

১. বিনামূল্যে যক্ষ্মা রোগীর কফ পরীক্ষা ও চিকিৎসা করা

২. উঙঞঝ পদ্ধতির মাধ্যমে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা করা

৩. গুরুতর যক্ষ্মা (গউজ-ঞই) ও ঞই/ঐওঠ প্রতিরোধ করা

৪. সরকারি ও বেসরকারী সংস্থাসমূহের সাথে সমন্বিতভাবে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা

৫. নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম মনিটরিং করা

৬. কর্মসূচির অগ্রগতির মাসিক কার্যক্রম পর্যালোচনা ও প্রতিবেদন তৈরি করা।

৪.। যক্ষ্মা কী?

যক্ষ্মা একটি জীবাণুঘটিত সংক্রামক রোগ যা প্রধানতঃ ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। যক্ষ্মা কোন বংশগত রোগ নয়। ফুসফুস ছাড়া শরীরের অন্যান্য স্থানেও যক্ষ্মা হতে পারে।

৪.১. যক্ষ্মার কারণ

মাইক্রোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস নামক একটি জীবাণু দিয়ে যক্ষ্মা রোগ হয়।

৪.২. যক্ষ্মা কিভাবে ছড়ায়?

? যক্ষ্মা সাধারণতঃ বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়

? রোগীর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই রোগের জীবাণু বাতাসে মিশে যায় ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে তা সুস্থ ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করে।

৪.৩ যক্ষ্মার প্রধান প্রধান লক্ষণসমূহ

? এক নাগাড়ে তিন সপ্তাহ বা তার অধিক সময় পর্যন্ত কাশি

? সন্ধ্যায় বা রাতে জ্বর আসা

? ক্ষুধা কমে যাওয়া

? শারীরের ওজন কমে যাওয়া

? বুকে ব্যথা হওয়া

? শ্বাস কষ্ট হওয়া

? কফের সাথে রক্ত যাওয়া

৪.৪ প্রতিরোধ

১. জন্মের পর পর প্রত্যেক শিশুকে বিসিজি টিকা দেয়া।

২. রোগীর হাঁচি-কাশি দেয়ার সময় রুমাল ব্যবহার করা।

৩. রোগীর কফ থুথু নির্দিষ্ট পাত্রে পেলে তা মাটিতে পুঁতে ফেলা

৪. ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।

৫. যক্ষ্মার চিকিৎসা

বর্তমানে যক্ষ্মার চিকিৎসা সাধারণত ঃ উঙঞঝ পদ্ধতির মাধ্যমে করা হয়।

৫.১ উঙঞঝ বলতে কী বুঝায়?

উ-উরমবপঃষু (সরাসরি) কারো উপস্থিতিতে ওষুধ খাওয়ানো ঙ-ঙনংবৎাবফ (পর্যবেক্ষণ করা) ঠিকমতো ওষুধ খাচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা।

ঞ-ঞৎবধঃসবহঃ (চিকিৎসা করা) নিয়মিত চিকিৎসা করা ঝ-ঝযড়ৎঃ পড়ঁৎংব (স্বলমেয়াদী) ৬-৮ মাস যক্ষ্মার চিকিৎসা।

উঙঞঝ হলো সরাসরি, পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ও স্বল্প মেয়াদে যক্ষ্মার চিকিৎসা পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে রোগী ডাক্তার/প্যারামেডিক/কাউন্সেলর/স্বাস্থ্যকর্মী/পল্লী চিকিৎসক এবং স্বেচ্ছাসেবকদের পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পূর্ণ মেয়াদে ওষুধ সেবন করবেন।

৫.২. উঙঞঝ পদ্ধতির সময় করণীয়

১. রোগীর সাথে আলাপের মাধ্যমে ওষুধ সেবনের স্থান ও সময় নির্ধারণ করা।

২. নিয়মিত ওষুধ সেবনের জন্য রোগীকে উৎসাহিত করা।

৩. সঠিক মাত্রায় ওষুধ সেবন নিশ্চিত করা।

৪. রোগী ওষুধ খাওয়ার পর চিকিৎসাপত্রে তা প্রতিবার রেকর্ড করা।

৫. যক্ষ্মা রোগীর পরিচয়পত্র সংগে রাখা।

৬. ওষুধের সম্ভাব্য পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে রোগীকে অবহিত করা।

৭. পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে রোগীকে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করা।

৮. অনিয়মিত ওষুধ সেবনকারী যক্ষ্মা রোগীদের স্বাস্থ্যকর্মী বা স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে খুঁজে বের করা।

৯. রোগী খুঁজে পাওয়া না গেলে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অবহিত করা।

১০. চিকিৎসাকালীন ২য়, ৫ম মাসে ও চিকিৎসা শেষে কফ পরীক্ষা করা।

৫.৩ কফ সংগ্রহের কৌশল

কোনো ব্যক্তিকে যক্ষ্মা রোগী বলে সন্দেহ হলে নিকটস্থ হাসপাতালে, যক্ষ্মা ক্লিনিক বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ল্যাবরেটরীর টেকনোলজিস্ট/প্যারামেডিক/কাউন্সেলর/স্বাস্থ্যকর্মীর কাছ থেকে কফ সংগ্রহের জন্য একটি বিশেষ পাত্র সংগ্রহ করতে হবে।

? ১ম দিনে রোগীকে স্বাস্থ্য কেন্দ্র/ক্লিনিকে যেতে হবে ও বুকের ভিতরের কফ পাত্রে দিতে হবে। ২য় দিনের কফ সংগ্রহের জন্য আরেকটি পাত্র বাড়িতে নিয়ে আসতে হবে।

? ২য়দিন ভোরে রোগী নিজে বাড়িতে খোলা জায়গায় ঐ পাত্রে কফ সংগ্রহ করবেন এবং সংগৃহীত কফ স্বাস্থ্য কেন্দ্র/ ক্লিনিকে নিয়ে যাবেন।

? সংগৃহীত কফ স্বাস্থ্য কেন্দ্র/ক্লিনিকে জমা দেওয়ার সময় আবারও একবার কফ দিবেন।

এভাবে সংগৃহীত ৩টি কফের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে যক্ষ্মার জীবাণু রয়েছে কিনা।

৫.৪ যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা কোথায় পাওয়া যায়

বাংলাদেশের সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্, জেলা সদর হাসপাতাল, বক্ষব্যাধি ক্লিনিক/হাসপাতাল, নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র, এনজিও ক্লিনিক ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসমূহে বিনামূল্যে কফ পরীক্ষা, রোগ নির্ণয়, যক্ষ্মার চিকিৎসা করা হয় এবং ওষুধ দেয়া হয়।

৫.৫ নিয়মিত ও পূর্ণ মেয়াদে চিকিৎসা সম্পূর্ণ করার গুরুত্ব

নিয়মিত, সঠিক মাত্রায় এবং পূর্ণ মেয়াদে চিকিৎসা করলে যক্ষ্মা রোগ সম্পূর্ণ ভাল হয়। কিছুদিন চিকিৎসার পর সুস্থ্য বোধ করলে অনেক রোগী ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন যা অত্যন্ত বিপদজনক। কারণ অনিয়মিত চিকিৎসার ফলে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যায় বা একেবারে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৫.৬ যক্ষ্মার ওষুধের সম্ভাব্য পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াঃ

প্রতিটি ওষুধের কোন না কোন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া আছে। যক্ষ্মার ঔষধ সেবনের ক্ষেত্রেও কিছু কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। তবে তা রোগীকে আগে থেকে বলে দিতে হবে, যাতে করে ওষুধ সেবনের সময় কোন পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হলে যেন ওষুধ সেবন বন্ধ না করে এবং চিকিৎসক/স্বাস্থ্যকর্মীর সাথে পরামর্শ করে ওষুধ সেবন চালিয়ে যায়। যক্ষ্মা রোগের ওষুধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া এবং ব্যবস্থাপনা নিম্নে দেয়া হলো :

পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাপনা

কমলা/লাল রং এর প্রসাব রোগীকে আশ্বস্ত করুন, নিয়মিত ওষুধ সেবনের পরামর্শ দিন

বমি বমি ভাব

গিরায় ব্যাথা

মাথা ঘোরোনো দেরি না করে জরুরি ভিত্তিতে রোগীকে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র/ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে

কানে ঝিন ঝিন শব্দ হওয়া

পায়ে জ্বালা অনুভব করা

চামড়ায় ফোসকা, চুলকানি হওয়া

অবিরত বমি হওয়া

চোখে ঝাপসা দেখা

চামড়া এবং চোখের রং হলুদ হওয়া

৬. যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সকলের করণীয়

১. সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা

২. সামাজিক কুসংস্কার দূর করা

৩. সন্দেহযুক্ত যক্ষ্মা রোগীকে স্বাস্থ্য কেন্দ্র/ হাসপাতালে রেফার করা

৪. উঙঞঝ পদ্ধতির মাধ্যমে চিকিৎসা প্রদানে সহায়তা করা।

৫. চিকিৎসাকালে রোগীকে সহযোগিতা ও উৎসাহ প্রদান করা।

৬. ওষুধের পাশ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্য কেন্দ্র/হাসপাতালে রেফার করা।

৭. জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা।

সূত্র : জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্সসূচি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৪১৯৬২
পুরোন সংখ্যা